• September 5, 2025
  • 0 Comments
ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত আফগানিস্তানে ১১ টন ত্রাণ পাঠাল বাংলাদেশ

ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত আফগানিস্তানের জন্য জরু‌রি ত্রাণসামগ্রী পাঠাল বাংলা‌দেশ। কম্বল, শীত বস্ত্র, খাবার পানি, শুকনো খাবার, কাপড়, এবং ওষুধসহ ১১টন সহায়তা পাঠানো হয় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে।

শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় ত্রাণ বহনকারী বিমান বাহিনীর বিমানটি সেনা নিবাসের বিমান ঘাঁটি থেকে আফগানিস্তানের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ত্রাণ হস্তান্তর ও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেয়ার জন্য সঙ্গে যান ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল।

বিমান উড্ডয়নের আগে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের অপারেশন্স ও পরিকল্পনা পরিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আলীমুল আমীন জানান, প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে ভূমিকম্প সৃষ্ট আকস্মিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আফগান জনগণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি মানবিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে। ত্রাণ বহনকারী বিমানটির সঙ্গে সশস্ত্র বিভাগের একজন সদস্য, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন এবং বিমান বাহিনীর ১৪ সদস্যসহ ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আলীমুল আমীন বলেন, বাংলাদেশ সরকারের এই মানবিক সহায়তা আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের দুর্ভোগ কমিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। আগামী দিনগুলোতেও বৈশ্বিক যেকোনো প্রয়োজনে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী আত্মনিয়োগের জন্য সদা অঙ্গীকারবদ্ধ।

জানা গেছে, আফগানিস্তানে ত্রাণসামগ্রী প্রেরণে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিজিএমইএ, এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড, প্রাণ-আরএফএল একযোগে কাজ করেছে।

উল্লেখ্য, গত ৩১ আগস্ট আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে ৬ মাত্রার ভয়াবহ এক ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে ২ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারান, আহত হন সাড়ে তিন হাজারের বেশি এবং ৮ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গত বৃহস্পতিবার রাতে আফগানিস্তানের নাঙ্গারহার প্রদেশের শিওয়ার জেলা ও পাকিস্তান সীমান্তবর্তী বারকাশকট এলাকায় আবারও ৬ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ২০২২ সালের ভূমিকম্পের পরও আফগানিস্তানে বাংলাদেশ থেকে মানবিক সহায়তা পাঠানো হয়েছিল।

  • September 2, 2025
  • 0 Comments
আফগানিস্তানে ভূমিকম্প : নিহত বেড়ে ১৪০০, সহায়তা চায় তালেবান সরকার

আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে। এখনো ধসে পড়া বহু স্থাপনার নিচে আটকে আছে মানুষ। দুর্গম এলাকা হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধার কাজ। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সহায়তা চেয়েছে তালেবান সরকার।

২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা নেওয়ার পর দেশটিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা থমকে গেছে। দেখা দিয়েছে অর্থনৈতিক সংকট। বিশেষ করে নারীদের শিক্ষায় নিষেধাজ্ঞার মতো কঠোর সিদ্ধান্তের কারণে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো মানবিক সহায়তাও বন্ধ করে দিয়েছে।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার রাতেও উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পাকিস্তান সীমান্তবর্তী কুনার প্রদেশে। মূলত, মাটির মাত্র ৬ মাইল গভীরে এই ভূমিকম্প হওয়ায় বিধ্বস্ত হয়েছে ঘরবাড়িসহ নানা স্থাপনা।

আফগান কর্তৃপক্ষ বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত কিছু এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায়ও উদ্ধারকারীরা পৌঁছাতে পারেননি। এ অবস্থায় আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সারাফাত জামান পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা কামনা করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের এটি প্রয়োজন। কারণ, অনেক মানুষ তাদের জীবন ও ঘরবাড়ি হারিয়েছে।

আফগানিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র ইউসুফ হাম্মাদ মঙ্গলবার জানান, আহতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, গত রোববারের ভূমিকম্পের প্রভাব দেশটিকে দীর্ঘদিন বহন করতে হবে। কুনার প্রদেশের তিনটি গ্রামের প্রায় সব বসতবাড়ি ভেঙে গেছে। এই প্রদেশেই নিহতের সংখ্যা ৬০০ জন।

ধ্বংস চিহ্নের একটি কুনারের নুরগাল জেলার ঘাজি আবাদ গ্রাম। ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে, অনেক বাসিন্দা সে ধ্বংস্তূপের নিচে আটকে আছেন। যারা বেঁচে আছেন তারা ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছেন। উদ্ধার করছেন আটকে পড়াদের।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল্লাহ বলেন, গ্রামের কোনো বসতবাড়িই আর টিকে নেই। এমন দুর্যোগ আমাদের বোঝাচ্ছে, জীবন এখানে যেকোনো মুহুর্তে শেষ হয়ে যেতে পারে।

অন্যান্য