• September 16, 2025
  • 0 Comments
নেপালে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে আবারও রাস্তায় জেন জি

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই মন্ত্রী নিয়োগ দেওয়ায় নেপালে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কির পদত্যাগ দাবিতে আবারও রাস্তায় নেমেছে জেন জি। রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে বালুওয়াটারে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে জেন জি আন্দোলনের অন্যতম নেতা সুদান গুরুংয়ের নেতৃত্বে স্লোগান দিতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা।

তাদের অভিযোগ, নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়নি। তাই কার্কির পদত্যাগ ছাড়া বিকল্প নেই বলে তারা দাবি করেন।

সুদান গুরুং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা যদি আবার রাস্তায় নামি, কেউ আমাদের থামাতে পারবে না। আমরা যেখানেই বসিয়েছি, সেখান থেকে উপড়ে ফেলবো।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আইনজীবী ওম প্রকাশ আর্যাল ভেতর থেকে নিজেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়ে নিচ্ছেন।

এসময় গুরুং সঙ্গে নিয়ে আসেন গত সপ্তাহের বিক্ষোভে নিহত ও আহতদের স্বজনদেরও।

রোববার প্রধানমন্ত্রী কার্কি আইনজীবী ওম প্রকাশ আর্যালকে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। এর আগে তিনি রমেশ্বর খনালকে অর্থমন্ত্রী এবং কুলমান ঘিসিংকে জ্বালানি মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন।

আর্যাল সুপ্রিম কোর্টে লোকমান সিং কার্কিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান করার বিরুদ্ধে রিট দায়ের করে আলোচনায় আসেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট মামলায় লড়াই করছেন এবং কাঠমান্ডু মহানগর করপোরেশনের আইনি উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

অর্থমন্ত্রী রমেশ্বর খনাল সাবেক অর্থসচিব। তিনি কেপি শর্মা ওলি সরকারের কাছে সম্প্রতি অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে ৪৪৭ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে কুলমান ঘিসিং বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে লোডশেডিং কমিয়ে জনআস্থা অর্জন করেছিলেন। তবে ওলি সরকার তাকে সরিয়ে হিতেন্দ্র দেব শাক্যকে বসায়, যা জনরোষ সৃষ্টি করেছিল।

সূত্র জানিয়েছে, কার্কি প্রথমে ফোনে তিনজনের সঙ্গেই আলাদাভাবে কথা বলেন, পরে অফিসে ডেকে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন। এর আগে তিনি সিনিয়র অ্যাডভোকেট সবিতা ভান্ডারীকে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেন।

রোববার সকালে কার্কি মন্ত্রিসভা গঠনের আলোচনা শুরু করেন। সর্বোচ্চ ১১-১৫ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে বলে জানা গেছে। ফলে মন্ত্রীদের একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

দুর্নীতি, সরকারবিরোধী নিপীড়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে গত ৮ সেপ্টেম্বর রাস্তায় নেমে আসে নেপালের তরুণ সমাজ। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনী জলকামান, টিয়ারগ্যাস, রাবার বুলেট এবং গুলি ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। বিভিন্ন শহরে জারি করা হয় কারফিউ।

তবে আন্দোলনকারীরা দমে না গিয়ে পরদিনও বিক্ষোভ চালিয়ে যান। চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি। এদিন বিভিন্ন নেতার বাড়ি ও সরকারি ভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেন বিক্ষোভকারীরা। নেপালের সহিংসতায় এ পর্যন্ত অন্তত ৭১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

এ অবস্থায় গত ১২ সেপ্টেম্বর নেপালের ইতিহাসে প্রথম নারী সরকারপ্রধান হিসেবে শপথ নেন সাবেক বিচারপতি সুশীলা কার্কি। জেন জি আন্দোলনকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল ও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর কার্কিকে অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সূত্র: সেতোপাতি

  • September 9, 2025
  • 0 Comments
নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখকের পদত্যাগ, ওলির পৈতৃক বাড়িতে হামলা

নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির সরকারি বাসভবন বালুওয়াতারে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নেপালের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট।

মন্ত্রিসভায় উপস্থিত এক মন্ত্রী স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সহিংসতায় কাঠমান্ডুতে ১৭ জন ও ইতাহারিতে ২ জনসহ মোট ১৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন চার শতাধিক মানুষ। নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন সোমবারের জেন-জি আন্দোলনের বিক্ষোভকারী। এ ঘটনায় নৈতিক দায়িত্ব গ্রহণ করেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করেন।

এর আগে দিনভর দলীয় বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক গগন থাপা ও বিশ্বপ্রকাশ শর্মা। যদিও কংগ্রেস সভাপতি শের বাহাদুর দেউবা নীরব ছিলেন, তবে লেখক বৈঠকেই নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান এবং পরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

রমেশ লেখক গত বছর ১৫ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।

যুবসমাজের নেতৃত্বে দুর্নীতি ও জবাবদিহির অভাবের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া জেন-জি আন্দোলন এখন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবারের বিক্ষোভে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করে। রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন শহরে পুলিশ গুলি চালালে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর থেকেই সরকারের ওপর ব্যাপক রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

বিক্ষোভকারীদের টার্গেটে ওলির পৈতৃক বাড়ি

নেপালে চলমান বিক্ষোভের আগুন এবার ছড়িয়ে পড়েছে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির পৈতৃক বাড়িতেও। রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে কোশি প্রদেশের দামাক এলাকায় অবস্থিত এই বাড়িকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভকারীরা অলির বাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাথর নিক্ষেপ করতে থাকেন। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ সেখানে গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে।

নেপালে বিক্ষোভ পরিস্থিতি

দুর্নীতি ও জবাবদিহিতার অভাবের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া জেন-জি আন্দোলন ইতিমধ্যেই দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। এবার সেই বিক্ষোভের আঁচ গিয়ে পৌঁছেছে প্রধানমন্ত্রীর নিজ বাড়িতেও।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী অলির নিজ এলাকার বাড়িতে হামলার ঘটনা নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও গভীর সংকটে ঠেলে দিতে পারে। সরকারের অবস্থান

এ ঘটনায় এখনো প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে দেশজুড়ে বিক্ষোভের বিস্তার এবং রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধির কারণে নেপালের রাজনীতিতে অচলাবস্থা আরও জটিল আকার নিচ্ছে।

অন্যান্য