• October 13, 2025
  • 0 Comments
‘বিগত তিন নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারীদের বিরত রাখা হবে’

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে মাঠ পর্যায়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হবে।
রোববার সচিবালয়ে আইন-শৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের শান্তি ও সুষ্ঠু ভোট প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য যে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ব্যক্তি বা গ্রুপকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নকরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।
উপদেষ্টা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যাতে কোনো আইন বহির্ভূত কাজ না করে সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়ার আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তাছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক বডি ওর্ন ক্যামেরার ব্যবস্থা করা।
তিনি বলেন, দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আগামী জানুয়ারির মধ্যে প্রশিক্ষণ শেষ হবে। এবারের নির্বাচনে বিজিবির ১ হাজার ১০০ প্লাটুনে ৩৩ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে। ইতিমধ্যে ৬০ শতাংশ নির্বাচনী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। তা ছাড়া এবারের নির্বাচনে প্রায় ৮০ হাজার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, গত ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের আসন্ন নির্বাচনে যথাসম্ভব দায়িত্ব প্রদান করা থেকে বিরত থাকা। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি যেন না ঘটে, সেজন্য টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশিক্ষণ যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করা।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল যেটা আগের তুলনায় অনেক কমে এসেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি এখন শান্ত ও ভালো রয়েছে। সেখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফ্যাসিস্টের লোকজন শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠান যাতে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হতে না পারে, সেজন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করেছিল। কিছু ফ্যাসিস্ট বুদ্ধিজীবীও এতে ইন্ধন জুগিয়েছিল। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় তৎপরতার কারণে তাদের চক্রান্ত নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে। সবার সহযোগিতায় শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপদেষ্টাদের সেফ এক্সিট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমি দেশের বাইরে যাব কেন, আমার স্ত্রী-সন্তান দেশেই থাকে। বিদেশে কার কাছে যাব।
ট্রাইব্যুনালে পরোয়ানাভুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের বিচার চলাকালে সেনাবাহিনী তাদের হেফাজতে রাখতে চায়—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা, আইনে যা আছে তাই হবে।
মাদকের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। শুধু বাহকদের নয়, মাদকের গডফাদারদের আটক করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

  • October 8, 2025
  • 0 Comments
ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক শহিদুল আলম

ফিলিস্তিনের গাজা অভিমুখে যাত্রা করা বাংলাদেশের ফটোগ্রাফার ও লেখক শহিদুল আলমকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। বুধবার আটকের আগ মুহূর্তে তিনি ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি জানান। তার শেষ ভিডিওবার্তা আপলোড করার আগে তাকে বহনকারী জাহাজ দ্য কনসায়েন্স-এ ইসরায়েলি আক্রমণের লাইভও করেন তিনি।
শহিদুল আলম ভিডিওবার্তায় বলেন, ‘আমি শহিদুল আলম বাংলাদেশের ফটোগ্রাফার ও লেখক। আপনি যদি এই ভিডিওটি দেখেন, তার মানে আমাদের সমুদ্রে আটকে দেওয়া হয়েছে এবং আমাকে অপহরণ করেছে ইসরায়েল দখলদার বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য পশ্চিমা শক্তির সক্রিয় সহযোগিতা এবং সহায়তায় গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে এই দেশ। আমি আমার সব সহযোদ্ধা ও বন্ধুদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার জন্য।’
এর আগে ফ্রিডম ফ্লোটিলার বরাতে আলজাজিরা জানায়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাদের নৌকার কনভয়ে আক্রমণ করেছে। গাজার দিকে যাত্রা করার সময় এ বহরে থাকা বেশ কয়েকটি জাহাজকে আটক করেছে দখলদাররা।
ফ্লোটিলা জানিয়েছে, সামরিক বাহিনী দ্য কনশেনস নামের একটি নৌকায় হামলা করে। এটি শহিদুল আলমসহ ৯৩ জন সাংবাদিক, ডাক্তার এবং কর্মী বহন করছিল। এ জাহাজের সঙ্গে থাকা তিনটি ছোট নৌকাও আক্রমণ করে ইসরায়েলিরা।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্স-বার্তায় ফ্লোটিলায় অভিযান চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আইনি নৌ অবরোধ লঙ্ঘন করে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশের আরেকটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। জাহাজ এবং যাত্রীদের একটি ইসরায়েলি বন্দরে স্থানান্তর করা হয়েছে। সব যাত্রী নিরাপদ এবং সুস্থ আছেন। যাত্রীদের দ্রুত তাদের দেশে পাঠানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শহিদুল আলমের জাহাজটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (এফএফসি) এবং থাউজেন্ড ম্যাডলিনস টু গাজা (টিএমটিজি) নৌবহরের একটি জাহাজ। আন্তর্জাতিক সাংবাদিক ও চিকিৎসাকর্মীবাহী এই জাহাজ ইসরায়েলের অবৈধ অবরোধ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গাজা অভিমুখে রওনা হয়েছিল।

