• December 3, 2025
  • 0 Comments
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের যাত্রা শুরু হচ্ছে আজ

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হচ্ছে আজ (৩ ডিসেম্বর)। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর নতুন এই ব্যাংকটির উদ্বোধন করবেন। আগামী সপ্তাহ থেকেই একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এর আগে মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “সরকারি মালিকানায় একটি ইসলামী ব্যাংক চালু হওয়া জাতির জন্য ইতিবাচক খবর। ব্যাংকটি সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য একটি টেকনিক্যাল টিম কাজ করছে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক জাতির আস্থার প্রতীক হয়ে উঠবে।”
তিনি রাজধানীর মতিঝিলের সেনা কল্যাণ ভবনে প্রতিষ্ঠিত নতুন প্রধান কার্যালয়ও পরিদর্শন করেছেন।

জানা গেছে, শিগগিরই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভার পরই ব্যাংকটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পূর্ণমাত্রায় শুরু হবে।

গত রোববার গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে বিশেষ পর্ষদ সভায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরদিন সোমবার এটি তফসিলি ব্যাংক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয় এবং রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসেও নিবন্ধন সম্পন্ন হয়। সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ ইসলামী ব্যাংক—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক—একীভূত হয়েই গড়ে উঠেছে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’।

অমানতকারীদের বিষয়ে শিগগিরই একটি বিশেষ স্কিম ঘোষণা করা হবে। এতে আমানত উত্তোলনের ধাপ, পদ্ধতি ও মুনাফার হার সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে। প্রথম পর্যায়ে আমানত বীমা তহবিল থেকে প্রতিটি গ্রাহককে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ফিরিয়ে দেওয়া হবে। অবশিষ্ট টাকা ধাপে ধাপে উত্তোলনের সুযোগ থাকবে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা ইতোমধ্যে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বাজেট থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ব্যাংকের অনুকূলে ছাড় করেছে। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আসবে আমানতকারীদের শেয়ার হিসেবে। ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা।

সরকার বিভিন্ন সরকারি তহবিল নতুন এই ব্যাংকে রাখবে। সাধারণ আমানতকারীদের আকৃষ্ট করতে আকর্ষণীয় মুনাফার হার ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি ঋণ আদায়করণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও তারল্য বৃদ্ধির জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • December 2, 2025
  • 0 Comments
৮ কুকুরছানাকে চুবিয়ে হত্যাকারীর আরও যে শাস্তি হতে পারে

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ চত্বরে মা কুকুরের অগোচরে ৮টি ছানাকে বস্তাবন্দী করে পুকুরে ডুবিয়ে হত্যাকারীকে উপজেলা পরিষদের সরকারি কোয়ার্টার থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শহরজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ফেসবুক জুড়ে বইছে তীব্র সমালোচনার ঝড়।

রোববার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর পরিষদ চত্বরের আবাসিক এলাকায় গেজেটেড ভবনে বসবাসরত ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তার স্ত্রী নিশি বেগমের মাধ্যমে অমানবিকভাবে আটটি কুকুর ছানা ডুবিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার রাতেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি চিঠি আকারে অভিযুক্ত ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তার স্ত্রী নিশি বেগমকে তার কোয়ার্টার থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরুজ্জামান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় অভিযুক্ত কুকুরছানা হত্যাকারী নিশি বেগম তার কোয়ার্টার থেকে মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক, এভাবে আটটি কুকুরছানাকে হত্যা করা মোটেও ঠিক হয়নি, আমরা তদন্ত করে উপজেলা প্রশাসন এবং প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে কুকুরছানা হত্যাকারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

এ ঘটনার ছবিসহ দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুক পোস্টেই কুকুর হত্যাকারীর বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করতে থাকেন অনেকেই।

এরইমধ্যে মঙ্গলবার ঢাকা থেকে এনিমেল এন্টিভেস্ট কমিটি ঈশ্বরদীতে বিকেলে এসে পৌঁছাবেন বলে জানান প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।

