• September 22, 2025
  • 0 Comments
ড. ইউনূসের সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে মুখোমুখি বিএনপি-আওয়ামী লীগ

জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফরে এসেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার এ সফর ঘিরে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে মুখোমুখি অবস্থানে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ। নিউইয়র্ক সময় রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে জ্যাকসন হাইটসের ড্রাইভ সিটি প্লাজায় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এমিরেটসের একটি ফ্লাইট ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে রোববার দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যায়। সোমবার নিউইয়র্ক সময় দুপুর আড়াইটায় তাকে বহনকারী বিমানটি পৌঁছাবে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, ড. ইউনূসের নেতৃত্বে আসা প্রতিনিধিদলের সফরের প্রতিবাদে নিউইয়র্কের জিএফকে বিমানবন্দরে অবস্থান নেবেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে ড. ইউনূসের সফরসঙ্গী বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরকে স্বাগত জানাতে অবস্থান নেবেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। এছাড়াও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরকে স্বাগত জানাতে অবস্থান নেবেন দলটির নেতাকর্মীরা। তাদের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে বিমানবন্দরজুড়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

‘আমেরিকা বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স’ এর চেয়ারম্যান এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য গিয়াস আহমেদ বলেন, আমরা আজ দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেএফকে বিমানবন্দরে অবস্থান করে ড. ইউনূস এবং আমাদের নেতাদের স্বাগত জানাবো, পাশাপাশি শান্তি সমাবেশ করবো। এছাড়া আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সামনে অবস্থান নেবো। গতকাল রাতে আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্যে তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল, সেজন্য আমরা তাদের বাধা দিয়েছি। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেট থেকে আমাদের লোকজন আসছে। সুতরাং যারা শৃঙ্খলা নষ্টের চেষ্টা করবে আমরা তাদের প্রতিহত করবো।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ নয়, নিজের ব্যবসার প্রসার ঘটাতেই প্রধান উপদেষ্টার এ সফর। ২২ তারিখ থেকে ড. ইউনূস যতদিন নিউইয়র্কের মাটিতে থাকবেন আমাদের রূপ হবে ভয়ংকর। তাদের সঙ্গে যারা আসছেন তাদের নিউইয়র্কের মাটিতে যেখানেই পাবো সেখানেই এ দেশের আইনের আওতায় প্রতিহত করবো।

প্রধান উপদেষ্টার সরকারি সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন পাঁচ রাজনৈতিক নেতা—বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির; জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের; জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন এবং এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা। যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিনিধিদলে যোগ দেবেন জামায়াত নেতা মোহাম্মদ নকিবুর রহমান।

২৬ সেপ্টেম্বর প্রধান উপদেষ্টার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ২ অক্টোবর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

  • September 21, 2025
  • 0 Comments
বাংলাদেশের ওপর আমিরাতের ভিসা নিষেধাজ্ঞার খবর ভুয়া: প্রেস উইং

বাংলাদেশসহ এশিয়া ও আফ্রিকার ৯টি দেশের ওপর সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ভিসা নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়েছে বলে প্রকাশিত খবরটি ভুয়া।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই তথ্য জানায়।

প্রেস উইং জানায়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো ১৭ সেপ্টেম্বর একটি বেসরকারি ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ওয়েবসাইট ‘ইউএইভিসা অনলাইন’-এ প্রকাশিত একটি নিবন্ধের উদ্ধৃতি দিয়েছে। ওই নিবন্ধে দাবি করা হয় যে, অভিবাসন সংক্রান্ত এক সার্কুলারে বাংলাদেশসহ ৯টি দেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

তবে এই দাবিটি সত্য নয় বলে নিশ্চিত করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ। তিনি বলেন, আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ ধরনের কোনো বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যায়নি।

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর সরকারি ছুটির কারণে দূতাবাস ২২ সেপ্টেম্বর আমিরাত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করবে এবং অফিসিয়াল চ্যানেলের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হবে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, এমন খবর প্রকাশের ঘটনা ওই ভিসা সেন্টারটির কোনো দুরভিসন্ধিমূলক চেষ্টা বলে মনে হচ্ছে।

প্রেস উইং জানায়, যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রতিবেদন প্রকাশ করায় এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

  • September 21, 2025
  • 0 Comments
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন : রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে কেন জাতিসংঘে যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা?