  • October 6, 2025
  • 0 Comments
পরিকল্পিত নাটক! স্বর্ণ লুটের মূলহোতা দোকান মালিক শুভ দাস নিজেই!

মানিকগঞ্জ শহরের স্বর্ণাকারপট্টিতে ঘটে যাওয়া আলোচিত স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় উঠে এসেছে অবিশ্বাস্য তথ্য। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে ‘অভি অলংকার’ জুয়েলারি দোকানের মালিক শুভ দাস নিজেই এই লুটের নাটক সাজিয়েছিলেন!

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শুভ দাস মাত্র ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে তিন ভাড়াটে ছিনতাইকারী ভাড়া করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মালিক নিজেই মোবাইলে বার্তা পাঠালে ভাড়াটেরা দোকানে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে এবং লকার ভেঙে নিয়ে যায় প্রায় ২০ থেকে ২২ ভরি স্বর্ণালংকার (মূল্য প্রায় ৩৬ লাখ টাকা)।

এ সময় নাটককে বিশ্বাসযোগ্য করতে শুভ দাসকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান।

রোববার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে পুলিশ নাটক ফাঁস করে এবং শাইলীপাড়া থেকে গ্রেফতার করে সোহান, আমানত ও শরীফকে।
তদন্তে প্রমাণ মিলেছে এটি ছিল একেবারেই পূর্বপরিকল্পিত নাটক।

পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানিয়েছেন, “মালিক শুভ দাসই ছিলেন মূলহোতা। তবে এর পেছনে আরও কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা বহুদিন ধরে স্বর্ণাকারপট্টিতে রাতের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছি। কিন্তু কার্যকর হয়নি। এই ঘটনায় এখন ব্যবসায়ী মহলে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।”

  • October 4, 2025
  • 0 Comments
অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের ছাত্রাবাস “আলিমুল হক হল”

মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ যা জেলার সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপরিচিত। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, এই কলেজের একমাত্র সরকারি আবাসিক হল “আলিমুল হক হল” দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।

হাজারো ছাত্রছাত্রী প্রতিদিন এ কলেজে শিক্ষা গ্রহণ করলেও ছেলে শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো কার্যকরী ছাত্রাবাস নেই। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মেধাবী শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি আবাসন সমস্যায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। অনেককে অতিরিক্ত খরচ করে মেস, বাসা বা অনিরাপদ জায়গায় থাকতে হচ্ছে। এতে শুধু আর্থিক চাপই নয়, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক মনোযোগও ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বলছেন,”জেলার শীর্ষ বিদ্যাপীঠে ছাত্রাবাস না থাকা এক ধরনের শিক্ষা বৈষম্য।” তারা অবিলম্বে **আলিমুল হক হল সংস্কার ও নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণের দাবি জানাচ্ছেন।

সচেতন মহলের দাবী এখন সময় এসেছে মানিকগঞ্জের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতের কথা ভেবে জরুরিভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার। সরকারের উচ্চ পর্যায় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি সরকারি দেবেন্দ্র কলেজে নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণ অতীব জরুরি।

  • October 2, 2025
  • 0 Comments
দুর্নীতির বরপুত্র রমজান আলী, মানিকগঞ্জ পৌরসভাকে বানিয়েছিলেন ব্যক্তিগত লুটপাটের ঘাঁটি!

মানিকগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রমজান আলীর বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির নথি বেরিয়ে আসছে। মেয়র পদে বসার পর থেকেই তিনি পৌরসভাকে বানিয়েছিলেন নিজের আয় ও বিলাসী জীবনের হাতিয়ার।

স্ত্রীর গাড়িকে পৌরসভার গাড়ি বানানো :

দলিল বলছে রমজান আলীর স্ত্রী আফরোজা আক্তারের নামে নিবন্ধিত প্রাডো পাজেরো জিপ (ঢাকা মেট্রো-গ-১৮-২৬২৪) পৌরসভার পরিবহণ তালিকায় ছিল না।
তারপরও ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নিয়মিত এই গাড়িকে “পৌরসভার নিজস্ব গাড়ি” দেখিয়ে তেলের বিল তোলা হয়েছে।

মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকা করে তিন বছরে ১৫ লাখ টাকার বেশি পৌর তহবিল থেকে আত্মসাৎ।

শুধু ২০২১ সালের আগস্ট-ডিসেম্বর ও ২০২২ সালের জানুয়ারিতেই বিল দেওয়া হয়েছে ২.৫৯ লাখ টাকা, ২০২৩ সালের অক্টোবর-নভেম্বর—৫৯ হাজার টাকা,
২০২৪ সালের মার্চ-মে—১.০৬ লাখ টাকা। এখনো বকেয়া আছে ৭৫ হাজার টাকার বেশি।

সাবেক প্রশাসক সানজিদা জেসমিন বলেন : “এটি সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত কাজ। পৌরসভার পরিবহণ তালিকায় এ গাড়ি নেই, অথচ নিয়মিত তেলের বিল দেখানো হয়েছে। এটি বড় ধরনের দুর্নীতি।”

টেন্ডার জালিয়াতি ও পরিবারের বাণিজ্য :

পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির প্রমাণ আরও ভয়াবহ। ২০২০-২১ অর্থবছর: ২.৭৭ কোটি টাকার ৭টি প্রকল্পের দরপত্র আহ্বানের ৫৫ দিন আগে কাজ শুরু করার আদেশ দেন রমজান আলী।
সেই কাজ সরাসরি দেন তার আপন ভাই দেলোয়ার হোসেন ও ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের। তদন্ত কমিটি প্রমাণ পেলেও তার রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রতিবেদন চাপা পড়ে যায়।

৪২ কোটি টাকার ভুয়া টেন্ডার :

রমজান আলীর সঙ্গে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার লাভলু মিয়া জড়িয়ে পড়েন ৪২ কোটি টাকার টেন্ডার জালিয়াতিতে।
লাভলুর ছেলের নামে ভুয়া প্রতিষ্ঠান জনি ট্রেডার্সকে কোটি কোটি টাকা বিল দেওয়া হয়।

২০১৭-১৮ অর্থবছর: সড়ক নির্মাণ দেখিয়ে ২ কোটির বেশি বিল।
বাসস্ট্যান্ড ও ট্রাক টার্মিনালের নামে ১১ কোটি টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছর: ৮.৫১ কোটি টাকা, ২০২০-২১ অর্থবছর: প্রায় ১২ কোটি টাকা।
২০২১-২২ অর্থবছর: ৩.৩৫ কোটি টাকা।

তথ্য অধিকার আইনে আবেদনে পৌর প্রশাসক জানান, “জনি ট্রেডার্স নামে পৌরসভায় কোনো কাজই করা হয়নি।”

ভুয়া প্রতিষ্ঠান বানিয়ে টাকা আত্মসাৎ :

রমজান আলী কেবল টেন্ডারেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। তিনি নিজেই তৈরি করেন ভুয়া সংগঠন-“মেয়র রমজান আলী শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ”।

এই প্রতিষ্ঠানের নামে পৌরসভা থেকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা অনুদান হাতিয়ে নিতেন। বিল-ভাউচার ঘেঁটে দেখা যায়, কবি কাইয়ূম শাহজীর নামে নিয়মিত টাকা তোলা হতো।

সচিব কাইয়ূম শাহজী নিজেই স্বীকার করেন—“সংগঠন কী কাজ করত, তা সাবেক মেয়রই বলতে পারবেন।” এছাড়া বন্ধুর মায়ের নামে কলেজ বানিয়ে মাসিক অনুদান নিতেন, যা একেবারেই নিয়মবহির্ভূত।

