• September 9, 2025
  • 0 Comments
হাসিনার প্রাণনাশ করবেন মোদি!

জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতের মাটিতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে নতুন করে গুরুতর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রবীণ বামপন্থী চিন্তাবিদ ও লেখক বদরুদ্দীন উমর। তাঁর মতে, যেই রাষ্ট্রে তিনি আশ্রয় নিয়েছেন, ভবিষ্যতে সেখান থেকেই তাঁর প্রাণনাশের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাছে দেওয়া একটি লিখিত জবানবন্দিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাক্ষী হিসেবে এই জবানবন্দি জমা দেন বর্ষীয়ান এই তাত্ত্বিক। গত রোববার তাঁর মৃত্যুর পর ট্রাইব্যুনাল জবানবন্দিটি প্রকাশ করে।

বদরুদ্দীন উমর লিখেছেন, ভারতের সহায়তায় কিছু অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা চালাতে পারলেও আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান আর সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক যাত্রা যেমন শুরু হয়েছিল নির্বাসন দিয়ে, তেমনি তার পতনের পরিণতিও হচ্ছে নির্বাসন।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার সময় শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবার বেলজিয়ামে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। পরে তারা ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন এবং সেখান থেকেই শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসেন। দীর্ঘ নির্বাসনের সময়ে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাঁর, বিশেষ করে গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সঙ্গে। উমরের মতে, ভারত সেই সম্পর্কের ভিত্তিতেই তাঁকে ক্ষমতায় বসায়।

জবানবন্দিতে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ফলে পতনের পরে সে ভারতে পালিয়েছে। ওখানেই থাকবে। আর ওখানে থাকাটাই এক ধরনের শাস্তি— সেখানে সে জ্বলে-পুড়ে মরবে। আরেকটা শাস্তি হতে পারে— ভারত সরকারই তাকে মেরে ফেলবে। নিজেদের বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে তারা বিষয়টিকে এমনভাবে সাজাবে যে মনে হবে বাংলাদেশি কেউ তাকে হত্যা করেছে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার শাসনব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ভারতের নকশায় নির্মিত ছিল। আওয়ামী লীগ এখন শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি ‘ভারতঘেঁষা কাঠামোগত এজেন্ট’, যা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে।

  • September 2, 2025
  • 0 Comments
চুরির ভোটে জিতেই কি মোদি প্রধানমন্ত্রী?

গত বছরের জুন মাসে নরেন্দ্র মোদি টানা তৃতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। যদিও সেই নির্বাচনে তার দল বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি; কিন্তু তেলুগু দেশম বা জনতা দল ইউনাইটেডের মতো শরিকদের সমর্থন নিয়ে কেন্দ্রে সরকার গড়ার ক্ষেত্রে তার কোনো সমস্যাও হয়নি।

কিন্তু তৃতীয় মেয়াদে তার শাসনকালের পনেরো মাস অতিক্রান্ত হতেই দেশের বিরোধী দলগুলো জোরেশোরে মোদির ইস্তফার দাবি করতে শুরু করে দিয়েছেন।

লোকসভায় বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী বেশ কিছুদিন ধরে বলেই চলেছেন, ২০২৪-এর যে সাধারণ নির্বাচনে জিতে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন—সেই ভোটটা আগাগোড়া ভুলে ভরা একটা ভোটার তালিকার ভিত্তিতে হয়েছে। আর এই ‘ভুল’টা যে নির্বাচন কমিশনের ইশারাতেই ইচ্ছাকৃতভাবে করা, সেই ইঙ্গিত দিতেও তিনি কোনো দ্বিধা করছেন না।

বুধবার (২৭ আগস্ট) বিহারের মুজফফরপুরে এক নির্বাচনী সভা থেকে তিনি আরও অভিযোগ করেন, বৈধ ভোটারদের ভোট কেটে আর জাল ভোটারদের নাম তালিকায় যোগ করেই মোদি ভোটে জিতেছেন—আর এ কাজে তাকে সাহায্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আর দেশের নির্বাচন কমিশন।

