• November 27, 2025
  • 0 Comments
ইমরান খানের মৃত্যু খবরে পাকিস্তানে উত্তেজনা, কারাগার কর্তৃপক্ষের বিবৃতি

পাকিস্তানের রাজনীতিতে এক নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মৃত্যুর গুজব। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের ভিতরে এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

ইমরান খানের তিন বোন অভিযোগ করেছেন, বারবার সাক্ষাতের জন্য আবেদন করলেও তাদের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি কারাগারে ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টার সময় পুলিশের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন তারা।

কারাগারের বাইরে নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই খবর পিটিআই সমর্থকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আদিয়ালা কারাগারের আশেপাশে হাজার হাজার পিটিআই নেতাকর্মী জড়ো হয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে আদিয়ালা কারাগার কর্তৃপক্ষ বিবৃতি প্রদান করেছে। গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারা জানিয়েছে, ইমরান খান কারাগারেই আছেন এবং তাকে অন্যত্র সরানোর কোনও তথ্য ভিত্তিহীন। কারাগারের কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা পাচ্ছেন।

ইমরান খান ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারান। এরপর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সেনাবাহিনী সদর দফতরে হামলা ও রাষ্ট্রের গোপন নথি ফাঁসসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়। ২০২৩ সালে একাধিক নাটকীয় পরিস্থিতির পর গ্রেপ্তার হন তিনি। আগস্ট ২০২৩ থেকে তিনি কারাগারে অবস্থান করছেন।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, কারাগারে ইমরান খানকে সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেছেন, এখানে তিনি যে সুবিধা পাচ্ছেন, তা অনেক ক্ষেত্রেই পাঁচ তারকা হোটেলের থেকেও বেশি।

খাজা আসিফ বলেন, “তার জন্য যে খাবার আসে, সেটির মান পাঁচ তারকা হোটেলের চেয়ে কম নয়। তার কাছে টেলিভিশন রয়েছে এবং ইচ্ছা অনুযায়ী যে কোনো চ্যানেল দেখতে পারেন। ব্যায়ামের যন্ত্রাংশও রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জন্য ডাবল বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

  • October 13, 2025
  • 0 Comments
আপাতত যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্তে আফগানিস্তান

গত বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) থেকে আফগানিস্থান এবং পাকিস্থানের মধ্যে সীমান্তে চলমান উত্তেজনায় আপাতত যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আফগানিস্থান। রোববার (১২ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকী।

মুত্তাকি বলেন, আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রগুলো -যার মধ্যে কাতার, সৌদি আরব রয়েছে- অনুরোধ করে বলেছে, এই সমস্যার একটা সমাধান দরকার। সেজন্য আমরা আমাদের দিক থেকে আপাতত অভিযান বন্ধ রেখেছি।

তিনি আরো বলেন,পাকিস্তানের অধিকাংশ মানুষ শান্তিপ্রত্যাশী। তারা আফগানিস্তানের সাথে সুসম্পর্ক চায়। সেজন্য পাকিস্তানি সাধারণ মানুষের সাথে আমাদের কোনো বিরোধ নেই।

আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যখন আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কেউ হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে, তখন আমাদের সাধারণ মানুষ, দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্ব, আলেম-উলামা এবং অন্যান্য ধর্ম প্রধানসহ সবাই দেশের স্বার্থে যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত থাকে।

তিনি আরো বলেন, পাকিস্তান যদি শান্তি ও সুসম্পর্ক না চায়, তাহলে আফগানিস্তান অন্যান্য বিকল্পই গ্রহণ করবে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাতে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে হামলা করে পাকিস্তানি বিমানবাহিনী। এর প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা সীমান্ত হামলা চালায় আফগানিস্তান। এই সঙ্ঘর্ষ শুরু হওয়ার পর পাকিস্তান-আফগানিস্তান বর্ডার খুলে দেয়া হয়েছে।

  • September 27, 2025
  • 0 Comments
জাতিসংঘে ইসরায়েলকে তুলোধুনো করলেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট, মাথায় চুমু দিলেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এক দুর্দান্ত সংহতির মুহূর্ত দেখা গেল। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন নিয়ে তীব্র ভাষায় বক্তব্য দেওয়ার পর ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা তাঁকে আলিঙ্গন করেন এবং মাথায় চুমু দেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মানি কন্ট্রোলের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

