• August 29, 2025
  • 0 Comments
মানিকগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা মৌজায় প্রায় ২৫ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে সদর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফজলুল হকের বিরুদ্ধে।
জমিটির বৈধ মালিক তোরাব আলী দেওয়ান ও আছিয়া খাতুনের উত্তরাধিকারীরা অভিযোগ করেন, ফজলুল হক ও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি একটি বাহিনী নিয়ে তাদের জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন এবং সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণের হুমকি দিচ্ছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি মানিকগঞ্জের সিনিয়র সহকারী জজ আদালত উক্ত জমির মালিকানা তাদের পক্ষেই রায় প্রদান করেন। তবে আদালতের রায় সত্ত্বেও জমি দখলের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, অভিযুক্ত ফজলুল হক ইতোমধ্যেই জমি থেকে গাছ কেটে নিয়েছেন এবং খুঁটি বসিয়ে বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু করেছেন। এ ঘটনায় তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ও ১৪৫ ধারায় আবেদন করেছেন।
এ বিষয়ে ফজলুল হকের বক্তব্য পাওয়া না গেলেও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর বলেন, ‘যদি কেউ এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে এবং এর বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে, দলীয়ভাবে তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’

  • August 29, 2025
  • 0 Comments
নদীভাঙনে নিঃস্ব দানশীল ছোরহাব: সমাজসেবার দৃষ্টান্ত আজ আশ্রয়হীনতার দ্বারপ্রান্তে

“সারা জীবন যা ছিল, মানুষের কল্যাণেই দিয়েছি। অথচ আজ আমি-ই দাঁড়িয়ে আছি নিজের ঘরবাড়ি হারানোর দ্বারপ্রান্তে। বাবার কবর হারিয়েছি নদীতে, এবার চোখের সামনে মায়ের কবরও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে”— এভাবেই বুকভাঙা হাহাকার ঝরালেন মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পশ্চিম কুমুল্লি গ্রামের প্রবীণ সমাজসেবক ছোরহাব উদ্দিন (৭০)।

স্থানীয়রা তাকে ডাকে দানশীল ছোরহাব। সামাজিক কবরস্থানের জন্য জমি দান করেছেন, দুইটি মসজিদের জন্য জমি দিয়েছেন, এমনকি একটি মসজিদ নির্মাণে বিক্রি করেছেন নিজের এক বিঘা জমি। কখনো ব্যক্তিস্বার্থে সম্পদ ব্যবহার না করে সারা জীবন ব্যয় করেছেন সমাজকল্যাণে। অথচ আজ সেই মানুষটিই ভিটেমাটি হারিয়ে আশ্রয়হীনতার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, কালীগঙ্গার ভাঙন তার বসতভিটের ৬০ শতাংশ গ্রাস করেছে। মায়ের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি অসহায় চোখে তাকিয়ে আছেন নদীর হুংকারমুখী স্রোতের দিকে। তার বাড়িসহ আশপাশের অন্তত ২০ পরিবার ইতোমধ্যে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। আরও অর্ধশত পরিবার ভাঙনের হুমকিতে দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, ছোরহাব উদ্দিন শুধু সমাজসেবক নন, ছিলেন এলাকার প্রবীণ মাতব্বর ও ন্যায়ের প্রতীক। অসহায় মানুষের চিকিৎসা, খাদ্য সহযোগিতা, দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিয়েতে সহায়তা, এমনকি নিজের বাড়ির ভেতর দিয়ে রাস্তা উন্মুক্ত করে দেয়ার মতো অসামান্য মানবিকতার দৃষ্টান্ত রেখেছেন তিনি। আজ সেই মানুষই আশ্রয় হারানোর দ্বারপ্রান্তে, যা গোটা গ্রামবাসীর জন্যও বেদনাদায়ক।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল খান জানান, “এক সময়ের অবস্থাসম্পন্ন সমাজসেবক ছোরহাব উদ্দিনের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। আমরা উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছি, দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে।”

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, “কালীগঙ্গা নদীর ভাঙন রোধে জরিপ ও প্রাথমিক পরিকল্পনা সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই জিও ব্যাগ ফেলার মাধ্যমে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু হবে।”

এলাকাবাসীর দাবি— অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে নদীভাঙন রোধ করতে হবে এবং দানশীল ছোরহাব উদ্দিনসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

  • August 29, 2025
  • 0 Comments
রোহিঙ্গাদের ধরে জাহাজে তুলে সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে ভারত

মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে সমুদ্রে এনে ফেলে দিচ্ছে ভারত। ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী এ অভিযোগ করেছেন। তাদের অভিযোগ, রাজধানী দিল্লি থেকে আটক করে নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে সাগরে ফেলে দেওয়া হয় তাদের।

জাতিসংঘ বলছে, ভারত রোহিঙ্গাদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। খবর বিবিসির।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নুরুল আমিন নামে একজন রোহিঙ্গা নাগরিক গত ৯ মে সর্বশেষ তার ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন। ফোনালাপটি ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু ভয়ংকর সংবাদ বয়ে আনে। তিনি জানতে পারেন, তার ভাই খাইরুলসহ পরিবারের আরো চারজনকে ভারতের সরকার মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছে। মূলত ওই দেশটি থেকে তারা বহু বছর আগে প্রাণভয়ে পালিয়ে এসেছিলেন।

দিল্লিতে বসে ২৪ বছর বয়সী আমিন বলেন, “আমার বাবা-মা ও স্বজনেরা কী যন্ত্রণার মধ্যে আছেন, সেটা কল্পনাও করতে পারিনি”।

তাদের দিল্লি থেকে সরিয়ে নেওয়ার তিন মাস পর বিবিসি মিয়ানমারে ওই রোহিঙ্গাদের খুঁজে পায়, যাদের বেশিরভাগই আশ্রয় নিয়েছেন বাহটু আর্মি (বিএইচএ)-এর কাছে। বিএইচএ মূলত একটি প্রতিরোধ গোষ্ঠী যারা দক্ষিণ-পশ্চিম মিয়ানমারে জান্তার সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

ভিডিও কলে সৈয়দ নূর বলেন, “আমরা এখানে নিরাপদ নই। পুরো এলাকা যেন যুদ্ধক্ষেত্র”। কাঠের তৈরি ওই আশ্রয়ে তার সঙ্গে ছিলেন আরও ছয়জন রোহিঙ্গা।

শরণার্থী ও দিল্লিতে থাকা তাদের স্বজনরা বলছেন ভাষ্য, বিশেষজ্ঞদের তদন্ত ও তথ্য জোগাড় করে বিবিসি ঘটনার ধারাবাহিকতা পুনর্গঠন করেছে।

তথ্য অনুযায়ী, তাদের দিল্লি থেকে বিমানে বঙ্গোপসাগরের একটি দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে নিয়ে শেষে আন্দামান সাগরে ফেলে দেওয়া হয়, যদিও লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয়েছিল। পরে সাঁতরে তীরে ওঠেন তারা। এখন তারা মিয়ানমারে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। এই দেশটি থেকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিপীড়ন এড়াতে পালিয়ে এসেছেন বহু মুসলিম রোহিঙ্গা।

সমুদ্রে ফেলে দেওয়া প্রসঙ্গে জন নামে এক রোহিঙ্গা ফোনে তার ভাইকে বলেন, “আমাদের হাত বেঁধে, চোখ-মুখ ঢেকে বন্দির মতো জাহাজে তোলা হলো। তারপর সমুদ্রে ফেলে দেয়।”

নুরুল আমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মানুষকে কীভাবে এভাবে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া যায়? মানবতা পৃথিবীতে এখনো বেঁচে আছে, কিন্তু ভারতের সরকারের মধ্যে আমি কোনো মানবতা দেখিনি।”

মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক টমাস অ্যান্ড্রুজ বলেন, এসব অভিযোগ প্রমাণের মতো “গুরুত্বপূর্ণ তথ্য” তার হাতে আছে। তিনি জেনেভায় ভারতের মিশন প্রধানের কাছে এ সংক্রান্ত প্রমাণও জমা দিয়েছেন, কিন্তু কোনো উত্তর পাননি।

বিবিসি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও বহুবার যোগাযোগ করেছে, কিন্তু কোনো সাড়া মেলেনি।

উল্লেখ্য, ভারতে রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না; বরং ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করে। বর্তমানে ভারতে প্রায় ২৩ হাজার ৮০০ রোহিঙ্গা জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের নিবন্ধিত হলেও, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে প্রকৃত সংখ্যা ৪০ হাজারেরও বেশি।

  • August 29, 2025
  • 0 Comments
ইতিহাসে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নির্বাচন হবে এবার: ইসি আনোয়ার

