• September 2, 2025
  • 0 Comments
চাঁদা ও হামলার অভিযোগে মানিকগঞ্জ পৌরসভার সার্ভেয়ার কারাগারে

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার আন্ধারমানিক এলাকায় গরুর খামার মালিকের কাছ থেকে চাঁদা দাবি ও লুটপাটের ঘটনায় মানিকগঞ্জ পৌরসভার সার্ভেয়ার ছানোয়ার হোসেন (৪৫) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে ঘটে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা।

অভিযোগে জানা যায়, গরুর খামার মালিক আবছার খান তিন বছর আগে আন্ধারমানিকে একটি খামার প্রতিষ্ঠা করেন। সম্প্রতি খামার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেওয়ায় অভিযুক্তরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আবছার খান, তার স্ত্রী লতা আক্তার ও বাবা-মার ওপর হামলা চালায় এবং প্রায় ৩০ লাখ টাকা লুট করে নেয়।

এ ঘটনায় লতা আক্তার বাদী হয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছানোয়ার হোসেনসহ রাজিব (৩৫), সবুজ (৩০), রাকিব (২৪), রেজাউল (৪৮), শামীম (৩৫), রক্তিম (২৪), নাসিমা খানম (৫০), মো. মিজান (৫২) এবং অজ্ঞাত ৩০-৩৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

হামলায় গুরুতর আহত হন আবছার খানের পরিবারের সদস্যরা। তাদের মধ্যে নূর জাহান বেগমকে প্রথমে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আমান উল্লাহ জানান, চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার সার্ভেয়ার ছানোয়ার হোসেনকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • September 2, 2025
  • 0 Comments
পদ্মার বুকে জেলের জালে ১৪ কেজির বিরল বাঘাইড়, মুহূর্তেই বিক্রি ১৮ হাজারে !

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় পদ্মা নদী আবারও চমকে দিলো স্থানীয়দের। গোপীনাথপুর ইউনিয়নের গোপীনাথপুর উত্তরপাড়া এলাকায় জেলে বিশ্বনাথ রাজবংশীর জালে ধরা পড়ে ১৪ কেজি ওজনের এক বিরল বাঘাইড় মাছ।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নদী থেকে মাছটি তোলার সঙ্গে সঙ্গেই পদ্মাপাড়ে ভিড় জমে যায় উৎসুক জনতার। এসময় এক ক্রেতা মাছটির বিরলতা ও বিশাল আকার দেখে সাথে সাথে ১৮ হাজার টাকায় কিনে নেন।

প্রত্যক্ষদর্শী বিজয় হালদার জানান, “জেলের মুখে হাসি ফুটিয়েছিলো বাঘাইড়টি। নদী থেকে তোলার পর মুহূর্তেই এটি বিক্রি হয়ে যায়।”

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান জানান, বর্তমানে পদ্মায় ইলিশ, চিতল, বাঘাইড়, বোয়াল, কাতল, রুই ও পাঙাশসহ নানা জাতের মাছ ধরা পড়ছে। তবে ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট ইতোমধ্যেই বাঘাইড়কে বিপন্ন প্রজাতি ঘোষণা করেছে। তাই সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

এমন বিশাল বাঘাইড় ধরা পড়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিমধ্যেই তোলপাড় শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, “পদ্মার বুকে এখনও লুকিয়ে আছে অনেক অজানা রত্ন।”

  • September 2, 2025
  • 0 Comments
জরুরি অবস্থা আসার খবরকে ‘গুজব’ বললেন আইন উপদেষ্টা

রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সেনাপ্রধানের সাক্ষাৎ এবং জরুরি অবস্থা জারির যে আলোচনা শুরু হয়েছে দেশে, তা ‘স্রেফ গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

সোমবার সচিবালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আর্মি চিফ প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করেছেন বলে আমার জানা নেই। দুয়েকটা পত্রিকায় দেখেছি। বাজারে অনেক রকম গুজব প্রচলিত আছে। এসব গুজব নিয়ে বিচলিত হওয়ার মতো কিছু নাই। এখন পর্যন্ত অবশ্যই গুজব।’

জরুরি অবস্থা জারি হচ্ছে কিনা–এমন প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি এই ধরনের কোনো সম্ভাবনার ব্যাপারে অবগত নই। সেনাপ্রধান মাঝে মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও তিনি দেখা করেছেন। আমি মনে করি না যে এটা নিয়ে বিচলিত হওয়ার মতো কিছু আছে ‘

বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে মতৈক্য, সে প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষশক্তি রাজনৈতিক দলগুলোর বিচার বিবেচনার প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে। তাদের মধ্যে অনেক বিষয়ে দ্বিমত থাকতে পারে। প্রয়োজনীয় মুহূর্তে আমরা তাদের মধ্যে ঐক্য দেখতে পাবো।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। নির্বাচন কমিশনকে সে অনুযায়ী ইনস্ট্রাকশন দেওয়া হয়েছে এবং তারা সে অনুযায়ী কাজ করছেন। যত রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড আছে, সেটা এই সময়কে সামনে রেখেই পরিচালিত হচ্ছে।

কোনো অবস্থাতেই এ সময় থেকে পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তার আগে দলগুলোর মধ্যে কিছু বিষয়ে মতভিন্নতা রয়েছে। আশা করি সেটা অচিরেই দূর হয়ে যাবে।’

গণপরিষদ নির্বাচনের যে দাবি একটি দল তুলেছে, সে বিষয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ‘এটা এনসিপির দলীয় বক্তব্য। একটি দলীয় বক্তব্য নিয়ে আমার বলার কিছু নেই। আমি সরকারের বক্তব্য বললাম।’

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি গত এক বছরে বিভিন্ন সময় অবনতি হয়েছে, আবার উন্নতি হয়েছে। একটা বিপ্লব পরবর্তী পরিস্থিতিতে সমাজে বিভিন্ন রকম অস্থিরতা থাকে।

এসব অস্থিরতার প্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মাঝে মধ্যে অবনতি ঘটে। এটা খুব অস্বাভাবিক বলে মনে করি না। এমন পরিস্থিতি আগেও মোকাবিলা করেছি। আবার ভালো হয়ে যাবে।’

  • September 2, 2025
  • 0 Comments
একীভূত আতঙ্কে ৫ ইসলামি ব্যাংকের শেয়ারদরে ধস

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পাঁচটি শরিয়াহ্‌ভিত্তিক ব্যাংক টানা দরপতনের মুখোমুখি। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী, ইউনিয়ন, এক্সিম ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—এই পাঁচ ব্যাংক এখন বিনিয়োগকারীদের কাছে আতঙ্কের প্রতীক।

মূলধন ঘাটতি, খেলাপি ঋণ এবং আমানত সংকটের বোঝা সামলাতে না পারায় বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের একীভূতের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। কিন্তু এই ঘোষণাই বিনিয়োগকারীদের নিশ্চয়তার বদলে আরও অনিশ্চয়তার ছাপ ফেলেছে। বর্তমানে এসব ব্যাংকের সম্মিলিত মূলধন ঘাটতি ও খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ৮৬ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা বাজারে তাদের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় দাঁড় করিয়েছে। এই অনিশ্চয়তার কারণে শেয়ারদর আরও নিচে নামছে এবং পুঁজিবাজারে তাদের অবস্থা দিন দিন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

কতটা কমেছে দাম

গত এক মাসে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শরিয়াহ্‌ভিত্তিক এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারের দরপতন হয়েছে ২২ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত। সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেয়েছে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। ২৮ জুলাই যেখানে প্রতি শেয়ার ৮ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন হচ্ছিল, গতকাল রোববার সেটি নেমেছে ৫ টাকা ৫০ পয়সায়; অর্থাৎ প্রায় ৩৫ শতাংশ পতন। তার পরেই আছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, যার শেয়ারদর ৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে এখন ৩ টাকা, অর্থাৎ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মূল্য হারিয়েছে। এক্সিম ব্যাংকের শেয়ারের দামও কমেছে প্রায় সমান হারে—৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ৪০ পয়সায়, যা ৩২ শতাংশের বেশি পতন। অন্যদিকে গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক উভয়ের শেয়ারদর ৩ টাকা ১০ পয়সা থেকে নেমে ২ টাকা ৪০ পয়সায় নেমেছে, দুই ক্ষেত্রেই দরপতন ২২ শতাংশের বেশি।