তিনটি রাজনৈতিক দলের চারজন নেতাকে সঙ্গে নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে রোববার যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। সরকারি এই সফরে রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের যুক্ত করা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা।

সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, দুই অক্টোবর দেশে ফেরার আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধান উপদেষ্টা। এছাড়া সাক্ষাৎকার দিতে পারেন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও।

কিন্তু এই সফরে রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য কী, সেখানে কী ভূমিকা রাখবেন তারা, আর কেনই বা নির্দিষ্ট তিনটি দলের প্রতিনিধিকেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে–– এমন নানা প্রশ্ন সামনে আসছে।

রাজনৈতিক দলের নেতারা বলছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ গঠনে রাজনৈতিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ রয়েছে–– আন্তর্জাতিক মহলে এমন বার্তা দিতে চায় সরকার। আর এ কারণেই এই সফরে যুক্ত হচ্ছেন তারা।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব যেহেতু রাজনীতিবিদদের হাতেই থাকবে, এ কারণেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ নানা আলোচনায় রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের যুক্ত করা হচ্ছে।

নির্দিষ্ট তিনটি দল থেকে প্রতিনিধি নির্ধারণের এই সিদ্ধান্ত, নির্বাচনের আগে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ভুল বার্তা দিচ্ছে কি না, উঠেছে এমন প্রশ্নও।

এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ অবশ্য বলছেন, আগামীতে ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দলীয় প্রভাব এবং দলীয় সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই প্রতিনিধি ঠিক করা হয়েছে।

তিনি বলছেন, অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রশ্নে একটি ঐক্য তৈরি হয়েছে।

তবে, এমন সব আলোচনার বাইরে সরকারের দিক থেকে রাজনৈতিক দায় বণ্টনের একটি চেষ্টাও দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।

রাজনৈতিক নেতারা কেন সফরসঙ্গী?

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে অংশ নিতে প্রধান উপদেষ্টার নিউইয়র্ক সফরের প্রতিনিধি দলে অংশ নিচ্ছেন দেশের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।

গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, প্রতিনিধি দলে অংশ নেবেন–– বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

জানা গেছে, এই সফরের বেশ কিছু সাইডলাইন বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার পাশাপাশি অংশ নেবেন এই রাজনৈতিক নেতারাও। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সঙ্গেও একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাদের।

গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের সঙ্গে আছে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে দেশকে এগিয়ে নিতে সবাই ঐক্যবদ্ধ রয়েছে–– আন্তর্জাতিক মহলে এমন বার্তা দিতেই প্রধান উপদেষ্টার এই সফরে তাদেরকে যুক্ত করা হয়েছে বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আর জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি কিছু সেশন আছে যেখানে আমাদের পার্টিসিপেশন আছে। এছাড়া বাংলাদেশ কমিউনিটির সাথেও একটা মিটিং আছে।

রাজনৈতিক নেতাদের এই সফরে যুক্ত করার কারণ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কিছু ধারণাও দিয়েছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ।

তিনি বলেছিলেন, যেহেতু আমরা একটি রূপান্তর পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছি এবং দেশ পরিচালনার দায়িত্ব রাজনীতিবিদদের হাতে হস্তান্তর করা হবে, তাই তাদের প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ঘোষণা হওয়ায়, শেষ কয়েক মাসের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সব কাজের সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে যুক্ত রাখতে চায় অন্তর্বর্তী সরকার, যাতে ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসবে তারা এসব কাজের ধারাবাহিকতার বিষয়ে অবগত থাকে।