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, নির্বাচন কমিশন এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের জায়গা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হবে। সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ভালো নির্বাচন করতে হবে। এর বিকল্প নেই।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ঘরে ফেরার আর কোনো পথ খোলা নেই। সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, এর দায় নির্বাচনি কর্মকর্তাদেরও বহন করতে হবে। জীবন ঝুঁকির মুখে পড়লেও নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ফাঁকিবাজি বরদাশত করা হবে না।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সামনে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। তার মতে, সব ধরনের চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, জীবন চলে যেতে পারে, তবু নির্বাচনে ফাঁকিবাজি করা যাবে না।

  • August 29, 2025
  • 0 Comments
সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জন কারাগারে

রাজধানীর শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত এ আদেশ দেন।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন), মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন, মঞ্জুরুল আলম, কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল, গোলাম মোস্তফা, মো. মহিউল ইসলাম ওরফে বাবু, মো. জাকির হোসেন, মো. তৌছিফুল বারী খাঁন, মো. আমির হোসেন সুমন, মো. আল আমিন, মো. নাজমুল আহসান, সৈয়দ শাহেদ হাসান, মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, দেওয়ান মোহম্মদ আলী ও মো. আব্দুল্লাহীল কাইয়ুম।

এদিন সকালে তাদের আদালতে হাজির করা হয়।

এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক তৌফিক হাসান তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ‘মঞ্চ ৭১’-এর ব্যানারকে পুজি করে প্রকৃতপক্ষে দেশকে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে অস্থিতিশীল করে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র ও উপস্থিত অন্যদের প্ররোচিত করে বক্তব্য প্রদান করছিল।

তার এই ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্যের জন্য উপস্থিত লোকজন তাদেরকে ঘেরাও করে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বলে স্লোগান দেয়। তারা পরস্পর সহায়তাকারী হিসেবে দেশকে অস্থিতিশীল করে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার অপরাধ করেছে।

মামলাটি তদন্তাধীন।

এমতাবস্থায় মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামলার তদন্ত সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত এবং আসামিদের নাম-ঠিকানা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তাদের জেলে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। এ ছাড়া মামলার তদন্তের স্বার্থে পরবর্তী সময় ব্যাপক ও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামিদের পুলিশ রিমান্ডে পাওয়ার আবেদন করা হবে। পরে আসামিপক্ষে আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখিসহ অন্যরা জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষ্যে গত ৫ই আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাংলাদেশের জনগনকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়া। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

সকাল ১১টায় ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)-তে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর মধ্যেই একদল ব্যক্তি হট্টগোল করে স্লোগান দিয়ে সভাস্থলে ঢুকে পড়েন।

একপর্যায়ে তারা অনুষ্ঠানস্থলের দরজা বন্ধ করে দেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজনকে লাঞ্ছিতও করেন। হট্টগোলকারীরা গোলটেবিল আলোচনার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন এবং আলোচনায় অংশ নেওয়াদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে অতিথিদের অনেককেই বের করে দেওয়া হলেও আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এবং অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। পরে পুলিশ এসে ১৬ জনকে আটক করে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে পুলিশের উপপরিদর্শক আমিরুল ইসলাম। পরবর্তী সময় এ মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

  • August 29, 2025
  • 0 Comments
মানিকগঞ্জে শিশুকে গণধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ৩

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে গণধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে সদর থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে সদর উপজেলার পশ্চিম দাশড়া (নিমতলী) এলাকার মুরগির হাট থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এর আগে গত শুক্রবার রাত ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বনগাঁও (পদ্মবিলা) এলাকার মৃত সিফাতের ছেলে সাদ্দাম (২৮), সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার কুরকী গ্রামের মো. আবুল হোসেনের ছেলে মো. আলামিন (২২), এবং মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম দাশড়া এলাকার মো. হেলাল উদ্দিনের ছেলে সোহান (২৫)।
অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার ভুক্তভোগী শিশুকে পশ্চিম দাশড়া (নিমতলী) মুরগির হাটের হাবুর মুরগির দোকানের ভেতরে নিয়ে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয় এবং ঘটনার কথা কাউকে জানালে গলা কেটে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে শিশুটি বাড়ির কাউকে কিছু না বলে শুধু শরীর খারাপ ও তীব্র ব্যথার কথা পরিবারকে জানায়।
পরে গত বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শিশুটি তার মায়ের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায়। শিশুটির মা তার স্বামী ও আত্মীয়দের জানানোর পর বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়রা পশ্চিম দাশড়ার নিমতলী মুরগির হাটে সাদ্দাম ও আলামিনকে মারধর করে আহত করে। খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে এবং পরে থানায় নিয়ে আসে।
এদিকে, ভুক্তভোগী শিশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকেও একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএস আমান উল্লাহ বলেন, শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আগামীকাল তাদের আদালতে পাঠানো হবে।

