• October 28, 2025
  • 0 Comments
আসন ছাড় নিয়ে বিএনপিতে ‘অস্থিরতা’

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন ঘিরে বিএনপির রাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মিত্র দলগুলোর কিছু নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও পেশাজীবীরা ‘সম্ভাব্য প্রার্থী’ হিসেবে আলোচনায় আসায় আসনভিত্তিক নেতৃত্ব নিয়ে দলের ভেতরেই তৈরি হয়েছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ।

দীর্ঘদিন মাঠে থেকে সংগঠন ধরে রাখা স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ, এলাকার বাইরের প্রার্থী ও মিত্র দলের প্রতিনিধিদের অগ্রাধিকার দিয়ে তৃণমূল নেতাদের উপেক্ষা করা হচ্ছে। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও হতাশা দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এর পেছনে কাজ করছে দলে প্রভাব বিস্তার ও গ্রুপভিত্তিক তদবিরের রাজনীতি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে থানা বিএনপির একজন নেতা জাগো নিউজকে বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে আমরা এখানে সংগঠন টিকিয়ে রেখেছি। এখন বাইরে থেকে কেউ এসে নেতৃত্ব নেবে—এটা মেনে নেওয়া কঠিন।’

আরেকজন নেতা বলেন, ‘মাঠের বাস্তবতা না বুঝে প্রার্থী নির্ধারণ করা হলে তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া সামলানো কঠিন হবে।’

‘বিএনপির পক্ষ থেকে ববি হাজ্জাজের জন্য কাজ করার কোনো নির্দেশনা এখনো পাইনি। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই চূড়ান্ত।’— বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম

তবে কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, এখনো কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। বিএনপির এক স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘দলীয় স্বার্থই আমাদের মুখ্য বিষয়। মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তবে তৃণমূলকে উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।’

বিভিন্ন আসনে অস্বস্তি
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকার অন্তত দশটি আসনসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মিত্র দল বা সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সম্ভাব্য প্রার্থী করা নিয়ে আলোচনা চলছে।

ঢাকা–১৩ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম দীর্ঘদিন ধরে সংগঠন টিকিয়ে রেখেছেন। তবে সম্প্রতি মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি আমিনুল হক সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজকে পরিচয় করানোর পর স্থানীয় নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

মোহাম্মদপুর থানা বিএনপির সদস্য আলমগীর হোসেন লাবু বলেন, ‘১৩ বছর ধরে আমরা আবদুস সালামের নেতৃত্বে কাজ করছি। এখন বাইরে থেকে কাউকে আনা হলে তা কর্মীদের জন্য অন্যায্য হবে।’

৩৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়সাল ভুঁইয়া সোহেল বলেন, ‘দলের বাইরে কাউকে প্রার্থী করা হলে তৃণমূল হতাশ হবে, ভোটাররাও মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে।’

দল যদি রাশেদকে মনোনয়ন দেয়, এ আসন হারাবে। রাশেদ এখানে সক্রিয় নন। তার তেমন কোনো স্থানীয় সমর্থকও নেই।- ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মজিদ

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘দলের পক্ষ থেকে ববি হাজ্জাজের জন্য কাজ করার কোনো নির্দেশনা এখনো পাইনি। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই চূড়ান্ত।’

ঢাকার বিভিন্ন আসনে বিএনপি-মিত্রদের সম্ভাব্যপ্রার্থী তালিকা
ঢাকা–৬: বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন ও মহানগর দক্ষিণের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের পাশাপাশি গণফোরামের সুব্রত চৌধুরীর নাম আলোচনায়।

ঢাকা–৭: বিএনপির মীর নেওয়াজ আলী, হামিদুর রহমান হামিদ ও যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার মনোনয়নপ্রত্যাশী। মিত্র দলের প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা মামুনুল হকের নাম শোনা যাচ্ছে।

ঢাকা–৮: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বিপরীতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক আছেন আলোচনায়।

ঢাকা–১০: বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম ও নির্বাহী কমিটির সদস্য রবিউল ইসলাম রবির সঙ্গে আলোচনায় আছেন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