কংগ্রেসের সঙ্গে অনেক বিষয়ে মতভেদ থাকলেও দেশের আর একটি বড় বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস কিন্তু এই প্রশ্নে রাহুল গান্ধীর পাশেই দাঁড়িয়েছে। ডিএমকে ও আরজেডির মতো দলগুলোরও সমর্থন পাচ্ছেন তিনি।

তৃণমূলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা অভিষেক ব্যানার্জী রীতিমতো সংবাদ সম্মেলন করে দিনকয়েক আগেই বলেছেন, নির্বাচন কমিশন যদি মেনেই নেয় দেশের ভোটার তালিকায় প্রচুর অসংগতি আছে এবং যেহেতু বর্তমান সরকার সেই তালিকার ভিত্তিতে করা ভোটে জিতেই ক্ষমতায় এসেছে—তাহলে সেই সরকারের কোনো বৈধতা থাকতে পারে না।

‘সে ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও তার গোটা মন্ত্রিসভার পদত্যাগ করা উচিত ও লোকসভা অবিলম্বে ভেঙে দেওয়া উচিত’—এই দাবিও তুলেছেন অভিষেক ব্যানার্জী।

বিরোধীদের তোলা এই ভোট চুরির অভিযোগ ক্রমশই ‘মোমেন্টাম’ পাচ্ছে, আর তা দৃশ্যতই অস্বস্তিতে ফেলছে মোদি সরকারকে।

বস্তুত একটানা এগারো বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পদে রয়েছেন নরেন্দ্র মোদি, তবে এর আগে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির আর কোনো বিষয় তাকে এতটা বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেনি।

ক্ষমতাসীন বিজেপি যদিও রাহুল গান্ধীর তোলা ভোট চুরির অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে; কিন্তু বিহারসহ বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকায় যে ব্যাপক সংশোধন (এসআইআর) দরকার, সে দাবিতেও সমর্থন জানাচ্ছে তারা।

জাতীয় নির্বাচন কমিশনও মেনে নিয়েছে, কোনো কোনো রাজ্যের ভোটার তালিকায় প্রচুর ভুয়া নাম আছে, সেগুলো বাদ দিতেই এসআইআর বা ‘বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা’ প্রয়োজন—সোজা কথায় তালিকায় কাটছাঁট করা দরকার।

বিহারে আগামী নভেম্বরেই ভোট হওয়ার কথা—তার আগে সে রাজ্যে কমিশনের পক্ষ থেকে যে এসআইআর চালানো হয়েছে তাতে প্রাথমিকভাবে ৬৫ লাখেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।

আর বিরোধীরা ঠিক এ কারণেই প্রশ্ন তুলছেন, বিহার বা পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন তালিকা ভুল; কিন্তু মহারাষ্ট্র বা গুজরাটের ভোটার তালিকা নিখুঁত—এটা কীভাবে হতে পারে?

বস্তুত ২০২৪-এ ভারতের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকার ভিত্তিতে—এই ধারণা যতই প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, ততই আসলে নরেন্দ্র মোদির ইস্তফার ও লোকসভা ভেঙে দেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে!

ভারতের লোকসভায় শক্তির বিচারে কংগ্রেসের পরই যে বিরোধী দলগুলোর অবস্থান—সেই ডিএমকে, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি ও আরজেডি প্রত্যেকেই রাহুল গান্ধীর এই ভোট চুরির অভিযোগে সমর্থন জানাচ্ছে।

বুধবার মুজফফরপুরের সমাবেশে ডিএমকে নেতা ও তামিলনাডুর মুখ্যমন্ত্রী স্টালিনও উপস্থিত ছিলেন, তিনি রাহুল গান্ধীর তোলা প্রতিটি অভিযোগেই সায় দিয়েছেন।

তা ছাড়া বিহারে কংগ্রেসের ভোটার অধিকার যাত্রায় আগাগোড়াই রাহুল গান্ধীর সঙ্গে আছেন আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব, যার দল রাজ্যে কংগ্রেসের জোটসঙ্গীও বটে।

