• September 16, 2025
  • 0 Comments
হেফাজত আমিরের বক্তব্য অসত্য মনগড়া ও ভিত্তিহীন: জামায়াত

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আজ সোমবার গণমাধ্যমে এ–সংক্রান্ত একটি বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, দৈনিক ইনকিলাবের ১৫ সেপ্টেম্বর সংখ্যার প্রথম পাতায় ‘জামায়াত সরকারে আসতে পারলে কওমি, দেওবন্দি ও সুন্নিয়াত মাদ্রাসার অস্তিত্ব রাখবে না’ শিরোনামে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা অসত্য ও মনগড়া। তার এ বক্তব্যের মধ্যে সত্যের লেশমাত্রও নেই। তার এই বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তার মতো একজন বরেণ্য আলেমের মুখে এমন ভিত্তিহীন মন্তব্য শোভা পায় না। আমি তার এই বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

জুবায়ের আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি নিয়মতান্ত্রিক ও ইসলামি ধারার রাজনৈতিক দল। প্রতিষ্ঠার পর থেকে জামায়াতে ইসলামী দেশে অসংখ্য মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করে ইসলামের খেদমত করে যাচ্ছে। জামায়াতের বহু নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দ্বীনি খেদমতে নিয়োজিত রয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতা বা কর্মী কোনো দিন কওমি, দেওবন্দি কিংবা সুন্নিয়াত মাদ্রাসার বিরোধিতা করেছেন—এমন প্রমাণ নেই।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর দুজন মন্ত্রী ক্ষমতায় ছিলেন। তারা কওমি, দেওবন্দি ও সুন্নিয়াত মাদ্রাসার বিরোধিতা করেছেন, এমন প্রমাণ কেউ দিতে পারবেন না। বরং তারা ওই ধরনের মাদ্রাসাকে মুক্তহস্তে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। এ থেকেই প্রমাণিত হয়, মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর আশঙ্কা অসত্য ও অমূলক। অতএব এ ধরনের প্রোপাগান্ডা (অপপ্রচার) চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।

সংশ্লিষ্ট সবাইকে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অসত্য ও মনগড়া মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।

  • September 5, 2025
  • 0 Comments
‘জনগণ না চাইলে পিআর পদ্ধতির দাবি থেকে সরে আসবে জামায়াত’

জনগণ যদি না চায়, তাহলে জামায়াত পিআর পদ্ধতির দাবি থেকে সরে আসবে বলে জানিয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ও নির্বাচন শীর্ষক সেমিনারে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা জানান।

পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়নে গণভোট আয়োজনেরও দাবি জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপি নিজেদের বড় দল মনে করে বলেই আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চায় না। তবে, গণভোটে জনগণ যা রায় দেবে, সেটিই মেনে নেবে জামায়াত। জনগণ যদি না চায়, তাহলে জামায়াত পিআর পদ্ধতির দাবি থেকে সরে আসবে।

তিনি বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না দিলে আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থার পক্ষে। তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি রোধে কাঠামোগত সংস্কারের কথা উঠলেই কিছু রাজনৈতিক দল গড়িমসি করে। আর নির্বাচন কমিশনও রাজনৈতিক চাপের মুখে দুর্বল অবস্থান নিতে বাধ্য হয়।

মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে সন্দেহের দানা বেঁধেছে উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, আদৌও নির্বাচন হবে কি না, হলে কীভাবে হবে, কোন কোন দল নির্বাচনে অংশ নেবে, এমন বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন মহলে এখন আলোচনা হচ্ছে।

গত ৫ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক ঘোষিত জুলাই ঘোষণাপত্রে বাংলাদেশের ইতিহাসের অনেক তথ্য এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে মনে করেন জামায়াত সেক্রেটারি। তিনি জুলাই ঘোষণাপত্রকে সংশোধন করে পুনরায় প্রকাশের দাবি জানান।

জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে অন্তর্বর্তী সরকারকে রূপরেখা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। গোলাম পরওয়ার বলেন, তাঁরা গত রাতে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ড্রাফট রূপরেখা সরকারকে দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী অন্তর্বর্তী সরকারকে যেকোনো প্রকারের সহযোগিতা করতে প্রস্তত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই একটি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সংস্কারের সব প্রস্তাব মুছে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। তিনি বলেন, যাওয়ার আগেই যদি মুছে দেন, তো গেলে কী করবেন। বক্তব্যে সংসদ নির্বাচনের আগেই জুলাই ঘোষণাপত্রের সংশোধন এবং জুলাই সনদের বাস্তবায়ন সম্পন্ন করার আহ্বান জানান জামায়াত সেক্রেটারি।

জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার দাবি জানিয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসেন বলেন, দাবি না মানলে কী হবে, সেটা আমার চেয়ে আপনারা ভালো জানেন।

  • September 2, 2025
  • 0 Comments
গণভোটে পিআর না হলে মেনে নেবে জামায়াত

গণভোটে পিআর পদ্ধতির নির্বাচন না হলে জামায়াতে ইসলামী মেনে বলে জানিয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেছেন।

ফোরাম ফর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার আয়োজিত এই অনুষ্ঠান থেকে প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে গোলাম পরওয়ার বলেছেন, পিআর ইস্যুতে সব দলকে ডেকে জাতীয় রাজনৈতিক সংলাপ করুন। কোনো সাজানো পাতানো নির্বাচন হলে জনগণ মেনে নেবে।

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, একটি রাজনৈতিক দল পিআর নিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করছে। কোনো রাজনৈতিক দলের চাপ অনুভব করলে পিআর গণভোটে ছেড়ে দিন। দেশের ৭১ ভাগ মানুষ পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়।

গোলাম পরওয়ার বলেছেন, পিআর পদ্ধতি ছাড়া যারা ক্ষমতায় আসবে তারা স্বৈরাচারে পরিণত হবে। বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী, যে দল ক্ষমতায় যাবে তারাই স্বৈরাচারে পরিণত হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যের সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সিইসি বলছেন সংবিধানে পিআর নেই। সংবিধানে তো অন্তর্বর্তী সরকারও নেই। সংবিধানে তো বলা নেই, কীভাবে নির্বাচন হবে। বলা হয়েছে পাঁচ বছর পরপর নির্বাচন হবে। তাহলে কী ২০২৯ সালে নির্বাচন হবে?

ফোরাম ফর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুস ছাত্তার শাহর সভাপতিত্বে সংগঠনটির নেতারা বক্তৃতা করেন।

  • August 31, 2025
  • 0 Comments
জাতীয় পার্টিকেও নিষিদ্ধ চায় জামায়াত

আওয়ামী লীগের মতো জাতীয় পার্টিকেও নিষিদ্ধ চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রোববার (৩১ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন জামায়াতের নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।

সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, জাতীয় পার্টির ব্যাপারে সুস্পষ্ট করে বলেছি, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের কার্যক্রম যেভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তেমনিভাবে জাতীয় পার্টিকেও নিষিদ্ধ করা যেতে পারে।

মো. তাহের বলেন, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর যেভাবে হামলা হয়েছে, তা শুধু ন্যক্কারজনক বা দুঃখজনক বললেই শেষ হয় না। এ হামলার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। এর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে- এ কথা আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে জাতীয় পার্টি। সুতরাং আওয়ামী লীগের ব্যাপারে যেমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রেও সেরকম সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে- এ কথাও আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছি।

জুলাই সনদ নিয়ে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মাদ তাহের বলেন, জুলাই সনদের ক্ষেত্রে ১৯টা বিষয় নিয়ে আমরা সকল রাজনৈতিক দল ঐকমত্য হয়েছি। এগুলো আমরা মনে ঐকমত্য পোষনের ক্ষেত্রে একটা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে অল্পসংখ্যক দল আমাদের ঐকমত্য পোষণের ১৯ বিষয় বাস্তবায়ন ও আইনি ভিত্তি দিতে কিছুটা বাধা দিচ্ছে। তারা বলছে, আগামী নির্বাচিত সরকার আসলেই এগুলো বাস্তবায়ন হবে।