মামলা ও বর্তমান অবস্থা :

এর আগেও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ৩টি মামলা করেছিল। কিন্তু শিক্ষা নেননি। মেয়র পদে ফিরে এসে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে আছেন। তার স্ত্রীর বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা চলছে। নতুন প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর একে একে বেরিয়ে আসছে দুর্নীতির স্তূপ।

পৌরবাসীর দাবি—এবার দুদককে যেন সত্যিই মাঠে নামতে হয়। মানিকগঞ্জ পৌরসভার প্রতিটি টাকার হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে।

  • October 1, 2025
  • 0 Comments
আ.লীগের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কোনো কথাই হয়নি: প্রেস সচিব

আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কোনো কথাই প্রধান উপদেষ্টা বলেননি বলে জানিয়েছেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

তিনি বলেন, যিনি প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎকারটি অনুবাদ করেছেন, সেখানে একটি ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা কখনই বলেননি যে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হচ্ছে। তিনি কেবল আওয়ামী লীগের স্ট্যাটাস সম্পর্কে তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা কোনোভাবেই উল্লেখ করেননি যে, নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। অনুবাদে যদি কোনো বক্তব্য আংশিকভাবে বা প্রেক্ষাপট ছাড়াই নেওয়া হয়, তাহলে তা ভুল অর্থ প্রকাশ করতে পারে। সামগ্রিকভাবে দেখা গেলে বোঝা যায়, প্রধান উপদেষ্টা আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা বা কার্যক্রমে কোনো ছাড়ের কথা বলেননি এবং এ বিষয়ে কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ নিয়ে প্রেস সচিব বলেন, এটি একটি অনুবাদজনিত সমস্যা। পিআইবির বাংলা ফ্যাক্ট চেক বিষয়টি যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করেছে। প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য স্পষ্ট- আওয়ামী লীগের ওপর বর্তমান থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কোনো কথা তিনি বলেননি। নিষেধাজ্ঞা যেখানে আছে, সেখানে থাকবে। সরকারের কোনো পরিকল্পনাই নেই আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনও সেই প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের ওপর একটি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, ফলে তারা নির্বাচন করতে পারবে না। এটি স্পষ্ট এবং পরিষ্কার।

শফিকুল আলম বলেন, অনুবাদকারীরা প্রায়ই কোনো বাক্যের আগের প্রসঙ্গ দেখেন না। একটি বাক্যকে প্রেক্ষাপট ছাড়া (আউট অব কনটেক্সট) নেওয়া হলে ভুল অর্থ ফুটে উঠতে পারে। এই ক্ষেত্রে যে মেসেজটি তৈরি হয়েছে, তা সঠিক নয় এবং বিভ্রান্তিকর বলে মনে করেন তিনি।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে কোনো অনিশ্চয়তা আছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, কোনো অনিশ্চয়তা নেই। আমরা আশা করি, জুলাইয়ের সংশ্লিষ্ট সনদ দ্রুত স্বাক্ষরিত হবে। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো তখন নির্বাচনে সম্পূর্ণ মনোনিবেশ করবে। গ্রামগঞ্জে গেলে দেখবেন, নির্বাচনের উৎসাহ ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। প্রতিটি জায়গায় বড় বড় ব্যানার টাঙানো হয়েছে, সম্ভাব্য প্রার্থীরা বারবার নিজের কথা জানাচ্ছেন। এটি স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে নির্বাচনের উত্তেজনায় আছেন সবাই। আমরা আশা করছি, এই উত্তেজনা আরও বাড়বে।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে জিটিওর সাংবাদিক মেহদি হাসানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, অনেক মানুষ তো বলছে ৫ বছর ক্ষমতায় থাকুন, ১০ বছর থাকুন, ৫০ বছর থাকুন। মানুষ নানা ধরনের কথাই বলে। তারা বলে নির্বাচনের দরকার কী? কার নির্বাচন দরকার?

