• August 24, 2025
  • 0 Comments
ধর্ষণ মামলায় কারাবন্দি মান্নানকে নিরপরাধ দাবি করে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি :

মানিকগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় কারাবন্দি আব্দুল মান্নানকে নিরপরাধ দাবি করে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। 

রবিবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে জেলার শিবালয় উপজেলার ভুক্তভোগীর নিজ গ্রাম আরুয়ায় এই মানববন্ধন করেন তারা। এ সময় এই ধর্ষণের ঘটনার পুনঃ তদন্ত ও আব্দুল মান্নানের মুক্তি চাওয়া হয়। গ্রামের শত-শত নারী-পুরুষ এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে আগতরা জানান, ২০০৩ সালে এই ধর্ষণ মামলার ঘটনা। এ মামলায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে এলাকার সাধারণ কৃষক আব্দুল মান্নানকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জড়ানো হয়েছে। এই ঘটনার পর দীর্ঘ প্রায় ২ যুগ কেটে গেছে। বছর দুয়েক ধরে নিরপরাধ ব্যক্তি কারাবন্দি হয়ে জীবন পার করছে। আব্দুল মান্নান একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মানুষ। তিনি এই কাজের সাথে জড়িত নন। আমরা চাই এ ঘটনার পুনঃ তদন্ত এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি। 

মানববন্ধনে আব্দুল মান্নানের স্ত্রী রানী বেগম, মেয়ে রিনা আক্তার সাথী, বেপারীপাড়া জামে মসজিদের সাবেক ইমাম মোহাম্মদ নবীন মোল্লা, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ও ব্যবসায়ী মো. রাশেদ আলী, ব্যবসায়ী রেজাউল করিম রঞ্জু, ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি আসলাম শেখ, সমাজপতি আব্দুল হালিম বেপারী, খবীর গাজী, শাহজাহান প্রামানিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এসময় আব্দুল মান্নানের মেয়ে রিনা আক্তার সাথী বলেন, মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমার বাবাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। ২০০৩ সালের হওয়া মামলা আমার বাবা একদিনো বাড়ির বাইরে থাকেনি। পালিয়ে ফেরারি জীবনযাপন করেনি। এলাকার সকল মানুষ তার সাক্ষী। আমরা এ ঘটনার সঠিক তদন্ত চাই। এবং আমার নিরপরাধ বাবার মুক্তি চাই। 

৭০ ঊর্ধ্ব বয়সী এলাকার সমাজপতি আব্দুল হালিম বেপারী বলেন, আমরা আজ এখানে একটাই দাবি নিয়ে দাঁড়িয়েছি- আমাদের গ্রাম আরুয়ার নিরপরাধ মানুষ আব্দুল মান্নানের মুক্তি। দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ আগে মিথ্যা মামলায় তাকে জড়ানো হয়েছে। তিনি একজন সাধারণ কৃষক, একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মানুষ। যে মানুষ নিজের সংসারের খোঁজ রাখতেই হিমশিম খায়, সে কি করে এমন ভয়াবহ অপরাধে জড়িত থাকতে পারে?

তিনি আরো বলেন, আমরা গ্রামের মানুষ তাকে চিনি, তার সততা চিনি। তবুও আজ তিনি কারাগারে দিন কাটাচ্ছেন, নির্দোষ হয়েও। এটা শুধু মান্নানের নয়, পুরো গ্রামবাসীর বেদনা। তার স্ত্রী, তার মেয়ে তারা আজ অসহায়। সংসারের অভাব-অনটন, মানুষের তিরস্কার সবকিছু একা বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা।

ব্যবসায়ী ও ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি আসলাম শেখ বলেন, আমরা দাবি জানাই- এই মামলার পুনঃতদন্ত হোক। সত্য উদঘাটিত হোক। যে বা যারা ষড়যন্ত্র করে নিরপরাধ মানুষকে জেলে পাঠিয়েছে, তাদের বিচার হোক। আমরা চাই না আর কোনো মান্নান মিথ্যা মামলার শিকার হোক।

  • August 23, 2025
  • 0 Comments
মানিকগঞ্জে ডিবি পুলিশের তিন সদস্য প্রত্যাহার : মাদক বিক্রির অভিযোগে তোলপাড়

স্টাফ রিপোর্টার, মানিকগঞ্জ :

পুলিশের (ডিবি) তিন সদস্যের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে মাদক বিক্রি ও অর্থ আত্মসাতের। তদন্তের মুখে পড়ে তাদেরকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন, এসআই আবুল হোসেন, এএসআই হারুনুর রশীদ, কনস্টেবল তাওহীদ