নিজের বক্তব্যে পেত্রো ইসরায়েলের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি ইসরায়েলিদের ‘নাৎসি’ আখ্যা দিয়ে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তোলেন। পেত্রো প্রস্তাব দেন, এশিয়ার দেশগুলোর নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক সামরিক জোট গড়ে তুলে ফিলিস্তিনকে মুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে ইসরায়েলে অস্ত্রবাহী জাহাজ পাঠানো বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

পেত্রো তাঁর ভাষণে বলেন, ‘ভদ্রমহোদয়গণ, কোনো জাতিই শ্রেষ্ঠ নয়। ঈশ্বরের মনোনীত জাতি বলেও কিছু নেই। সেটা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল—যে জাতিই হোক না কেন। কেবল অজ্ঞ, ডানপন্থী ধর্মান্ধরা এমনটা ভাবতে পারে। আসলে ঈশ্বরের মনোনীত জাতি হলো পুরো মানবজাতি।’

এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বকে আক্রমণ করে বলেন, ‘তারা অভিবাসনকে অজুহাত হিসেবে তুলে ধরে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় কিছুই করে না, অথচ এই সংকট প্রতিদিন জীবনের ওপর আঘাত হানছে। তারা অভিবাসনকে কাজে লাগায় শ্বেতাঙ্গ আর বৃদ্ধদের ভোট পাওয়ার জন্য, কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে এ নিয়ে নীরব থাকে।’

জাতিসংঘ বিষয়ে পেত্রো বলেন, ‘জাতিসংঘকে এখনই বদলাতে হবে। একটি পরিবর্তিত, মানবিক জাতিসংঘকে অবশ্যই আগে গাজায় গণহত্যা থামাতে হবে।’

এরপর, ভাষণ শেষ হলে পেত্রোকে আলিঙ্গন করে তাঁর মাথায় চুমু দেন লুলা। তাঁর এ অঙ্গভঙ্গি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর দ্রুতই বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও জাতিসংঘের কূটনীতিকরা একে নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। অনেকে এটিকে পেত্রোর বক্তব্যের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন হিসেবেও দেখেন।

গাজার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই পেত্রো ইসরায়েলের কড়া সমালোচক। জাতিসংঘে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি নাৎসি জার্মানির প্রচারমন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলসের নাম টেনে আনেন। পেত্রোর দাবি, আজকের বিশ্বে গাজার খবর প্রচারে যেন গোয়েবলস নির্দেশনা দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, আজকের সবচেয়ে বড় ইহুদিবিদ্বেষ হলো ‘হিটলারের গণহত্যার পুনরাবৃত্তি করা, তবে এবার তা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে।’

পেত্রোর এসব বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদি সংগঠনগুলো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাঁরা নাৎসি তুলনা ও এ ধরনের ভাষাকে নিন্দা করেছে। শুধু কথায় নয়, পেত্রোর অবস্থান কলম্বিয়ার নীতিতেও প্রতিফলিত হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে পেত্রো ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে নাৎসি বলে তুলনা করার পর ইসরায়েল কলম্বিয়ায় নিরাপত্তা সরঞ্জাম রপ্তানি বন্ধ করে। পরে কলম্বিয়াও ইসরায়েলের কাছ থেকে অস্ত্র কেনা পুরোপুরি স্থগিত করে।

এর আগে, ২০২৪ সালের মে মাসে পেত্রো ঘোষণা দেন, কলম্বিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করবে। তিনি ইসরায়েলি নেতৃত্বকে ‘গণহত্যাকারী’ আখ্যায়িত করেন। এ ছাড়া, কলম্বিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলায় অংশ নিতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে আবেদন করেছে।

জাতিসংঘে লুলার প্রকাশ্য সমর্থনের পর গাজা ইস্যুতে কূটনৈতিক অঙ্গনে লাতিন আমেরিকার ঐক্য এখন নতুন এক প্রতীকী চিত্র পেয়েছে।

  • September 27, 2025
  • 0 Comments
শত শত মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাকে হঠাৎ যুক্তরাষ্ট্রে তলব