তিনি বলেন, আগামী সরকার এসে যদি এটা বাস্তবায়ন করে তাহলে আমরা ঐকমত্য কমিশনে এই সময় নষ্ট করলাম কেন? তাহলে এই সংস্কারটা তো পরবর্তী সরকারই উদ্যোগ নিতে পারত। জুলাইয়ের যে চেনতা আমরা সেটাতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এটা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমি বলি আমাদের ইমানের ৩টি অংশ। তার একটি হচ্ছে মুখে স্বীকৃতি দেওয়া, হৃদয়ে ধারণ করা এবং কার্যে পরিণত করা। এই ৩টা হলেই ঈমান পরিপূর্ণ। আমাদের চার্টার যেগুলো হয়েছে তারও ৩টি অংশ। একটি অংশ ঐকমত্যে পৌঁছা। দুই নম্বর হচ্ছে আইনি ভিত্তি দেওয়া এবং তিন নম্বর হচ্ছে এটা বাস্তবায়ন করা।

তাহের আরও বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা যেসব বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছি, সেগুলোর আইনি ভিত্তি দিতে দুএকটি দল বাধা দিচ্ছে। তারা একমত হচ্ছে না। আমরা স্পষ্ট বলে আসছি, জুলাই বিপ্লবের পর আমরা আরও অনেক পরিবর্তন চেয়েছিলাম। কিন্তু সেটা হয় নাই। কমপক্ষে ন্যূনতম সংস্কারের যে জায়গাটি, যেটা প্রধান উপদেষ্টার ওয়াদা সেটা যেন অবশ্যই আইনি ভিত্তির মাধ্যমে এখনি কার্যকর করা হয়।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দল।

নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের নেতৃত্বে থাকা চার সদস্যের এ প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন- দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এবং সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আযাদ।

  • August 21, 2025
  • 0 Comments
জামায়াতকে নিয়েই ‘নিশ্চিত ঐক্যের পথে’ ইসলামি দলগুলো

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ অন্তর্বর্তী সরকার। এই নির্বাচন সামনে রেখে জোরদার হচ্ছে ইসলামি দলগুলোর ঐক্যের তৎপরতা। এতদিন বিএনপির মিত্র হিসেবে থাকা জামায়াতে ইসলামী এবার ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যে ভিড়ছে এটাও মোটামুটি নিশ্চিত।
ইসলামি দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফ্যাসিবাদী আমলে ইসলামপন্থি দলগুলো নানাভাবে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশকে বিবেচনায় নিয়ে আদর্শিক দ্বন্দ্ব ভুলে বৃহত্তর স্বার্থে এক হওয়ার জন্য ঐক্যের প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছেন তারা। জামায়াতকে নিয়েই এই ইসলামি জোটের সমীকরণ এগোচ্ছে।
গত বছর ৫ আগস্টের পর ইসলামি দলগুলো নিয়ে ঐক্যের ডাক কিংবা এক প্ল্যাটফর্মে আনার আলোচনা শুরু করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এরপর এ প্রক্রিয়ায় সরব হয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এরই মধ্যে বেশ কয়েক দফা বৈঠক করেছে ইসলামি দলগুলো। তবে আসন সমঝোতার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আপাতত প্রতিটি দল নিজস্ব সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়। সামগ্রিক ঐক্যের ব্যাপারে তারা আশাবাদী।

‘ঐক্যের প্রক্রিয়াটি খুবই পজিটিভলি এগোচ্ছে’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দীন বলেন, ‘ঐক্যের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। সবাই নিজ নিজ দলে কাজ করছি। মতভেদ, আদর্শিক বিভক্তি এখন আর নতুন বাংলাদেশে কোনো ইস্যু হবে না। ইসলামি দলগুলোর ঐক্যের প্রক্রিয়াটি খুবই পজিটিভলি এগোচ্ছে। ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশ, মতভেদ ভুলে সবাই পাশে থাকবে। ঐক্য হবেই।’