গত ১৬ আগস্ট বিকাল ৪:৩০ টায় ঢাকার ধামরাইয়ের বারোবাড়িয়া এলাকায় র‌্যাব-৪ এর হাতে ধরা পড়েন তারা। অভিযোগ— এক র‌্যাব সোর্সের কাছে মাদক বিক্রি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন এসআই আবুল হোসেন ও কনস্টেবল তাওহীদ। তবে আগে থেকেই আঁচ পেয়ে পালিয়ে যান এএসআই হারুনুর রশীদ এবং সেলফি পরিবহণের বাসে করে মানিকগঞ্জে ফিরে আসেন।

পরে আটক দুজনকে নবীনগরে র‌্যাব-৪ এর সিপিসি-২ কার্যালয়ে নেয়া হয়। পরে পুলিশ সুপার ও ডিবি ইনচার্জের তৎপরতায় ফেরত আনা হলেও তিনজনকেই সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাহার করা হয়।

মানিকগঞ্জ ডিবি পুলিশের ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, “র‌্যাবের লিখিত অভিযোগের পরপরই তিন সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে, দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

এর আগে গত ২৫ জুন সিংগাইরে অভিযানে হেরোইন-ইয়াবা গায়েব এবং সাড়ে তিন লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। সে সময় গণমাধ্যমেও বিষয়টি প্রকাশ হয়েছিল।

  • August 23, 2025
  • 0 Comments
আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের ভেতরে যেন কোনো ফাটল না ধরে: আফরোজা খানম রিতা

স্টাফ রিপোর্টার, মানিকগঞ্জ :

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের ভেতরে গ্রুপিং থাকলে আমাদের আর কোনো আশার জায়গা থাকবে না। আমরা তো আপনাদের কাছ থেকেই শিখব- কিভাবে দেশকে ভালোবাসতে হয়, কিভাবে নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠিত থাকা যায় এবং সর্বোপরি কিভাবে দেশের জন্য কাজ করা যায়। আপনারাই আমাদের উৎসাহ দেবেন। এজন্য আমরা চাই আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে যেন কোনো ফাটল না ধরে। আমরা যারা জিয়াউর রহমানের সৈনিক, আমরা যেন সকলে একত্রিত হয়ে এক ছাতার নিচে থাকতে পারি।’

শুক্রবার-২২ আগস্ট বেলা সাড়ে এগারোটায় মানিকগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘একসাথে কাজ করতে গেলে ছোটখাটো দ্বন্দ্ব মানুষের মধ্যে থাকতেই পারে। কিন্তু আমরা আপনাদের সন্তান হয়ে দাবি করছি- আপনারা সকলে বিভেদ ভুলে একত্রিত হয়ে যান। আমাদের ভেতরে যেন কোনো গ্রুপিং না থাকে। কারো ব্যক্তিগত কোনো ভুল-ত্রুটি থাকলে তা শুধরে নিয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তবে দলের বিপক্ষে যে কাজ করছে, তাকে নিয়ে নয়। আমরা মানিকগঞ্জের জন্য এবং দেশের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।’

তিনি বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচার সরকারের আমলে আমরা এবং আমাদের নেতাকর্মীরা নানা প্রতিকূলতার ভেতর দিয়ে গিয়েছি। আমাদের ওপর অন্যায়-অত্যাচার, জুলুম, হামলা-মামলা সবই করেছে তারা। মানিকগঞ্জ বিএনপির ঘাঁটি সারা বাংলাদেশ জানে, সেখানে আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এই মুক্তিযোদ্ধা ভবনে বিএনপির সমর্থিতদের আসতে দেওয়া হয়নি। আমরা এখন সকলে এক ছাতার নিচে একত্রিত থাকব।’

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মানিকগঞ্জ জেলা কমিটির

আহ্বায়ক আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে ও

 যুগ্ম আহ্বায়ক ডাক্তার হায়দার আলী মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোছা: ইয়াসমিন খাতুন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য-সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহমেদ খান, সদস্য নুরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক নুরুল বাশার, মানিকগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য সচিব শহিদুল হকসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রায় দুই শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা।

  • August 21, 2025
  • 0 Comments
ভারতের মাটিতে আ.লীগের কার্যালয়, যা জানাল দিল্লি

কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের বিবৃতিকে ভুল হিসেবে অভিহিত করেছে ভারত। দেশটি বলেছে, ভারতের মাটি থেকে অন্য দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালনার অনুমতি দেয় না সে দেশের সরকার।