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের জরুরি বৈঠকে ডেকেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। আগামী সপ্তাহে ভার্জিনিয়ায় এ বৈঠক হবে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল। খবর আল জাজিরার।

এতো অল্প সময়ের নোটিশে কেনো ভার্জিনিয়ায় জেনারেল এবং অ্যাডমিরালদের তলব করলেন অথবা বৈঠকের এজেন্ডা কী, তা স্পষ্ট নয়।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পার্নেল বৈঠক সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘যুদ্ধমন্ত্রী আগামী সপ্তাহের শুরুতে তার ঊর্ধ্বতন সামরিক নেতাদের সামনে বক্তব্য রাখবেন।’

মার্কিন সেনাবাহিনীতে প্রায় ৮০০ জেনারেল এবং অ্যাডমিরাল রয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে হাজার হাজার সেনার দায়িত্বে থাকেন, যাদের অনেকেই সংবেদনশীল বিদেশি ঘাঁটিতে কর্মরত। সাধারণত এসব কর্মকর্তাদের সময়সূচি কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই নির্ধারিত হয়ে থাকে।

এক সামরিক কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘এখন সবাই তাদের সময়সূচি বদলাতে হিমশিম খাচ্ছেন এবং ভাবছেন তাদের সেখানে যাওয়া বাধ্যতামূলক কি না।’

এরআগে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বৈঠককে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আমি এটা পছন্দ করি। আমার কাছে দারুণ মনে হচ্ছে। জেনারেল আর অ্যাডমিরালদের সোথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা ভালো।’

অবশ্য জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের এভাবে তলব করা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, ট্রাম্প সেটিকে গুরুত্ব দিতে চাননি। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে পাল্টা প্রশ্ন রাখেন, ‘এটা এতো বড় ব্যাপার কেন? আমরা যদি জেনারেল আর অ্যাডমিরালদের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখি, এতে ক্ষতি কোথায়? আমি তো শান্তির প্রেসিডেন্ট। সম্পর্ক ভালো থাকা ভালোই।’

  • September 23, 2025
  • 0 Comments
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে ১৪৫ দেশ, দেয়নি ৪৫টি

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধের উত্তাপে মধ্যেই বিশ্ববাজারের কয়েকটি দেশের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও পর্তুগাল আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর পর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও অন্যান্য দেশও একই পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

১৯৮৮ সালে নির্বাসিত অবস্থায় ফিলিস্তিনি নেতারা একতরফাভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ঘোষণা করেন। এর পর থেকে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশ এই রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়ে এসেছে। জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য দেশের মধ্যে প্রায় ১৪৫টি দেশ ইতোমধ্যে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগাল অন্যতম।

আরব, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ার বেশিরভাগ দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েও ইউরোপের মধ্যে বিভক্তি দেখা যায়। পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো মাঝে মাঝে দ্বিমত পোষণ করে। ২০১৪ সালে সুইডেন প্রথম পশ্চিম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। এরপর নরওয়ে, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, স্লোভেনিয়া, যুক্তরাজ্য ও পর্তুগালও একই পথে হাঁটেছে। তবে ইতালি ও জার্মানি এখনও স্বীকৃতির পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে।

স্বীকৃতি প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি রাজনৈতিক ও আইনি ক্ষেত্রে একটি জটিল বিষয়। স্বীকৃতি দেওয়া মানে নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নিশ্চয়তা দেয় না, এবং না দেওয়াও অস্তিত্বের অব্যাহতিসূচক নয়। তবে এর প্রতীকী ও রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম।

  • September 16, 2025
  • 0 Comments
কাতারে হামলা না করার প্রতিশ্রুতি নেতানিয়াহুর, ট্রাম্প

গাজা উপত্যকায় হামাস ও ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান যুদ্ধের অন্যতম মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারে ভবিষ্যতে আর হামলা চালাবে না ইসরায়েল—এমনটি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “নেতানিয়াহু আর কাতারে হামলার নির্দেশ দেবেন না। কাতার আমাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র। তিনি ভবিষ্যতে কাতারের সঙ্গে মিলেমিশে চলবেন।”