মেহেদি হাসান একজন সম্প্রচার সাংবাদিক, লেখক ও মিডিয়া কোম্পানি জেটিওর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি আলজাজিরা টেলিভিশনের টক শো ‘হেড টু হেড’-এর উপস্থাপক। ড. ইউনূস জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দেওয়ার ফাঁকে মেহেদি হাসানকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। জেটিওতে মূল সাক্ষাৎকারের তিন মিনিটের একটি ক্লিপ সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রচার করা হয়।

মেহেদি হাসান: আপনার অন্তর্বর্তী সরকার এক বছর ধরে ক্ষমতায়। আপনি বলেছেন, নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে হবে। এটা আরও পরে হওয়ার কথা ছিল। আপনি ফেব্রুয়ারিতে এগিয়ে এনেছেন…

প্রধান উপদেষ্টা: ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে, তাও রমজানের কারণে।

মেহেদি হাসান: আপনি সাক্ষাৎকারের শুরুতে বলেছিলেন, বাংলাদেশের অনেক মানুষ এখন কাজ দেখতে চায়। সমালোচকরা বলছেন, অনেক দেরি হয়ে গেছে। নির্বাচনের জন্য আরও ছয় মাস অপেক্ষা করা খুব দীর্ঘ। মানুষ ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে। কেন আমরা এর আগে নির্বাচন করতে পারছি না? নেপালের অন্তর্বর্তী নেতা ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কেন বাংলাদেশে ১৮ মাস লাগছে?

প্রধান উপদেষ্টা: নিশ্চিয়ই! আপনি জানিয়েছেন, মানুষ বলছে কেন এত সময় লাগছে। আবার এমন মানুষও আছে যারা বলেন, পাঁচ বছর থাকুন, ১০ বছর থাকুন, ৫০ বছর থাকুন। সুতরাং, মানুষ সব ধরনের কথাই বলছে। তারা বলছে, আপনি থাকুন। নির্বাচনের দরকার কী? নির্বাচন কার দরকার?

মেহেদি হাসান: এমন কথা যারা বলছেন, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, তারা বলেন, কেন আমরা তাড়াতাড়ি নির্বাচন করতে পারছি না? এই বিলম্ব কীসের জন্য?

প্রধান উপদেষ্টা: যখন তারা এই কথা বলে, তখন তা গণতন্ত্র নিয়ে নয়, সুশাসন নিয়ে কথা বলে। আমরা দুর্নীতিমুক্ত শাসন দেখতে চাই। সে জন্যই তারা বলে, আপনি থাকুন! কারণ নির্বাচনের পর আমরা বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়তে চাই না। আপনি এক ধরনের মতামত তুলে ধরেছেন, আমিও আরেক ধরনের মতামত তুলে ধরলাম। কোনটি বেশি শক্তিশালী? 

মেহেদি হাসান: কিন্তু আপনি কি আজ বলবেন, নির্বাচন পর্যন্ত পৌঁছাতে এত সময় লাগার কারণ কী?

প্রধান উপদেষ্টা: আমরা অন্তর্বর্তী সরকার। আমরা কতদিন থাকব তা কেউ নির্ধারণ করে দেয়নি। আমরা কতদিন থাকব সে সিদ্ধান্ত আমাদের। তবে আমাদের তিনটি কাজ করতে হবে। একটি হলো সংস্কার, একটি বিচার এবং শেষটি নির্বাচন। আমরা সংস্কারের এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছি। এটি একটি বিরাট এজেন্ডা। আপনি যদি শুধু নির্বাচন করেন, তবে সেই পুরোনো বিষয় আবার ঘটবে। কারণ আইন, নিয়ম, পদ্ধতি একই রয়ে গেছে। তাই ছাত্রদের নেতৃত্বে জনগণের একটি দাবি হলো সংস্কার করা। সুতরাং, আগে নিশ্চিত করতে হবে যে, ফ্যাসিবাদের সব শিকড় উপড়ে ফেলা হয়েছে, যাতে ভিন্ন ধরনের কাঠামো তৈরি হয়; যাতে আগের মতো সরকার আবার ফিরে আসতে না পারে। সেটাই আমাদের এজেন্ডা। 

মেহেদি হাসান: কিন্তু আপনি কি এই যুক্তিটি বোঝেন, যেহেতু আপনারা অন্তর্বর্তী সরকার, তাই আপনাদের ন্যূনতম মৌলিক বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত এবং বড় সিদ্ধান্তগুলো একটি নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে নেওয়া উচিত?

