এ এস এম সাইফুল্লাহ, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি ॥
বিশিষ্ট শিল্পপতি সাবেক মন্ত্রী মরহুম হারুনুর রশিদ খান মুন্নুর সুযোগ্য কন্যা আফরোজা খানম রিতা মানিকগঞ্জ-৩ আসন থেকে এক লাখ চার হাজার ভোটের ঐতিহাসিক ব্যবধানে জয়ী এই সংসদ সদস্যকে ঘিরে এখন জেলায় বইছে নতুন প্রত্যাশার হাওয়া। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গন সবখানেই এক আলোচনা, তাকে কি দেখা যাবে আসন্ন মন্ত্রিসভায়?
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৫১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৪৮টিতেই বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, এমন ধারাবাহিক জয় কেবল সাংগঠনিক শক্তির ফল নয়—এটি তৃণমূলের আস্থা, দীর্ঘদিনের মাঠরাজনীতি এবং মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কেরই প্রতিফলন। মানিকগঞ্জ-৩ আসনের ইতিহাসে এই ব্যবধান অন্যতম বড় জয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক সংকট ও আন্দোলন-সংগ্রামের সময়ে একজন দৃঢ়চেতা নারী নেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন আফরোজা খানম রিতা। দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য—তার নেতৃত্ব আপসহীন, সিদ্ধান্তে স্পষ্ট এবং কর্মীদের প্রতি দায়বদ্ধ। মাঠে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার সংস্কৃতি তাকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে গেছে।
জেলা শহর ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা বিশ্বাস করেন—মন্ত্রীত্ব পেলে জেলার উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আসবে। বিশেষ করে, শিল্পকারখানা স্থাপন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, নদীভাঙন রোধে টেকসই প্রকল্প, সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ খাতে সম্প্রসারণ। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও তরুণ সমাজের প্রত্যাশা কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পেলে তিনি জেলার উন্নয়ন পরিকল্পনাকে জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবেন।
যদিও এখনো দলীয় উচ্চপর্যায় থেকে মন্ত্রিপরিষদ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি, তবুও নেতাকর্মীদের মধ্যে আশাবাদ প্রবল। তারা মনে করছেন, বিপুল জনসমর্থনের প্রতিফলন ঘটিয়ে তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
মানিকগঞ্জবাসীর কণ্ঠে এখন একটাই সুর এই ঐতিহাসিক বিজয়ের স্বীকৃতি হিসেবে জেলার জনপ্রতিনিধিকে জাতীয় পর্যায়ে বড় ভূমিকা দেওয়া হোক।
