মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি সেবা পেতে দিতে হয় মোটা অংকের টাকা
মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের পড়তে হচ্ছে ভয়াবহ ভোগান্তিতে। অভিযোগ উঠেছে, এখানে টাকা ছাড়া কোনো সেবা মেলে না। রোগী ভর্তি থেকে শুরু করে প্রাথমিক চিকিৎসা সব ক্ষেত্রেই গুণতে হয় হাজার হাজার টাকা। টাকা না দিলে নানা অজুহাতে রোগীদের ঢাকা মেডিকেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ফলে স্বজনরা হয়রানির শিকার হওয়ার পাশাপাশি অনেক সময় রেফার্ড রোগী গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ফিরোজ নামের এক ব্যক্তিকে সন্ধ্যা ৭টার দিকে হাসপাতালে আনা হয়। কিন্তু জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত নার্সরা তার স্বজনদের কাছে টাকা দাবি করে। শেষ পর্যন্ত ফিরোজের বাবা আবু সাইদ মিয়া ২,৫০০ টাকা দেওয়ার পরই তাকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এমনকি হাসপাতালে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা একাধিক রোগীর স্বজনও নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, জরুরি বিভাগে সেবা নিতে হলে কর্মরত নার্সদের হাতে টাকা তুলতেই হয়।
অভিযুক্ত নার্স আরিফ হোসেন স্বীকার করেছেন টাকা নেওয়ার বিষয়টি। তবে তিনি দাবি করেন—“রোগীর লোকজন আমাদের খুশি হয়ে টাকা দেয়।”
এ বিষয়ে বিএনএ প্রতিনিধি শাহানারা আক্তার বলেন, “আমাদের হাসপাতালে জরুরি সেবা নিতে টাকা দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। যদি এমনটা হয়ে থাকে তবে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও বদনামজনক বিষয়। তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তি দেওয়া হবে।”
অন্যদিকে নার্স ইনচার্জ নিশাত জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সচেতন মহল মনে করছে, অসাধু নার্সদের দ্রুত অপসারণ না করলে জরুরি বিভাগে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কখনোই কমবে না। তারা অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