এদিকে তৃণমূল নেতা অভিষেক ব্যানার্জী এর আগেই দাবি করেছেন, ভোটার তালিকায় ‘এসআইআর’ যদি করতেই হয়, তাহলে নির্দিষ্ট একটি বা দুটি রাজ্যে নয়—গোটা দেশেই সেটা করতে হবে আর সেই প্রক্রিয়ার সূচনা হতে হবে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের মধ্য দিয়ে।

‘নির্বাচন কমিশন বলছে ভোটার তালিকায় অসংগতি ছিল, তাই এসআইআর দরকার। বেশ, তাহলে শুধু বিহারে বা পশ্চিমবঙ্গে কেন—গোটা দেশেই তালিকা সংশোধন হোক এবং লোকসভা ভেঙে দেওয়া হোক’, প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

এই ভোটার তালিকার ভিত্তিতেই যে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও তার দলের ২৪০ জন এমপি লোকসভায় নির্বাচিত হয়ে এসেছেন—আর তারাই দেশের প্রেসিডেন্ট বা ভাইস প্রেসিডেন্টকে নির্বাচিত করছেন—সেটাও মনে করিয়ে দেন অভিষেক ব্যানার্জী।

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর ইস্তফার দাবিকে আমলই দিচ্ছে না। বিজেপির মুখপাত্র শাহনাজ পুনেওয়ালা এদিন রাহুল গান্ধীর ‘গুজরাট মডেলে’ ভোট চুরির দাবিকে নস্যাৎ করে পাল্টা দাবি করেছেন, নরেন্দ্র মোদি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তার মধ্যে বেশিটা সময়ই—২০০৪ থেকে ২০১৪ কেন্দ্রে কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় ছিল।

তখন নির্বাচন কমিশনারদেরও নিযুক্ত করেছিল কংগ্রেস সরকার। তো রাহুল গান্ধী কি বলতে চাইছেন তাদের আমলের কমিশনাররাই গুজরাটে মোদিজিকে ভোট চুরি করিয়ে জিতিয়েছেন? পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন তিনি।

বিজেপি নেতা আর পি সিং আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম এস গিলকে অবসরের পর কংগ্রেসই এমপি করে এনে মনমোহন সিংয়ের ক্যাবিনেটে মন্ত্রী বানিয়েছিল।

ওদিকে বর্তমান নির্বাচন কমিশন এর আগে গত ১৭ আগস্ট সাংবাদিক বৈঠক করে ঘোষণা করেছিল, পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে রাহুল গান্ধী তার অভিযোগের স্বপক্ষে নিয়মমাফিক হলফনামা পেশ না করলে তারা ধরে নেবে সেই অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

সেই সময়সীমা এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে—রাহুল গান্ধী হলফনামাও দেননি বা ক্ষমা চেয়ে অভিযোগও প্রত্যাহার করেননি এবং কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে তার তোলা অভিযোগগুলো নিয়ে কোনো তদন্ত হবে না।

কিন্তু রাজনৈতিকভাবে নরেন্দ্র মোদি সরকার ও বিজেপি বিরোধীদের দিক থেকে আসা এই শক্ত চ্যালেঞ্জকে কীভাবে মোকাবিলা করে, সেটাই এখন দেখার।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

  • August 31, 2025
  • 0 Comments
৪ বার কল দিয়েছেন ট্রাম্প, ধরেননি মোদি

সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনে কথা বলার জন্য অন্তত চারবার চেষ্টা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু মোদি তাঁর ফোন ধরেননি। জার্মান সংবাদপত্র ফ্রাঙ্কফুর্টার অ্যালজেমেইনের বরাতে ভারতের গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের আচরণে চরম ক্ষুব্ধ মোদি ‘সতর্কতা’ হিসেবে ট্রাম্পের কল এড়িয়ে গেছেন।