কুকুরছানা হত্যায় অভিযুক্ত নিশি বলেন, ‘বাচ্চাগুলো এবং বাচ্চার মা আমার বাসায় সিঁড়ির পাশে থাকতো , বাচ্চাগুলো আমাদের খুবই ডিস্টার্ব করত তাই আমি বাজারের ব্যাগে আটটি কুকুর ছানাকে ভরে পুকুরের পাশে একটি গাছের গোড়ায় রেখে আসি। এরপরে হয়তো যে কোনোভাবেই পুকুরের মধ্যে পড়ে যায়, আমি নিজে বাচ্চাগুলোকে পুকুরে ফেলে দেই নাই।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বলেন, ‘এটা খুবই অমানবিক। মা কুকুর ইতোমধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাকে আমাদের লোকজন চিকিৎসা দিয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ঈশ্বরদী ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে যেহেতু প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৯ এর অধীনে কুকুর ছানা হত্যাকারী অপরাধের কারণে মামলার একটি বিধান রয়েছে, সেহেতু এই অমানবিক কুকুরছানা হত্যাকারী নিশি বেগমের বিরুদ্ধে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব, এমনকি মামলা করারও সিদ্ধান্ত নিতে পারি।’

  • December 2, 2025
  • 0 Comments
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের কঠোর শাস্তির বিধান প্রণয়নে হাইকোর্টের রুল

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগের মামলায় যুক্তিসংগত শাস্তির বিধান প্রণয়নে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. গোলাম কিবরিয়া ।

এর আগে, গত রোববার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগের মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. গোলাম কিবরিয়া জনস্বার্থে এ রিট করেন। এতে আইন সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে ।

আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, বাংলাদেশ প্যানেল কোডে ধর্মীয় অনুভূতি আঘাতের অভিযোগের মামলায় বর্তমানে দুই বছরের সাজার বিধান রয়েছে। এছাড়া নতুন সাইবার নিরাপত্তা আইনেও দুই বছরের সাজার বিধান রাখা হয়েছে। আমরা মনে করি এই সাজা অপ্রতুল। এ কারণে বাউল শিল্পী আবুল সরকারের মতো অনেকে মহান আল্লাহ, আমাদের নবীকে নিয়ে কটূক্তি করার সাহস পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, রিটে আমরা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগের মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন পাস করার নির্দেশনা চেয়েছি। ধর্মীয় অনুভূতি আঘাতের অভিযোগের মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রাখা হলে এই অপরাধ করতে কেউ সাহস পাবে না।

  • December 2, 2025
  • 0 Comments
আদর্শিক দ্বন্দ্বের আগুনে ছদ্মবেশী তৎপরতা: বাউল বেশে অস্থিরতার ছক !

বাউল পরিচয়কে ব্যবহার করে অস্থিতিশীলতার ছক ! উদ্বিগ্ন সচেতন মহল

নিজস্ব প্রতিবেদক :

দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থার মাঝে মানিকগঞ্জের বাউল আবুল সরকারকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া উত্তেজনা এখন এক নতুন মোড় নিয়েছে। অনেক সচেতন নাগরিক, গবেষক ও বিশ্লেষকের মতে, এটি শুধু ধর্মীয় বিতর্ক নয়; বরং দেশের স্থিতিশীলতাকে নড়বড়ে করার এক গভীর, সংগঠিত ও বহুমাত্রিক তৎপরতার ইঙ্গিত।

তাদের অভিযোগ, প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচি নিষিদ্ধ থাকায় পতিত স্বৈরাচারী দলের কিছু অংশ নাকি সামাজিক-ংস্কৃতিক পরিচয় ব্যবহার করে মাঠে নামার নতুন কৌশল নিয়েছে। “বাউল পরিচয়” ও “সাংস্কৃতিক সমাবেশ” এর আড়ালে রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি এটাই তাদের উদ্দেশ্য

আবুল সরকার ইস্যু : ঘটনাপুঞ্জের ভিতরে অন্তর্নিহিত অস্থিরতা :

বাউল আবুল সরকার ওরফে আবুল বয়াতির বিতর্কিত বক্তব্য ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হলেও, সচেতন মহলের দাবি এটি ঘটনাচক্র নয়, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাব ও সামাজিক বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা উত্তেজনা।

স্থানীয়দের মতে, তাঁর আর্থিক প্রভাব, সাংস্কৃতিক অবস্থান, ধর্মীয় ক্ষমতা সবই এসেছে শক্তিশালী মহলের সহযোগিতা থেকে। ধর্ম ও সংস্কৃতির মিশ্রণে তৈরি এই প্রভাবকেই অনেকেই দেখছেন রাজনৈতিক কাঠামোর একটি হাতিয়ার হিসেবে।

বাউল কর্মসূচির আড়ালে সংঘাত উসকে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ :

তৌহিদী জনতার শান্তিপূর্ণ সমাবেশের আগে থেকেই বাউলপন্থী একটি দল মাঠে অবস্থান নেয় এমন দাবিও উঠে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে-এটি ছিল সমাবেশ বনাম পাল্টা-সমাবেশ তৈরি করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা।

