• October 30, 2025
  • 0 Comments
দ্রুতই গণভোটের সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধান উপদেষ্টা : ড. আসিফ নজরুল

গণভোট কবে হবে, সে বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা দ্রুতই সিদ্ধান্ত দেবেন বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি এককভাবে তাদের অবস্থান নেয়ার জন্য সরকারকে জোর করে, তার মানে হচ্ছে তাদের মধ্যে ঐকমত্য নাই। তারা চাচ্ছে, সরকার যেন তাদের দলীয় অবস্থান নেয়।

বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে বিকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
গণভোট কবে হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধ তীব্রতম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধান উপদেষ্টা। প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে আমরা থাকব। আমরা সহায়তা করার জন্য থাকব। সিদ্ধান্ত এটা কোনো পার্টিকুলার কেউ নেবেন না, এটা আপনারা নিশ্চিত থাকেন। এই সিদ্ধান্ত প্রধান উপদেষ্টা নেবেন। দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জুলাই সনদের বাস্তবায়নের সুপারিশ নিয়ে দলগুলোর এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয় কথা বলেছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ২৭০ দিন আলাপআলোচনা করার পর রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্যের মধ্যে যে অনৈক্যের সুর দেখা যাচ্ছে, তা হতাশাব্যঞ্জক। এই তীব্র বিরোধের মধ্যে সমঝোতা দলিল পাশ করা সরকারের সামনে একটা চ্যালেঞ্জ এনে দিয়েছে।
আসিফ নজরুল বলেন, দলগুলোকে এতো আলোচনার সময় দেয়া হয়েছে। এরপরও তারা যেই অনৈক্য দেখাচ্ছে তাতে জুলাইয়ের স্পিরিটকে (চেতনা) তারা কোথায় নিয়ে গেছে, এটা তাদের বিবেচনা করা উচিত। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি এককভাবে তাদের অবস্থান নেয়ার জন্য সরকারকে জোর করে, তার মানে হচ্ছে তাদের মধ্যে ঐকমত্য নাই। তারা চাচ্ছে, সরকার যেন তাদের দলীয় অবস্থান নেয়।

জুলাই সনদ নিয়ে অনৈক্যের প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়বে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘যে যেটা বলুক, আমরা ফেব্রুয়ারি প্রথমার্থে জাতীয় নির্বাচন করব। ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে আমরা বদ্ধপরিকর।

এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক আসিফ নজরুল আরও বলেন, নির্বাচিত সংসদের সংস্কার করার কোনো দায়দায়িত্ব থাকবে না, সব অন্তর্বর্তী সরকারকে করে যেতে হবে এতো কোনো বেদবাক্য নয়। সরকার যতটুকু পারে করবে। সম্ভব হলে সবই করবে। তবে তাতে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য লাগবে।

  • September 23, 2025
  • 0 Comments
শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ : প্রধান উপদেষ্টা

ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

নিউইয়র্কে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত ও ভারতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর-এর সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হবে এবং তা অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে। তিনি জানান, নির্বাচন ঘিরে দেশ প্রস্তুত রয়েছে। মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোর প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের এই প্রচেষ্টায় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট, সার্কের পুনরুজ্জীবন, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং ঢাকাকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার-সহ বিস্তৃত দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য সহায়তা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান। জবাবে মার্কিন প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গাদের জন্য জীবনরক্ষাকারী সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, দীর্ঘদিন পর সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি তিনি জানান, বাংলাদেশ আসিয়ানে যোগদানে আগ্রহী। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন আরও দ্রুত হবে বলে মনে করেন তিনি।

এছাড়া, নেপাল, ভুটান এবং ভারতের সাত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধান উপদেষ্টা। আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও গতিশীল হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বৈঠকের শেষে অধ্যাপক ইউনূস সার্জিও গোরকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

  • September 21, 2025
  • 0 Comments
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন : রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে কেন জাতিসংঘে যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা?

তিনটি রাজনৈতিক দলের চারজন নেতাকে সঙ্গে নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে রোববার যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। সরকারি এই সফরে রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের যুক্ত করা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা।

সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, দুই অক্টোবর দেশে ফেরার আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধান উপদেষ্টা। এছাড়া সাক্ষাৎকার দিতে পারেন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও।

কিন্তু এই সফরে রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য কী, সেখানে কী ভূমিকা রাখবেন তারা, আর কেনই বা নির্দিষ্ট তিনটি দলের প্রতিনিধিকেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে–– এমন নানা প্রশ্ন সামনে আসছে।

রাজনৈতিক দলের নেতারা বলছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ গঠনে রাজনৈতিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ রয়েছে–– আন্তর্জাতিক মহলে এমন বার্তা দিতে চায় সরকার। আর এ কারণেই এই সফরে যুক্ত হচ্ছেন তারা।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব যেহেতু রাজনীতিবিদদের হাতেই থাকবে, এ কারণেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ নানা আলোচনায় রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের যুক্ত করা হচ্ছে।