  • August 29, 2025
  • 0 Comments
যা আছে ইসির নির্বাচনী রোডম্যাপে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে এ রোডম্যাপ ঘোষণা করেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।

নির্বাচন সামনে রেখে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন ও দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন চূড়ান্ত করাসহ ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলিকে প্রাধান্য দিয়ে রোডম্যাপ ঘোষণা করে ইসি।

রোডম্যাপে গুরুত্বপূর্ণ যা আছে
সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ
নির্বাচন সামনে রেখে সংসদীয় সীমানা পুনর্নির্ধারণের কাজ সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে ইসি। এ লক্ষ্যে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে অংশীজনের সঙ্গে সংলাপে করবে ইসি। সংলাপে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সুশীল সমাজের সদস্য, নারী প্রতিনিধি, পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকরা অংশ নেবেন।

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ
রোডম্যাপ অনুযায়ী আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে ইসি। এর আগে ১ নভেম্বর প্রকাশ করা হতে পারে চূড়ান্ত সম্পূরক ভোটার তালিকা।

নির্বাচনী আইন ও বিধি সংস্কার
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), অন্যান্য আইন বিধি ৩১ আগস্টের মধ্যে সংশোধনের প্রস্তাব ও প্রণয়ন। এছাড়া সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ আইন সংশোধন, ভোটার তালিকা আইন সংশোধন, সংসদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র নীতিমালা ও ব্যবস্থাপনা চূড়ান্ত, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক নীতিমালা চূড়ান্ত, নির্বাচন পরিচালনা (সংশোধন) ২০২৫ প্রতীকসহ, নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন ১৯৯১, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইন ২০০৯ এগুলো আইন মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন আছে, যা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার আশা।

নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধন

আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। এরপর অক্টোবরের প্রথমার্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শেষ করা হবে।

সংসদীয় আসনের সীমানা চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ
সংসদীয় ৩০০ আসনের সীমানা চূড়ান্ত করে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করবে ইসি। আর ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হবে জিআইএস বা ভৌগোলিক ম্যাপ।

প্রবাসী ও কারাবন্দিদের ভোটব্যবস্থা
রোডম্যাপ অনুযায়ী মোট ২৪টি বিষয় ২০৭ ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনি আইন সংস্কার, সংসদীয় আসনের সীমানা চূড়ান্তকরণ এবং প্রবাসী ও কারাবন্দিদের ভোটদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম।

এছাড়া এবার প্রবাসী বাংলাদেশি এবং কারাবন্দিদের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রবাসীদের নিবন্ধন ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। তাদের কাছে ব্যালট পেপার ৫ জানুয়ারির মধ্যে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে তা দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা করা হবে। কারাবন্দিদের কাছে ভোটের দুই সপ্তাহ আগে পোস্টাল ব্যালট পৌঁছানো হবে।

আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি
ভোটকেন্দ্র চূড়ান্তকরণ ও প্যানেল প্রস্তুতি অক্টোবরের শেষের মধ্যে সম্পন্ন হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে প্রথম সভা ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনসংক্রান্ত সফটওয়্যার ৩১ অক্টোবরের মধ্যে প্রস্তুত রাখা হবে এবং এআই কার্যক্রম নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলবে।

তফসিল ও নির্বাচনের সময়সূচি
চলতি বছরের ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন ও সার্টিফিকেট
আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন ও চূড়ান্ত সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। নির্বাচন আইনবিধি একীভূতকরণ এবং নির্বাচনি ম্যানুয়েল, নির্দেশিকা, পোস্টার ও পরিচয়পত্র ১৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রস্তুত হবে। নির্বাচনী মালামাল ১ ডিসেম্বরের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

আরও যা গুরুত্বপূর্ণ
১. স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও নির্বাচনী দ্রব্যাদি ব্যবহার উপযোগী করা: ৩০ নভেম্বরের মধ্যে