ঢাকা–১১: বিএনপির ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক এম এ কাইয়ুমের পাশাপাশি আলোচনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

ঢাকা–১২: বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন-নবী খান সোহেল ও নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলাম নীরব। অন্যদিকে, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি ও তাসলিমা আখতার।

ঢাকা–১৪: বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এ সিদ্দিক সাজুর বিপরীতে মায়ের ডাক সংগঠনের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি।

ঢাকা–১৭: বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী কামাল জামান মোল্লার বিপরীতে মিত্র দল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ।

ঢাকা–১৮: বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী এস এম জাহাঙ্গীর, জেএসডির তানিয়া রব ও নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নাও রয়েছেন আলোচনায়।

ঢাকার বাইরের আসনেও অস্বস্তি
ঝিনাইদহ-২ সংসদীয় আসনে প্রচারণা চালাচ্ছেন বিএনপির জেলা সভাপতি আব্দুল মজিদ ও গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁন।

জানতে চাইলে আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে আব্দুল মজিদ বলেন, ‘দল যদি রাশেদকে মনোনয়ন দেয়, এ আসন হারাবে। রাশেদ এখানে সক্রিয় নন। তার তেমন কোনো স্থানীয় সমর্থকও নেই।’

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় নেতাদের মতে, রাশেদ খাঁন কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে পরিচিত হলেও ঝিনাইদহে বিএনপির সাংগঠনিক বাস্তবতা সম্পর্কে তেমন ধারণা নেই। স্থানীয়রা চান— এ আসনে ‘বাইরের প্রার্থী’ নয়, স্থানীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত নেতাকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক।’

পটুয়াখালী–৩ সংসদীয় আসন নিয়ে প্রচারণায় ব্যস্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাসান মামুন ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।

নির্বাচন নিয়ে জানতে চাইলে হাসান মামুন বলেন, ‘নুরকে ছেড়ে দিলে বিএনপি এ আসন হারাবে। স্থানীয়রা বিএনপির প্রার্থী চায়, কোনো মিত্র দলের কাউকে নয়।’

তৃণমূলের নেতারা জানান, বিএনপির দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ঘাঁটি এ আসনে নতুন মুখ এলে কর্মীদের মনোবল দুর্বল হবে। ফলে স্থানীয় প্রার্থী ছাড়া অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে দলীয় ঐক্যে ভাঙন ধরতে পারে।

সূত্র জানায়, বিএনপি অন্তত ৫০ থেকে ৭০টি আসনে মিত্রদের ছাড় দিতে পারে। তবে এসব আসনে দীর্ঘদিন কাজ করা স্থানীয় নেতারা এখন মনোনয়ন হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।

ঢাকা-১২ আসনের বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দল সবদিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে, আর দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’

ঢাকা–১৮ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘দল যে সিদ্ধান্ত নেবে আমরা সেটাই মেনে নেবো। তবে তৃণমূলের পছন্দের প্রার্থী মনোনয়ন না পেলে তাদের মন খারাপ হবে।’

অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে সতর্কতা

বিএনপির অনেক নেতা মনে করছেন, অতীতে মিত্র দলের প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ায় দল বিব্রত হয়েছিল। যেমন— মিরপুরে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ধানের শীষে ৬১ হাজার ভোট পান। গণফোরামের সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খান ধানের শীষে জয়ী হলেও পরে দল থেকে সরে যান।

তাদের মতে, ঢাকা শহরের আসনগুলো বিএনপির রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র। এখানে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এমন বা বিতর্কিত প্রার্থী আনা হলে তা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, আওয়ামী লীগও জনপ্রিয়তার চেয়ে তারকা, আমলা বা বাইরের লোক দিয়ে এমপি বানিয়ে ভুগেছে। বিএনপির সেই ভুল না করা উচিত।

তৃণমূলের মতে, মিত্রদের সমন্বয় অবশ্যই জরুরি, তবে স্থানীয় বাস্তবতা উপেক্ষা করলে ঐক্যের এ কৌশলই উল্টো অস্বস্তির ফাঁদে পরিণত হতে পারে।