বুধবার (২০ আগস্ট) দিল্লিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা প্রেস বিবৃতি সম্পর্কে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে ভারত সরকারের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ভারতে আওয়ামী লীগের সদস্যদের দ্বারা বাংলাদেশবিরোধী কোনো কার্যকলাপ বা ভারতীয় আইনের পরিপন্থি কোনো কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ভারত সরকার অবগত নয়। সরকার ভারতের মাটি থেকে অন্য দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালনার অনুমতি দেয় না। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস বিবৃতি তাই ভুল।

রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, ভারত তার প্রত্যাশা পুনর্ব্যক্ত করে যে, জনগণের ইচ্ছা এবং ম্যান্ডেট নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অবাধ, সুষ্ঠু এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ভারতের মাটিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যালয়গুলো অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ।

বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ও ফৌজদারি মামলার পলাতক আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা এখনও ভারতে অবস্থান করছেন। এদের মধ্যে কয়েকজন গত ২১ জুলাই দিল্লি প্রেস ক্লাবে একটি এনজিওর ব্যানারে সভা করার চেষ্টা করেন এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে প্রচারপত্র বিতরণ করেন। বিষয়টি ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

  • August 21, 2025
  • 0 Comments
জারি হলো অধ্যাদেশ, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকছে না দলীয় প্রতীক

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বরাদ্দের ধারাগুলো বাতিল করে অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। এ-সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশে সই করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন আইন সংশোধন করে সোমবার (১৮ আগস্ট) এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়। যার ফলে আগামীতে আর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের আইনি সুযোগ থাকছে না।

এর আগে, গত ১ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত চারটি আলাদা অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠায়। ২৪ জুলাই উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের পর লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সম্মতি নিয়ে তা গেজেট আকারে প্রকাশ হলো।

উল্লেখ্য, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৫ সালে সিটি, পৌর, উপজেলা ও ইউপিতে দলীয় প্রতীকে ভোটের বিধান রেখে আইন সংশোধন করে। সেই আইন সংশোধন করে এবার নির্দলীয় প্রতীকে ভোটের উদ্যোগ নেওয়া হলো।

অন্তর্বর্তী সরকারের করা নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন ও স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন দলীয় প্রতীক বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছিল।

  • August 21, 2025
  • 0 Comments
বিএনপি পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে নয় : মির্জা ফখরুল

বিএনপি পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে নয় বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য জাতীয় নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। দেশের মানুষ নির্বাচন চায়। সংকট নিরসনের একমাত্র পথ দ্রুত নির্বাচন। যারা সংস্কার চাচ্ছে না, সেটা তাদের দলের ব্যাপার।

এ সময় ডাকসু নির্বাচন নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সবার অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হোক এটাই প্রত্যাশা আমাদের।

গত ১৩ আগস্ট চোখের ফলোআপ চিকিৎসার জন্য সস্ত্রীক থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উদ্দেশে রওনা হন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তিনি ও তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম ব্যাংককের উদ্দেশে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

এর আগে, চোখের চিকিৎসার জন্য গত ১৩ মে সস্ত্রীক ব্যাংকক গিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল। ব্যাংককের রুটনিন আই হাসপাতালে পরদিন ১৪ মে মির্জা ফখরুলের বাঁ চোখে সফল অস্ত্রোপচার হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে দুই সপ্তাহের বেশি সময় বিশ্রামে ছিলেন তখন। পরে চোখের চিকিৎসা শেষে গত ৭ জুন দেশে ফেরেন তারা।

  • August 21, 2025
  • 0 Comments
গাজা সীমান্তে বিপুল সেনা মোতায়েন মিসরের

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার সীমান্তে বিপুল সেনা মোতায়েন করেছে মিসর। দখলদার ইসরায়েল গাজার মূল শহর গাজা সিটিতে বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইসরায়েলি সেনাদের হামলার কারণে গাজার মানুষকে মিসরের উত্তর সিনাই উপত্যকায় প্রবেশের চেষ্টা করতে পারেন এমন আশঙ্কা থেকে দেশটি নিজেদের সীমান্তে সেনার সংখ্যা বাড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সংবাদমাধ্যম মিডেল ইস্ট আইকে এ তথ্য জানিয়েছেন মিসরের এক সামরিক কর্মকর্তা।

তিনি বলেছেন, উত্তর সিনাইয়ে এখন ৪০ হাজার সেনা রয়েছে। যা ইসরায়েল-মিসরের ১৯৭৯ সালের শান্তিচুক্তির আওতায় নির্ধারিত সেনার চেয়ে অনেক বেশি।