নির্দিষ্ট তিনটি দল থেকে প্রতিনিধি নির্ধারণের এই সিদ্ধান্ত, নির্বাচনের আগে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ভুল বার্তা দিচ্ছে কি না, উঠেছে এমন প্রশ্নও।

এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ অবশ্য বলছেন, আগামীতে ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দলীয় প্রভাব এবং দলীয় সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই প্রতিনিধি ঠিক করা হয়েছে।

তিনি বলছেন, অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রশ্নে একটি ঐক্য তৈরি হয়েছে।

তবে, এমন সব আলোচনার বাইরে সরকারের দিক থেকে রাজনৈতিক দায় বণ্টনের একটি চেষ্টাও দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।

রাজনৈতিক নেতারা কেন সফরসঙ্গী?

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে অংশ নিতে প্রধান উপদেষ্টার নিউইয়র্ক সফরের প্রতিনিধি দলে অংশ নিচ্ছেন দেশের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।

গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, প্রতিনিধি দলে অংশ নেবেন–– বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

জানা গেছে, এই সফরের বেশ কিছু সাইডলাইন বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার পাশাপাশি অংশ নেবেন এই রাজনৈতিক নেতারাও। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সঙ্গেও একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাদের।

গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের সঙ্গে আছে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে দেশকে এগিয়ে নিতে সবাই ঐক্যবদ্ধ রয়েছে–– আন্তর্জাতিক মহলে এমন বার্তা দিতেই প্রধান উপদেষ্টার এই সফরে তাদেরকে যুক্ত করা হয়েছে বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আর জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি কিছু সেশন আছে যেখানে আমাদের পার্টিসিপেশন আছে। এছাড়া বাংলাদেশ কমিউনিটির সাথেও একটা মিটিং আছে।

রাজনৈতিক নেতাদের এই সফরে যুক্ত করার কারণ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কিছু ধারণাও দিয়েছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ।

তিনি বলেছিলেন, যেহেতু আমরা একটি রূপান্তর পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছি এবং দেশ পরিচালনার দায়িত্ব রাজনীতিবিদদের হাতে হস্তান্তর করা হবে, তাই তাদের প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ঘোষণা হওয়ায়, শেষ কয়েক মাসের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সব কাজের সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে যুক্ত রাখতে চায় অন্তর্বর্তী সরকার, যাতে ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসবে তারা এসব কাজের ধারাবাহিকতার বিষয়ে অবগত থাকে।

প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ বলেন, জাতিসংঘের এই অধিবেশনে এমন অনেক কিছুই আলোচনা হবে যার একটা কন্টিনিউয়েশনের দরকার আছে। সম্প্রতি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সেমিনার হয়েছিল সেখানেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে সম্পৃক্ত করা হয়েছিল, বলেন তিনি।

ফয়েজ আহম্মদ বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার যেহেতু রাজনৈতিক দলের কাছেই ভবিষ্যতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে, তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়ে যুক্ত রাখতে চায় সরকার।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ অবশ্য মনে করেন, রাজনৈতিক ঐক্য সবার সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি এই মুহূর্তে বাংলাদেশে মার্কিন প্রভাবের যে বিষয়টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে সেখানেও রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে রাখতে চাইছেন প্রধান উপদেষ্টা।

সম্ভবত তিনি একাই এই ঝুঁকিটা নিতে চাচ্ছেন না। রাজনৈতিক দলকেও তিনি এই ঝুঁকির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে চান, যাতে রাজনৈতিক দলের দিক থেকে এ বিষয়ে কোনো বিরোধিতা না আসে। সেটাও একটা লক্ষ্য থাকতে পারে, বলেন তিনি।

এছাড়া তিনটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধের সমাধানের পথ খুলতে পারে বলেও মনে করেন সাব্বির আহমেদ।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের মূল বৈঠকের সাইডলাইনে আরও অনেক কিছুই হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে।

এই তিন দলের প্রতিনিধিই কেন

দেশের ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংস্কার ইস্যুতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় গত ছয় মাসে দফায় দফায় বৈঠক করেছে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন, যেখানে অন্তত ৩০টি দলের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।

সংস্কার কমিশনগুলোর দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সংস্কার প্রশ্নে অনেক বিষয়ে একমত হলেও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে এখনো একমত হতে পারেনি দলগুলো।

এমনকি, এসব আলোচনার মধ্যেই সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন বা পিআর এর দাবিতে মাঠের কর্মসূচিও শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামী সহ সাতটি রাজনৈতিক দল, যার বিপরীত অবস্থান নিয়ে নানা মন্তব্য করেছি বিএনপি।

এমন প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসেবে কেন কেবল এই তিনটি দলকেই বেছে নিল সরকার?