নভেম্বরেই সিদ্ধান্ত
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নভেম্বর মাসের মধ্যেই ২০০ আসনে এককপ্রার্থীকে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেওয়া হবে। শরিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। যারা মনোনয়ন পাবেন না, তাদেরও যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হবে।

  • October 15, 2025
  • 0 Comments
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে যুবদল নেতা গুরুতর আহত

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। এতে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম শিকদার গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বলড়া ইউনিয়নের বহলাতলী বাজারে।

অভিযোগে জানা যায়, হরিরামপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বাকেরুল ইসলাম বাকের ও তার অনুসারীরা পরিকল্পিতভাবে মাসুম শিকদারের ওপর হামলা চালায়।

আহত মাসুম শিকদার জানান, বাজারে যাওয়ার পরপরই শাহিন মৃধার অনুসারীরা অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। বাকের, আলভীসহ ১০–১৫ জন লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এমনকি হামলাকারীরা চাপাতিও ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, এ হামলার নেপথ্যে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন মৃধার নেতৃত্বাধীন একটি প্রভাবশালী গ্রুপ।

তবে শাহিন মৃধা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, “মাসুম শিকদার নিজেই সাবেক জেলা নেতাদের অনুসারীদের নিয়ে বাজারে আসেন এবং মোটরসাইকেলের বহরসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালান। আমরা কেবল আত্মরক্ষামূলক ভূমিকা পালন করেছি। বিষয়টি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হান্নান মৃধা বলেন, “বাজার এলাকায় মারামারির খবর শুনেছি। তবে কারা কারা জড়িত তা এখনও নিশ্চিত নই।”

এদিকে হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. পলাশ চন্দ্র সূত্রধর জানান, আহত মাসুম শিকদারের পিঠ ও মুখমণ্ডলে গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং মুখমণ্ডল ফুলে গেছে।

হরিরামপুর থানার ওসি মো. মুজিবুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

  • September 21, 2025
  • 0 Comments
রাজনৈতিক স্বার্থে রাষ্ট্রকে ‘ঝুঁকির মুখে’ ঠেলবেন না: সালাহউদ্দিন

রাজনৈতিক স্বার্থে রাষ্ট্রকে ‘ঝুঁকির মুখে’ ঠেলে না দিতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘আসুন, আমরা কোনো সংকট সৃষ্টি না করি এবং সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকি।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘তারুণ্যের রাষ্ট্রচিন্তার তৃতীয় সংলাপ-মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় সালাহউদ্দিন এসব কথা বলেন। আলোচনা সভাটির আয়োজন করে ‘অপর্ণ আলোক সংঘ’।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, কোনো বিষয়ে যদি ঐকমত্য না হয়, তবে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এখানে যেন আমরা পরস্পর জবরদস্তি না করি। যে পরিবর্তনগুলো আনা হচ্ছে, সেগুলো রাতারাতি সম্ভব হবে না, এর জন্য সময় এবং পর্যায়ক্রমিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন।

অন্তর্বর্তী সরকারে ছাত্র প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, ছাত্র প্রতিনিধিদের সরকারে আসাটা আমার মনে হয় সঠিক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত হয়নি। ছাত্ররা বরং একটি ‘প্রেসার গ্রুপ’ হিসেবে কাজ করতে পারতো, যা জাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সাহায্য করতো। বর্তমানে যারা ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে সরকারে আছেন, তাদের প্রতিদিন দায়ী হতে হচ্ছে।

জাতীয় পার্টির নেত্রী রওশন এরশাদের একটি মন্তব্য টেনে সালাহউদ্দিন বলেন, রওশন এরশাদ বলেছিলেন, ‘মাননীয় স্পিকার আপনি বলে দেন, আমি সরকারি দল না বিরোধী দল’। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের চর্চা না হয়, সে বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি ইসলামী দলের বর্তমান যুগপৎ আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আলোচনার টেবিলে আলোচনা চলমান থাকা অবস্থায় মাঠে আন্দোলন করাটা স্ববিরোধী।