একটি সূত্র বলেছেন, “গত কয়েক বছরের মধ্যে আমরা মিসরের সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় দেখতে পাচ্ছি।”

ওই সেনা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাতাহ এল-সিসির সরাসরি নির্দেশনায় সিনাইয়ে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট সিসি সশস্ত্র বাহিনীর সুপ্রিম কাউন্সিল এবং জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সঙ্গে বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ইসরায়েল গাজা থেকে হামাসকে নিশ্চিহ্ন ও গাজার অনেক মানুষকে সেখান থেকে বের করে দিতে চায়। মিসর এ প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করে।

মিসরের সেনারা সিনাইয়ের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নিয়ে আছেন। গাজা সীমান্তবর্তী অঞ্চলটিকে ‘জোন সি’ বলা হয়। সেখানেও ব্যাপক সেনা রয়েছে।

মিসরীয় সূত্রটি জানিয়েছেন, সীমান্তে বাড়তি সেনা মোতায়েনের ব্যাপারে ইসরায়েলকে অবহিত করা হয়েছে। তাদের বলা হয়েছে, শুধুমাত্র নিজস্ব প্রতিরক্ষার জন্য সীমান্তে সেনা উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।

কিন্তু ইসরায়েল যদি কোনো কথায় মিসরের কোথাও হামলা চালায় তাহলে এর কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

গাজা সীমান্তে এখন মিসরীয় সেনাদের সাঁজোয়া যান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, বিশেষ বাহিনী এবং এম৬০ যুদ্ধট্যাংক অবস্থান করছে।

এদিকে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি জানিয়েছেন, গাজার মানুষকে অন্যত্র সরানোয় তারা রাজি না, এতে তারা সহায়তা করবেন না এবং এটি হতেও দেবেন না।

সূত্র: মিডেল ইস্ট আই

  • August 21, 2025
  • 0 Comments
আলাস্কা থেকে ফেরার পথে পুতিনকে পাহারা দিলো এফ-২২ যুদ্ধবিমান

আলাস্কায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের পর রাশিয়ায় ফেরার পথে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বহনকারী বিমানের পাশে দেখা গেল কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান। এফ-২২ মডেলের যুদ্ধবিমানগুলো মূলত পুতিনকে গার্ড দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

এশিয়া ও আমেরিকাকে পৃথককারী জলভাগ বেরিং প্রণালী পার হওয়ার সময়কার এমনই একটি ভিডিও শেয়ার করেছে রুশ প্রেসিডেন্টের দপ্তর।

মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো এলমেনডর্ফ বিমান ঘাঁটি থেকে উড়েছিল বলে মনে হচ্ছে। এই ঘাঁটিতেই শীর্ষ বৈঠক আয়োজন করা হয়।

পুতিনের যুক্তরাষ্ট্রে আগমনের সময়ও ওয়াশিংটনের সামরিক শক্তির একটি প্রদর্শনী ছিল। ফুটেজে এফ-২২ এবং পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম একটি বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান উড়তে দেখা যায়।

ট্রাম্প তার রাশিয়ান প্রতিপক্ষকে লাল গালিচায় স্বাগত জানান। দু’জনেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাঁজোয়া লিমোজিন গাড়িতে চড়েন।

শীর্ষ সম্মেলনের পর দুই নেতা একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। যদিও তারা ইউক্রেন সংঘাতের বিষয়ে কোনো চুক্তি ঘোষণা করেননি।

পুতিন এই বৈঠককে গঠনমূলক বলে বর্ণনা করেছেন। ট্রাম্পও এটিকে ‘উষ্ণ’ বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন, উভয় পক্ষই সংঘাতের ‘প্রায় শেষের কাছাকাছি’। পরে ট্রাম্প ইউক্রেনের ভ্লাদিমির জেলেনস্কিকে চুক্তিটি করার আহ্বান জানান।

এফ-২২ র‍্যাপ্টর হলো লকহিড মার্টিন এবং নর্থরপ গ্রুমম্যান নির্মিত পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ ফাইটার জেট। এগুলো আকাশে আধিপত্য বিস্তার, নির্ভুল আক্রমণ এবং গোয়েন্দা নজরদারির মতো কাজের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। আলাস্কায় দুটি এফ-২২ স্কোয়াড্রন রয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি নিকটবর্তী আইলসন বিমান ঘাঁটিতে আরও দুটি আধুনিক এফ-৩৫ ফাইটার স্কোয়াড্রন রয়েছে বলে জানা গেছে।

  • August 21, 2025
  • 0 Comments
পাঁচ ব্যাংকের নাম হতে পারে ইউনাইটেড ইসলামী বা আল ফাতাহ