প্রধান উপদেষ্টা: এ নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো মতবিরোধ নেই। আমরা শুধু বলেছি, তিনটি কাজ আমাদের দেওয়া হয়েছে। আমরা সেটা করব।

  • September 27, 2025
  • 0 Comments
‘আপনার বোন দিল্লিতে বসে আছে, তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠান’

বিহারের নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তপ্ত হয়ে পড়েছে সেখানকার পরিস্থিতি। বিশেষ করে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি অভিযোগ করছে বিহারে অনেক বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। যারা সেখানকার ভোটের চিত্র পাল্টে দেবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশেষ করে বিরোধী দলগুলোর ওপর দায় দিচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করছেন বিহারে তারা বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশে সুযোগ করে দিচ্ছে।

এ নিয়ে কথা বলেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তিনি বলেছেন, বিহারে কোনো বাংলাদেশি নেই। তবে দিল্লিতে মোদির বাংলাদেশি বোন হাসিনা বসে আছে। তাকে যেন বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

বিশেষ করে বিহারের সীমাচলে কোনো বাংলাদেশি নেই বলে জানান তিনি। এই সীমাচলে তার দল সর্বশেষ নির্বাচনে জয় লাভ করেছিল।

ওয়াইসি বলেছেন, “মোদিজি বলেন বিহারে বাংলাদেশি রয়েছে। মোদিজি বিহার এবং সীমাচল অঞ্চলে কোনো বাংলাদেশি নেই। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে আপনার বোন আছে। যিনি দিল্লিতে বসে আছেন। তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠান। আর নয় তাকে বিহারের সীমাচলে নিয়ে আসুন। আমরা তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেব।”

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণবিপ্লবের মুখে দেশ থেকে পালান সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি দিল্লির একটি গোপন জায়গায় অবস্থান করছেন।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক বৈঠকে ভারত ও হাসিনার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন হাসিনা ভারতে থাকায় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সমস্যা হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি

  • September 23, 2025
  • 0 Comments
নিউইয়র্কে ড. ইউনূস ও সফরসঙ্গীদের নিরাপত্তা জোরদার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আখতার হোসেন ও তাসনিম জারার ওপর হামলার পর প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও সফরসঙ্গীদের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে এসে গতকাল সোমবার নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারাসহ রাজনৈতিক নেতাদের ওপর উদ্দেশ্যমূলক হামলার ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সহযোগী ও সমর্থকেরা এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এই নিন্দনীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার শাসনামলে গড়ে ওঠা বিধ্বংসী ও সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক স্পষ্ট ও মর্মান্তিক চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। এই বিধ্বংসী রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রধান উপদেষ্টা ও তার সঙ্গে থাকা রাজনৈতিক নেতাদের সফরের সময় সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকির আশঙ্কায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক সতর্কতামূলক নিরাপত্তাব্যবস্থা সমন্বয় করেছিল। জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রতিনিধিদলটিকে প্রথমে একটি নির্দিষ্ট ভিভিআইপি গেট দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং একটি বিশেষভাবে সুরক্ষিত পরিবহন ইউনিটে ওঠানো হয়েছিল।
তবে অপ্রত্যাশিত এবং শেষ মুহূর্তের ভিসা-সম্পর্কিত জটিলতার কারণে প্রতিনিধিদলটিকে পথ পরিবর্তন করে বিকল্প পথে অগ্রসর হতে হয়।
আরো বলা হয়, ‘বিমানবন্দরে রাজনৈতিক নেতাদের জন্য ভিভিআইপি প্রবেশাধিকার ও নিরাপত্তা সুবিধা দেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা সত্ত্বেও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দুঃখজনকভাবে সেই অনুরোধ রাখেনি। এর ফলে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ঝুঁকির মুখে পড়েন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ ঘটনার পর প্রধান উপদেষ্টা ও প্রতিনিধিদলের সব সদস্যের নিরাপত্তাব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশে তার প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ও স্থানীয় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সার্বক্ষণিক ঘনিষ্ঠ ও অবিচ্ছিন্ন সমন্বয় রেখে যাচ্ছে।’

