মানিকগঞ্জে অনিয়মে গড়ে ওঠা বিলাসবহুল ‘ডেরা রিসোর্ট’
কৃষিজমি দখল, জমির মূল্য বাকি, নেই ফায়ার ও পরিবেশ ছাড়পত্র
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পুরানগ্রাম এলাকায় গড়ে ওঠা বিলাসবহুল ‘ডেরা রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা’ এখন অনিয়ম-অসঙ্গতির বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে। জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চাপে ফেলে কৃষিজমি দখল করে তিন ফসলি জমি ভরাট করে রিসোর্ট নির্মাণ করা হয়েছে। অনেক জমির মালিক এখনো ন্যায্য মূল্য পাননি।
উল্টো তাদের নামে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগও উঠেছে।
ইসমাইল হোসেনের পরিবারসহ একাধিক কৃষক জানিয়েছেন— জমি নেওয়ার পরও অর্থ পরিশোধ করেনি কর্তৃপক্ষ। এতে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
রিসোর্টের ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্স ২০২৩ সালের জুন থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও গত বছর শেষ হয়ে গেছে।
ছাড়পত্রের শর্ত ভঙ্গ করে কক্ষ সংখ্যা বাড়ানো, এসটিপি (পয়ঃশোধন কেন্দ্র) নির্মাণ না করাসহ নানা অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। রিসোর্টের উত্তর-পূর্ব পাশের সেতুর নিচে মাটি ফেলে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ায় আশপাশের কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
গ্রামীণ শান্ত পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
ডেরা রিসোর্ট পরিচালনা করছে এশিউর গ্রুপ। তদন্ত প্রতিবেদনে তিনজন মালিকের নাম এসেছে, মো. শেখ সাদী (ব্যবস্থাপনা পরিচালক), জেসিয়া আফরিন (চেয়ারম্যান), মো. রবিউল ইবনে কামরুল (পরিচালক, উন্নয়ন)
স্থানীয়রা জানান, শেখ সাদী আগে নিজেকে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতার আত্মীয় পরিচয় দিতেন, বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক।
জেলা প্রশাসক মানোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন”পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা আমরা পেয়েছি। দ্রুত রিসোর্টটির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সুজন জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ইন্তাজ উদ্দিনের মতে, “প্রান্তিক কৃষিজমি নষ্ট করে এভাবে রিসোর্ট করা অনৈতিক। এটি জনস্বার্থ বিরোধী এবং সঠিক স্থানে নির্মাণ করা যেত।”
মানিকগঞ্জের ডেরা রিসোর্ট শুধু একটি বিনোদন কেন্দ্র নয়, বরং কৃষিজমি দখল, অনুমোদনবিহীন কার্যক্রম ও পরিবেশ ধ্বংসের একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। স্থানীয়দের দাবি— জমির মালিকদের টাকা পরিশোধ, পরিবেশ ও ফায়ার লাইসেন্স নবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রিসোর্টের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে।
