• August 31, 2025
  • 0 Comments
মানিকগঞ্জের গাজীখালী নদী কচুরিপানার দখলে, দুই দফায় ১৬ কোটি টাকা খরচেও মিলেনি সুফল

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী গাজীখালী নদী আজ কচুরিপানার জটে পরিণত হয়ে মৃতপ্রায়। দূর থেকে দেখলে মনে হবে সবুজ ঘাসে ঢাকা কোনো মাঠ, কিন্তু কাছে গেলে বোঝা যায় এটি আসলে কচুরিপানায় ভরা একটি নদী। গোপালপুর থেকে ধামরাইয়ের বারবারিয়া পর্যন্ত নদীর পুরো অংশ এখন কচুরিপানায় আচ্ছাদিত হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে নৌপথ।

সরকার দুই দফায় প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয় করে খনন কাজ করলেও আজও নদীটির নাব্যতা ফেরেনি। স্থানীয়দের অভিযোগ,খনন প্রকল্পগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়নি, বরং টাকার অপচয় হয়েছে। ফলে নদী আজও প্রাণ ফিরে পায়নি।

একসময় এ নদীকে কেন্দ্র করে জমজমাট হয়ে উঠেছিল সাটুরিয়া বাজার। দেশের নানা প্রান্ত থেকে বড় বড় নৌকায় ক্রেতা-বিক্রেতারা ভিড় জমাতেন। এখন সেই নদীতে ছোট নৌকাও চলাচল করতে পারে না। মাছ শিকার বন্ধ হয়ে পড়ায় জেলেরা বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করছেন।

সাটুরিয়ার প্রবীণ বাসিন্দা মো. গোলাম মোস্তফা (৭৫) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নদী খননের নামে ভূয়া প্রকল্প করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। আগে এই নদীতে স্টিমার চলত, এখন কচুরিপানার কারণে ছোট নৌকাও চলতে পারে না।”

অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দাবি করেছেন, বর্ষায় কচুরিপানা স্বাভাবিক ঘটনা। শুষ্ক মৌসুমে পরিস্থিতি যাচাই করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কিন্তু স্থানীয়দের প্রশ্ন, নদীটি যদি আজই বাঁচানোর উদ্যোগ না নেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে হয়তো মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যাবে গাজীখালী নদী।

  • August 25, 2025
  • 0 Comments
সাটুরিয়া উপজেলার গোলড়া পশ্চিম পাড়ায় তরুণদের স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কার

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার গোলড়া পশ্চিম পাড়ার জিন্নাহ আলীর বাড়ির সামনের রাস্তাটি বর্ষা মৌসুমে সবসময় কাদা আর জমে থাকা পানির কারণে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ত। বহুদিন ধরে স্থানীয়দের দুর্ভোগ পোহাতে হলেও কোনো উদ্যোগ না আসায় অবশেষে এগিয়ে এসেছেন এলাকার তরুণরা।

একঝাঁক তরুণ ও যুবক মিলে নিজেরাই রাস্তার সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন। বিনা স্বার্থে তারা কাদা সরিয়ে অস্থায়ীভাবে সংস্কার করছেন পথটি, যেন স্থানীয় মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তিতে চলাচল করতে পারে। স্থানীয়রা বলছেন, এই উদ্যোগে তরুণরা প্রমাণ করেছেন—ভালো কাজে একসাথে হলে অনেক অসম্ভবও সম্ভব হয়ে ওঠে।

গ্রামের প্রবীণরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে পথটি সংস্কারের দাবিতে বারবার আবেদন করা হলেও সাড়া মেলেনি। কিন্তু তরুণরা নিজ উদ্যোগে হাত লাগানোয় এলাকায় সামাজিক বন্ধন আরও শক্তিশালী হচ্ছে। শিশু, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে রোগীবাহী যান—সবাই সাময়িক স্বস্তি পাচ্ছেন।

তরুণদের উদ্যোগ এখানেই থেমে নেই। আগামী শুক্রবার পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের কাজ করার পরিকল্পনা নিয়েছেন তারা। এজন্য তারা সবার উপস্থিতি ও সহযোগিতা কামনা করেছেন। স্থানীয়ভাবে অর্থ, শ্রম ও সহযোগিতা মিলিয়ে এবার বড় পরিসরে রাস্তা সংস্কার হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এলাকার মানুষের ভাষায়—“এরা বিনা স্বার্থে সবসময় এগিয়ে আসে। ভালো কাজের জন্যই এই যুবকদের ওপর ভরসা করা যায়।”
তরুণদের জন্য সবার পক্ষ থেকে রইল শুভকামনা, যেন ভবিষ্যতেও তারা সমাজ ও এলাকার পাশে এভাবেই থেকে যায়।

  • August 25, 2025
  • 0 Comments
“গাজিখালি নদীর ভাঙা ব্রিজে আটকে দশ গ্রামের স্বপ্ন, পাঁচ বছরেও শুরু হয়নি নির্মাণকাজ”

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের গাজিখালি নদীর ওপর একটি ভাঙা ব্রিজের কারণে দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আশপাশের অন্তত দশ গ্রামের মানুষ। পাঁচ বছরেও কাজের অগ্রগতি নেই।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে ভাঙা ব্রিজটির জায়গায় নতুন সেতু নির্মাণের জন্য মাটি পরীক্ষা ও জরিপ কাজ সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু সেই থেকে আজ অবধি কোনো কাজ শুরু হয়নি। ফলে গ্রামবাসীর স্বপ্নের ব্রিজ এখনো কাগজেই সীমাবদ্ধ।
ব্রিজ ভাঙার কারণে ওই এলাকার মানুষকে প্রতিদিন নদী পারাপারে নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী ও কৃষকদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি। গাজিখালি নদী পাড়ি দিতে হয় নৌকা বা বিকল্প পথে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। বর্ষাকালে এ দুর্ভোগ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
কৃষকরা ফসল বাজারজাত করতে হিমশিম খাচ্ছেন। একইভাবে জরুরি সময়ে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, যাতায়াতের সুবিধা না থাকায় গ্রামে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল করিম বলেন, “আমরা বারবার শুনেছি ব্রিজ হবে, কিন্তু পাঁচ বছরেও কাজ শুরু হয়নি। বাচ্চাদের স্কুলে নিতে হলে আমাদের কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। অসুস্থ কাউকে হাসপাতালে নেওয়া সবচেয়ে কষ্টের।”

শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার জানায়, “ব্রিজ না থাকায় বর্ষায় স্কুলে যেতে আমাদের ভয় লাগে। নৌকা ডুবে গেলে কী হবে এই আতঙ্ক নিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করি।”
অভিযোগ রয়েছে, বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও ব্রিজ নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়নি। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুততম সময়ে ব্রিজের নির্মাণকাজ শুরু করতে হবে, নইলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।

অন্যান্য