মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি ॥

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও অংশগ্রহণের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরে দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখেনি। সকালবেলা ভোট দিতে গিয়ে অনেকেই দেখেছে ব্যালেট আগেই চুরি হয়ে গেছে, আবার কোথাও ভোটারকে পুলিশ বলেছে—ভোট দিতে আসার দরকার নেই।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া ইমামবাড়ি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রেসসচিব বলেন, বর্তমানে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচারণায় লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে—দেশের মানুষ ভোট দিতে মুখিয়ে আছে। প্রচারণায় মানুষের ঢল নামছে, বিশাল র‍্যালি হচ্ছে। এসব ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কার কারণ নেই।

তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচনে দেশের বাউল সমাজসহ সব শ্রেণি-পেশা ও ধর্মের মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন। পীরভক্ত হোক বা না হোক, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান এমনকি ধর্মে বিশ্বাস না করা নাগরিকও ভোট কেন্দ্রে যাবেন—সবাই মিলে ভোট দেবেন।

গণমাধ্যম সংস্কার প্রসঙ্গে প্রেসসচিব বলেন, তথ্য অধিকার আইনকে আরও ব্যবহারবান্ধব করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনা হয়েছে। সূচিপত্র প্রণয়ন, রিপোর্টিং কাঠামো এবং তথ্য পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতে একটি অধ্যাদেশ পাস করা হয়েছে। তিনি বলেন, মাত্র ১৮ মাসের মধ্যে সব সংস্কার সম্ভব নয়। তবে যেসব বিষয় সবচেয়ে জরুরি ছিল, সেগুলো বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করেছে।

গ্রামাঞ্চলে গণভোটের প্রচারণা নিয়ে তিনি বলেন, “গণভোটের প্রচারণায় উপদেষ্টারা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যাচ্ছেন। আগে ভোটের গাড়ি ছিল ১০টি, এখন তা বাড়িয়ে ৩০টি করা হয়েছে। এসব গাড়ি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে যাচ্ছে। দেশের ৪৯৫টি উপজেলায় এই ভোটের গাড়ি যাবে। এতে আমরা অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি।”

নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বড় রাজনৈতিক দলগুলো এখন প্রচারণায় ব্যস্ত। যেখানে তারা যাচ্ছেন, সেখানেই হাজার হাজার, এমনকি লাখ লাখ মানুষের সমাগম হচ্ছে। গত ১৬ বছরে মানুষ ভালো নির্বাচন দেখেনি। সকালে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখেছে ব্যালট আগেই চুরি হয়ে গেছে, তাদের সামনে দিয়ে ব্যালট বাক্স নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশ বলেছে—আপনার আসার দরকার নেই। সেই অভিজ্ঞতা থেকে মানুষ মুক্তি চায়।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, জাতীয় সংস্কার কমিশনের সঙ্গে ৯ মাস ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনা শেষে এই গণভোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জুলাই সনদের মধ্য দিয়েই তার প্রতিফলন ঘটেছে। সব রাজনৈতিক দলই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে, তবে হয়তো নিজেদের প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে যেন দেশে আর স্বৈরাচার ও অপশাসন ফিরে না আসে, জনগণের ব্যাংকের টাকা কেউ লুট করতে না পারে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরিফুর রহমান বাবু, গড়পাড়া ইমামবাড়ি দরবার শরিফের পীর শাহজাদা রহমান বাধন, শাহ শাহিন আহমেদ, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাসসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।