গণমাধ্যমের সংবাদের সূত্র ধরে সালাহউদ্দিন বলেন, পত্রিকায় আজকে হেডলাইন দেখলাম, কোথাও বলছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করবে, বিএনপি বিরোধী দলে যাবে। এ সিদ্ধান্ত কি জনগণ নাকি গণমাধ্যম নিয়েছে? যারা এত বেশি আত্মবিশ্বাসী যে তারা সরকার গঠন করবে, তারা কেন নির্বাচনে অংশ নিতে ভয় পায়? এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে।

অন্তর্বর্তী সরকার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, কিছু মহল এই সরকারকে ‘অর্ধ-সাংবিধানিক’ বলে প্রশ্ন তুলছে। এই ধরনের প্রশ্ন তুলে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি করা হলে এর সুবিধাভোগী হবে কোনো অসাংবিধানিক শক্তি বা পতিত স্বৈরাচার। তাই রাজনৈতিক স্বার্থে রাষ্ট্রকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে না দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

  • September 14, 2025
  • 0 Comments
ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর লুটপাটে অভিযুক্ত বিএনপির পদ স্থগিত হওয়া নেতা গ্রেপ্তার

সিলেটের আলোচিত ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর লুটপাটের অন্যতম মূল হোতা সাহাব উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৯)। রোববার র‍্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কে এম শহিদুল ইসলাম এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত সাহাব উদ্দিন (৫৪) সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জের মৃত আব্দুল বারীর ছেলে। তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি।

র‍্যাব জানায়, গত এক বছরে কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ পাথর উত্তোলন করা হয়। এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাদাপাথর লুটপাটে জড়িতদের গ্রেপ্তারে র‍্যাব-৯ গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাত সোয়া ১১টায় র‍্যাব-৯-এর একটি দল সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানাধীন কুমারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাহাব উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা রয়েছে।

উল্লেখ্য, চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ বিএনপির নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ১১ আগস্ট সাহাব উদ্দিনের দলীয় পদ স্থগিত করে বিএনপি। তাঁর বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জ ও কোতোয়ালি থানায় মোট সাতটি মামলা রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম জানান, পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • August 31, 2025
  • 0 Comments
নির্বাচনী দিনক্ষণ ঠিক হয়ে গেছে, ভোটারদের কাছে ছুটে যান : আফরোজা খানম রিতা

বিএনপি (বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টি) চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, বিএনপি ও ধানের শীষকে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তিরা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এদেশের জনগণকে পাশে না পেয়ে তারা এই অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। আমরা সর্বস্তরের সাধারণ মানুষকে নিয়ে এই অপপ্রচার প্রতিহত করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে চাই। 

শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নে আয়োজিত বিএনপি’র ৩১ দফার ইশতেহার ও প্রচারণা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, তারেক রহমানের ৩১ দফার ইস্তেহারে দেশের ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন নিহিত রয়েছে। আমরা তারই নির্দেশনায় আপনাদের কাছে এসে পৌঁছেছি। আপনারা এই ইস্তেহারের দাওয়াত প্রত্যেক ঘরে পৌঁছে দেবেন। আমরা সকলে মিলে দেশটাকে স্বনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে চাই।

আফরোজা খানম রিতা নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, নির্বাচনী দিনক্ষণ ঠিক হয়ে গেছে, আপনারা প্রত্যেকে ভোটারদের কাছে ছুটে যান। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এদেশের সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। মানুষ বিএনপির ধানের শীষে ভোট দিতে মুখিয়ে আছে। আপনারা ভোটারদের পাশে থাকুন।

এ সময়, জেলা জজ আদালতের পিপি ও জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আ. ফ.ম. নুরতাজ আলম বাহার, জেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম বাদল, মানিকগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি নাসিরউদ্দিন আহমেদ জাদু, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সত্যেন কান্তি পন্ডিত ভজন, গোলাম আবেদীন কায়সার, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) ফজলুল হক, যুবদলের সদস্য সচিব তুহিনুর রহমান তুহিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ পারভেজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • August 21, 2025
  • 0 Comments
বিএনপি পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে নয় : মির্জা ফখরুল