অনেকেই বলছেন, বাউল নামে মাঠে নামা ব্যক্তিদের বড় একটি অংশ আসলে আগের রাজনৈতিক সরকারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল, সংঘাত তৈরি করা,আতঙ্ক ছড়ানো, অন্তর্র্বতী সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা।

অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করে বলছেন, এই ঘটনাগুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হতে পারে।

রাজনৈতিক পরিচয় আড়াল করে ছদ্মবেশী কর্মকাণ্ড? :

একটি অংশের দাবি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় ব্যবহার করে গোপনে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, আগুন, উত্তেজনা এসব ঘটনার নেপথ্যে একই ধরনের তৎপরতা রয়েছে বলে সচেতন মহলের অভিযোগ।

বাম ছাত্রসংগঠনের ঘোষণায় নতুন প্রশ্ন :

সম্প্রতি একটি বাম ছাত্রসংগঠনের প্রকাশিত বিবৃতিতে রাজনৈতিক স্লোগান ও আন্দোলনের ঘোষণা অনেকের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থেকেও তাদের সক্রিয়তা নিয়ে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত।

সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন :
“এটি বড় একটি অস্থিতিশীলতার ইঙ্গিত। একই সময়, মাঠে সাংস্কৃতিক পরিচয়ে অন্যদের ঝাঁপিয়ে পড়া এটি নিছক কাকতালীয় নয়।”

বাউল সমাজে রাজনৈতিক পক্ষপাত? :

আরেক বাউল শিল্পী আব্দুর রহমানের বক্তব্যে “তৌহিদী জনতাকে জঙ্গী” আখ্যা দেওয়ার চেষ্টা সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এছাড়া প্রভাবশালী আরও কয়েকজন বাউলের রাজনৈতিক অবস্থানও আলোচনায় এসেছে।

অনেকের মতে, এটি সংস্কৃতিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে সমাজে বিভাজন তৈরির প্রচেষ্টা।

গুরুতর অভিযোগ: বিদেশি প্রভাবের জড়িত থাকার আশঙ্কা :

সচেতন নাগরিকদের একটি অংশ সন্দেহ করছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে জিইয়ে রাখতে বিদেশি গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের তৎপরতা থাকতে পারে।
তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই ধর্মীয় বিভাজন ও সাংস্কৃতিক বিভ্রান্তিকে রাজনৈতিক লাভের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগ সরকারি সূত্রে নিশ্চিত নয় তবুও জনমনে শঙ্কা বাড়ছে।

উন্মোচনকারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ট্যাগ? :

ঘটনার নেপথ্যের চিত্র উন্মোচন করতে গেলে অনেককে “জামায়াত–শিবির ট্যাগ”,“উগ্রবাদী”, “রাষ্ট্রবিরোধী” ইত্যাদি আখ্যা দিয়ে থামানোর চেষ্টা হচ্ছে এমন অভিযোগও উঠেছে।

এর উদ্দেশ্য, অভিযোগকারীদের মতে, সত্যকে আড়াল করা।

ধর্মীয় নেতৃত্বের সতর্কবার্তা :

হেফাজতের কয়েকজন নেতা দাবি করেছেন, “বাউল পরিচয়ে মাঠে নামা সকল রাজনৈতিক গোষ্ঠী এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা জরুরি।”

তাদের মতে, স্থায়ী শান্তি ফেরাতে প্রয়োজন, বিভাজন সৃষ্টিকারী তৎপরতা বন্ধ, ষড়যন্ত্রকারীদের শনাক্ত, নির্বাচনমুখী অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাংবাদিকের মন্তব্য :

“আবুল সরকার ইস্যু নিয়ে দীর্ঘ স্টাডি করেছি। অনেক দেশবিরোধী ও সুবিধাবাদী গোষ্ঠী এই উত্তেজনাকে পুঁজি করে নিজস্ব ফায়দা তুলতে চাচ্ছে। জাতিকে সতর্ক হতে হবে।” ।

সময়ের দাবি: ষড়যন্ত্র ঠেকিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা :

সচেতন সমাজ বলছে, এটি আর একটি ঘটনার বিশ্লেষণ নয়; বরং দেশের শান্তি, নির্বাচন এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার প্রশ্ন। তারা জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

  • December 2, 2025
  • 0 Comments
মানিকগঞ্জে কবরস্থান থেকে ৫টি কঙ্কাল চুরি! এলাকায় আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, মানিকগঞ্জ :
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের চর ধানকোড়া কবরস্থান থেকে একাধিক পুরাতন কবর খুঁড়ে অন্তত ৫টি লাশের কঙ্কাল চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার দিবাগত রাতের যে কোনো সময় এ ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার ভোরে ঘটনা জানাজানি হতেই স্থানীয়রা ছুটে যান কবরস্থানে। মুহূর্তেই শতশত মানুষের ভিড়ে এলাকা পরিণত হয় তদন্তস্থলে। সবার চোখে আতঙ্ক “মরেও কি আর শান্তি নেই?”