ব্যাংক খাতের ‘মাফিয়া সিন্ডিকেট’ এস আলম গ্রুপ ও নজরুল ইসলাম মজুমদারের হাতে লুট হওয়া পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই মধ্যে ব্যাংকগুলোর সম্মতি নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একীভূতকরণে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতির জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সম্মতি পেলেই চলতি সপ্তাহে ব্যাংক একীভূতকরণের ঘোষণা আসতে পারে। একই সঙ্গে নতুন ব্যাংকটির নাম নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। এরই মধ্যে আলোচনায় আছে ইউনাইটেড ইসলামী বা আল ফাতাহ—এই দুটি নাম। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছেও চাওয়া হবে প্রস্তাব। আগামী অক্টোবরের মধ্যে ঠিক হতে পারে ব্যাংকটির নাম। বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক সূত্র বিষয়গুলো নিশ্চিত করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর গত সোমবার এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, আগামী সপ্তাহ থেকেই একীভূতকরণের কাজ শুরু হবে। তবে বাস্তবে কার্যক্রম শুরু হতে অবশ্য আরও কিছু সময় লাগতে পারে। যদিও চলতি সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ের সম্মতি পেলেই ব্যাংকগুলো সরকার অধিগ্রহণের বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। এরপর আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে একীভূতকরণের ঘোষণা এবং অক্টোবরের মধ্যে নতুন ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম শুরু হতে পারে। তবে একীভূতকরণ সম্পন্ন করতে কমপক্ষে ১ বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।

খরচ আসবে যেভাবে: কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, সদ্য প্রণীত ব্যাংক অধ্যাদেশ ২০২৫-এর অধীনে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে প্রথমে সরকার অধিগ্রহণ করবে। এরপর একীভূতকরণের কার্যক্রম শুরু হবে। এসব ব্যাংক একীভূত করতে ৩০-৩৫ হাজার কোটি টাকা লাগতে পারে। সরকার চলতি অর্থবছরের বাজেটে এর খরচ হিসেবে ১৩ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ রেখেছে। একই সঙ্গে ব্যাংক একীভূতকরণে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের সহায়তার প্রতিশ্রুতি রয়েছে, যা বাংলাদেশি টাকায় সাড়ে ২৪ হাজার কোটি টাকার মতো। সব মিলিয়ে চলতি বছরের মধ্যেই একীভূতকরণের ফ্রেমওয়ার্ক ঠিক হয়ে যাবে বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, লুট হওয়া ব্যাংকগুলোর একীভূতকরণের বিকল্প নেই। এ বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে সরকারকে অবহিত করা হয়েছে। সরকারও এ বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত। এখন এই প্রক্রিয়া পরিচালনার খরচ সামাল দিতে যেই পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন, তার সংস্থাপন হলেই কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে। আমরা আশা করছি, চলতি বছরের মধ্যেই ফ্রেমওয়ার্ক নির্দিষ্ট করা যাবে। ঠিক থাকলে আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে এই পাঁচ ব্যাংক মিলে একটি শক্তিশালী ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হবে। সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন বলেও জানান এই ব্যাংকার।

নাম নিয়ে যত আলোচনা: বেসরকারি খাতের ৫ শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংক মিলে গঠিত হবে একটি নতুন ব্যাংক। নতুন নামে ও নতুন আঙ্গিকে গড়ে ওঠা ব্যাংকটির নাম নিয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এরই মধ্যে দুটি নামের বিষয়ে বেশ আলোচনা শোনা যাচ্ছে। যার মধ্যে একটি হচ্ছে ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক ও অন্যটি আল ফাতাহ (বিজয়ী বা জয় করা) ইসলামী ব্যাংক। যদিও এখনো কোনো নাম চূড়ান্ত করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।

মালিকানায় থাকবে যারা: বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, একীভূতকরণের পর একটি নতুন নামের শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হবে। এটি প্রাথমিকভাবে সরকারি মালিকানায় চলবে। পরে ধাপে ধাপে বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হবে। সে ক্ষেত্রে প্রথমে বিদেশি ও বেসরকারি খাতে ভালো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী খোঁজা হবে। না পাওয়া গেলে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে সরকার ধীরে ধীরে মালিকানা হস্তান্তর করবে।

নতুন কার্যালয়: ৫টি ব্যাংক সরকারি মালিকানায় নেওয়ার পর একীভূতকরণের কার্যক্রম শুরু হবে। এ ক্ষেত্রে নতুন ব্যাংকের জন্য আলাদা কার্যালয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মতিঝিলের সেনাকল্যাণ ভবন কার্যালয় নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