বিএনপি পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে নয় বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য জাতীয় নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। দেশের মানুষ নির্বাচন চায়। সংকট নিরসনের একমাত্র পথ দ্রুত নির্বাচন। যারা সংস্কার চাচ্ছে না, সেটা তাদের দলের ব্যাপার।

এ সময় ডাকসু নির্বাচন নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সবার অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হোক এটাই প্রত্যাশা আমাদের।

গত ১৩ আগস্ট চোখের ফলোআপ চিকিৎসার জন্য সস্ত্রীক থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উদ্দেশে রওনা হন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তিনি ও তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম ব্যাংককের উদ্দেশে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

এর আগে, চোখের চিকিৎসার জন্য গত ১৩ মে সস্ত্রীক ব্যাংকক গিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল। ব্যাংককের রুটনিন আই হাসপাতালে পরদিন ১৪ মে মির্জা ফখরুলের বাঁ চোখে সফল অস্ত্রোপচার হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে দুই সপ্তাহের বেশি সময় বিশ্রামে ছিলেন তখন। পরে চোখের চিকিৎসা শেষে গত ৭ জুন দেশে ফেরেন তারা।

  • August 20, 2025
  • 0 Comments
মানিকগঞ্জ-১ : বিএনপিতে মনোনয়ন দৌড়ঝাঁপ, মাঠে একক জামায়াত

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মানিকগঞ্জ-১ আসন। ধানের শীষের ঐতিহ্যবাহী এই ঘাঁটিতে বিএনপি’র ভেতরে মনোনয়ন নিয়ে শুরু হয়েছে দৌড়ঝাঁপ, আর অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ইতিমধ্যেই একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমে পড়েছে।

পদ্মা-যমুনা-কালীগঙ্গা-ধলেশ্বরী নদীবেষ্টিত ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয়—এই তিন উপজেলাকে নিয়ে গঠিত মানিকগঞ্জ-১ আসনে এখন ভোটের মাঠ সরগরম। দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে ভেবে সাধারণ ভোটাররা যেমন উচ্ছ্বসিত, তেমনি নতুন প্রজন্মের ভোটারদের মাঝেও তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ।

বিএনপি’র প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনটি ২০০৮ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি’র অনুকূলে যেতে পারে বলে মনে করছেন তৃণমূল ভোটাররা। তবে চূড়ান্ত প্রার্থী কে হবেন, তার ওপরই নির্ভর করছে জয়-পরাজয়ের হিসাব।

বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশী দৌড়ে যারা আছেন:

চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আফরোজা খান রিতা – তিন উপজেলাতেই সাংগঠনিক ভরসা।

প্রয়াত মহাসচিব দেলোয়ার হোসেনের দুই ছেলে – ড. খন্দকার আকবর হোসেন বাবলু ও খন্দকার আকতার হামিদ পবন।

জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএ জিন্নাহ কবীর, দৌলতপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হক তোজা। জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি খন্দকার ফারহানা ইয়াসমীন আতিকা।আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আজাদ হোসেন খানসহ আরও অনেকে।

জামায়াতে ইসলামী:
মনোনয়ন নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। একক প্রার্থী হিসেবে ডা. আবু বকর সিদ্দিক ইতোমধ্যেই মাঠে নেমেছেন এবং গণসংযোগে ভোটারদের সাড়া পাচ্ছেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির তেমন তৎপরতা নেই বললেই চলে। ফলে আসনটিতে মূল লড়াই হতে যাচ্ছে বিএনপি বনাম জামায়াতের মধ্যে।

ভোটারদের আশা, এবার তারা অবাধ পরিবেশে ভোট দিতে পারবেন এবং দীর্ঘদিনের ভোটবঞ্চনার ক্ষত মুছে যাবে।

অন্যান্য