সোমবার দুপুরে কবরস্থানের পেয়ারা গাছে ফল তুলতে আসে স্থানীয় দুই কিশোর রাকিব ও মাসুদ রানা। গাছের নিচে নেমে তারা হঠাৎ দেখতে পায়—কয়েকটি কবরের মাটি সরানো। কাছে গিয়ে স্তব্ধ হয়ে যায় তারা। ভেতরে খালি জায়গা! তারা দ্রুত দৌড়ে খবর দেয় স্থানীয়দের। আর তাতেই ফেঁসে যায় পুরো চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি।

স্থানীয় আফজাল হোসেন বলেন,“পাঁচটি কঙ্কাল চুরি! এটা ভাবতেই গা শিউরে ওঠে!”

আরেক বাসিন্দা মরিয়ম বেগমের কণ্ঠে ক্ষোভ–হতাশা “মরেও শান্তি নেই! এই সমাজ কোন দিকে যাচ্ছে?”

কবরস্থানের কোষাধ্যক্ষ আব্দুল খালেক জানান, “ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা দ্রুত জরুরি বৈঠকে বসবো। ভবিষ্যতে যাতে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা আর না ঘটে, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সাটুরিয়া থানার ওসি এ.আর.এম আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই অদ্ভুত কঙ্কাল চুরির ঘটনায় এলাকায় এখনো চলছে উত্তেজনা-ভয়-জল্পনা-কল্পনা।

  • December 2, 2025
  • 0 Comments
বাউল ইস্যুতে মানিকগঞ্জে হেফাজতে ইসলামের মহা-সম্মেলনের ঘোষণ

মহান আল্লাহ তায়ালাকে নিয়ে অবমাননাকর কটূক্তি, খোদাদ্রোহী বাউল গোষ্ঠীর কথিত অপতৎপরতা, নৈরাজ্য এবং তৌহিদী জনতার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার প্রতিবাদে মানিকগঞ্জে আয়োজিত হচ্ছে বৃহত্তর “শানে তাওহীদ মহা-সম্মেলন”।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দিয়েছে।

আসছে ৬ ডিসেম্বর, শনিবার, মানিকগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে (বিজয় মেলা মাঠ) সকাল ১০ টা থেকে এ মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা হেফাজতের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতি আব্দুল হান্নান এবং প্রচার সম্পাদক মাওলানা ক্বারী ওবায়দুল্লাহ।

মহা-সম্মেলনে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে হেফাজতের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মধ্যে, কেন্দ্রীয় মহাসচিব শায়েখ সাজিদুর রহমান, পীর সাহেব মধুপুর মাওলানা আব্দুল হামিদ, আল্লামা মামুনুল হক, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মুফতি এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী, মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মুফতি আলী হাসান উসামা, মুফতি রেজাউল করীম আবরার।
সহ আরও বহু কেন্দ্রীয় আলেম।

আলোচিত ইসলামিক বক্তা মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানীও মহাসম্মেলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “আমি ছোট মানুষ। আমার কোনো দল নেই। আমি আল্লাহর শান-মান রক্ষার জন্য লড়াই করতে চাই। আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া একা সম্ভব হবে না।”

মানিকগঞ্জের আলেম সমাজ ও তৌহিদী জনতাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আশা করি, আপনারাও এক বিশাল অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে মহান রবের সম্মানে দলমত নির্বিশেষে এক কাতারে দাঁড়াবেন।”

উল্লেখ্য, এর আগে ২৯ নভেম্বর শনিবার সমাবেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বিভিন্ন “সঙ্গত কারণ” দেখিয়ে সেটিকে এক সপ্তাহ পিছিয়ে ৬ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের একাধিক আনুষ্ঠানিক ফেসবুক পেজ থেকেও নতুন সময়সূচি নিশ্চিত করা হয়েছে।

  • December 1, 2025
  • 0 Comments
বাউল আবুল সরকারের নামে ঢাকায় মামলা, তদন্তের নির্দেশ

