• September 9, 2025
  • 0 Comments
নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখকের পদত্যাগ, ওলির পৈতৃক বাড়িতে হামলা

নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির সরকারি বাসভবন বালুওয়াতারে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নেপালের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট।

মন্ত্রিসভায় উপস্থিত এক মন্ত্রী স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সহিংসতায় কাঠমান্ডুতে ১৭ জন ও ইতাহারিতে ২ জনসহ মোট ১৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন চার শতাধিক মানুষ। নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন সোমবারের জেন-জি আন্দোলনের বিক্ষোভকারী। এ ঘটনায় নৈতিক দায়িত্ব গ্রহণ করেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করেন।

এর আগে দিনভর দলীয় বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক গগন থাপা ও বিশ্বপ্রকাশ শর্মা। যদিও কংগ্রেস সভাপতি শের বাহাদুর দেউবা নীরব ছিলেন, তবে লেখক বৈঠকেই নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান এবং পরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

রমেশ লেখক গত বছর ১৫ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।

যুবসমাজের নেতৃত্বে দুর্নীতি ও জবাবদিহির অভাবের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া জেন-জি আন্দোলন এখন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবারের বিক্ষোভে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করে। রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন শহরে পুলিশ গুলি চালালে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর থেকেই সরকারের ওপর ব্যাপক রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

বিক্ষোভকারীদের টার্গেটে ওলির পৈতৃক বাড়ি

নেপালে চলমান বিক্ষোভের আগুন এবার ছড়িয়ে পড়েছে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির পৈতৃক বাড়িতেও। রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে কোশি প্রদেশের দামাক এলাকায় অবস্থিত এই বাড়িকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভকারীরা অলির বাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাথর নিক্ষেপ করতে থাকেন। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুলিশ সেখানে গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে।

নেপালে বিক্ষোভ পরিস্থিতি

দুর্নীতি ও জবাবদিহিতার অভাবের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া জেন-জি আন্দোলন ইতিমধ্যেই দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। এবার সেই বিক্ষোভের আঁচ গিয়ে পৌঁছেছে প্রধানমন্ত্রীর নিজ বাড়িতেও।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী অলির নিজ এলাকার বাড়িতে হামলার ঘটনা নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও গভীর সংকটে ঠেলে দিতে পারে। সরকারের অবস্থান

এ ঘটনায় এখনো প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে দেশজুড়ে বিক্ষোভের বিস্তার এবং রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধির কারণে নেপালের রাজনীতিতে অচলাবস্থা আরও জটিল আকার নিচ্ছে।

অন্যান্য