• August 21, 2025
  • 0 Comments
জামায়াতকে নিয়েই ‘নিশ্চিত ঐক্যের পথে’ ইসলামি দলগুলো

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ অন্তর্বর্তী সরকার। এই নির্বাচন সামনে রেখে জোরদার হচ্ছে ইসলামি দলগুলোর ঐক্যের তৎপরতা। এতদিন বিএনপির মিত্র হিসেবে থাকা জামায়াতে ইসলামী এবার ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যে ভিড়ছে এটাও মোটামুটি নিশ্চিত।
ইসলামি দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফ্যাসিবাদী আমলে ইসলামপন্থি দলগুলো নানাভাবে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশকে বিবেচনায় নিয়ে আদর্শিক দ্বন্দ্ব ভুলে বৃহত্তর স্বার্থে এক হওয়ার জন্য ঐক্যের প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছেন তারা। জামায়াতকে নিয়েই এই ইসলামি জোটের সমীকরণ এগোচ্ছে।
গত বছর ৫ আগস্টের পর ইসলামি দলগুলো নিয়ে ঐক্যের ডাক কিংবা এক প্ল্যাটফর্মে আনার আলোচনা শুরু করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এরপর এ প্রক্রিয়ায় সরব হয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এরই মধ্যে বেশ কয়েক দফা বৈঠক করেছে ইসলামি দলগুলো। তবে আসন সমঝোতার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আপাতত প্রতিটি দল নিজস্ব সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়। সামগ্রিক ঐক্যের ব্যাপারে তারা আশাবাদী।

‘ঐক্যের প্রক্রিয়াটি খুবই পজিটিভলি এগোচ্ছে’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দীন বলেন, ‘ঐক্যের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। সবাই নিজ নিজ দলে কাজ করছি। মতভেদ, আদর্শিক বিভক্তি এখন আর নতুন বাংলাদেশে কোনো ইস্যু হবে না। ইসলামি দলগুলোর ঐক্যের প্রক্রিয়াটি খুবই পজিটিভলি এগোচ্ছে। ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশ, মতভেদ ভুলে সবাই পাশে থাকবে। ঐক্য হবেই।’

জামায়াতসহ ঐক্য হবে এটা মোটামুটি নিশ্চিত। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ঐক্যের ব্যাপারে পজিটিভ। আশা করি সমঝোতাও হবে।- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ মো. ইউনূস আহমেদ

‘জামায়াতসহ ঐক্য হবে এটা মোটামুটি নিশ্চিত’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ মো. ইউনূস আহমেদ বলেন, ‘আমরা সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। সবাই পজিটিভ আছে। কওমি ঘরনার যারা আছে তারা তো সবাই মোটামুটি এক হয়ে আছে। সব দলের সঙ্গে যোগাযোগ, মিটিং চলমান। এরপর শিডিউল ঘোষণার আগে বা পরে আমরা বসে আসন বণ্টনের মাধ্যমে সমঝোতা করবো। আমরা সমঝোতার দিকে যাচ্ছি এটা নিশ্চিত।’
ইসলামি দলগুলোর ঐক্য দেখে চাঁদাবাজদের সহ্য হচ্ছে না: চরমোনাই পীর
ইসলামি দলগুলোকে কাছে পেতে ছুটছেন তারা
তিনি বলেন, ‘জামায়াতসহ ঐক্য হবে এটা মোটামুটি নিশ্চিত। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ঐক্যের ব্যাপারে পজিটিভ। আশা করি সমঝোতাও হবে। আপাতত প্রত্যেক দল তার এলাকায় কাজ করছে। আসন সমঝোতার সময় কে কোথায় নির্বাচন করবে, তখন সে সিদ্ধান্ত হবে।’

  • August 20, 2025
  • 0 Comments
দ্য ডিপ্লোম্যাটের নিবন্ধ : বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর পুনরুত্থান