প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ বলেন, জাতিসংঘের এই অধিবেশনে এমন অনেক কিছুই আলোচনা হবে যার একটা কন্টিনিউয়েশনের দরকার আছে। সম্প্রতি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সেমিনার হয়েছিল সেখানেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে সম্পৃক্ত করা হয়েছিল, বলেন তিনি।

ফয়েজ আহম্মদ বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার যেহেতু রাজনৈতিক দলের কাছেই ভবিষ্যতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে, তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়ে যুক্ত রাখতে চায় সরকার।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ অবশ্য মনে করেন, রাজনৈতিক ঐক্য সবার সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি এই মুহূর্তে বাংলাদেশে মার্কিন প্রভাবের যে বিষয়টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে সেখানেও রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে রাখতে চাইছেন প্রধান উপদেষ্টা।

সম্ভবত তিনি একাই এই ঝুঁকিটা নিতে চাচ্ছেন না। রাজনৈতিক দলকেও তিনি এই ঝুঁকির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে চান, যাতে রাজনৈতিক দলের দিক থেকে এ বিষয়ে কোনো বিরোধিতা না আসে। সেটাও একটা লক্ষ্য থাকতে পারে, বলেন তিনি।

এছাড়া তিনটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধের সমাধানের পথ খুলতে পারে বলেও মনে করেন সাব্বির আহমেদ।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের মূল বৈঠকের সাইডলাইনে আরও অনেক কিছুই হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।

এই তিন দলের প্রতিনিধিই কেন

দেশের ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংস্কার ইস্যুতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় গত ছয় মাসে দফায় দফায় বৈঠক করেছে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন, যেখানে অন্তত ৩০টি দলের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।

সংস্কার কমিশনগুলোর দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সংস্কার প্রশ্নে অনেক বিষয়ে একমত হলেও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে এখনো একমত হতে পারেনি দলগুলো।

এমনকি, এসব আলোচনার মধ্যেই সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন বা পিআর এর দাবিতে মাঠের কর্মসূচিও শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামী সহ সাতটি রাজনৈতিক দল, যার বিপরীত অবস্থান নিয়ে নানা মন্তব্য করেছি বিএনপি।

এমন প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসেবে কেন কেবল এই তিনটি দলকেই বেছে নিল সরকার?

প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ বলেন, রাজনৈতিক মতে বা আদর্শে ভিন্নতা থাকলেও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার প্রশ্নে সব দলের মধ্যে এক ধরনের ঐক্য আছে। আমরা মনে করি যে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাদের মধ্য দিয়ে সকল রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা যাচ্ছে।

এই সফরে কেবল তিনটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিকেই নেওয়ার বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলছেন, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

সাব্বির আহমেদ বলেন, প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিএনপি ও জামায়াত, আর জুলাইয়ের সামনের সারিতে থাকা ছাত্র প্রতিনিধিদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি এভাবেই হয়তো প্রতিনিধি বাছাই করা হয়েছে।

তিনি বলছেন, উনি (প্রধান উপদেষ্টা) তো হিসেব করেই চলেন। মূল শক্তি যে বিএনপি, জামায়াত বা এনসিপি এর বাইরে উনি যাবেন কেনো? যদি এদের (তিনটি রাজনৈতিক দলের) চিন্তাধারাকে ঠিক করা যায় তাহলে হয়তো উনি ভাবছেন, বাকিদেরটা এমনিই হয়ে যাবে।

  • September 21, 2025
  • 0 Comments
রাজনৈতিক স্বার্থে রাষ্ট্রকে ‘ঝুঁকির মুখে’ ঠেলবেন না: সালাহউদ্দিন

