• September 17, 2025
  • 0 Comments
ডেরা রিসোর্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত : তদন্ত কমিটির সুপারিশ, “লাইসেন্স নয়, আইনগত ব্যবস্থা নিন”

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বহুল আলোচিত ডেরা রিসোর্ট এন্ড স্পা আবারও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত জেলা প্রশাসনের সাত সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রিসোর্টটির বিরুদ্ধে আনা কৃষিজমি দখল, কবরস্থান ভরাট, পরিবেশ দূষণ এবং অসামাজিক কার্যক্রমের মতো গুরুতর অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সহকারী নিয়ন্ত্রক (সিনিয়র সহকারী সচিব) শেখ রাজেদউজ্জামান স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনের মূল অনুসন্ধান-কৃষিজমি দখল ও মালিকদের ক্ষতিপূরণ না দেওয়া, প্রায় ১০০-১৫০ কবর দখল করে হরিণ পালনের ঘর নির্মাণ, জোরপূর্বক জমি দখল ও ইউক্যালিপটাস গাছ কাটাসহ সম্পদ নষ্ট, উচ্চস্বরে গান-বাজনা, নাচ, জুয়া ও মদ্যপানের আসর বসানো, খোলা ডাস্টবিন ও বালু ভরাটের কারণে পরিবেশ দূষণ ও জলাবদ্ধতা, স্থানীয়দের ভয়ভীতি ও হয়রানিমূলক মামলা।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডেরা কর্তৃপক্ষ প্রভাব খাটিয়ে কৃষিজমি দখল করেছে, কবরস্থান মুছে ফেলেছে এবং প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণও দেয়নি। এমনকি রিসোর্টের ভেতরে প্রকাশ্যে অনৈতিক কার্যক্রম চলে—যা দেখে এলাকার তরুণ সমাজ বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, রিসোর্টটি ভূমি ব্যবহার আইনসহ একাধিক সরকারি বিধিবিধান লঙ্ঘন করে কৃষিজমি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ১৫-২০ বিঘা জমি অবৈধভাবে দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে। সার্বিক দিক বিবেচনায় প্রতিষ্ঠানটিকে কোনো অবস্থাতেই লাইসেন্স প্রদান সমীচীন নয় বলে মত দেয় কমিটি।

মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মানোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, “মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হবে।”

এদিকে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মানিকগঞ্জের সচেতন মহল, নাগরিক সমাজ এবং পরিবেশবাদীরা এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

অন্যান্য