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশের বৃহত্তম ও সংগঠিত ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী (জামায়াত) দ্রুত প্রভাব বিস্তার করেছে। হাসিনা সরকারের আমলে দলটি ছিল কঠোর দমন-পীড়নের শিকার। কিন্তু পরবর্তী সময়ে জামায়াত আবারও শক্ত অবস্থান তৈরি করছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জামায়াত এখন মূল ক্ষমতাধারী গোষ্ঠীর একটিতে পরিণত হয়েছে। তাদের সদস্যরা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বের জায়গা দখল করেছে। জামায়াত তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র বিএনপিকে ছেড়ে নতুনভাবে গঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জোট বেঁধেছে। এনসিপি মূলত সেই ছাত্রনেতাদের দ্বারা গঠিত, যারা শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল। এ জোট এখন বিএনপি থেকে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে এবং প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার এজেন্ডাকে নিজেদের অনুকূলে নিতে চাইছে।

মে মাসে জামায়াত ও এনসিপি রাস্তায় নেমে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার দাবি তোলে। পরে ইউনূস সরকার তাদের দাবির প্রতি সাড়া দিয়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত করে। হাসিনা সরকারের সময় জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের অনেককেই যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় কিংবা তারা কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন। গোলাম আযম, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, দেলওয়ার হোসেইন সাঈদী, কামারুজ্জামান প্রমুখ ছিলেন তাদের মধ্যে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ ট্রাইব্যুনালের প্রক্রিয়াগত ত্রুটি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে। ২০১৩ সালে এ দলটির নিবন্ধন বাতিল হয় এবং ২০২৫ সালের ১লা আগস্ট (হাসিনার দেশত্যাগের চারদিন আগে) দলটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। এর ফলে অনেক জামায়াতকর্মী নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগে প্রবেশ করেন। কেউ কেউ সরকারি চাকরিতেও ঢুকে পড়েন।

জামায়াত একটি ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায় এবং স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয়, সামাজিক, খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে এমন শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। তবে সমালোচকদের মতে, নারীদের ও সংখ্যালঘুদের সমঅধিকারে দলটি আস্থাশীল নয়। সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াত নারী ও সংখ্যালঘুবান্ধব কিছু বক্তব্য দিলেও সমালোচকরা একে কৌশলগত রূপান্তর বলে মনে করেন, মৌলিক আদর্শগত পরিবর্তন নয়। দলটির সংবিধানে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর নির্দেশনা অনুযায়ীই নীতি প্রণয়ন করা হবে।’ দলটির প্রশিক্ষণ সিলেবাস ও ওয়েবসাইটে প্রতিষ্ঠাতা আবুল আ’লা মওদুদীর বই স্থান পেয়েছে। মওদুদীকে অনেকে চরমপন্থার প্রচারক মনে করেন, যদিও কিছু গবেষক বলেন বৃটিশ ঔপনিবেশিক দমননীতি প্রেক্ষাপটে তার চিন্তাভাবনা বোঝা উচিত। জামায়াত বর্তমানে অনলাইন কর্মীদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করছে এবং বিএনপিবিরোধী বক্তব্যকে মূলধারায় আনতে সক্ষম হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও তারা পরিচয় গোপন করে কার্যক্রম চালাচ্ছে। সম্প্রতি জামায়াতসম্পৃক্ত সংগঠনগুলো সেখানে জুলাই আন্দোলন নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে। তাতে সাবেক এক মার্কিন কূটনীতিকও অংশ নেন। অনেকেই জানতেন না এটি জামায়াত আয়োজন করেছে।

এনসিপির সঙ্গে জামায়াতের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির জোট বাঁধায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের উপস্থিতি কমে গেছে। জামায়াত দীর্ঘদিন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতার দায়ে কলঙ্কিত হয়ে এসেছে। তবে আওয়ামী লীগের অতিরিক্তভাবে ‘৭১-এর চেতনা’কে রাজনীতিকরণ করার কারণে এ বিষয়টি সাধারণ ভোটারদের কাছে আগের মতো প্রভাব বিস্তার করছে না।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও সম্প্রতি বলেন, ‘কে ’৭১-এর পক্ষে আর কে বিপক্ষে- এই রাজনীতি দেশের জন্য পুরনো কাঠামো। জামায়াত কেবল এনসিপি নয়, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এমনকি হেফাজতে ইসলামসহ অন্য ইসলামি সংগঠনগুলোর সঙ্গেও বৃহত্তর জোট গড়ার চেষ্টা করছে। এতে বাংলাদেশের মূলধারার রাজনীতি ডানদিকে সরে যাবে। ফলে বিএনপি, যারা ঐতিহ্যগতভাবে মধ্যডানপন্থি দল, এখন অপেক্ষাকৃতভাবে মধ্যপন্থার দিকে সরে এসেছে।