  • September 23, 2025
  • 0 Comments
গ্যাস নেই, বিল আছে! অবশেষে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছেন মানিকগঞ্জের গ্রাহকরা

মানিকগঞ্জে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। অথচ নিয়মিত মাসিক বিল দিতে হয়েছে তাদের। দীর্ঘ ভোগান্তি আর প্রতারণার অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রায় চার হাজার গ্রাহক ইতোমধ্যেই তিতাস গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছেন।

মানিকগঞ্জ পৌরসভায় প্রায় ১২ হাজার আবাসিক গ্রাহক তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর আওতায় ছিলেন। কিন্তু এই গ্রাহকদের বেশিরভাগই বছরের পর বছর গ্যাস না পেয়েও বিল দিতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, সকালে রান্না চুলায় আগুন জ্বলে না, সিলিন্ডার গ্যাস কিনতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হয়, অথচ মাসের পর মাস বিল দিতে হয় ব্যবহার না করেও।

দক্ষিণ সেওতা এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, গ্রাহকদের আবেদনের ভিত্তিতে তিতাসের কর্মীরা একের পর এক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছেন।

ভুক্তভোগী গ্রাহক মো. রিপন আহমেদ বলেন, “এক ফোঁটা গ্যাস পাই না। তবুও মাসে মাসে বিল দিতে হয়। অনেকবার অভিযোগ করেছি, কিন্তু লাভ হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই সংযোগ কেটে দিলাম।”

অন্য এক গ্রাহক ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, “এক যুগ ধরে ভোগান্তি। আন্দোলন করেছি, বিক্ষোভ করেছি। কোনো সমাধান হয়নি। অথচ কোটি কোটি টাকা উঠিয়েছে তিতাস।”

মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক আকাশ বাড়ৈ জানান, “অনেক গ্রাহক নিজেরাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আবেদন করছেন। আমরা তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতেই ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

অন্যদিকে কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক আজগর আলী বলেন, “এখন পর্যন্ত প্রায় চার হাজার গ্রাহক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছেন। আসলে গ্যাস সরবরাহ না থাকলেও সংযোগ কাটা ছাড়া বিল বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। তবে ভবিষ্যতে সমস্যা সমাধান হলে পুনরায় সংযোগ দেয়া যেতে পারে।”

স্থানীয়দের মতে, “গ্যাস নাই, বিল নাই” এখন আন্দোলনের স্লোগান, এক যুগে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে কোম্পানি, তবুও সমাধান নেই, শুধু আশ্বাসেই আটকে আছে সবাই।

এর আগে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল, “গ্যাস নেই, তবুও মাসিক বিল আড়াই কোটি টাকা: মানিকগঞ্জে গ্রাহকের তীব্র ভোগান্তি” তবে সমাধান আসেনি, বরং পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে।

মানিকগঞ্জের বাসিন্দারা বছরের পর বছর গ্যাস পান না, তবুও নিয়মিত বিল পরিশোধে বাধ্য হয়েছেন। অবশেষে প্রতারণা থেকে বাঁচতে হাজার হাজার গ্রাহক নিজেরাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছেন। জনগণের প্রশ্ন-“গ্যাস ছাড়া কেন বিল?”

  • September 23, 2025
  • 0 Comments
শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ : প্রধান উপদেষ্টা

ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

নিউইয়র্কে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত ও ভারতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর-এর সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হবে এবং তা অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে। তিনি জানান, নির্বাচন ঘিরে দেশ প্রস্তুত রয়েছে। মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোর প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের এই প্রচেষ্টায় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট, সার্কের পুনরুজ্জীবন, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং ঢাকাকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার-সহ বিস্তৃত দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য সহায়তা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান। জবাবে মার্কিন প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গাদের জন্য জীবনরক্ষাকারী সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, দীর্ঘদিন পর সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি তিনি জানান, বাংলাদেশ আসিয়ানে যোগদানে আগ্রহী। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন আরও দ্রুত হবে বলে মনে করেন তিনি।

এছাড়া, নেপাল, ভুটান এবং ভারতের সাত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধান উপদেষ্টা। আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও গতিশীল হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বৈঠকের শেষে অধ্যাপক ইউনূস সার্জিও গোরকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

অন্যান্য