এর আগে, ৮ সেপ্টেম্বর দোহার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে হামলা চালায় ইসরায়েলের বিমান বাহিনী। লক্ষ্য ছিল কাতারে অবস্থানরত হামাসের শীর্ষ নেতারা। মাত্র ১৫ মিনিটের এই অভিযানে হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৫ জনসহ মোট ৬ জন নিহত হন। তবে প্রাণে বেঁচে যান হামাসের শীর্ষ নেতা খলিল আল হায়া ও অন্যান্য হাইকমান্ড সদস্যরা।

এই হামলার ঘটনায় বিশ্বের অনেক দেশ ইসরায়েলকে নিন্দা জানায়। হামলার পরদিন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট দাবি করেন, কাতারকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে দোহাকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়, যা মার্কিন সেনাঘাঁটি থেকেও পুনরায় জানানো হয়।

তবে ট্রাম্প পরে বলেন, “না, তারা আমাকে আগে কিছু জানায়নি। আপনি যেভাবে হামলার খবর পেয়েছেন, আমিও সেভাবেই জেনেছি।”

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

  • September 16, 2025
  • 0 Comments
নেপালে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে আবারও রাস্তায় জেন জি

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই মন্ত্রী নিয়োগ দেওয়ায় নেপালে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কির পদত্যাগ দাবিতে আবারও রাস্তায় নেমেছে জেন জি। রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে বালুওয়াটারে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে জেন জি আন্দোলনের অন্যতম নেতা সুদান গুরুংয়ের নেতৃত্বে স্লোগান দিতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা।

তাদের অভিযোগ, নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়নি। তাই কার্কির পদত্যাগ ছাড়া বিকল্প নেই বলে তারা দাবি করেন।

সুদান গুরুং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা যদি আবার রাস্তায় নামি, কেউ আমাদের থামাতে পারবে না। আমরা যেখানেই বসিয়েছি, সেখান থেকে উপড়ে ফেলবো।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আইনজীবী ওম প্রকাশ আর্যাল ভেতর থেকে নিজেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়ে নিচ্ছেন।

এসময় গুরুং সঙ্গে নিয়ে আসেন গত সপ্তাহের বিক্ষোভে নিহত ও আহতদের স্বজনদেরও।

রোববার প্রধানমন্ত্রী কার্কি আইনজীবী ওম প্রকাশ আর্যালকে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। এর আগে তিনি রমেশ্বর খনালকে অর্থমন্ত্রী এবং কুলমান ঘিসিংকে জ্বালানি মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন।

আর্যাল সুপ্রিম কোর্টে লোকমান সিং কার্কিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান করার বিরুদ্ধে রিট দায়ের করে আলোচনায় আসেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট মামলায় লড়াই করছেন এবং কাঠমান্ডু মহানগর করপোরেশনের আইনি উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

অর্থমন্ত্রী রমেশ্বর খনাল সাবেক অর্থসচিব। তিনি কেপি শর্মা ওলি সরকারের কাছে সম্প্রতি অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে ৪৪৭ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে কুলমান ঘিসিং বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে লোডশেডিং কমিয়ে জনআস্থা অর্জন করেছিলেন। তবে ওলি সরকার তাকে সরিয়ে হিতেন্দ্র দেব শাক্যকে বসায়, যা জনরোষ সৃষ্টি করেছিল।

সূত্র জানিয়েছে, কার্কি প্রথমে ফোনে তিনজনের সঙ্গেই আলাদাভাবে কথা বলেন, পরে অফিসে ডেকে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। এর আগে তিনি সিনিয়র অ্যাডভোকেট সবিতা ভান্ডারীকে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেন।

রোববার সকালে কার্কি মন্ত্রিসভা গঠনের আলোচনা শুরু করেন। সর্বোচ্চ ১১-১৫ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে বলে জানা গেছে। ফলে মন্ত্রীদের একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

দুর্নীতি, সরকারবিরোধী নিপীড়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে গত ৮ সেপ্টেম্বর রাস্তায় নেমে আসে নেপালের তরুণ সমাজ। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনী জলকামান, টিয়ারগ্যাস, রাবার বুলেট এবং গুলি ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। বিভিন্ন শহরে জারি করা হয় কারফিউ।