টাকার হিসাবে পতনটা প্রথমে সামান্য মনে হতে পারে। যেহেতু এসব শেয়ারের দাম ২ থেকে ৩ টাকার ঘরে ঘোরাফেরা করছে, তাই কয়েক পয়সার দরপতনও শতাংশের হিসাবে বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যা বাজারে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিনিয়োগকারীরা কে আতঙ্কে

এ বিষয়ে বিশ্লেষক ও পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্সের সদস্য অধ্যাপক আল-আমিন বলেন, এই ব্যাংকগুলো একীভূত হয়ে একটা প্রতিষ্ঠান/সত্তা হারিয়ে ফেললে কোন মূলধনি শেয়ারের অংশের কী হারে, কী রূপান্তরিত হবে, সেটা অনিশ্চিত। সেই অনিশ্চয়তায় থেকে অনেকে ভাবছে, এখানে যা পাই, সেটা নিয়ে থাকি। এ জন্য লোকসান হলেও বিক্রি করে দিচ্ছে। এটা ছাড়া তাঁর উপায় নেই। একীভূত হয়ে গেলে সেটা তো আর তালিকাভুক্ত থাকবে না।

বাংলাদেশ একাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেটসের মহাপরিচালক তৌফিক আহমদ চৌধুরীর মতে, ব্যাংকগুলোয় নতুন আমানত আসছে না। বরং আমানতকারীরা টাকা তুলতে চাইছেন। বিনিয়োগকারীরা ভাবছেন, ব্যাংকগুলো হয়তো টিকবে না। তাই যত দামেই হোক, শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন।

শেয়ারদর নেমে যাওয়া স্বাভাবিক

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রকৃতপক্ষে এসব ব্যাংকের দায় সম্পদের চেয়ে বেশি। তাই অভিহিত মূল্যের নিচে শেয়ারদর নেমে যাওয়া স্বাভাবিক। বাস্তবে এদের কোনো শেয়ারের মূল্য থাকার কথা নয়; কারণ, এগুলো ঋণাত্মক সম্পদে চলছে। একীভূত হওয়ার পর সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

  • September 2, 2025
  • 0 Comments
চুরির ভোটে জিতেই কি মোদি প্রধানমন্ত্রী?

গত বছরের জুন মাসে নরেন্দ্র মোদি টানা তৃতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। যদিও সেই নির্বাচনে তার দল বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি; কিন্তু তেলুগু দেশম বা জনতা দল ইউনাইটেডের মতো শরিকদের সমর্থন নিয়ে কেন্দ্রে সরকার গড়ার ক্ষেত্রে তার কোনো সমস্যাও হয়নি।

কিন্তু তৃতীয় মেয়াদে তার শাসনকালের পনেরো মাস অতিক্রান্ত হতেই দেশের বিরোধী দলগুলো জোরেশোরে মোদির ইস্তফার দাবি করতে শুরু করে দিয়েছেন।

লোকসভায় বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী বেশ কিছুদিন ধরে বলেই চলেছেন, ২০২৪-এর যে সাধারণ নির্বাচনে জিতে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন—সেই ভোটটা আগাগোড়া ভুলে ভরা একটা ভোটার তালিকার ভিত্তিতে হয়েছে। আর এই ‘ভুল’টা যে নির্বাচন কমিশনের ইশারাতেই ইচ্ছাকৃতভাবে করা, সেই ইঙ্গিত দিতেও তিনি কোনো দ্বিধা করছেন না।

বুধবার (২৭ আগস্ট) বিহারের মুজফফরপুরে এক নির্বাচনী সভা থেকে তিনি আরও অভিযোগ করেন, বৈধ ভোটারদের ভোট কেটে আর জাল ভোটারদের নাম তালিকায় যোগ করেই মোদি ভোটে জিতেছেন—আর এ কাজে তাকে সাহায্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আর দেশের নির্বাচন কমিশন।

কংগ্রেসের সঙ্গে অনেক বিষয়ে মতভেদ থাকলেও দেশের আর একটি বড় বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস কিন্তু এই প্রশ্নে রাহুল গান্ধীর পাশেই দাঁড়িয়েছে। ডিএমকে ও আরজেডির মতো দলগুলোরও সমর্থন পাচ্ছেন তিনি।

তৃণমূলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা অভিষেক ব্যানার্জী রীতিমতো সংবাদ সম্মেলন করে দিনকয়েক আগেই বলেছেন, নির্বাচন কমিশন যদি মেনেই নেয় দেশের ভোটার তালিকায় প্রচুর অসংগতি আছে এবং যেহেতু বর্তমান সরকার সেই তালিকার ভিত্তিতে করা ভোটে জিতেই ক্ষমতায় এসেছে—তাহলে সেই সরকারের কোনো বৈধতা থাকতে পারে না।

‘সে ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও তার গোটা মন্ত্রিসভার পদত্যাগ করা উচিত ও লোকসভা অবিলম্বে ভেঙে দেওয়া উচিত’—এই দাবিও তুলেছেন অভিষেক ব্যানার্জী।

বিরোধীদের তোলা এই ভোট চুরির অভিযোগ ক্রমশই ‘মোমেন্টাম’ পাচ্ছে, আর তা দৃশ্যতই অস্বস্তিতে ফেলছে মোদি সরকারকে।

বস্তুত একটানা এগারো বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পদে রয়েছেন নরেন্দ্র মোদি, তবে এর আগে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির আর কোনো বিষয় তাকে এতটা বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেনি।

ক্ষমতাসীন বিজেপি যদিও রাহুল গান্ধীর তোলা ভোট চুরির অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে; কিন্তু বিহারসহ বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকায় যে ব্যাপক সংশোধন (এসআইআর) দরকার, সে দাবিতেও সমর্থন জানাচ্ছে তারা।

জাতীয় নির্বাচন কমিশনও মেনে নিয়েছে, কোনো কোনো রাজ্যের ভোটার তালিকায় প্রচুর ভুয়া নাম আছে, সেগুলো বাদ দিতেই এসআইআর বা ‘বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা’ প্রয়োজন—সোজা কথায় তালিকায় কাটছাঁট করা দরকার।

বিহারে আগামী নভেম্বরেই ভোট হওয়ার কথা—তার আগে সে রাজ্যে কমিশনের পক্ষ থেকে যে এসআইআর চালানো হয়েছে তাতে প্রাথমিকভাবে ৬৫ লাখেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।

আর বিরোধীরা ঠিক এ কারণেই প্রশ্ন তুলছেন, বিহার বা পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন তালিকা ভুল; কিন্তু মহারাষ্ট্র বা গুজরাটের ভোটার তালিকা নিখুঁত—এটা কীভাবে হতে পারে?

বস্তুত ২০২৪-এ ভারতের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকার ভিত্তিতে—এই ধারণা যতই প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, ততই আসলে নরেন্দ্র মোদির ইস্তফার ও লোকসভা ভেঙে দেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে!

ভারতের লোকসভায় শক্তির বিচারে কংগ্রেসের পরই যে বিরোধী দলগুলোর অবস্থান—সেই ডিএমকে, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি ও আরজেডি প্রত্যেকেই রাহুল গান্ধীর এই ভোট চুরির অভিযোগে সমর্থন জানাচ্ছে।

বুধবার মুজফফরপুরের সমাবেশে ডিএমকে নেতা ও তামিলনাডুর মুখ্যমন্ত্রী স্টালিনও উপস্থিত ছিলেন, তিনি রাহুল গান্ধীর তোলা প্রতিটি অভিযোগেই সায় দিয়েছেন।

তা ছাড়া বিহারে কংগ্রেসের ভোটার অধিকার যাত্রায় আগাগোড়াই রাহুল গান্ধীর সঙ্গে আছেন আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, যার দল রাজ্যে কংগ্রেসের জোটসঙ্গীও বটে।

এদিকে তৃণমূল নেতা অভিষেক ব্যানার্জী এর আগেই দাবি করেছেন, ভোটার তালিকায় ‘এসআইআর’ যদি করতেই হয়, তাহলে নির্দিষ্ট একটি বা দুটি রাজ্যে নয়—গোটা দেশেই সেটা করতে হবে আর সেই প্রক্রিয়ার সূচনা হতে হবে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে।

‘নির্বাচন কমিশন বলছে ভোটার তালিকায় অসংগতি ছিল, তাই এসআইআর দরকার। বেশ, তাহলে শুধু বিহারে বা পশ্চিমবঙ্গে কেন—গোটা দেশেই তালিকা সংশোধন হোক এবং লোকসভা ভেঙে দেওয়া হোক’, প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

