• August 29, 2025
  • 0 Comments
নদীভাঙনে নিঃস্ব দানশীল ছোরহাব: সমাজসেবার দৃষ্টান্ত আজ আশ্রয়হীনতার দ্বারপ্রান্তে

“সারা জীবন যা ছিল, মানুষের কল্যাণেই দিয়েছি। অথচ আজ আমি-ই দাঁড়িয়ে আছি নিজের ঘরবাড়ি হারানোর দ্বারপ্রান্তে। বাবার কবর হারিয়েছি নদীতে, এবার চোখের সামনে মায়ের কবরও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে”— এভাবেই বুকভাঙা হাহাকার ঝরালেন মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পশ্চিম কুমুল্লি গ্রামের প্রবীণ সমাজসেবক ছোরহাব উদ্দিন (৭০)।

স্থানীয়রা তাকে ডাকে দানশীল ছোরহাব। সামাজিক কবরস্থানের জন্য জমি দান করেছেন, দুইটি মসজিদের জন্য জমি দিয়েছেন, এমনকি একটি মসজিদ নির্মাণে বিক্রি করেছেন নিজের এক বিঘা জমি। কখনো ব্যক্তিস্বার্থে সম্পদ ব্যবহার না করে সারা জীবন ব্যয় করেছেন সমাজকল্যাণে। অথচ আজ সেই মানুষটিই ভিটেমাটি হারিয়ে আশ্রয়হীনতার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, কালীগঙ্গার ভাঙন তার বসতভিটের ৬০ শতাংশ গ্রাস করেছে। মায়ের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি অসহায় চোখে তাকিয়ে আছেন নদীর হুংকারমুখী স্রোতের দিকে। তার বাড়িসহ আশপাশের অন্তত ২০ পরিবার ইতোমধ্যে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। আরও অর্ধশত পরিবার ভাঙনের হুমকিতে দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, ছোরহাব উদ্দিন শুধু সমাজসেবক নন, ছিলেন এলাকার প্রবীণ মাতব্বর ও ন্যায়ের প্রতীক। অসহায় মানুষের চিকিৎসা, খাদ্য সহযোগিতা, দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিয়েতে সহায়তা, এমনকি নিজের বাড়ির ভেতর দিয়ে রাস্তা উন্মুক্ত করে দেয়ার মতো অসামান্য মানবিকতার দৃষ্টান্ত রেখেছেন তিনি। আজ সেই মানুষই আশ্রয় হারানোর দ্বারপ্রান্তে, যা গোটা গ্রামবাসীর জন্যও বেদনাদায়ক।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল খান জানান, “এক সময়ের অবস্থাসম্পন্ন সমাজসেবক ছোরহাব উদ্দিনের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। আমরা উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছি, দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে।”

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, “কালীগঙ্গা নদীর ভাঙন রোধে জরিপ ও প্রাথমিক পরিকল্পনা সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই জিও ব্যাগ ফেলার মাধ্যমে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু হবে।”

এলাকাবাসীর দাবি— অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে নদীভাঙন রোধ করতে হবে এবং দানশীল ছোরহাব উদ্দিনসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

অন্যান্য