রাজনৈতিক স্বার্থে রাষ্ট্রকে ‘ঝুঁকির মুখে’ ঠেলে না দিতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘আসুন, আমরা কোনো সংকট সৃষ্টি না করি এবং সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকি।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘তারুণ্যের রাষ্ট্রচিন্তার তৃতীয় সংলাপ-মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় সালাহউদ্দিন এসব কথা বলেন। আলোচনা সভাটির আয়োজন করে ‘অপর্ণ আলোক সংঘ’।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, কোনো বিষয়ে যদি ঐকমত্য না হয়, তবে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এখানে যেন আমরা পরস্পর জবরদস্তি না করি। যে পরিবর্তনগুলো আনা হচ্ছে, সেগুলো রাতারাতি সম্ভব হবে না, এর জন্য সময় এবং পর্যায়ক্রমিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন।

অন্তর্বর্তী সরকারে ছাত্র প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, ছাত্র প্রতিনিধিদের সরকারে আসাটা আমার মনে হয় সঠিক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত হয়নি। ছাত্ররা বরং একটি ‘প্রেসার গ্রুপ’ হিসেবে কাজ করতে পারতো, যা জাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সাহায্য করতো। বর্তমানে যারা ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে সরকারে আছেন, তাদের প্রতিদিন দায়ী হতে হচ্ছে।

জাতীয় পার্টির নেত্রী রওশন এরশাদের একটি মন্তব্য টেনে সালাহউদ্দিন বলেন, রওশন এরশাদ বলেছিলেন, ‘মাননীয় স্পিকার আপনি বলে দেন, আমি সরকারি দল না বিরোধী দল’। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের চর্চা না হয়, সে বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি ইসলামী দলের বর্তমান যুগপৎ আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আলোচনার টেবিলে আলোচনা চলমান থাকা অবস্থায় মাঠে আন্দোলন করাটা স্ববিরোধী।

গণমাধ্যমের সংবাদের সূত্র ধরে সালাহউদ্দিন বলেন, পত্রিকায় আজকে হেডলাইন দেখলাম, কোথাও বলছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করবে, বিএনপি বিরোধী দলে যাবে। এ সিদ্ধান্ত কি জনগণ নাকি গণমাধ্যম নিয়েছে? যারা এত বেশি আত্মবিশ্বাসী যে তারা সরকার গঠন করবে, তারা কেন নির্বাচনে অংশ নিতে ভয় পায়? এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে।

অন্তর্বর্তী সরকার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, কিছু মহল এই সরকারকে ‘অর্ধ-সাংবিধানিক’ বলে প্রশ্ন তুলছে। এই ধরনের প্রশ্ন তুলে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি করা হলে এর সুবিধাভোগী হবে কোনো অসাংবিধানিক শক্তি বা পতিত স্বৈরাচার। তাই রাজনৈতিক স্বার্থে রাষ্ট্রকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে না দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

  • September 21, 2025
  • 0 Comments
হাজার কোটি টাকার মালিকেরা এখন দৌড়ে বেড়াচ্ছেন: অর্থ উপদেষ্টা

হাজার কোটি টাকার মালিকেরা এখন দৌড়ে বেড়াচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের কেবল পড়াশোনা নয়, সততা চর্চা করতে হবে। ছোটবেলা থেকেই সঠিক শিক্ষা নিয়ে গড়ে উঠতে হবে।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমিতি ঢাকার নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক ও ছাত্রবৃত্তি প্রদান উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ‘ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির ভূমি’ হিসেবে পরিচিত। আজকের অনুষ্ঠান সেই মর্যাদাই পুনরায় দৃঢ় করলো। শিক্ষায় বিনিয়োগ মানে শুধু শিক্ষার্থীকে সহায়তা করা নয়, বরং জাতির ভবিষ্যৎ গঠন করা। ঢাকায় বসবাসরত ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর ঐক্য ও জ্ঞানের পথে এগিয়ে যাওয়ার দৃষ্টিভঙ্গি আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এখন চিকিৎসকরা ঢাকার বাইরে যেতে চান না। অদূর কেরানীগঞ্জ থেকেও রাজধানীতে আসার জন্য তদবির আসে।