২. নির্বাচন ভবনে বেসরকারি ফলাফল প্রদর্শনের জন্য ডিজিটাল মনিটর স্থাপন ও যন্ত্রপাতি সংযোজন: ডিসেম্বরের মধ্যে

৩. ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের খাত ও দফাওয়ারি অর্থ বরাদ্দের হার নির্ধারণ করে প্রস্তাবনা প্রণয়ন: ১৫ নভেম্বরের মধ্যে

৪. পোস্টাল ব্যালট প্রবাসীদের কাছে পাঠানো ও ভোটারদের কাছে পৌঁছানো: ২০২৬ সারের ৫ জানুয়ারির মধ্যে

৫. সচিবালয়, ইটিআই ও এনআইডির ৭৫ জন কর্মকর্তাকে দুইদিন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

৬. ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের ৪৫ থেকে ৪৬ দিনের জন্য নিয়োগ দেওয়া হবে।

৭. ২৫ দিন আগে প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা।

৮. নির্বাচন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) বিষয়ে সজাগ থাকবে ইসি। সব ধরনের অপপ্রচার প্রতিরোধ করা হবে।

  • August 28, 2025
  • 0 Comments
ফিলিস্তিনিদের ৩০০০ জলপাই গাছ উপড়ে ফেলল ইসরায়েলি বাহিনী

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে আবারও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি সেনারা। রামাল্লার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত আল-মুগাইয়ির গ্রামে প্রায় ৩ হাজার জলপাই গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে অন্তত ৩০টিরও বেশি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে স্থানীয়দের সম্পদ ও গাড়ি ভাঙচুর করেছে সেনারা। ঘটনার পর থেকে পুরো গ্রামটিকে লকডাউনে রাখা হয়েছে। খবর আল জাজিরার।

গ্রাম পরিষদের প্রধান জানান, প্রায় চার হাজার মানুষের বসবাস এই গ্রামে। মাত্র ০.২৭ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে এ ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। ইসরায়েলি সেনাদের দাবি, ওই জলপাই গাছগুলো পাশের অবৈধ বসতি এলাকায় যাতায়াতকারী প্রধান সড়কের জন্য ‘নিরাপত্তা হুমকি’ তৈরি করছিল।

কিন্তু ফিলিস্তিনিদের কাছে জলপাই গাছ শুধু অর্থনৈতিক সম্পদ নয়—এটি তাদের সংস্কৃতি, শেকড় এবং অস্তিত্বের প্রতীক। কয়েক দশক ধরে ইসরায়েলি সেনারা অধিকৃত ভূখণ্ডে এ ধরনের গাছ ধ্বংস করে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ফিলিস্তিনি কৃষিজমি দখল ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করার একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার অংশ।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরেও দখলদার সেনাদের দমননীতি ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বেড়েছে বহুগুণে। এ সময় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি তাদের বাড়িঘর থেকে জোর করে উচ্ছেদ হয়েছেন।

জাতিসংঘের মানবিকবিষয়ক সমন্বয় অফিস (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত পশ্চিম তীরজুড়ে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ২ হাজার ৩৭০টিরও বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫৮৫টি হামলা হয়েছে রামাল্লা এলাকায় এবং ৪৭৯টি হামলা হয়েছে উত্তর-পশ্চিম তীরের নাবলুস অঞ্চলে।

ওসিএইচএর তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ৬৭১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২৯ জন শিশু।

আল মুগাইয়েরে জলপাই গাছ ধ্বংসের বিষয়ে আল জাজিরা মন্তব্য চাইলে ইসরায়েলি বাহিনী কোনো সাড়া দেয়নি। তবে ফিলিস্তিনি গবেষক হামজা জুবাইদাত বলেন, ‘এই ধ্বংসযজ্ঞ ফিলিস্তিনিদের তাদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করার ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনারই অংশ। ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েল একই কৌশল অনুসরণ করছে। এখন যা ঘটছে, তা ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের সেই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ারই অব্যাহত ধাপ।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আল মুগাইয়ির একটি কৃষিপ্রধান গ্রাম। এখানকার মানুষ জীবিকার জন্য কৃষি ও পশুপালনের ওপর প্রায় পুরোপুরি নির্ভরশীল। যে জমি থেকে ৩ হাজারেরও বেশি জলপাই গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে, সেটি রামাল্লা অঞ্চলের সবচেয়ে উর্বর কৃষিজমিগুলোর মধ্যে অন্যতম।