জামায়াতসহ ঐক্য হবে এটা মোটামুটি নিশ্চিত। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ঐক্যের ব্যাপারে পজিটিভ। আশা করি সমঝোতাও হবে।- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ মো. ইউনূস আহমেদ

‘জামায়াতসহ ঐক্য হবে এটা মোটামুটি নিশ্চিত’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ মো. ইউনূস আহমেদ বলেন, ‘আমরা সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। সবাই পজিটিভ আছে। কওমি ঘরনার যারা আছে তারা তো সবাই মোটামুটি এক হয়ে আছে। সব দলের সঙ্গে যোগাযোগ, মিটিং চলমান। এরপর শিডিউল ঘোষণার আগে বা পরে আমরা বসে আসন বণ্টনের মাধ্যমে সমঝোতা করবো। আমরা সমঝোতার দিকে যাচ্ছি এটা নিশ্চিত।’
ইসলামি দলগুলোর ঐক্য দেখে চাঁদাবাজদের সহ্য হচ্ছে না: চরমোনাই পীর
ইসলামি দলগুলোকে কাছে পেতে ছুটছেন তারা
তিনি বলেন, ‘জামায়াতসহ ঐক্য হবে এটা মোটামুটি নিশ্চিত। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ঐক্যের ব্যাপারে পজিটিভ। আশা করি সমঝোতাও হবে। আপাতত প্রত্যেক দল তার এলাকায় কাজ করছে। আসন সমঝোতার সময় কে কোথায় নির্বাচন করবে, তখন সে সিদ্ধান্ত হবে।’

  • August 20, 2025
  • 0 Comments
মানিকগঞ্জ-১ : বিএনপিতে মনোনয়ন দৌড়ঝাঁপ, মাঠে একক জামায়াত

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মানিকগঞ্জ-১ আসন। ধানের শীষের ঐতিহ্যবাহী এই ঘাঁটিতে বিএনপি’র ভেতরে মনোনয়ন নিয়ে শুরু হয়েছে দৌড়ঝাঁপ, আর অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ইতিমধ্যেই একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমে পড়েছে।

পদ্মা-যমুনা-কালীগঙ্গা-ধলেশ্বরী নদীবেষ্টিত ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয়—এই তিন উপজেলাকে নিয়ে গঠিত মানিকগঞ্জ-১ আসনে এখন ভোটের মাঠ সরগরম। দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে ভেবে সাধারণ ভোটাররা যেমন উচ্ছ্বসিত, তেমনি নতুন প্রজন্মের ভোটারদের মাঝেও তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ।

বিএনপি’র প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনটি ২০০৮ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি’র অনুকূলে যেতে পারে বলে মনে করছেন তৃণমূল ভোটাররা। তবে চূড়ান্ত প্রার্থী কে হবেন, তার ওপরই নির্ভর করছে জয়-পরাজয়ের হিসাব।

বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশী দৌড়ে যারা আছেন:

চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আফরোজা খান রিতা – তিন উপজেলাতেই সাংগঠনিক ভরসা।

প্রয়াত মহাসচিব দেলোয়ার হোসেনের দুই ছেলে – ড. খন্দকার আকবর হোসেন বাবলু ও খন্দকার আকতার হামিদ পবন।

জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএ জিন্নাহ কবীর, দৌলতপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হক তোজা। জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি খন্দকার ফারহানা ইয়াসমীন আতিকা।আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আজাদ হোসেন খানসহ আরও অনেকে।

জামায়াতে ইসলামী:
মনোনয়ন নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। একক প্রার্থী হিসেবে ডা. আবু বকর সিদ্দিক ইতোমধ্যেই মাঠে নেমেছেন এবং গণসংযোগে ভোটারদের সাড়া পাচ্ছেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির তেমন তৎপরতা নেই বললেই চলে। ফলে আসনটিতে মূল লড়াই হতে যাচ্ছে বিএনপি বনাম জামায়াতের মধ্যে।

ভোটারদের আশা, এবার তারা অবাধ পরিবেশে ভোট দিতে পারবেন এবং দীর্ঘদিনের ভোটবঞ্চনার ক্ষত মুছে যাবে।

অন্যান্য