ড. সালেহউদ্দিন বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এখনো অনুন্নত জেলা। এর উন্নয়নে জেলার প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদেরও এগিয়ে আসতে হবে। এসময় জেলা সমিতিগুলোকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক না হয়ে কালেকটিভ স্বার্থ রক্ষায় কাজ করার আহ্বান জানান অর্থ উপদেষ্টা। নিজেদের মধ্যে মারামারি বন্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সবাইকে সচেতন হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমিতি ঢাকার সভাপতি এম এ খালেক বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া দীর্ঘদিন ধরে দেশকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, শিক্ষাবিদ ও শিল্পী উপহার দিয়ে আসছে। আজ আমরা প্রতিজ্ঞা করছি- ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে তার মেধা ও অবদানের জন্যই চিনবে সবাই, কোনো নেতিবাচক ধারণার জন্য নয়। এই বৃত্তি এবং নতুন কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক ও শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা প্রদানের মাধ্যমে আমরা ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী হিসেবে নাগরিক গৌরবের বীজ রোপণ করছি, যা আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

স্বাগত বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমিতি ঢাকার সাধারণ সম্পাদক মো. খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, আজকের এ সমাবেশ কেবল উদযাপন নয়, বরং একটি নতুন আন্দোলনের সূচনা। আমরা একটি আন্দোলনের সূচনা করছি। বাংলাদেশ ও বিশ্বজুড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তোলার আন্দোলন। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক উন্নয়নে আমাদের সাফল্য সবাইকে জানাবো। এই অনুষ্ঠান স্মরণীয় করে তোলার জন্য দাতা, স্বেচ্ছাসেবক ও গণমাধ্যমের বন্ধুদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

অনুষ্ঠানে উচ্চশিক্ষায় কৃতী শিক্ষার্থীদের মধ্যে মোট ৩১২টি বৃত্তি দেওয়া হয়। এর মধ্যে অনার্স স্তরে ২৫টি, এইচএসসি স্তরে ১৮২টি এবং এসএসসি স্তরে ১০৫টি বৃত্তি দেওয়া হয়। এসব বৃত্তি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষায় উৎকর্ষ অর্জনে অনুপ্রেরণা দেবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

  • September 21, 2025
  • 0 Comments
আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা আনতে বাংলাদেশকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ৮ পরামর্শ

মার্কিন সরকারের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে প্রকাশিত ফিসক্যাল ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট বা আর্থিক স্বচ্ছতা প্রতিবেদনে, বাংলাদেশের আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা আনতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আটটি পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আগের সরকারের তৈরি বাজেট কাঠামোই মূলত অনুসরণ করছে। অন্তর্বর্তী সরকার আগের সরকারের বাজেট কাঠামো বদলায়নি। তবে সরকার অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা বাড়াতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।

আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা আনতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর যে সব পরামর্শ দিয়েছে—

১. বছরের শেষ হিসাব প্রতিবেদন যৌক্তিক সময়ের মধ্যে প্রকাশ করা।

২. বাজেট নথি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী প্রস্তুত করা।

৩. নির্বাহী কার্যালয়ের ব্যয় আলাদাভাবে দেখানো।

৪. বাজেটে সরকারের রাজস্ব আয় ও ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ চিত্র প্রকাশ করা।

৫. আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সর্বোচ্চ নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। বাজেটের পূর্ণাঙ্গ তথ্য যেন তারা পায়, সেই ব্যবস্থা করা।

৬. নিরীক্ষা প্রতিবেদন সময়মতো প্রকাশ করা, যেখানে প্রস্তাবনা ও বিস্তারিত তথ্য থাকবে।

৭. প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ–সংক্রান্ত চুক্তির মূল তথ্য প্রকাশ করা।

