এবার শেখ হাসিনার মুখ চেপে ধরল ভারত !
গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৪ মাস ধরে ভারতে অবস্থান করছেন। এই সময় তিনি একাধিকবার বাংলাদেশ নিয়ে মন্তব্য করেছেন, যা স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উসকানিমূলক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তবে এবার ভারতের পক্ষ থেকে তার এই স্বাধীনতায় সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ শ্রী রাধা দত্তের বরাত দিয়ে সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজ জানিয়েছেন, ভারতের এই উদ্যোগ মূলত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। ভারত সরকার সরাসরি জানিয়েছে, শেখ হাসিনা আর ভারতের মাটিতে বসে বাংলাদেশ নিয়ে কোনো উসকানিমূলক মন্তব্য করতে পারবেন না। যদি তিনি তা করেন, তবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কখনোই উন্নত হবে না।
সম্প্রতি তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজ জানিয়েছেন, ভারতে শেখ হাসিনার জামাই আদর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ নিয়ে কোনো বক্তব্য দিতে পারবেন না। এই নির্দেশনা ভারতের সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে, যাতে আগামী নির্বাচন পরবর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত রাখা যায়।
২০২৫ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারতের এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলা হচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনে ক্ষমতায় বিএনপি বা জামায়াত আসার সম্ভাবনা থাকায় ভারত চায়, যে-ই নির্বাচিত হোক না কেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় থাকবে। মোস্তফা ফিরোজের মতে, ‘ভারত সরকার নিশ্চিতভাবে জানে যে আগামী সরকার হবে বিএনপি অথবা জামায়াত। দুই সরকারের যে-ই নির্বাচিত হোক না কেন, তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত।
তবে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক আলোচনায় অংশগ্রহণ শেখ হাসিনার জন্য সীমাবদ্ধ নয়। তিনি এখনও ভারতে থেকে নিজের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন। তবে বাংলাদেশ নিয়ে কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য দিলে তা সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এই পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা। আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে এই ধরনের নির্দেশনা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার একটি কৌশল।
এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহল ও বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের মূল উদ্দেশ্য বাংলাদেশে ক্ষমতায় যেকোনো সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, যাতে দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যায়।
এভাবে, ১৪ মাস ধরে ভারতে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাধীনতায় ভারতের সীমাবদ্ধতা আরোপিত হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিষয়ে তিনি আর সরাসরি মন্তব্য করতে পারবে না।