তবে ভোটে এককভাবে জামায়াত বড় শক্তি নয়। তাই এনসিপির সঙ্গে থেকে রাজনৈতিক মঞ্চে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছে। পাশাপাশি তারা নির্বাচনী পদ্ধতি পরিবর্তনেরও দাবি তুলছে- বর্তমান ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট (এফপিটিপি) পদ্ধতি বাদ দিয়ে অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব করছে। এতে ছোট দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়বে, যদিও বিএনপি এ পরিবর্তনের বিপক্ষে। বাংলাদেশে জামায়াতের পুনরুত্থান শুধু দেশীয় রাজনীতিতেই নয়, বৈশ্বিক ইসলামি রাজনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তুরস্ক বর্তমানে বাংলাদেশে জামায়াতসহ রক্ষণশীল শক্তিগুলোর ওপর আর্থিক ও কৌশলগত প্রভাব বাড়িয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব আরও হ্রাস পেতে পারে।
(অনলাইন দ্য ডিপ্লোম্যাট থেকে অনুবাদ)

  • August 20, 2025
  • 0 Comments
কুয়েতে ভিক্ষার দায়ে ২ বাংলাদেশিসহ ১৪ নারী আটক

কুয়েতে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন দেশের ১৪ নারী ভিক্ষুককে আটক করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

দেশটির প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহাদ আল-ইউসুফের নির্দেশনা এবং নাগরিকত্ব ও আবাসন খাতের প্রধানের তত্ত্বাবধানে আবাসন বিষয়ক তদন্ত বিভাগ একযোগে এই অভিযান চালায়।

এতে ৭ জন জর্ডানিয়ান, ৩ জন ভারতীয়, ২ জন বাংলাদেশি, ১ জন শ্রীলঙ্কান এবং ১ জন সিরীয় নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনের ধারা ২২ (ডিপেনডেন্ট ভিসা) অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ধারায় আইনভঙ্গকারী ও তাদের স্পনসর উভয়কেই বহিষ্কারের বিধান রয়েছে। এ ছাড়া ধারা ১৮ (প্রাইভেট সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট ভিসা) অনুযায়ীও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং স্পনসর ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে জনশক্তি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় অতিরিক্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, আবাসন ও শ্রম আইন ভঙ্গের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। জবাবদিহিতা কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়ের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। ভিক্ষাবৃত্তি সমাজের জন্য ক্ষতিকর এবং আইন বিরোধী বলেও উল্লেখ করেছে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

  • August 20, 2025
  • 0 Comments
সৌদিতে পতিতাবৃত্তির অভিযোগে পাঁচ নারীসহ ১১ প্রবাসী গ্রেপ্তার

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান শহরে পতিতাবৃত্তিতে জড়িত সন্দেহে ১১ প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ওই প্রবাসীরা কোন দেশের নাগরিক সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।

দেশটির সংবাদমাধ্য সৌদি গ্যাজেটের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, নাজরান শহরের একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট থেকে দেহ ব্যবসার অভিযোগে ১১ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ ও পাঁচজন নারী।

নাজরান পুলিশের স্পেশাল টাস্কস অ্যান্ড ডিউটিস ফোর্স, কমিউনিটি সিকিউরিটির মহাপরিদপ্তর ও মানবপাচারবিরোধী ইউনিটের সমন্বয়ে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

দেশটির কর্তৃপক্ষ বলেছে, জনসাধারণের নৈতিকতা পরিপন্থী কার্যকলাপ ও মানবপাচার প্রতিরোধে চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ওই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত

রক্ষণশীল সৌদি আরবে পতিতাবৃত্তি, অবৈধ সম্পর্ক এবং মানবপাচারকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এসব অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের কারাদণ্ড, মোটা অঙ্কের জরিমানা, প্রবাসীদের ক্ষেত্রে দেশে বহিষ্কার এবং কখনও কখনও শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়।

গত কয়েক বছরে সৌদি সরকার মানবপাচার ও দেহ ব্যবসা প্রতিরোধে বিভিন্ন ধরনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে গোপন নজরদারি, বিশেষ অভিযান ও কঠোর আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। নাজরানে পতিতাবৃত্তিতে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ।