৮. সরকারি ক্রয়ের তথ্য প্রকাশ করা।

মার্কিন সরকারের পররাষ্ট্র দপ্তরের আর্থিক স্বচ্ছতা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আগের সরকার নির্বাহী বাজেট প্রস্তাব ও প্রণীত বাজেট অনলাইনে সাধারণ জনগণের জন্য প্রকাশ করেছে। তবে বছরের শেষ হিসাব প্রতিবেদন যৌক্তিক সময়ের মধ্যে প্রকাশ করেনি। তারা মনে করছে, বাজেটের তথ্য সাধারণভাবে নির্ভরযোগ্য হলেও আন্তর্জাতিক মান অনুসারে হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের ঋণ বা দেনার পরিমাণ কত, তা বাজেটে প্রকাশ করা হতো। বাজেট নথিতে সরকারের পরিকল্পিত ব্যয়, রাজস্ব আয়সহ প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে অর্জিত আয় দেখানো হলেও একাধিক দিক থেকে তথ্য অসম্পূর্ণ ছিল। বিশেষ করে নির্বাহী বিভাগের ব্যয় আলাদা করে দেখানো হয়নি। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক বরাদ্দ ও আয় প্রকাশ করা হলেও রাজস্ব ও ব্যয়ের সম্পূর্ণ হিসাব পাওয়া যায়নি।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, সরকারি নিরীক্ষক সংস্থা অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে পুরো হিসাব যাচাই করতে পারেনি। কিছু সারসংক্ষেপ প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মনে করছে, প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী স্বতন্ত্র নয়।

প্রাকৃতিক সম্পদ খাতের চুক্তি ও লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত মানদণ্ড অনুসরণ করা হলেও সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে সীমিত তথ্য দেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের সব প্রক্রিয়া উন্মুক্ত ও স্বচ্ছভাবে করেছে। সেই সঙ্গে আগের সরকারের নেওয়া চলমান ও আগের সব সরাসরি ক্রয়পদ্ধতি স্থগিত করেছে।

  • September 21, 2025
  • 0 Comments
বাংলাদেশসহ ৯ দেশের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরব আমিরাতের

বাংলাদেশসহ মোট নয়টি দেশের ওপর পর্যটন ও কর্ম ভিসার উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে এই নির্দেশনা।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ইউএই ভিসা অনলাইনে প্রকাশিত দেশটির অভিবাসন বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে এ তথ্য।

দেশটির অভিবাসন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলো হলো- আফগানিস্তান, লিবিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া, লেবানন, বাংলাদেশ, ক্যামেরুন, সুদান ও উগান্ডা।

ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক এই নয় দেশের নাগরিকরাও নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে।

নিরাপত্তা উদ্বেগ, ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং কোভিড-১৯-এর মতো মহামারিকে নিষেধাজ্ঞার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে দেশটি। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কারণ প্রকাশ করেনি আমিরাত সরকার।

তবে বর্তমানে এর মধ্যে কিছু দেশ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর্যটন ও কর্মক্ষেত্রের ভিসার জন্য আবেদন করতে পারে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে এই আবেদনের সুযোগ আর থাকবে না ওই দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য, যা পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

  • September 21, 2025
  • 0 Comments
প্রধান উপদেষ্টা নিউইয়র্ক যাচ্ছেন আজ, সঙ্গে ৪ রাজনৈতিক নেতা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে আজ রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, তিনি ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন এবং ২৬ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। প্রধান উপদেষ্টার ২ অক্টোবর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সফরে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে থাকছেন চারজন রাজনৈতিক নেতা— বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

এর আগে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, প্রধান উপদেষ্টা বিগত এক বছরে দেশে সংঘটিত সংস্কার এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার বিশ্ব নেতাদের সামনে তুলে ধরবেন।

এ ছাড়া আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির সভাপতিত্বে ‘হাই লেভেল কনফারেন্স অন দ্য সিচুয়েশন অব রোহিঙ্গা মুসলিমস অ্যান্ড আদার মাইনোরিটিস ইন মিয়ানমার’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের সভায়ও অংশ নেবেন।