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বাউল শিল্পী আবুল সরকারের নামে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি আমলে নিয়ে রমনা থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) ঢাকার ১৭ নম্বর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ অফিসার মো: জাহাঙ্গীর মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।‌

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সোলায়মান তুষার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতালের নিউরোট্রমা ও সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা: মো: মাহফুজুর রহমানের পক্ষে মামলাটি দায়ের করেন।‌

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৪ নভেম্বর মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জাবরা এলাকায় একটি পালাগানের আসরে সঙ্গীত পরিবেশন করেন আবুল সরকার। সেই পরিবেশনার কিছু অংশের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে যেখানে তিনি মহান আল্লাহ তায়ালাকে নিয়ে অশালীন কটূক্তি করেন।‌ এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় তিনি পবিত্র কোরআনের সূরা নাসকে‌ বিকৃত করে উপস্থাপন করেন।‌

মামলার আরজিতে বলা হয়, আসামি আবুল সরকার ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করে এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে কটূক্তি করে অবমাননামূলক অট্টহাসি দিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি লক্ষ্যে উসকানি দেয়ার অপরাধ করেছেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সোলায়মান তুষার মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বাউল শিল্পী আবুল সরকারের নামে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে রমনা থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।’

  • December 1, 2025
  • 0 Comments
মানিকগঞ্জে গভীর রাতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে নাশকতা : দুর্বৃত্তদের অগ্নিসংযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
মানিকগঞ্জ শহরের পশ্চিম সেওতা–মানরা চৌরাস্তায় অবস্থিত ঐতিহাসিক জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ আবারও লক্ষ্যবস্তু হলো নাশকতাকারীদের। শনিবার (৩০ নভেম্বর) গভীর রাত প্রায় তিনটার দিকে স্মৃতিস্তম্ভের সামনে রাখা দুটি টায়ারে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন ধরিয়ে দেয় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা, ফলে স্মৃতিস্তম্ভের বেশ কিছু অংশ কালো হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাতের নিস্তব্ধতায় একটি কালো রঙের প্রাইভেটকার দ্রুত এসে স্মৃতিস্তম্ভের সামনে থামে। গাড়ি থেকে নেমে দুই ব্যক্তি পেট্রোল ঢেলে টায়ারে আগুন ধরায় এবং মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দ্রুত গাড়িতে উঠে সটকে পড়ে।
পরে নিকটস্থ সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক সদস্য সচিব নাহিদ মনির বলেন, “জুলাই স্মৃতিকে অপমান ও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করার এক সুস্পষ্ট প্রচেষ্টা এটি। আমরা এই জঘন্য নাশকতার তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার দাবি করছি।”

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সালাউদ্দিন জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তকরণ কাজ চলছে। কারা, কেন, কোন উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে—সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

  • November 30, 2025
  • 0 Comments
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে জড়িত আওয়ামী লীগ, মূল সমন্বয়কারী তাপস: কমিশন

বিডিআর বিদ্রোহের নামে সংঘটিত বর্বরতম হত্যাযজ্ঞের বিষয় তদন্তের জন্য গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সরকারের কাছে।

রোববার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেয় কমিশন। তদন্তে বিডিআর হত্যাকাণ্ডে বহিঃশক্তির সরাসরি সম্পৃক্ততা ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সরাসরি জড়িত থাকার শক্তিশালী প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিশন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
প্রেস উইং জানায়, কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান ও অন্যান্য সদস্যরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেন।

কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন: মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার (অব.), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান বীর প্রতীক (অব.), মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ যুগ্মসচিব (অব.), ড. এম. আকবর আলী ডিআইজি (অব.), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন।

এ সময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতি দীর্ঘদিন ধরে অন্ধকারে ছিলো। আপনারা সত্য উদ্ঘাটনে যে ভূমিকা রেখেছেন জাতি তা স্মরণে রাখবে। জাতির পক্ষ থেকে আপনাদের প্রতি ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, ইতিহাসের এই ভয়াবহতম ঘটনা নিয়ে জাতির অনেক প্রশ্ন ছিলো, এই কাজের মধ্য দিয়ে সেসব প্রশ্নের অবসান ঘটবে। এই প্রতিবেদনে শিক্ষণীয় বহু বিষয় এসেছে। জাতির জন্য মূল্যবান সম্পদ হয়ে থাকবে এটি।