গড়ে তোলা হবে এসএমই ব্যাংক: বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্র বলছে, ৫ বেসরকারি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে একটি বৃহৎ এসএমই ব্যাংক গড়ে তোলা হবে। এই ব্যাংকটি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা গড়ে তুলতে কাজ করবে। বৃহৎ বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করে দেশের প্রান্তিক অর্থনীতিকে গতিশীল করতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সে ক্ষেত্রে অঞ্চলভিত্তিক ভাগ করে বিনিয়োগেরও চিন্তা করা হচ্ছে। অর্থাৎ সেই অঞ্চলের আমানত সেই অঞ্চলেই বিনিয়োগের বিষয়ে নীতিমালা তৈরি করা হবে।

আমানতকারীদের সুরক্ষা: কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ৫ ইসলামী ব্যাংকের শতভাগ আমানতকারীকে সুরক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সে ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের শতভাগ অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে বৃহৎ আমানতকারীদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমানতের বিপরীতে তাদের দেওয়া হতে পারে ব্যাংকের শেয়ার। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, একীভূত প্রক্রিয়ায় কোনো কর্মীর চাকরি যাবে না। আমানতকারীদেরও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই; তাদের সব টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান বলেন, এই মুহূর্তে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার কোনো বিকল্প নেই। সঠিকভাবে পরিচালিত করতে পারলে এটি বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে।

গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, আশার দিক হচ্ছে এরই মধ্যে ব্যাংকগুলো ফরেনসিক অডিট হয়ে গেছে। এখন কার্যক্রম শুরু হলে কত সময় লাগবে, তা বোঝা যাবে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ব্যাংক একীভূত করার ক্ষেত্রে প্রথমে ব্যাংকগুলোকে সরকার অধিগ্রহণ করবে। এরপর ব্যাংকগুলোর ঘাটতি মূলধনে সরকার বিনিয়োগ করবে। এরপর ব্যাংক একীভূতকরণের কার্যক্রম শুরু হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একীভূতকরণের উদাহরণ থাকলেও বাংলাদেশেরটা ব্যতিক্রম। কারণ বিশ্বের কোথাও এ ধরনের লুটপাট হওয়ার প্রেক্ষাপটে ব্যাংক একীভূত করতে হয়নি। এখন বাংলাদেশ নতুন হিসেবে সেই অভিজ্ঞতার দিকে হাঁটছে। সে ক্ষেত্রে এটি কতটা কার্যকর হবে, তার জন্য সময় নিতে হবে। তবে সরকার আমানতকারী ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের সুরক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি ভালো দিক। তবে যোগ্যতার ভিত্তিকে ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পদায়নের বিষয়টি নজর রাখতে বলেন তিনি।

  • August 21, 2025
  • 0 Comments
রাংপানিতে ভাঙা-কাটা পাথর ফেললে ‘প্রকৃতির লাভ না, বরং বিপদ’

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার শ্রীপুর সীমান্তে ‘জল-নুড়ি-বড় পাথর’ জমে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া ‘অপূর্ব সুন্দর’ পর্যটনকেন্দ্র রাংপানি নদী থেকে বড় বড় পাথর লুটে নেওয়ার পর সেখানে ছোট ও ভাঙা পাথর ফেলে ‘প্রতিস্থাপন’ করেছে প্রশাসন।

তবে এতে ‘প্রকৃতির কোনো লাভ হবে না’ বলে বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য; বরং তাতে উল্টো ফলও মিলতে পারে আশঙ্কা করছেন তারা। এতে নদীর ‘স্বাভাবিক’ পানিপ্রবাহ বিঘ্নিত হবে; নদীর ‘গতিপথ’ পরিবর্তন হয়ে ভাঙন দেখা দিতে পারে।

প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতামত ছাড়াই এ ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে; যাতে মানুষের মধ্যে তথাকথিত ‘ইতিবাচক’ বার্তা দেওয়ারও চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য প্রকৌশল অ্যান্ড চা প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক মো. মোজাম্মেল হক।

শিক্ষার্থীদের মৃত্তিকা বিজ্ঞান সম্পর্কিত কোর্সগুলোর পাঠ দেওয়া এই শিক্ষক বলেন, “ভাঙা পাথর ফিরিয়ে দিয়ে প্রকৃতির কোনো লাভ হবে না। কারণ পাথরের একটা আয়ুষ্কাল থাকে। ভাঙার ফলে সেটা নষ্ট হয়ে গেছে। ভেঙে ফেলাতে পাথরের বাইরের প্রতিরোধী আবরণ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে নানা জীব, অনুজীব পাথরের ভেতর বাসা বাঁধা শুরু করবে। এতে পাথরগুলো ক্রমান্বয়ে ক্ষয় হতে থাকবে।”