  • August 28, 2025
  • 0 Comments
টপস পরা ছবি দেখে বিয়ে ভেঙে দেয় বরপক্ষ, অপমানে কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা

পিরোজপুরের নেছারাবাদে বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী (১৮) নামে এক কলেজছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (২৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার স্বরূপকাঠি সদর ইউনিয়নের ৬নং আউরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নেছারাবাদ থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) রাধেশ্যাম সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

‎নিহত জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী উপজেলার আউরিয়া গ্রামের নার্সারি ব্যবসায়ী মো. জাহিদ হোসেনের মেয়ে। সে অকলম মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এবছর এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করে সদ্য কলেজে ভর্তি হয়েছে।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত এক মাস আগে নিহত জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশীর বিয়ে ঠিক হয়েছিল। তবে অজ্ঞাতনামা কেউ পাত্রপক্ষের কাছে নিহতের টপস ও টি শার্ট পরিহিত একাধিক ছবি মেসেঞ্জারের মাধ্যমে পাঠালে পাত্রপক্ষ ওই বিয়ে ভেঙে দেয়। এরপর সে অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

‎নিহত ঐশীর বাবা মো. জাহিদ হোসেন বলেন, ছেলে পক্ষের কাছে আমার মেয়ের একটি টপস ও টি শার্ট পরিহিত ছবি কেউ পাঠায়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ছেলের পক্ষ থেকে বিয়ে ভেঙে দিয়েছে। এটা আমার মেয়ে সহ্য করতে পারেনি, তাই কাউকে না জানিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

‎তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যার আগেও স্থানীয় চাচা আইয়ুব আলীর দোকান থেকে আমার মেয়ে মোবাইলের জন্য এমবি কার্ড কিনে বাসায় আসে। এরপর কার সঙ্গে যেন ফোন করে অনেক কান্নাকাটি করে।

‎নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক লিমা আক্তার বলেন, তাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। পরে পুলিশ সংবাদ পেয়ে মরদেহ থানায় নিয়ে যায়।

‎এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) রাধেশ্যাম সরকার বলেন, খবর পেয়ে মরদেহ হাসপাতাল থেকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং ঘটনা-সংক্রান্ত একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে।

  • August 28, 2025
  • 0 Comments
বাংলাদেশ জেলের নাম বদলে রাখা হচ্ছে ‘কারেকশন সার্ভিস বাংলাদেশ’

বাংলাদেশ জেলের নাম পরিবর্তন করে নতুন নামকরণের উদ্যোগ নিয়েছে কারা অধিদপ্তর। নাম পরিবর্তন করে ‘কারেকশন সার্ভিসেস বাংলাদেশ’ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) কারা সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।
তিনি বলেন, কারাগারকেন্দ্রীক সংশোধনের বিষয়টির উপর অধিক গুরুত্বারোপের জন্য বাংলাদেশ জেলের নাম পরিবর্তন করে ‘কারেকশন সার্ভিসেস বাংলাদেশ’ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারা বিভাগ সংশ্লিষ্ট আইন কানুন যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে ‘কারেকশন সার্ভিস অ্যাক্ট-২০২৫’ এর খসড়া চূড়ান্ত করে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়া ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দিদের স্থান সংকুলানের জন্য নতুন করে ২টি কেন্দ্রীয় কারাগার এবং ৪টি জেলা কারাগার চালু করা হয়েছে। আর অধিকতর সমন্বয়ের জন্য ঢাকা বিভাগকে ভেঙে ২টি বিভাগ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, কারাগারে লোকবল সংকট রয়েছে। সেই সংকট নিরসনের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার ১৮৯৯ নতুন জনবলের অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া আরও ১৫০০ জনবলের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। কারা অধিদপ্তরের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনায়নের লক্ষ্যে সদর দপ্তরসহ বিভাগীয় সদর দপ্তরকে ঢেলে সাজানো হয়েছে এবং নতুন জনবল পদায়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশব্যাপী সব কারাগারকে কারা অধিদপ্তরের নিজস্ব ফাইবার নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিতের জন্য ডিজিটাল অ্যাটেনডেন্ট সিস্টেম এবং টিম ট্রেকার্স চালু করা হয়েছে। কমপ্রিহেনসিভ মোবাইল জ্যামিং সিস্টেম, বডি স্ক্যানার, লাগেজ স্ক্যানার, গ্রাউন্ড সুইপিং মেশিন ও মোবাইল ডিটেক্টর কারা নিরাপত্তায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এআই নির্ভর সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ডিউটিতে দায়িত্বরতদের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের প্রচলন করা হয়েছে।