ট্রাম্প এমন সময়ে মোদিকে এই কল দিলেন, যখন দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের নজিরবিহীন টানাপোড়েন চলছে মূলত তাঁর কারণেই। যুক্তরাষ্ট্র–ভারত দীর্ঘদিনের মিত্র, তার চেয়ে বড় কথা ট্রাম্প ও মোদির মধ্যে উষ্ণ সম্পর্ক ছিল, যা দুই দেশের অন্য কোনো নেতাদের মধ্যে ছিল না। এমন ঘনিষ্ঠতার পরও ভারতের বিরুদ্ধে চড়াও হয়েছেন ট্রাম্প। ভারতের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। ব্রাজিলের ওপরও একই হারে শুল্ক আরোপ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে মোদির ক্ষুব্ধ হওয়াটাঅপ্রত্যাশিত নয়।

বার্লিনভিত্তিক গ্লোবাল পাবলিক পলিসি ইনস্টিটিউটের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক থরস্টেন বেনার এক্সে সংবাদপত্রের প্রতিবেদন শেয়ার করে লিখেছেন, ‘ফ্রাঙ্কফুর্টার অ্যালজেমেইন দাবি করেছে, ট্রাম্প সম্প্রতি মোদিকে চারবার ফোন করেছিলেন। কিন্তু মোদি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।’

ফ্রাঙ্কফুর্টার অ্যালজেমেইন জানিয়েছে, মোদির মধ্যে এমন কিছু লক্ষণ দেখা গিয়েছিল, যাতে বোঝা যায়, তিনি অপমানিত বোধ করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সাধারণত অন্য দেশগুলোর মার্কিন বাজারের ওপর নির্ভরতাকে কাজে লাগিয়ে সুবিধা আদায় করেন। কিন্তু মোদি তাঁর প্রথম মেয়াদে ভারতের অর্থনৈতিক স্বার্থে কোনো আপস না করে ট্রাম্পের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রেখে ‘এর প্রতিরোধ’ করেছিলেন।

প্রতিবেদনে মোদির এ সতর্কতার কারণও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এর আগে ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও প্রেসিডেন্ট টো লামের সঙ্গে মাত্র একটি ফোনকলে বাণিজ্য চুক্তি পুনর্গঠন করেছিলেন, যা দুই দেশের প্রতিনিধিদল অনেক কষ্ট করে সাজিয়েছিল। কিন্তু কোনো চুক্তি না হলেও ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ফ্রাঙ্কফুর্টার অ্যালজেমেইনের মতে, মোদি একই ফাঁদে পড়তে চান না।

নিউইয়র্কের দ্য নিউ স্কুলের ইন্ডিয়া-চায়না ইনস্টিটিউটের সহপরিচালক মার্ক ফ্রেজিয়ার বলেন, মার্কিন কৌশল কাজ করছে না। যুক্তরাষ্ট্র চীনের মোকাবিলায় ভারতকে একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা দেবে—এমন ইন্দো-প্যাসিফিক জোটের ধারণা ভেঙে পড়ছে। ফ্রেজিয়ারের মতে, চীনকে মোকাবিলায় ভারতের পক্ষ নেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রের কখনোই ছিল না।

ফ্রাঙ্কফুর্টার অ্যালজেমেইনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নয়াদিল্লি-বেইজিং পুরোনো উত্তেজনা কমে আসছে। গত বছর চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে মোদির সাক্ষাতের পরে থেকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

চলতি সপ্তাহে মোদি তিয়ানজিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন। বিষয়টি একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে যে—ট্রাম্প ভারতকে চীনের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন কি না। ফ্রেজিয়ার বলেন, ভারতের চীনকে যতটা প্রয়োজন, চীনের ভারতকে ততটা প্রয়োজন নেই। ভারতের এ পরিবর্তন কৌশলগত, শুধু মার্কিন শুল্কের প্রতিক্রিয়া নয়। যুক্তরাষ্ট্র পিছু হটার কারণে বিশ্বব্যাপী প্রভাব এবং শিল্প প্রবৃদ্ধিতে ভারত ও চীনের স্বার্থ অভিন্ন। চীনের জন্য তার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অবস্থানকে বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভারত খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যান্য