  • September 17, 2025
  • 0 Comments
সিংগাইরে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন উদ্বোধন করলেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের
আওতায় বিভিন্ন উপকার ভোগী এর নিকট দোকান ও অটোরিকশা প্রদান কার্যক্রমের শুভ
উদ্বোধন করেছেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।

বুধবার(১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়,সমাজসেবা অধিদপ্তরের
অর্থায়ণে উপজেলার প্রশাসন ও সমাজ সেবা কার্যালয়ের আয়োজনে ধল্লা ইউনিয়নের
ভূমদক্ষিন বাজারে উপকার ভোগী ছালেহা খাতুনের দোকান উদ্বোধন করেন।

এ সময় উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো.মঞ্জুরুল ইসলামের পরিচালনায় প্রধান
অতিথি,ঢাকা বিভাগী কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বক্তব্যে বলেন,পেশা হিসেবে
ভিক্ষাবৃত্তি একটি অসন্মানজনক পেশা এটা সমাজে কেউ ভালো চোঁখে দেখে না। রাস্ট্র
হিসেবে এটা ভালো বার্তা দেয় না। তারপর মানুষ নানা কারনে এ পেশা বেছে নেয়। এ থেকে
তাদেরকে বের করে নিয়ে আসা খুব কঠিন কাজ নয়। তিনি আরো বলেন, এই উদ্যোগ ও
কার্যক্রমের মাধ্যমে এ পেশা ছেড়ে সন্মানজনক পেশায় এসে আত্মনির্ভরশীল হতে পারে।
পর্যায়ক্রমে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসিত করা হবে বলেও জানান তিনি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন,জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড.মনোয়ার হোসেন মোল্লা,অতিরিক্ত জেলা
প্রশাসক(রাজস্ব) মোহাম্মদ আলী, জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক
মো.আব্দুল বাতেন,উপজেলা নির্বাহি অফিসার মো.কামরুল হাসান সোহাগ,সহকারি
কমিশনার(ভূমি) মো.হাবেল উদ্দিন,কৃষি অফিসার মো.হাবিবুল বাসার চৌধুরী,মাধ্যমিক
শিক্ষা অফিসার এবিএম আব্দুল হান্নান,প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মো.আহাদী
হোসেনসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও জেলা, উপজেলা প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস
মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • September 16, 2025
  • 0 Comments
আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল বন্ধে কঠোর সরকার

নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন ছাত্রলীগসহ অঙ্গ-সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের উৎপাত বন্ধে কঠোর হচ্ছে সরকার। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে হওয়া মামলাগুলোর চার্জশিট দ্রুত দেওয়া হবে। ক্রমান্বয়ে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার আসামিদের আইন অনুযায়ী দ্রুত বিচারকাজ শেষ করার ব্যাপারে প্রসিকিউশিন বিভাগকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দেখাতে বলা হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলোর সংঘবদ্ধ অবস্থান নেওয়ার বিষয়েও পরামর্শ এসেছে। উচ্চপর্যায়ের নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের বাড়বাড়ন্ত দেখা যাচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই ঝটিকা মিছিল হচ্ছে। দিন দিন মিছিলের সংখ্যা বাড়ছে। তবে মিছিলে উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য নয়। সম্প্রতি রাজধানীর বাইরেও একই প্রক্রিয়ায় চার থেকে পাঁচ মিনিটের মিছিল করা শুরু করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। গত শনিবার কুমিল্লার চান্দিনা মহাসড়কে ভোরে ১৫ থেকে ২০ জন মিছিল বের করে। সর্বশেষ গতকাল রোববার ঢাকার পার্শ্ববর্তী কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকায় ঝটিকা মিছিল করে স্বল্পসংখ্যক নেতাকর্মী।