এছাড়া কারাগারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্ত্র কেনার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বন্দিদের সাক্ষাৎ ও টেলিফোন কলের বিষয়ে আইজি প্রিজন বলেন, বন্দিদের টেলিফোন কল এবং দেখা সাক্ষাতের বিষয়টি ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা হয়েছে। এক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতাদের কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হতে না হয় এবং একইসঙ্গে নিবিড় নজরদারিও বজায় রাখা যায়। আমরা এজন্য এআই নির্ভর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করছি। কারাগার প্রাঙ্গণে আসা দর্শনার্থীদের সঙ্গে সম্মানসূচক ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সাক্ষাতের সময় তারা যাতে হয়রানির স্বীকার না হয় তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। হটলাইন সেবা (১৬১৯১) চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সেবা গ্রহণকারীরা বন্দি সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য আদান-প্রদান করতে পারছেন।
বন্দিদের খাবার নিয়ে তিনি বলেন, বন্দিদের খাবারের মেন্যুতে প্রোটিনের পরিমাণ এরইমধ্যে স্বল্প পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে এবং তা যৌক্তিক পর্যায়ে বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল, এরইমধ্যে তার অনুমোদন পাওয়া গেছে। এছাড়া সকালের নাস্তা এবং বিশেষ দিবসের জন্যও খাদ্য বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে।
বন্দিদের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে আইজি প্রিজন বলেন, বন্দিদের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে কেরাণীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীও সেবা নিতে পারবেন। বন্দিদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি মাথায় রেখে বিভিন্ন কারাগারে স্থান সংকুলান সাপেক্ষে নানাবিধ খেলাধুলা, সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানসহ নানাবিধ মনন চর্চার সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া তাদের সংশোধনের নিমিত্তে ধর্মীয় শিক্ষাসহ নানাবিধ কাউন্সিলিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কারা অধিদপ্তরের চাকরিরত ও অবসরপ্রাপ্তদের সুযোগ সুবিধা নিয়ে তিনি বলেন, অবসরগামী কারারক্ষীদের আজীবন রেশন দেওয়ার বিষয়টি সরকার নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে, যা বর্তমানে বাস্তবায়নের প্রত্রিয়াধীন রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উন্নতমানের প্যাকেটজাত রেশন দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বিশেষ দিবসে খাবার পরিবেশনের জন্য বিশেষ আর্থিক বরাদ্দ করা হচ্ছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শারীরিকভাবে যোগ্য রাখার স্বার্থে ওয়েট চার্ট সুনির্দিষ্টকরণসহ পিটি-প্যারেড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত দ্রব্যসামগ্রী দেওয়া করা হয়েছে।
এ সময় তিনি প্রশিক্ষণ নিয়ে বলেন, বিগত সময়ের চ্যালেঞ্জগুলো থেকে উপলব্ধি করে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কারারক্ষী গড়ে তুলতে আমরা সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যুগপোযোগী/টেকনোলজি নির্ভর প্রশিক্ষণের মডিউল তৈরি করে প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। বিগত এক বছরে ৬৯১ জন কারারক্ষী, ১৫০ জন প্রধান কারারক্ষী, ৬৯ জন সর্বপ্রধান কারারক্ষী, ৩০ জন সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর, ৫৫ জন ডেপুটি জেলার ও জেলারগণকে বিভিন্ন পেশাগত বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
মাদকাসক্তির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত ১ বছরে মাদকসেবী ২৯ জন সদস্যকে মাদক বহন/গ্রহণ/সরবরাহে জড়িত থাকার অপরাধে ফৌজদারি মামলায় কারাগারে পাঠানোসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এ সংক্রান্ত সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কারা সদর দপ্তর নিজস্ব ভোপ টেস্টিং মেশিন সংগ্রহ করেছে।
তিনি বলেন, কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি এবং সব নিয়ম বহির্ভূত বিষয়েও আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। বিগত এক বছরে বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বাধ্যতামূলক অবসর, ৩৪ জনকে চাকরিচ্যুত, ৪৪০ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাসহ ১৭২ জনকে প্রশাসনিক কারণে বিভাগের বাইরে বদলি করা হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পরিবার নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যসেবা স্কিম থেকে সহায়তার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে সুদবিহীন লোন সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অন্যান্য