নিজস্ব প্রতিবেদক, মানিকগঞ্জ :
মানিকগঞ্জ–-১ (ঘিওর-দৌলতপুর-শিবালয়) আসনটি সবসময়ই বিএনপির জন্য ‘প্রতীকী গুরুত্বের’ আসন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, জেলা রাজনীতির ঐতিহ্য, এবং দীর্ঘদিন ধরে জনসমর্থনঘেরা তৃণমূলের সক্রিয়তার কারণে এ আসনটি দলটির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এবারের নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রার্থী ঘোষণা করলেও এই গুরুত্বপূর্ণ আসনটি এখনো ‘ফাঁকা বাক্স’। আর এই অঘোষিত মনোনয়নকে কেন্দ্র করেই দলে তৈরি হয়েছে অঘোষিত তিন শিবির—জিন্নাহ সমর্থক, আকবর বাবলু সমর্থক ও তোজা সমর্থক।
মানিকগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চাইছেন ছয়জন এরা হলেন-এসএ জিন্নাহ কবীর, খন্দকার আকবর হোসেন বাবলু, তোজাম্মেল হক তোজা, ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন খান, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ।
তবে মাঠে প্রতিদিন শোডাউন, মিছিল, উঠান বৈঠক নিয়ে এগিয়ে আছেন প্রথম তিনজন।
এলাকা ঘুরে দেখা যাচ্ছে কোথাও জিন্নাহ কবীরের মোটরসাইকেল শোডাউন, কোথাও বাবলুর অনুসারীদের ব্যানার–ফেস্টুনের ছড়াছড়ি, আবার কোথাও তোজার লম্বা মিছিল, স্লোগান হাটে-ঘাটে গণসংযোগ। প্রতিটি প্রচারণা যেন অপরটিকে ছাড়িয়ে যেতে চাইছে।
এ আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এখন প্রকাশ্য। যুবদলের বড় অংশ ঝুঁকছে জিন্নাহ কবীরের দিকে।
ছাত্রদলের তৃণমূল অংশ বেশিরভাগ সমর্থন দিচ্ছে তোজাম্মেল হক তোজাকে।
উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বড় অংশ আগ্রহ দেখাচ্ছেন আকবর হোসেন বাবলুর দিকে, তাঁর পারিবারিক পরিচিতি ও দেলোয়ার হোসেনের অবদানকে সামনে রেখে।
দলীয় সিদ্ধান্ত যে যেকোনো দিকে যেতে পাওে তা বুঝেই প্রত্যেক গ্রুপ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজেদের প্রার্থীর ‘জয়ের সম্ভাবনা’ তুলে ধরে হাইকমান্ডকে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রার্থী ঘোষণায় দেরি বাড়াচ্ছে সন্দেহ, সংশয় :
রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাইফুদ্দিন নান্নু মনে করেন, “মানিকগঞ্জ-১ আসনটি বিএনপির ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। প্রার্থী ঘোষণায় বিলম্ব তৃণমূলে অসন্তোষ বাড়াচ্ছে। এখনো সংঘাত হয়নি এটাই আশার কথা। তবে সিদ্ধান্তহীনতা বেশি দীর্ঘ হলে গ্রুপিং আরও কঠিন রূপ নিতে পারে।”
স্থানীয় নেতারা বলছেন, গণমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে, হাইকমান্ড মাঠপর্যায়ের রিপোর্ট, সংগঠন শক্তিপূর্বেকার আন্দোলনে অংশগ্রহণ সবকিছু বিবেচনা করছে। ফলে নিশ্চিত মনোনয়ন কার দিকে যাবে এটি এখন সম্পূর্ণই ‘হাইকমান্ডের রহস্য’।
কী হতে পারে শেষ পরিণতি? :
এলাকাবাসী বলছেন, মনোনয়ন যদি জিন্নাহ, বাবলু বা তোজা যে কারো দিকে যায়, অন্য গ্রুপের মতবিরোধ দলকে কঠিন অবস্থায় ফেলতে পারে তাদের মতে নির্বাচনে কার্যকরভাবে মাঠে নামতে হলে এখনই গ্রুপিং কমানো জরুরি। দেরি হলে ‘অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা’ রূপ নিতে পারে অগোছালো পরিস্থিতিতে
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,“এই আসনে প্রার্থী ঘোষণা বিএনপির জন্য শুধু নির্বাচন নয়, ভবিষ্যতের সাংগঠনিক শক্তি পুনর্গঠনেরও পরীক্ষা।”