সূত্র: সৌদি গ্যাজেট।

  • August 20, 2025
  • 0 Comments
মানিকগঞ্জ-১ : বিএনপিতে মনোনয়ন দৌড়ঝাঁপ, মাঠে একক জামায়াত

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মানিকগঞ্জ-১ আসন। ধানের শীষের ঐতিহ্যবাহী এই ঘাঁটিতে বিএনপি’র ভেতরে মনোনয়ন নিয়ে শুরু হয়েছে দৌড়ঝাঁপ, আর অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ইতিমধ্যেই একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমে পড়েছে।

পদ্মা-যমুনা-কালীগঙ্গা-ধলেশ্বরী নদীবেষ্টিত ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয়—এই তিন উপজেলাকে নিয়ে গঠিত মানিকগঞ্জ-১ আসনে এখন ভোটের মাঠ সরগরম। দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে ভেবে সাধারণ ভোটাররা যেমন উচ্ছ্বসিত, তেমনি নতুন প্রজন্মের ভোটারদের মাঝেও তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ।

বিএনপি’র প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনটি ২০০৮ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি’র অনুকূলে যেতে পারে বলে মনে করছেন তৃণমূল ভোটাররা। তবে চূড়ান্ত প্রার্থী কে হবেন, তার ওপরই নির্ভর করছে জয়-পরাজয়ের হিসাব।

বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশী দৌড়ে যারা আছেন:

চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আফরোজা খান রিতা – তিন উপজেলাতেই সাংগঠনিক ভরসা।

প্রয়াত মহাসচিব দেলোয়ার হোসেনের দুই ছেলে – ড. খন্দকার আকবর হোসেন বাবলু ও খন্দকার আকতার হামিদ পবন।

জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএ জিন্নাহ কবীর, দৌলতপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হক তোজা। জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি খন্দকার ফারহানা ইয়াসমীন আতিকা।আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আজাদ হোসেন খানসহ আরও অনেকে।

জামায়াতে ইসলামী:
মনোনয়ন নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। একক প্রার্থী হিসেবে ডা. আবু বকর সিদ্দিক ইতোমধ্যেই মাঠে নেমেছেন এবং গণসংযোগে ভোটারদের সাড়া পাচ্ছেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির তেমন তৎপরতা নেই বললেই চলে। ফলে আসনটিতে মূল লড়াই হতে যাচ্ছে বিএনপি বনাম জামায়াতের মধ্যে।

ভোটারদের আশা, এবার তারা অবাধ পরিবেশে ভোট দিতে পারবেন এবং দীর্ঘদিনের ভোটবঞ্চনার ক্ষত মুছে যাবে।

  • August 20, 2025
  • 0 Comments
মানিকগঞ্জে পদ্মা-যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে পাটুরিয়া ফেরিঘাটসহ শতাধিক বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন, ঝুঁকিতে শত শত পরিবার

মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া, আরুয়া ও আশপাশের এলাকায় পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে ফেরিঘাটসহ শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। চরম ঝুঁকিতে রয়েছে পাটুরিয়া লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট ও আশপাশের কয়েকশ পরিবার।
যমুনা নদীর ভাঙনের কবলে গত জুন মাসে দৌলতপুর উপজেলার নিজ বেরাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন তলা পাকা ভবন নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ছয়টি মৌজায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যেই শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এদিকে হরিরামপুর, শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকার শত শত পরিবার ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীতীরে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তাদের দাবি, নদীতীরবর্তী এলাকায় বালু উত্তোলন বন্ধ হলে ভাঙন অনেকাংশে কমে যাবে।
জানা গেছে, দৌলতপুরের বাঘুটিয়া ও শিবালয়ের আরুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা নদীভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।
ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা গেছে, শিবালয়ের তেওতা ইউনিয়নের আলোকদিয়া, কানাইদিয়া, জাফরগঞ্জ, নিহালপুর এবং শিবালয় ইউনিয়নের চরশিবালয়, ছোট আনুলিয়া, অন্বয়পুর, ঝড়িয়ারবাগ, দাসকান্দি, এলাচিপুর এবং আরুয়া ইউনিয়নের ধুতরাবাড়ী, তেঘুড়ি, বড়রিয়া, ত্রিলোচনপট্টি (পাওয়ার প্লান্ট), নয়াকান্দি, মান্ডাখোলা প্রাইমারি স্কুল, দেবীনগর ও বাউলীকান্দা গ্রামগুলো নদীতীরবর্তী হওয়ায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
নদীভাঙনের শিকার শিবালয়ের তেঘুড়ি গ্রামের ইতি আক্তার বলেন, “গত কয়েক দিনের পদ্মার ভাঙনে আমার বাড়িঘর সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। এখন সন্তান নিয়ে কোথায় যাব, কিছুই জানি না।”একই গ্রামের আব্দুস সালাম জানান, “দুই দিন আগেও আমার ঘর ছিল। মুহূর্তের মধ্যে পদ্মা নদী সবকিছু নিয়ে গেল। পরিবার নিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছি।”
নদীপাড়ের বাসিন্দা মো. রানা বলেন, “জীবন-জীবিকা, বসতভিটা, এমনকি যোগাযোগ ব্যবস্থাও এখন হুমকির মুখে। সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে হাজারো মানুষ বাড়িঘর হারাবে।”
পাটুরিয়া ফেরিঘাটের ভাঙন বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী নেপাল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, “আমরা শুধুমাত্র ফেরিঘাট পয়েন্টে কাজ করি। নদীর ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে পত্র দেওয়া হয়েছে। ঘাট এলাকায় অস্থায়ীভাবে কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে এবং ঘাটগুলো সচল রাখতে নিয়মিত সমন্বয় করছি।”
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, “পদ্মা ও যমুনার বিভিন্ন ভাঙন এলাকায় আমরা কাজ করছি। ঘাট এলাকা আমাদের আওতায় না থাকলেও অন্যান্য স্থানে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নিয়েছি এবং আরও কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।”জেলা প্রশাসক (যুগ্ম সচিব) ড. মানোয়ার হোসেন মোল্লা জানান, “নদীভাঙনের শিকার পরিবারগুলোকে চাল ও শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। যেসব পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে, তাদের ঘর নির্মাণের জন্য টিন সরবরাহ করা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ইফফাত আরা ইমা বলেন, “জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নদীভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর তালিকা সংগ্রহ করছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা দেওয়া হবে। আমরা ইতোমধ্যে শিবালয় উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা হাতে পেয়েছি। বাকি উপজেলার তালিকা এখনো আমাদের অফিসে আসেনি।”
স্থানীয়দের মতে, অস্থায়ী জিও ব্যাগ দিয়ে কিছুটা সময়ের জন্য ভাঙন ঠেকানো গেলেও এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। তারা নদীর পাড় রক্ষায় টেকসই ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। পদ্মার তীব্র স্রোতে আতঙ্ক বাড়ছে। নদীর ধারে রাতেও ঘুমাতে পারছেন না অনেকে। যে কোনো মুহূর্তে ভাঙনের শিকার হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটছে শত শত মানুষের।

  • August 19, 2025
  • 0 Comments
মাইলস্টোনের তিন শিক্ষক সাহসিকতার জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন : প্রধান উপদেষ্টা

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী, মাসুকা বেগম ও মাহফুজা খানম মানবতা ও সাহসিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে এ জাতির কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত তিন শিক্ষকের পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরীর স্বামী মনসুর হেলাল, দুই ছেলে আদিল রশিদ ও আয়ান রশিদ, বোন মেহেতাজ চৌধুরী, ভাই মুনাফ মজিব চৌধুরী ও নিকট আত্মীয় কাওসার হোসেন চৌধুরী; শিক্ষক মাসুকা বেগমের বোন পাপড়ি রহমান ও ভগ্নিপতি খলিলুর রহমান এবং শিক্ষক মাহফুজা খাতুনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা, বোন মুরশিদা খাতুন, ভাগ্নে মো. মাইদুল ইসলাম ও নিকট আত্মীয় হুমায়ূন কবির।

প্রধান উপদেষ্টা তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, বেশ কিছুদিন পার হলেও এই স্মৃতি এখনো সবার মধ্যে দগদগে হয়ে আছে। আমি ঘটনা জানামাত্রই আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আপনারা যে দুঃসময়ের মধ্যে ছিলেন সেসময়ে দেখা করা সমীচীন হতো না। আমরা আপনাদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করতে পারি, কিন্তু এই দুঃসহ স্মৃতি মুছে দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই। তবে এটুকু বলতে পারি এ শোক আপনাদের একার নয়। জাতি হিসেবে আমরা এই শোক ধারণ করি।