কমিশন প্রধান ফজলুর রহমান বলেন, তদন্তকাজ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ত্রুটিমুক্ত করার স্বার্থে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা যখন কাজ শুরু করি তখন ১৬ বছর আগের এই ঘটনার বহু আলামত ধ্বংস হয়ে গেছে। এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেকে বিদেশে চলে গেছেন।

কমিশন প্রধান বলেন, আমরা দুটো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছি। সাক্ষীদের ডাকলাম, কারো কারো ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বক্তব্য শুনেছি আমরা। যতক্ষণ তিনি বলতে চেয়েছেন। যারা তদন্তে জড়িত ছিল তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের তদন্তের রিপোর্ট কালেক্ট করেছি, অন্যান্য এলিমেন্ট কালেক্ট করেছি।

তিনি আরও বলেন, এই তদন্তের মাধ্যমে বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে জনমনে থাকা প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে, উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা হয়েছে কার কী ভূমিকা ছিল। কেন সেনাবাহিনী দাঁড়িয়ে থাকল অ্যাকশন নিল না।
ফজলুর রহমান বলেন, তদন্তে বিডিআর হত্যাকাণ্ডে বহিঃশক্তির সরাসরি সম্পৃক্ততা ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সরাসরি জড়িত থাকার শক্তিশালী প্রমাণ মিলেছে।

এসময় কমিশনের ফাইন্ডিংস সম্পর্কে জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার বলেন, এই ঘটনা কিছু বাহ্যিক ও প্রকৃত কারণ বের করেছে কমিশন।
তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত এবং এর পেছনে প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছিল তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের রক্ষা করতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সরাসরি ভূমিকা রেখেছে। তারা ২০-২৫ জনের একটি মিছিল নিয়ে পিলখানায় ঢুকেছে এবং বের হবার সময় সেই মিছিলে দুই শতাধিক মানুষ ছিলো।

তিনি আরও বলেন, পুরো ঘটনাটি সংঘটিত করার ক্ষেত্রে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছিলো।
তিনি এই ঘটনার দায় নিরূপণের ক্ষেত্রে বলেন, দায় তৎকালীন সরকার প্রধান থেকে শুরু করে সেনাপ্রধানেরও। এই ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে সমাধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পুলিশ ও র‌্যাব এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোরও রয়েছে চরম ব্যর্থতা।
তিনি বলেন, ওই ঘটনার সময় কিছু প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং কয়েকজন সাংবাদিকের ভূমিকা ছিলো অপেশাদার।
জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার বলেন, ওই হত্যাকাণ্ডের সময় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন) যেসব বিডিআর সদস্যদের সঙ্গে শেখ হাসিনা বৈঠক করেছে, তাদের সঠিক নাম পরিচয় ও তথ্য সংরক্ষণ করা হয়নি।
কমিশন তাদের প্রতিবেদনে বেশকিছু সুপারিশ করে, যাতে করে ভবিষ্যতে বাহিনীগুলোতে এই ধরনের ঘটনা এড়ানো যায় এবং এই ঘটনার ভিকটিমরা ন্যায় বিচার পায়।

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দুল হাফিজ ও স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি।

  • November 29, 2025
  • 0 Comments
তারেক রহমান যেকোনো সময় হয়তো চলে আসতে পারেন: খায়রুল কবির খোকন

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যেকোনো সময় দেশে ফিরে আসতে পারেন বলে জানিয়েছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন। তিনি বলেছেন, উনি (তারেক রহমান) যেকোনো সময় হয়তো চলে আসতে পারেন। মমতাময়ী মায়ের জন্য ছেলের যে আবেগ ভালোবাসা—আমরা আশা করি করছি, উনার (বেগম খালেদা জিয়া) পাশে থাকার জন্য দ্রুতই হয়তো রওনা দিয়ে দেশে ফিরে আসবেন।

আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখে বাইরে বেরিয়ে গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে খোকন আরও বলেন, তার অবনতি হয়নি, উন্নতিও হয়নি। তবে আউট অব ডেঞ্জার বলা যাচ্ছে না। অবস্থা সংকটাপন্ন বলা যায়। তাকে এখন আবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। আমরা দোয়া করছি তিনি হয়তো দ্রুতই সুস্থ হয়ে ফিরবেন।

পুরো জাতি উৎকণ্ঠা-উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে জানিয়ে বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, গতকাল সারাদেশে আমাদের প্রিয় নেত্রীর জন্য মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করেছি, আল্লাহ যেন তাকে দ্রুত সুস্থ করে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে আনেন।

অন্যান্য