এই ভোটার তালিকার ভিত্তিতেই যে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও তার দলের ২৪০ জন এমপি লোকসভায় নির্বাচিত হয়ে এসেছেন—আর তারাই দেশের প্রেসিডেন্ট বা ভাইস প্রেসিডেন্টকে নির্বাচিত করছেন—সেটাও মনে করিয়ে দেন অভিষেক ব্যানার্জী।

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর ইস্তফার দাবিকে আমলই দিচ্ছে না। বিজেপির মুখপাত্র শাহনাজ পুনেওয়ালা এদিন রাহুল গান্ধীর ‘গুজরাট মডেলে’ ভোট চুরির দাবিকে নস্যাৎ করে পাল্টা দাবি করেছেন, নরেন্দ্র মোদি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তার মধ্যে বেশিটা সময়ই—২০০৪ থেকে ২০১৪ কেন্দ্রে কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় ছিল।

তখন নির্বাচন কমিশনারদেরও নিযুক্ত করেছিল কংগ্রেস সরকার। তো রাহুল গান্ধী কি বলতে চাইছেন তাদের আমলের কমিশনাররাই গুজরাটে মোদিজিকে ভোট চুরি করিয়ে জিতিয়েছেন? পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন তিনি।

বিজেপি নেতা আর পি সিং আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম এস গিলকে অবসরের পর কংগ্রেসই এমপি করে এনে মনমোহন সিংয়ের ক্যাবিনেটে মন্ত্রী বানিয়েছিল।

ওদিকে বর্তমান নির্বাচন কমিশন এর আগে গত ১৭ আগস্ট সাংবাদিক বৈঠক করে ঘোষণা করেছিল, পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে রাহুল গান্ধী তার অভিযোগের স্বপক্ষে নিয়মমাফিক হলফনামা পেশ না করলে তারা ধরে নেবে সেই অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

সেই সময়সীমা এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে—রাহুল গান্ধী হলফনামাও দেননি বা ক্ষমা চেয়ে অভিযোগও প্রত্যাহার করেননি এবং কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে তার তোলা অভিযোগগুলো নিয়ে কোনো তদন্ত হবে না।

কিন্তু রাজনৈতিকভাবে নরেন্দ্র মোদি সরকার ও বিজেপি বিরোধীদের দিক থেকে আসা এই শক্ত চ্যালেঞ্জকে কীভাবে মোকাবিলা করে, সেটাই এখন দেখার।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

  • September 2, 2025
  • 0 Comments
দিল্লিতে যে বাড়িতে বসবাস করছেন হাসিনা, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

আওয়ামী লীগের গুজব তৈরির কারখানা হিসাবে খ্যাত সিআরআই’র দায়িত্ব এখন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের হাতে। নয়াদিল্লির অভিজাত এলাকা লুটিয়েন্স বাংলো জোনের কাছেই একটি দোতলা ভবনকে কার্যালয় বানিয়ে তিনি এখন এই প্রতিষ্ঠানটির যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এই লুটিয়েন্স বাংলো জোনেরই একটি বাড়িতে বসবাস করছেন তার মা পতিত স্বৈরাচার ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

অন্তর্বর্তী সরকার, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপির বিরুদ্ধে একের পর এক সাইবার আক্রমণের পেছনে কাজ করছে আওয়ামী লীগের সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন (সিআরআই)। আক্রমণ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না শীর্ষ রাজনীতিবিদ, উপদেষ্টা ও সামরিক-বেসামরিক আমলাসহ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) দিয়ে তৈরি ভিডিও ক্লিপ, বেনামি ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেল ব্যবহার করে সিআরআই এক ধরনের সাইবার যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এক কথায়, জুলাই অভ্যুত্থানকে ব্যর্থ করে দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা মেশিন হিসাবে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি, যা এখন পরিচালিত হচ্ছে ভারত থেকে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, প্রধানত তিনটি লক্ষ্য সামনে রেখে এই মুহূর্তে কাজ করছে সিআরআই। প্রথমত, অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করা। দ্বিতীয়ত, যেকোনো মূল্যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভন্ডুল করা এবং তৃতীয়টি হচ্ছে, বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির বিরুদ্ধে জনমত তৈরিসহ গণ-অভ্যুত্থানের সব শক্তির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ফিরিয়ে আনা। এজন্য প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালের শুরুতে সরকার গঠনের পর ২০১০ সালে সিআরআই’র কার্যক্রম শুরু হয়। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে অবস্থিত শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি ছিল প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা। কিন্তু বাস্তবে গোপনে নানা জায়গা থেকে পরিচালিত হতো সিআরআই’র কার্যক্রম।