“প্রশাসন যে পাথর ফিরিয়ে দিচ্ছে, এতে উল্টো রাংপানির পানির গভীরতা কমে যাবে। কারণ, এসব ভাঙা পাথর স্থির থাকবে না। তারা পানির গভীরে জায়গা দখল করে গভীরতা কমিয়ে দেবে।”

এই শিক্ষক বরং বলেন, প্রশাসন এসব ভাঙা পাথর নদীতে প্রতিস্থাপন না করে সরকারি বিভিন্ন কাজে লাগাতে পারে। তাও একটু ফলফসূ হবে।

গত বছরের ৫ অগাস্টের পর থেকেই ব্যাপক ‘লুটপাটের’ শিকার হয় সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি, ১৩৬ একরের শাহ আরেফিন টিলা, পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথর এবং এর পাশের ১০ একরের রেলওয়ে বাঙ্কার, গোয়াইনঘাটের পর্যটনকেন্দ্র জাফলং ও বিছনাকান্দি, জৈন্তাপুরের লালাখাল ও শ্রীপুর-রাংপানি এলাকা।

এসব স্থানে স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনরাতে লুটপাট হয়েছে। ফলে পাথর-বালু ‘শূন্য’ হয়ে পড়ে পর্যটন এলাকাগুলো। আর ‘খানাখন্দে’ পরিণত হয়েছে রেলওয়ে বাঙ্কার ও শাহ আরেফিন টিলা। এতে বিপুল পরিমাণ সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে। কোটি-কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে লুটেরা চক্র।

প্রশাসনের তথ্যমতে, সারাদেশে পাথর ও বালু উত্তোলনের নির্দিষ্ট ৫১টি কোয়ারি আছে। সিলেটের কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরে আছে আটটি কোয়ারি। এর বাইরে সিলেটের সাদাপাথর, জাফলং, বিছনাকান্দি, উৎমাছড়াসহ আরও ১০টি জায়গায় পাথর-বালু আছে। এসব জায়গা পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

সীমান্তের ওপারে ভারতের মেঘালয়ের পাহাড়ি নদী থেকে এসব পাথর-বালু আসে। ২০২০ সালের আগে সংরক্ষিত এলাকা বাদে সিলেটের আটটি কোয়ারি ইজারা দিয়ে পাথর উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হতো। তবে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতির কারণে ২০২০ সালের পর আর পাথর কোয়ারি ইজারা দেওয়া হয়নি।

ভারসাম্য ফিরবে দলগত উদ্যোগে :

সমালোচনার মুখে প্রশাসন যখন সিলেটের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ‘সাদাপাথর ও জাফলংয়ের’ লুট হওয়া পাথর উদ্ধারে উদ্যোগী হয়েছে, ঠিক তখনি জৈন্তাপুর উপজেলার ‘রাংপানি’ পর্যটনকেন্দ্রের পাথর লুটের বিষয়টিও সামনে এসেছে। আশির দশকে এই রাংপানি পর্যটনকেন্দ্রে অনেক চলচ্চিত্রের শুটিং হয়েছে।

যদিও রাংপানিতে পাথর লুট চলছে গত কয়েক বছর ধরেই। তবে গত বছরের ৫ অগাস্টের পর থেকে বেড়েছে লুটপাট। বর্তমানে সীমান্তের ওপারে গিয়ে শ্রমিকেরা পাথর তুলে নিয়ে আসছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, লুটেরাদের সঙ্গে স্থানীয় রাজনীতিবিদ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘অসৎ’ লোকজনও জড়িত।

সিলেট নগরীর বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন গত বছরের শেষ অগাস্টে গিয়েছিলেন রাংপানি পর্যটনকেন্দ্র দেখতে। তার ভাষ্য, “রাংপানি তখন দেখতে অনেক সুন্দর ছিল। বড় বড় পাথর পানিতে ভেসে রয়েছে। পাশে মেঘালয়ের সারি সারি পাহাড়, সুপারির বাগান, পাহাড়ি গাছপালা আর ঝর্না দেখে মনে হয়েছিল এ যেন প্রকৃতির স্বর্গরাজ্য। এই জায়গার পাথর নিয়ে গেছে শুনে খারাপ লাগছে।”