তবে আন্দোলনকারীরা দমে না গিয়ে পরদিনও বিক্ষোভ চালিয়ে যান। চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি। এদিন বিভিন্ন নেতার বাড়ি ও সরকারি ভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেন বিক্ষোভকারীরা। নেপালের সহিংসতায় এ পর্যন্ত অন্তত ৭১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

এ অবস্থায় গত ১২ সেপ্টেম্বর নেপালের ইতিহাসে প্রথম নারী সরকারপ্রধান হিসেবে শপথ নেন সাবেক বিচারপতি সুশীলা কার্কি। জেন জি আন্দোলনকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল ও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর কার্কিকে অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সূত্র: সেতোপাতি

  • September 14, 2025
  • 0 Comments
জাতিসংঘে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রস্তাব বিপুল ভোটে পাস, বিপক্ষে ভোট দিল যারা

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ শুক্রবার বিপুল ভোটে একটি ঘোষণাপত্র অনুমোদন করেছে, যেখানে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথে ‘বাস্তবসম্মত, সময় সীমাবদ্ধ ও অপরিবর্তনীয় পদক্ষেপ’ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুলাইয়ে সৌদি আরব ও ফ্রান্সের উদ্যোগে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফল হচ্ছে সাত পৃষ্ঠার এই ঘোষণাপত্র। এই সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অংশগ্রহণ করেনি।

সাধারণ পরিষদে ঘোষণাপত্রকে সমর্থন জানিয়ে আনা প্রস্তাবটির পক্ষে ১৪২টি ভোট পড়ে, বিপক্ষে ১০টি দেশ এবং ১২টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।

এই ভোট হয়েছে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত বিশ্বনেতাদের বৈঠকের আগে, যা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনের ফাঁকে বসবে। এ বৈঠকে ব্রিটেনসহ কয়েকটি দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

১৯৩ সদস্যবিশিষ্ট জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সমর্থিত এই ঘোষণাপত্রে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে, যা থেকে গাজা যুদ্ধের সূত্রপাত।

এ ঘোষণায় একই সঙ্গে ইসরায়েলের গাজায় বেসামরিক জনগণ ও অবকাঠামোর ওপর হামলা, অবরোধ ও অনাহারের নিন্দা জানানো হয়েছে, যা ‘বিধ্বংসী মানবিক বিপর্যয় ও সুরক্ষা সংকটের জন্ম দিয়েছে।’

ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, এই প্রস্তাব হামাসকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করেছে।

তিনি বলেন, ‘আজ প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ এমন এক নথি গ্রহণ করেছে, যা হামাসের অপরাধের নিন্দা করেছে এবং তাদের আত্মসমর্পণ ও নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানিয়েছে।’

এই প্রস্তাব সব উপসাগরীয় আরব দেশের সমর্থন পেয়েছে। তবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এর বিপক্ষে ভোট দেয়। তাদের সঙ্গে ছিল আর্জেন্টিনা, হাঙ্গেরি, মাইক্রোনেশিয়া, নাউরু, পালাউ, পাপুয়া নিউগিনি, প্যারাগুয়ে ও টোঙ্গা।

প্রস্তাবে অনুমোদিত ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, গাজার যুদ্ধ ‘অবিলম্বে শেষ হওয়া উচিত’ এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদিত একটি অস্থায়ী আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা মিশন মোতায়েনের পক্ষে এতে সমর্থন জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র এই ভোটকে ‘আরও একটি ভুল এবং ভুল সময়ে করা লোক দেখানো কাজ’ বলে অভিহিত করেছে, যা সংঘাতের অবসানের জন্য চলমান গুরুতর কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

মার্কিন কূটনীতিক মরগান অর্টাগাস সাধারণ পরিষদকে বলেন, ‘কোনো ভুল ধারণা রাখবেন না, এই প্রস্তাব হামাসের জন্য একটি উপহার। শান্তি প্রতিষ্ঠা করা দূরের কথা, এই সম্মেলন এরই মধ্যে যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করেছে, হামাসকে উৎসাহিত করেছে এবং স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে শান্তির সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’

দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের সমালোচনা করে আসা ইসরায়েল ৭ অক্টোবরের হামলার জন্য হামাসকে সরাসরি দায়ী করছে না। ঘোষণাপত্রটিকে ‘একপেশে’ আখ্যা দিয়ে ভোটকে ‘নাটকীয় প্রদর্শনী’ হিসেবে বর্ণনা করেছে তারা।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেন, ‘এর একমাত্র সুবিধাভোগী হলো হামাস। যখন সন্ত্রাসীরা উল্লাস করে, তখন আপনি শান্তি প্রতিষ্ঠা করছেন না; আপনি সন্ত্রাসকে উৎসাহিত করছেন।’

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে আক্রমণে ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হয়, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। এ ছাড়া প্রায় ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল বলে ইসরায়েলের হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, গাজায় চলমান যুদ্ধে ৬৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

  • September 10, 2025
  • 0 Comments
কাতারে ইসরাইলি হামলা : জরুরি সভা আহ্বান নিরাপত্তা পরিষদের

কাতারের রাজধানী দোহায় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের প্রতিনিধি দলকে লক্ষ্য করে মঙ্গলবার হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একের পর এক নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। অনেক দেশ এটাকে কাতারের সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন বলে বিবেচনা করছে।

এ ঘটনায় আজ বুধবার জরুরি অধিবেশন আহ্বান করেছে জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ।

কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা কূটনৈতিক সূত্রে জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদের আরব সদস্য আল জেরিয়ার অনুরোধে সংস্থাটি এই জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সও নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কূটনৈতিক সূত্রে বিষয়টি উল্লেখ করেছে।

তবে আল জাজিরার এক প্রতিনিধি জানিয়েছে, যদিও এই আহ্বানটা আল জেরিয়ার পক্ষ থেকেই ছিল। তবে একে সমর্থন জানিয়েছে পাকিস্তান ও সোমালিয়া। দেশ দু’টি বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য। তাদের ব্রিটেন ও ফ্রান্সও সমর্থন দিয়েছে।

ফ্রান্সের কয়েকটি পত্রিকা জানিয়েছে যে অধিবেশনটি আজ বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় (জিএমটি) অনুষ্ঠিত হবে।

সূত্র : আল জাজিরা

  • September 9, 2025
  • 0 Comments
হাসিনার প্রাণনাশ করবেন মোদি!

জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতের মাটিতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে নতুন করে গুরুতর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রবীণ বামপন্থী চিন্তাবিদ ও লেখক বদরুদ্দীন উমর। তাঁর মতে, যেই রাষ্ট্রে তিনি আশ্রয় নিয়েছেন, ভবিষ্যতে সেখান থেকেই তাঁর প্রাণনাশের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে দেওয়া একটি লিখিত জবানবন্দিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাক্ষী হিসেবে এই জবানবন্দি জমা দেন বর্ষীয়ান এই তাত্ত্বিক। গত রোববার তাঁর মৃত্যুর পর ট্রাইব্যুনাল জবানবন্দিটি প্রকাশ করে।

বদরুদ্দীন উমর লিখেছেন, ভারতের সহায়তায় কিছু অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা চালাতে পারলেও আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান আর সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক যাত্রা যেমন শুরু হয়েছিল নির্বাসন দিয়ে, তেমনি তার পতনের পরিণতিও হচ্ছে নির্বাসন।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার সময় শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবার বেলজিয়ামে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। পরে তারা ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন এবং সেখান থেকেই শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসেন। দীর্ঘ নির্বাসনের সময়ে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাঁর, বিশেষ করে গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সঙ্গে। উমরের মতে, ভারত সেই সম্পর্কের ভিত্তিতেই তাঁকে ক্ষমতায় বসায়।

জবানবন্দিতে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ফলে পতনের পরে সে ভারতে পালিয়েছে। ওখানেই থাকবে। আর ওখানে থাকাটাই এক ধরনের শাস্তি— সেখানে সে জ্বলে-পুড়ে মরবে। আরেকটা শাস্তি হতে পারে— ভারত সরকারই তাকে মেরে ফেলবে। নিজেদের বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে তারা বিষয়টিকে এমনভাবে সাজাবে যে মনে হবে বাংলাদেশি কেউ তাকে হত্যা করেছে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার শাসনব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ভারতের নকশায় নির্মিত ছিল। আওয়ামী লীগ এখন শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি ‘ভারতঘেঁষা কাঠামোগত এজেন্ট’, যা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে।

অন্যান্য