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে আশ্রয় নেন দিল্লিতে। শেখ হাসিনার পথ ধরে দলটির বহু নেতা, সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং সংসদ-সদস্যদের বেশির ভাগই দেশ ছাড়েন। এ কারণে সিআরআই’র কার্যক্রমও অনেকটা মুখথুবড়ে পড়ে।

জানা গেছে, ক্ষমতা হারানোর প্রাথমিক ধকল কাটিয়ে উঠে গত তিন মাস থেকে ফের সক্রিয় হয়েছে সিআরআই। তবে এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা ও কাজে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর আগে দীর্ঘদিন সিআরআই’র মূল দায়িত্বে ছিলেন এই মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বসবাসরত হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। এছাড়াও শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ শেখ পরিবারের একাধিক সদস্য প্রতিষ্ঠানটির ট্রাস্টি বোর্ডে রয়েছেন।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের গুজব তৈরির কারখানা হিসাবে খ্যাত সিআরআই’র দায়িত্ব এখন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের হাতে। নয়াদিল্লির অভিজাত এলাকা লুটিয়েন্স বাংলো জোনের কাছেই একটি দোতলা ভবনকে কার্যালয় বানিয়ে তিনি এখন এই প্রতিষ্ঠানটির যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এই লুটিয়েন্স বাংলো জোনেরই একটি বাড়িতে বসবাস করছেন তার মা পতিত স্বৈরাচার ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ায় আইনগতভাবে সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে এখন অফিশিয়ালি সিআরআই’র দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। এ কারণে শেখ হাসিনার নির্দেশে জয়কে সরিয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে সিআরআই’র নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুতুল নিয়মিত এই কার্যালয়ে অফিস করছেন। এখান থেকেই বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে সিআরআই’র কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

এর আগে গত ১১ জুলাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় আঞ্চলিক কার্যালয়ের (এসইএআরও) পরিচালক পদ থেকে সায়মা ওয়াজেদকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠানো হয়। দুর্নীতি, জালিয়াতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুটি মামলা করে। পুতুল আগে থেকেই ভারতে অবস্থান করছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের গবেষণা, তথ্য কার্যক্রম পরিচালনা, নীতিনির্ধারণ, প্রচার-প্রচারণার কাজের কথা বলা হলেও আদতে সিআরআই এখন ভিন্ন কাজ করছে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে আওয়ামী কালচারাল ফ্যাসিস্ট যাদের বলা হয়, তাদের সংগঠিত করে কাজে লাগানোর প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে। এজন্য এ তালিকার টকশোর জনপ্রিয় মুখ, সিনিয়র সাংবাদিক, ইউটিউবার, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার বুদ্ধিজীবীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সিআরআই’র দিল্লির এই কার্যালয় থেকেই এসব ছদ্মবেশী কালচারাল ফ্যাসিস্টদের নানা কৌশলে কাজে লাগাতে বিভিন্ন অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হচ্ছে। উদ্দেশ্য সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে ক্ষেপিয়ে তোলা, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে একে অপরের মুখোমুখি দাঁড় করানো, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা উজ্জীবিত করার নামে লুকিয়ে থাকা আওয়ামী কালচারাল শক্তিকে জড়ো করা, বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিকে চরম প্রতিপক্ষ হিসাবে সঙ্ঘাত সংঘর্ষে জড়ানো এবং সর্বোপরি, সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাঙ্গনে বড় ধরনের সঙ্ঘাত-সহিংসতা সৃষ্টি করে দেশকে চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাওয়া। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগের সব শক্তিকে ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে নিয়ে আসা। সবশেষে সুযোগ বুঝে একসঙ্গে কমপক্ষে ২০ লাখ কর্মী-সমর্থক জড়ো করে ঢাকা অ্যাটাক অথবা যমুনা ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়া।