এর আগে গত শুক্রবার রাজধানীর বাংলামোটর ও গুলশান এলাকায় ঝটিকা মিছিল বের করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া দলটি। পর দিন ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকায় মিছিল করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় মুজিববাদী ক্যাডাররা। এর আগে আগস্টে একই এলাকায় শতাধিক আওয়ামী কর্মী মিছিল করে। আগস্টে গুলিস্তানে মিছিল করে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা অতিথি কর্মীরা। মিছিলগুলোতে উপস্থিতি সাধারণত ১৫ থেকে ২০ থেকে ৫০ থেকে ৬০ জনের বেশি হয় না।

গত ৫ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় কয়েকশ লোক নিয়ে মিছিল করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ও তার গোটা সংসদ পালিয়ে যাওয়ার পর এই প্রথম কিছুটা বেশি নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে মিছিল বের হয়। একই দিন বিজয় সরণি এলাকায়ও মিছিল হয়।

এদিকে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের একটি দলের স্থানীয় একজন প্রভাবশালী নেতার ইন্ধনে মূলত তুলনামূলক বড় ধরনের মিছিল বের করেছে আওয়ামী লীগ। ৫ আগস্টের পর ওই নেতার নানামুখী নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারণে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতিও দেওয়া হয়। ওই মিছিলের পর নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট একাধিক সংস্থার পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান নিতে পরামর্শ দেওয়া হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণায় এবং সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে। জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের দুটি বড় দলের মধ্যকার বিরোধের কারণে আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে মুজিববাদী কর্মীরা।

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের উৎপাত ও ভীতি ছড়ানোর অপচেষ্টার প্রেক্ষাপটে করণীয় বিষয়ে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ওমর ফারুক বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর অনৈক্য এ জন্য অনেকাংশে দায়ী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর হওয়ার পাশাপাশি দলগুলোকে আওয়ামী লীগ, চৌদ্দ দলসহ ফ্যাসিবাদের সহযোগীদের বিষয়ে সংঘবদ্ধ অবস্থান নিতে হবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী আমার দেশকে বলেন, ঝটিকা মিছিলের বিষয়ে কোনো ছাড় নয়। নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে অপরাধীদের গ্রেপ্তারে। ডিএমপিতে প্রতিদিনই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে মিছিলকারীদের। আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নিরাপত্তা সংস্থা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র আমার দেশকে বলেছে, পুলিশ যেহেতু নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, তাই তাদের আরো কঠোর হতে হবে। পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানের দুটি বড় শক্তিকে এলাকাভিত্তিক আওয়ামী কর্মীদের বিষয়ে নমনীয়তা না দেখাতে দল দুটিকে পরামর্শ দিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে বার্তা দেওয়া হয়েছে। দল দুটির বিভেদকে কাজে লাগিয়ে এবং ক্ষেত্রবিশেষে কোনো কোনো নেতার প্রশ্রয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীরা যাতে মাঠে না নামতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনে প্রতিটি মেট্রোপলিটন এলাকার পুলিশ কমিশনার এবং জেলা পুলিশ সুপাররা বৈঠক করবেন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে। সেখানে দলগুলোর সহযোগিতা চাওয়া যেতে পারে। যেমনটি গত ৬ আগস্ট করেছিলেন ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী।

পুলিশের এই কর্মকর্তারা বলছেন, ডিএমপির ডিবি পুলিশ সাম্প্রতিককালে খুব ভালো করছে। ঝটিকা মিছিলকারীদের খুব দ্রুত গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে রাজধানীর বাইরের এলাকাগুলোতেও একই ধরনের তৎপরতা দেখানোর জন্য নির্দেশনা দিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) সাইফুল ইসলাম শানতু বলেন, সন্ত্রাসবিরোধীসহ সংশ্লিষ্ট সব আইনের বিধান কার্যকরের মাধ্যমে জনশৃঙ্খলা ও জনশান্তি রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর।

অন্যান্য