গ্যাস নেই, বিল আছে! অবশেষে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছেন মানিকগঞ্জের গ্রাহকরা
মানিকগঞ্জে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। অথচ নিয়মিত মাসিক বিল দিতে হয়েছে তাদের। দীর্ঘ ভোগান্তি আর প্রতারণার অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রায় চার হাজার গ্রাহক ইতোমধ্যেই তিতাস গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছেন।
মানিকগঞ্জ পৌরসভায় প্রায় ১২ হাজার আবাসিক গ্রাহক তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর আওতায় ছিলেন। কিন্তু এই গ্রাহকদের বেশিরভাগই বছরের পর বছর গ্যাস না পেয়েও বিল দিতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, সকালে রান্না চুলায় আগুন জ্বলে না, সিলিন্ডার গ্যাস কিনতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হয়, অথচ মাসের পর মাস বিল দিতে হয় ব্যবহার না করেও।
দক্ষিণ সেওতা এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, গ্রাহকদের আবেদনের ভিত্তিতে তিতাসের কর্মীরা একের পর এক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহক মো. রিপন আহমেদ বলেন, “এক ফোঁটা গ্যাস পাই না। তবুও মাসে মাসে বিল দিতে হয়। অনেকবার অভিযোগ করেছি, কিন্তু লাভ হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই সংযোগ কেটে দিলাম।”
অন্য এক গ্রাহক ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, “এক যুগ ধরে ভোগান্তি। আন্দোলন করেছি, বিক্ষোভ করেছি। কোনো সমাধান হয়নি। অথচ কোটি কোটি টাকা উঠিয়েছে তিতাস।”
মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক আকাশ বাড়ৈ জানান, “অনেক গ্রাহক নিজেরাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আবেদন করছেন। আমরা তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতেই ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
অন্যদিকে কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক আজগর আলী বলেন, “এখন পর্যন্ত প্রায় চার হাজার গ্রাহক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছেন। আসলে গ্যাস সরবরাহ না থাকলেও সংযোগ কাটা ছাড়া বিল বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। তবে ভবিষ্যতে সমস্যা সমাধান হলে পুনরায় সংযোগ দেয়া যেতে পারে।”
স্থানীয়দের মতে, “গ্যাস নাই, বিল নাই” এখন আন্দোলনের স্লোগান, এক যুগে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে কোম্পানি, তবুও সমাধান নেই, শুধু আশ্বাসেই আটকে আছে সবাই।
এর আগে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল, “গ্যাস নেই, তবুও মাসিক বিল আড়াই কোটি টাকা: মানিকগঞ্জে গ্রাহকের তীব্র ভোগান্তি” তবে সমাধান আসেনি, বরং পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে।
মানিকগঞ্জের বাসিন্দারা বছরের পর বছর গ্যাস পান না, তবুও নিয়মিত বিল পরিশোধে বাধ্য হয়েছেন। অবশেষে প্রতারণা থেকে বাঁচতে হাজার হাজার গ্রাহক নিজেরাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছেন। জনগণের প্রশ্ন-“গ্যাস ছাড়া কেন বিল?”