এ কাজে প্রজন্ম ৭১, মঞ্চ ৭১, ব্রিগেড ৭১, নিউক্লিয়াস ৭১, মুক্তিবাহিনী ৭১, হিস্টোরি অব আগস্ট, নয়া সংগ্রাম ২৫, প্রত্যাবর্তনস-০২, বঙ্গবন্ধু-৭১ এবং জয়বাংলা ব্রিগেডসহ এরকম শতাধিক ফেসবুক আইডি, ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলকে প্রোপাগান্ডা প্ল্যাটফর্ম হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

  • September 2, 2025
  • 0 Comments
গণভোটে পিআর না হলে মেনে নেবে জামায়াত

গণভোটে পিআর পদ্ধতির নির্বাচন না হলে জামায়াতে ইসলামী মেনে বলে জানিয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেছেন।

ফোরাম ফর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার আয়োজিত এই অনুষ্ঠান থেকে প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে গোলাম পরওয়ার বলেছেন, পিআর ইস্যুতে সব দলকে ডেকে জাতীয় রাজনৈতিক সংলাপ করুন। কোনো সাজানো পাতানো নির্বাচন হলে জনগণ মেনে নেবে।

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, একটি রাজনৈতিক দল পিআর নিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করছে। কোনো রাজনৈতিক দলের চাপ অনুভব করলে পিআর গণভোটে ছেড়ে দিন। দেশের ৭১ ভাগ মানুষ পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়।

গোলাম পরওয়ার বলেছেন, পিআর পদ্ধতি ছাড়া যারা ক্ষমতায় আসবে তারা স্বৈরাচারে পরিণত হবে। বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী, যে দল ক্ষমতায় যাবে তারাই স্বৈরাচারে পরিণত হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যের সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সিইসি বলছেন সংবিধানে পিআর নেই। সংবিধানে তো অন্তর্বর্তী সরকারও নেই। সংবিধানে তো বলা নেই, কীভাবে নির্বাচন হবে। বলা হয়েছে পাঁচ বছর পরপর নির্বাচন হবে। তাহলে কী ২০২৯ সালে নির্বাচন হবে?

ফোরাম ফর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুস ছাত্তার শাহর সভাপতিত্বে সংগঠনটির নেতারা বক্তৃতা করেন।

  • September 1, 2025
  • 0 Comments
মানিকগঞ্জ আদালত চত্বর থেকে মোটরসাইকেল চুরির সময় যুবক হাতেনাতে আটক

মানিকগঞ্জ আদালত চত্বরে ঘটল অভিনব চুরির চেষ্টা। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে মোটরসাইকেল চুরি করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে হাতেনাতে ধরা পড়লেন এক যুবক। পরে জনতার ধাওয়া খেয়ে ধরা পড়া ওই যুবককে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।

আটক যুবকের নাম মো. মুন্না ফরাজী (২৫)। তিনি শিবালয় উপজেলার ছোট ধুতরাবাড়ী এলাকার মৃত মোতাহার ফরাজীর ছেলে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আদালত চত্বর থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল মুন্না। ঠিক সেই সময় আশপাশে উপস্থিত লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে ধাওয়া দেন। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে তাকে ধরে ফেলে উত্তেজিত জনতা। পরে স্থানীয়রা শান্তভাবে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি এসএম আমান উল্লাহ বলেন,“মোটরসাইকেল চুরি করে পালানোর সময় যুবক মুন্না ফরাজীকে আটক করেছে স্থানীয়রা। তাকে থানায় আনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।”

স্থানীয়রা জানান, আদালত চত্বরে দিনে-দুপুরে এ ধরনের চুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় প্রশ্ন তুলেছে। তবে জনতার তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে চোর পালাতে পারেনি।

  • September 1, 2025
  • 0 Comments
মানিকগঞ্জে দীর্ঘ ১৭ বছর পর উৎসবমুখর পরিবেশে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে কোনো বাধা ছাড়াই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে মানিকগঞ্জে। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই শহরজুড়ে নেতাকর্মীদের ঢল নামলে মানিকগঞ্জ রূপ নেয় বিএনপি সমর্থকদের মিলনমেলায়।

দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় শহীদ রফিক সড়কে অবস্থিত জেলা বিএনপির কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে। এরপর জেলার সাতটি উপজেলা ও দুই পৌরসভা থেকে নেতাকর্মীরা সমবেত হন বিজয় মেলার মাঠে।