মঙ্গলবার থেকে প্রশাসন রাংপানি নদীতে পাথর প্রতিস্থাপন করা শুরু করেছে। অভিযানে উদ্ধার হওয়া বড় বড় পাথর, কাটা ও ভাঙা পাথর ওইখানে নিয়ে ফেলা হচ্ছে। তবে কাজটির ক্ষেত্রে প্রশাসন কারও পরামর্শ নেয়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জৈন্তাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা আক্তার লাবনী বলছিলেন, “পাথর যাতে চুরি না হয়, এজন্যই নদীতে সংক্ষরণ করা হচ্ছে। রাংপানি নদীর পুরো তলদেশে পাথর রয়েছে, এজন্য নিয়ে রাখা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, বুধবার জৈন্তাপুরের বিভিন্ন বালু মহালে সাইনবোর্ড টাঙানো হচ্ছে। বালু না তোলার বিষয়ে।

সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, “মাটির গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে পাথরের একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। পাথর সরিয়ে নেওয়ায় বালি, অনুজীব ও পাথরের প্রাকৃতিক আন্তঃসম্পর্ক ভেঙে গেছে। এতে পরিবেশের যে ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে, তা পুরোপুরি ফেরানো সম্ভব নয়।”

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের পুর ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক শাহিদুর রহমান বলেন, রাংপানি এলাকা থেকে উত্তোলন করা পাথর ফেরত দেওয়া হলেও প্রকৃতির যে ক্ষতি হওয়ার, তা এরই মধ্যে হয়ে গেছে। প্রকৃতি নিজস্ব ছন্দে চলে এবং এর প্রতিটি উপাদান পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে একটি অংশে হস্তক্ষেপ করলে পুরো ব্যবস্থার ওপর প্রভাব পড়ে, যা সহজে পূরণ করা সম্ভব নয়।

“পাথরগুলো ভাঙার ফলে সে তার স্বাভাবিক গঠন ও গুণাগুণ হারিয়ে ফেলেছে। তাই ফেরত দিলেও তা প্রকৃতিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে পারবে না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন পাথর গঠিত হওয়া এবং পুরনো পাথরের সঙ্গে মিশ্রণের মাধ্যমে প্রকৃতি ধীরে ধীরে ভারসাম্য ফিরে পেতে পারে।”

শিক্ষক শাহিদুর রহমান বলেন, এজন্য প্রয়োজন প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি এবং প্রকৌশলী, পরিবেশবিদ ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে একটি দলগত উদ্যোগ, যাতে এসব এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ সংরক্ষণ সম্ভব হয়।

‘পাথর ফেলে গলদঘর্ম হওয়ার চেয়ে লুট ঠেকানো সহজ ছিল’

পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা) আজীবন সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, “সাদাপাথর, রাংপানিসহ সিলেটের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাথর লুটের পর প্রশাসন পাথর উদ্ধার এবং প্রতিস্থাপন করছে। এটা অনেকের বাহবা কুড়িয়েছে। এটা করতে গিয়ে প্রশাসন যে গলদঘর্ম হচ্ছে, তার চেয়ে লুট ঠেকানো ছিল অনেক সহজ। উদ্ধার হওয়া কাটা বা ভাঙা পাথর রাংপানিতে প্রতিস্থাপন বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে করা উচিত ছিল।”

তিনি বলেন, “পানির স্রোতের সঙ্গে উজান থেকে গড়িয়ে আসা পাথর সনাতন পদ্ধতিতে বারকি নৌকায় করে উত্তোলন পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি করে না। এটা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। আমরা এর বিপক্ষে নই। কিন্তু এক্সাভেটর ও বোমা মেশিনের মাধ্যমে মাটি খুঁড়ে ভূ-গর্ভস্থ পাথর উত্তোলন পরিবেশ, পর্যটনকেন্দ্র ও নদীর ধ্বংস ডেকে আনছে। রাংপানিতেও তা ঘটছে।

“দীর্ঘদিন ধরে থাকা বিশাল আকৃতির পাথরগুলো একটা শক্ত কাঠামোর উপর দাঁড়িয়ে ছিল। উদ্ধার হওয়া পাথর কি মাটির গভীরে প্রতিস্থাপন সম্ভব? এগুলো কি আগের মতো শক্ত কাঠামোয় আবার ফিরে যাবে? মোটেই না। মূলতঃ এলোপাতাড়িভাবে কাটা বা ভাঙা পাথর নদীতে ফেলে নদীর আরও সর্বনাশ ডেকে আনা হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বিঘ্নিত হবে; নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে ভাঙন দেখা দিতে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এ ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।”

তবে পানি উন্নয়র বোর্ড-পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, “এটা আমাদের কোনো বিষয় না।”

অন্যান্য