প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ বলেন, রাজনৈতিক মতে বা আদর্শে ভিন্নতা থাকলেও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার প্রশ্নে সব দলের মধ্যে এক ধরনের ঐক্য আছে। আমরা মনে করি যে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাদের মধ্য দিয়ে সকল রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা যাচ্ছে।

এই সফরে কেবল তিনটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিকেই নেওয়ার বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলছেন, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

সাব্বির আহমেদ বলেন, প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিএনপি ও জামায়াত, আর জুলাইয়ের সামনের সারিতে থাকা ছাত্র প্রতিনিধিদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি এভাবেই হয়তো প্রতিনিধি বাছাই করা হয়েছে।

তিনি বলছেন, উনি (প্রধান উপদেষ্টা) তো হিসেব করেই চলেন। মূল শক্তি যে বিএনপি, জামায়াত বা এনসিপি এর বাইরে উনি যাবেন কেনো? যদি এদের (তিনটি রাজনৈতিক দলের) চিন্তাধারাকে ঠিক করা যায় তাহলে হয়তো উনি ভাবছেন, বাকিদেরটা এমনিই হয়ে যাবে।

  • September 21, 2025
  • 0 Comments
প্রধান উপদেষ্টা নিউইয়র্ক যাচ্ছেন আজ, সঙ্গে ৪ রাজনৈতিক নেতা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে আজ রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, তিনি ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন এবং ২৬ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। প্রধান উপদেষ্টার ২ অক্টোবর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সফরে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে থাকছেন চারজন রাজনৈতিক নেতা— বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

এর আগে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, প্রধান উপদেষ্টা বিগত এক বছরে দেশে সংঘটিত সংস্কার এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার বিশ্ব নেতাদের সামনে তুলে ধরবেন।

এ ছাড়া আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির সভাপতিত্বে ‘হাই লেভেল কনফারেন্স অন দ্য সিচুয়েশন অব রোহিঙ্গা মুসলিমস অ্যান্ড আদার মাইনোরিটিস ইন মিয়ানমার’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের সভায়ও অংশ নেবেন।

  • September 3, 2025
  • 0 Comments
নুরের সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার (০২ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নুরের সহধর্মিণী মারিয়া আক্তার, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন।

নুরুল হকের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মারিয়া আক্তার। তিনি জানান, নুরের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে, নাকের হাড় ভেঙেছে, তিনি চোয়ালে ও মেরুদণ্ডে আঘাত পেয়েছেন।

সুচিকিৎসার জন্য নুরকে বিদেশে নেওয়া প্রয়োজন বলে জানান তার স্ত্রী মারিয়া আক্তার। এ সময় তাৎক্ষণিকভাবে সুচিকিৎসার জন্য নুরকে বিদেশে পাঠাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা সবাই স্তম্ভিত। তার সুচিকিৎসায় আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি। এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত হচ্ছে।’

এ সময় আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, হামলার ঘটনায় বিচারপতি আলী রেজার নেতৃত্বে এক সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করা হচ্ছে। আগামীকালের মধ্যেই এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হবে। ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি তাদের তদন্তকাজ সম্পন্ন করবে।

  • August 31, 2025
  • 0 Comments
নির্বাচনের বিকল্প কিছু ভাবলে সেটা হবে বিপজ্জনক: প্রধান উপদেষ্টা

নির্বাচন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, নির্বাচনের বিকল্প কেউ কিছু ভাবলে সেটা হবে জাতির জন্য গভীর বিপজ্জনক।
রোববার (৩১ আগস্ট) রাতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, প্রধান উপদেষ্টা বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন হবে।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেছেন, নির্বাচন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। কেউ যদি নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প ভাবেন, তা জাতির জন্য হবে গভীর বিপজ্জনক। 
বৈঠকে আসন্ন দুর্গাপূজা ঘিরে কোনো অস্থিতিশীল পরিবেশ যাতে কেউ সৃষ্টি না করতে পারে, সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সহায়তা চেয়েছেন ড. ইউনূস।
প্রেস সচিব বলেন, আজকের মিটিংগুলোর মাঝামাঝি সময়েই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রীয়াজ এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মুনির হায়দারও দেখা করেছেন। আলী রীয়াজ জুলাই সনদ চূড়ান্ত করার বিষয়ে কি কি অগ্রগতি হচ্ছে, সে বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে অবগত করেছেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে কি মতামত দিয়েছে, সেটা নিয়েও আলোচিত আলোচনা হয়েছে। 
এ ছাড়া বৈঠকে জাতীয় পার্টির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন, বিষয়টি নিয়ে একেকজন একেক রকম মতামত দিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টা সেটি বিস্তারিত শুনেছেন। 
বৈঠকে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির নেতারা ছাড়াও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে আদিলুর রহমান খান, ড. আসিফ নজরুল, ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, ড. খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

অন্যান্য