হাজারো নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য র‌্যালি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ। এদিন শহরের প্রতিটি মোড় ও প্রধান সড়ক রঙিন ব্যানার-ফেস্টুনে সেজে ওঠে। নেতাকর্মীদের হাতে প্ল্যাকার্ড, শ্লোগানে শ্লোগানে পুরো শহর পরিণত হয় ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের স্লোগানের নগরীতে’।

২০০৬ সালে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে পুলিশি বাধা ও সীমাবদ্ধতার কারণে এভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করতে পারেনি বিএনপি। তবে এবার নির্বিঘ্ন আয়োজন নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উৎসাহ ও জাগরণের বার্তা দিয়েছে।

এদিনের র‌্যালি ও সমাবেশের নেতৃত্ব দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খানম রিতা। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির, অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন খান, অ্যাডভোকেট নুরতাজ আলম বাহার, নাসির উদ্দিন আহমেদ জাদু, গোলাম আবেদীন কায়সারসহ কৃষকদল, যুবদল, শ্রমিকদল, মহিলা দল, ছাত্রদল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আফরোজা খানম রিতা বলেন—

“আজকের এই দিন শুধু একটি রাজনৈতিক দলের জন্মদিন নয়, এটি গণতন্ত্রকামী মানুষের চেতনার প্রতীক। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জনগণের অধিকার রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া সেই অঙ্গীকারকে আন্দোলন ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে সমুন্নত রেখেছেন। আজ দেশনেতা তারেক রহমান প্রবাসে থেকেও আমাদের প্রতিটি সংগ্রামে দিশা দেখাচ্ছেন। ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমাদের দমিয়ে রাখলেও আজকের লাখো মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে—মানুষ ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় আছে।”

সমাবেশে বক্তারা বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নতুন জাগরণের প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং এই উচ্ছ্বাসকে আন্দোলনের প্রেরণা হিসেবে কাজে লাগানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

  • August 31, 2025
  • 0 Comments
মানিকগঞ্জের গাজীখালী নদী কচুরিপানার দখলে, দুই দফায় ১৬ কোটি টাকা খরচেও মিলেনি সুফল

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী গাজীখালী নদী আজ কচুরিপানার জটে পরিণত হয়ে মৃতপ্রায়। দূর থেকে দেখলে মনে হবে সবুজ ঘাসে ঢাকা কোনো মাঠ, কিন্তু কাছে গেলে বোঝা যায় এটি আসলে কচুরিপানায় ভরা একটি নদী। গোপালপুর থেকে ধামরাইয়ের বারবারিয়া পর্যন্ত নদীর পুরো অংশ এখন কচুরিপানায় আচ্ছাদিত হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে নৌপথ।

সরকার দুই দফায় প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয় করে খনন কাজ করলেও আজও নদীটির নাব্যতা ফেরেনি। স্থানীয়দের অভিযোগ,খনন প্রকল্পগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়নি, বরং টাকার অপচয় হয়েছে। ফলে নদী আজও প্রাণ ফিরে পায়নি।

একসময় এ নদীকে কেন্দ্র করে জমজমাট হয়ে উঠেছিল সাটুরিয়া বাজার। দেশের নানা প্রান্ত থেকে বড় বড় নৌকায় ক্রেতা-বিক্রেতারা ভিড় জমাতেন। এখন সেই নদীতে ছোট নৌকাও চলাচল করতে পারে না। মাছ শিকার বন্ধ হয়ে পড়ায় জেলেরা বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করছেন।

সাটুরিয়ার প্রবীণ বাসিন্দা মো. গোলাম মোস্তফা (৭৫) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নদী খননের নামে ভূয়া প্রকল্প করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। আগে এই নদীতে স্টিমার চলত, এখন কচুরিপানার কারণে ছোট নৌকাও চলতে পারে না।”

অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দাবি করেছেন, বর্ষায় কচুরিপানা স্বাভাবিক ঘটনা। শুষ্ক মৌসুমে পরিস্থিতি যাচাই করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কিন্তু স্থানীয়দের প্রশ্ন, নদীটি যদি আজই বাঁচানোর উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে হয়তো মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যাবে গাজীখালী নদী।

অন্যান্য