এসময় তিন শিক্ষক পরিবারের কাছে তাদের স্মৃতিকথা শুনতে চান প্রধান উপদেষ্টা।

শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরীর স্বামী মনসুর হেলাল বলেন, তাকে যখন হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল তখন ফোনে আমার সঙ্গে কথা হয়। সেদিন বার্ন ইনস্টিটিউটে যে দৃশ্য দেখেছি, তা ভাষায় বর্ণনা করার মতো নয়। জীবনে যেন কারো সেই অভিজ্ঞতা না হয়। আমি তাকে দেখলাম,
তার শরীরের একপাশ পুরোটা পুড়ে গেছে। সেখানে কয়েকজন সামান্য দগ্ধ বাচ্চা চিকিৎসা নিতে নিতে আমাকে বলল, ‘মিসই আমাদের টেনে টেনে বের করে আনলো! মিস তো সুস্থ ছিলেন! এমন হলো কেন!’ আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি বের হয়ে এলে না কেন? তোমার নিজের দুই সন্তানের কথা একবারও ভাবলে না? সে আমাকে বলল, ওরাও তো আমার সন্তান। ওদের একা রেখে আমি কী করে চলে আসি? পৃথিবীর সব মানুষ ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে তার জন্য দোয়া করেছে। সবার জন্যই সে নিবেদিত প্রাণ ছিল।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ২৪ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৪ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন শিক্ষক মাহফুজা খাতুন। মায়ের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা।

তিনি বলেন, আমার মা অনেকখানি সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। আমি ভেবেছিলাম, মা’কে নিয়ে বাড়ি ফিরব। মা’কে যেদিন হুইলচেয়ারে বসাই সেদিন মনে হলো আমি বিশ্বজয় করেছি। মা ছাড়া একেকটা দিন আমার স্বপ্নের মতো মনে হয়। আমার তো বাবা নেই, এখন মাও চলে গেলেন। আমি এতিম হয়ে গেলাম। এখন পর্যন্ত নিজের বাসায় ফিরতে পারিনি। মা ছাড়া সে বাসায় ফিরব কী করে?

শিক্ষক মাসুকা বেগমের ভগ্নিপতি খলিলুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনায় আহত হয়ে অনেক দিন ধরেই তার বোন অসুস্থ। চোখে কিছুটা কম দেখেন। মাসুকা সবসময় তার বাবা ও বোনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন, তাদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চটুকু দেওয়ার চেষ্টা ছিল। বাবাকে নিয়মিত হাতখরচ পাঠাত। আমার ছেলে-মেয়েদের ও নিজের সন্তানের মতো মনে করতেন। প্রতিদিন তাদের সঙ্গে ওর কথা হতো। আমরা আর তার স্কুল—এই ছিল তার জীবন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তাদের কথা শুনতে কষ্ট লাগে। একই সঙ্গে গর্ববোধ হয় যে আমাদের দেশে এমন নাগরিক আছে যারা অন্যের জীবন বাঁচাতে আগুনে ঝাপ দিয়েছে। মানবতার এই দৃষ্টান্ত তারা প্রমাণ করে গেছে। আমরা ক্ষুদ্র মানব ছিলাম, তারা আমাদের বড় করেছে। সবার ভেতরে নাড়া দিয়েছে। সবাই এটা নিজের মধ্যে অনুভব করেছে যে, আমি যদি সেই অবস্থানে থাকতাম, আমি কী করতাম? আমি কি জীবনের পরোয়া না করে এভাবে ছোট শিশুদের প্রাণ বাঁচাতে আত্মবিসর্জন দিতাম? এই প্রশ্ন সবার মনে এসেছে।

তিনি বলেন, এই শিক্ষকরা আমাদের গর্ব, আমাদের আদর্শ। তাদের স্মৃতি আমাদের ধরে রাখতে হবে। এজন্য যা কিছু করা প্রয়োজন, আমাদের তা করব।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।

  • July 11, 2025
  • 0 Comments
ঈদের শুভেচ্ছার কার্টুনে কুকুরের ছবি, প্রথম আলোর সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা

ঈদ শুভেচ্ছা কার্টুনে কুকুরের ছবি দেওয়ায়দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার সম্পাদক, প্রকাশকসহ তিন জনের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মামলা করেছেন নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ী। গত ২৮ এপ্রিল তিনি মামলার আবেদন করেন। সেদিন আদালত বাদীর জবানবন্দী গ্রহণ করে আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ঢাকার মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজজামান মামলাটি গ্রহণ করে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিলেন। আদেশে সিআইডিকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আগামী ৭ অক্টোবর প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার অপর আসামি হলেন কনটেন্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত গ্রাফিক্স ডিজাইনার।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ইমরান হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ৩০ মার্চ প্রথম আলো পত্রিকার প্রথম পাতার ২য়, ৩য় এবং ৪র্থ কলামের হেডলাইনে ঈদ মোবারক নামক একটি ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন প্রকাশ করে। যা কুকুরের ছবি সম্বলিত। ওই ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন ইসলাম ধর্মের পবিত্র উৎসবকে অবমাননা করা হয়েছে।

প্রথম আলোর মতো একটি জাতীয় পত্রিকা মুসলিম ধর্মের ঈদের মতো একটি পবিত্র ইবাদতকে কটাক্ষ করতে দ্বিধা করে নাই। একটি কুকুরের লোলুপ হাস্যরসাত্মক কার্টুনের সাথে মানুষের আনন্দকে চিত্রায়িত করে ঈদের পবিত্রতা এবং মুসলিম উম্মাহর ধর্মীয় অনুভূতিকে চরমভাবে অবমাননা করা হয়েছে। এই কাজটি একটি সচেতন এবং সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ঈদুল-ফিতরের মতো মহান ধর্মীয় উৎসবকে অপমানিত এবং হেয় করার ঘৃণ্য প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।

আসামিরা স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে, ইচ্ছাকৃতভাবে ইসলাম ধর্মের পবিত্র উৎসবকে তাদের দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় চিত্রায়িত ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন চিত্রের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর ঈদের মতো পবিত্র ইবাদতকে হেয় প্রতিপন্ন ও অবমাননা করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

  • July 4, 2025
  • 0 Comments
মানিকগঞ্জে ড্যাব-এর আয়োজনে গণঅভ্যুত্থান ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রক্তদান কর্মসূচি

ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), মানিকগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের মাসের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে স্বেচ্ছায় রক্তদান ও ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শুক্রবার (৪ জুলাই) বিকেলে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন ড্যাবের চিকিৎসক সদস্যরা, স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। কর্মসূচিতে শতাধিক মানুষ রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করান এবং অনেকেই স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন।

মানিকগঞ্জ ড্যাব এর কর্নধারন ডাঃ জিয়াউর রহমান জানান, জাতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এই সময় স্মরণে জনগণের পাশে দাঁড়ানো ও মানবিক সহায়তা প্রদানই তাদের লক্ষ্য।

মানবসেবার এই ব্যতিক্রমী আয়োজনকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে।

  • July 4, 2025
  • 0 Comments
বান্দরবানে সেনা অভিযানে কেএনএ কমান্ডারসহ নিহত ২

বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে সেনাবাহিনীর সুনির্দিষ্ট অভিযানে কুকি-চীন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ)-র একজন শীর্ষস্থানীয় কমান্ডারসহ দুই সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সকালে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করে।
আইএসপিআর জানায়, বান্দরবানের রুমা উপজেলার একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় কেএনএ’র তৎপরতার ওপর নজরদারির ভিত্তিতে সেনাবাহিনী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে সংগঠনের এক কমান্ডারসহ দুই সদস্য নিহত হয়।
অভিযানকালে ঘটনাস্থল থেকে ৩টি সাবমেশিনগান (এসএমজি), ১টি রাইফেল, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
আইএসপিআর আরও জানায়, এই অভিযান এখনও চলমান রয়েছে এবং নিরাপত্তাবাহিনীর তৎপরতায় পাহাড়ি অঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে কুকি চিন ন্যাশনাল আর্মি পাহাড়ি অঞ্চলে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে সন্ত্রাসী তৎপরতা বাড়িয়ে তোলে। ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলায় সেনাবাহিনী সক্রিয় ভূমিকা নেয়।
এই অভিযান সফল হওয়ায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।ত হয়েছেন।

Your Attractive Heading

অন্যান্য