• December 4, 2025
  • 0 Comments
মানিকগঞ্জ-০১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন এস.এ জিন্নাহ কবির

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লড়াই, কারাবরণ আর আন্দোলন-সংগ্রামে সদা সক্রিয় থাকার স্বীকৃতি হিসেবে মানিকগঞ্জ-–১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন দলের সাবেক জেলা সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির ১ নম্বর সদস্য এস.এ জিন্নাহ কবির।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করেন।

ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয় এই তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত মানিকগঞ্জ-১ আসনটি রাজনীতিতে ঐতিহ্যবাহী একটি কেন্দ্র। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে এখান থেকেই প্রার্থী হয়েছিলেন জিন্নাহ কবির। একই আসনে এর আগে পাঁচবার নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন।

মনোনয়ন পাওয়ার পর এস.এ জিন্নাহ কবির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় সকলের কাছে দোয়া চান।

তিনি বলেন, “এই মনোনয়ন শুধু আমার নয় দীর্ঘ ১৫ বছরের আন্দোলনে থাকা কর্মী,সমর্থকদের সম্মিলিত প্রাপ্তি। মানুষের আস্থা রক্ষাই হবে আমার প্রথম দায়িত্ব।”

  • November 27, 2025
  • 0 Comments
মানিকগঞ্জ-১ আসনে ত্রিমুখী উত্তাপ : বিএনপির মনোনয়নকে ঘিরে বিভক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, মানিকগঞ্জ :
মানিকগঞ্জ–-১ (ঘিওর-দৌলতপুর-শিবালয়) আসনটি সবসময়ই বিএনপির জন্য ‘প্রতীকী গুরুত্বের’ আসন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, জেলা রাজনীতির ঐতিহ্য, এবং দীর্ঘদিন ধরে জনসমর্থনঘেরা তৃণমূলের সক্রিয়তার কারণে এ আসনটি দলটির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এবারের নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রার্থী ঘোষণা করলেও এই গুরুত্বপূর্ণ আসনটি এখনো ‘ফাঁকা বাক্স’। আর এই অঘোষিত মনোনয়নকে কেন্দ্র করেই দলে তৈরি হয়েছে অঘোষিত তিন শিবির—জিন্নাহ সমর্থক, আকবর বাবলু সমর্থক ও তোজা সমর্থক।

মানিকগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চাইছেন ছয়জন এরা হলেন-এসএ জিন্নাহ কবীর, খন্দকার আকবর হোসেন বাবলু, তোজাম্মেল হক তোজা, ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন খান, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ।

তবে মাঠে প্রতিদিন শোডাউন, মিছিল, উঠান বৈঠক নিয়ে এগিয়ে আছেন প্রথম তিনজন।
এলাকা ঘুরে দেখা যাচ্ছে কোথাও জিন্নাহ কবীরের মোটরসাইকেল শোডাউন, কোথাও বাবলুর অনুসারীদের ব্যানার–ফেস্টুনের ছড়াছড়ি, আবার কোথাও তোজার লম্বা মিছিল, স্লোগান হাটে-ঘাটে গণসংযোগ। প্রতিটি প্রচারণা যেন অপরটিকে ছাড়িয়ে যেতে চাইছে।

এ আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভক্তি এখন প্রকাশ্য। যুবদলের বড় অংশ ঝুঁকছে জিন্নাহ কবীরের দিকে।
ছাত্রদলের তৃণমূল অংশ বেশিরভাগ সমর্থন দিচ্ছে তোজাম্মেল হক তোজাকে।

উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বড় অংশ আগ্রহ দেখাচ্ছেন আকবর হোসেন বাবলুর দিকে, তাঁর পারিবারিক পরিচিতি ও দেলোয়ার হোসেনের অবদানকে সামনে রেখে।

দলীয় সিদ্ধান্ত যে যেকোনো দিকে যেতে পাওে তা বুঝেই প্রত্যেক গ্রুপ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজেদের প্রার্থীর ‘জয়ের সম্ভাবনা’ তুলে ধরে হাইকমান্ডকে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রার্থী ঘোষণায় দেরি বাড়াচ্ছে সন্দেহ, সংশয় :

রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাইফুদ্দিন নান্নু মনে করেন, “মানিকগঞ্জ-১ আসনটি বিএনপির ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। প্রার্থী ঘোষণায় বিলম্ব তৃণমূলে অসন্তোষ বাড়াচ্ছে। এখনো সংঘাত হয়নি এটাই আশার কথা। তবে সিদ্ধান্তহীনতা বেশি দীর্ঘ হলে গ্রুপিং আরও কঠিন রূপ নিতে পারে।”

স্থানীয় নেতারা বলছেন, গণমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে, হাইকমান্ড মাঠপর্যায়ের রিপোর্ট, সংগঠন শক্তিপূর্বেকার আন্দোলনে অংশগ্রহণ সবকিছু বিবেচনা করছে। ফলে নিশ্চিত মনোনয়ন কার দিকে যাবে এটি এখন সম্পূর্ণই ‘হাইকমান্ডের রহস্য’।

কী হতে পারে শেষ পরিণতি? :
এলাকাবাসী বলছেন, মনোনয়ন যদি জিন্নাহ, বাবলু বা তোজা যে কারো দিকে যায়, অন্য গ্রুপের মতবিরোধ দলকে কঠিন অবস্থায় ফেলতে পারে তাদের মতে নির্বাচনে কার্যকরভাবে মাঠে নামতে হলে এখনই গ্রুপিং কমানো জরুরি। দেরি হলে ‘অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা’ রূপ নিতে পারে অগোছালো পরিস্থিতিতে
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,“এই আসনে প্রার্থী ঘোষণা বিএনপির জন্য শুধু নির্বাচন নয়, ভবিষ্যতের সাংগঠনিক শক্তি পুনর্গঠনেরও পরীক্ষা।”

  • November 12, 2025
  • 0 Comments
আ.লীগের নাশকতা ঠেকাতে মাঠে থাকবে জামায়াতসহ ৮ দল

ফ্যাসিবাদী শক্তির নাশকতা ও অপতৎপরতা প্রতিরোধে বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) থেকে সর্বস্তরের জনশক্তিসহ দেশব্যাপী রাজপথে অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা আটটি দল। পরদিন শুক্রবার তারা পাঁচ দফা দাবিতে দেশব্যাপী জেলা ও মহানগর পর্যায়ে বিক্ষোভ মিছিল করবে।
বুধবার দুপুরে মগবাজার আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ৮ দলের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সারাদেশে নেতাকর্মীরা রাজপথে অবস্থান নেবেন। এর প্রধান লক্ষ্য থাকবে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নাশকতা ও ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করা।
এরপর শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি এবং জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে গণভোট আয়োজনসহ পাঁচ দফা দাবিতে দেশব্যাপী জেলা ও মহানগরগুলোতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।এর পাশাপাশি, আগামী ১৬ নভেম্বরের মধ্যে পাঁচ দফা দাবি না মানলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান কর্মসূচি পালনের যে আল্টিমেটাম আগেই দেওয়া হয়েছিল, তা বহাল রয়েছে।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান জানান, ১৬ নভেম্বর (রোববার) বেলা ১১টায় আন্দোলনরত আট দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং বৈঠক শেষে আল ফালাহ মিলনায়তনে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

আন্দোলনে থাকা দলগুলো হলো:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস

খেলাফত মজলিস

নেজামে ইসলাম পার্টি

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি

দেশের রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরানোর পাশাপাশি গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করার দাবিতে এই আট দলের যুগপৎ আন্দোলন জোরদার হচ্ছে।

  • October 30, 2025
  • 0 Comments
দ্রুতই গণভোটের সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধান উপদেষ্টা : ড. আসিফ নজরুল

গণভোট কবে হবে, সে বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা দ্রুতই সিদ্ধান্ত দেবেন বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি এককভাবে তাদের অবস্থান নেয়ার জন্য সরকারকে জোর করে, তার মানে হচ্ছে তাদের মধ্যে ঐকমত্য নাই। তারা চাচ্ছে, সরকার যেন তাদের দলীয় অবস্থান নেয়।

বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে বিকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
গণভোট কবে হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধ তীব্রতম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধান উপদেষ্টা। প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে আমরা থাকব। আমরা সহায়তা করার জন্য থাকব। সিদ্ধান্ত এটা কোনো পার্টিকুলার কেউ নেবেন না, এটা আপনারা নিশ্চিত থাকেন। এই সিদ্ধান্ত প্রধান উপদেষ্টা নেবেন। দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জুলাই সনদের বাস্তবায়নের সুপারিশ নিয়ে দলগুলোর এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয় কথা বলেছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ২৭০ দিন আলাপআলোচনা করার পর রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্যের মধ্যে যে অনৈক্যের সুর দেখা যাচ্ছে, তা হতাশাব্যঞ্জক। এই তীব্র বিরোধের মধ্যে সমঝোতা দলিল পাশ করা সরকারের সামনে একটা চ্যালেঞ্জ এনে দিয়েছে।
আসিফ নজরুল বলেন, দলগুলোকে এতো আলোচনার সময় দেয়া হয়েছে। এরপরও তারা যেই অনৈক্য দেখাচ্ছে তাতে জুলাইয়ের স্পিরিটকে (চেতনা) তারা কোথায় নিয়ে গেছে, এটা তাদের বিবেচনা করা উচিত। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি এককভাবে তাদের অবস্থান নেয়ার জন্য সরকারকে জোর করে, তার মানে হচ্ছে তাদের মধ্যে ঐকমত্য নাই। তারা চাচ্ছে, সরকার যেন তাদের দলীয় অবস্থান নেয়।

জুলাই সনদ নিয়ে অনৈক্যের প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়বে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘যে যেটা বলুক, আমরা ফেব্রুয়ারি প্রথমার্থে জাতীয় নির্বাচন করব। ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে আমরা বদ্ধপরিকর।

এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক আসিফ নজরুল আরও বলেন, নির্বাচিত সংসদের সংস্কার করার কোনো দায়দায়িত্ব থাকবে না, সব অন্তর্বর্তী সরকারকে করে যেতে হবে এতো কোনো বেদবাক্য নয়। সরকার যতটুকু পারে করবে। সম্ভব হলে সবই করবে। তবে তাতে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য লাগবে।

  • October 28, 2025
  • 0 Comments
আসন ছাড় নিয়ে বিএনপিতে ‘অস্থিরতা’

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন ঘিরে বিএনপির রাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মিত্র দলগুলোর কিছু নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও পেশাজীবীরা ‘সম্ভাব্য প্রার্থী’ হিসেবে আলোচনায় আসায় আসনভিত্তিক নেতৃত্ব নিয়ে দলের ভেতরেই তৈরি হয়েছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ।

দীর্ঘদিন মাঠে থেকে সংগঠন ধরে রাখা স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ, এলাকার বাইরের প্রার্থী ও মিত্র দলের প্রতিনিধিদের অগ্রাধিকার দিয়ে তৃণমূল নেতাদের উপেক্ষা করা হচ্ছে। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও হতাশা দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এর পেছনে কাজ করছে দলে প্রভাব বিস্তার ও গ্রুপভিত্তিক তদবিরের রাজনীতি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে থানা বিএনপির একজন নেতা জাগো নিউজকে বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে আমরা এখানে সংগঠন টিকিয়ে রেখেছি। এখন বাইরে থেকে কেউ এসে নেতৃত্ব নেবে—এটা মেনে নেওয়া কঠিন।’

আরেকজন নেতা বলেন, ‘মাঠের বাস্তবতা না বুঝে প্রার্থী নির্ধারণ করা হলে তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া সামলানো কঠিন হবে।’

‘বিএনপির পক্ষ থেকে ববি হাজ্জাজের জন্য কাজ করার কোনো নির্দেশনা এখনো পাইনি। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই চূড়ান্ত।’— বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম

তবে কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, এখনো কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। বিএনপির এক স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘দলীয় স্বার্থই আমাদের মুখ্য বিষয়। মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তবে তৃণমূলকে উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।’

বিভিন্ন আসনে অস্বস্তি
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকার অন্তত দশটি আসনসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মিত্র দল বা সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সম্ভাব্য প্রার্থী করা নিয়ে আলোচনা চলছে।

ঢাকা–১৩ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম দীর্ঘদিন ধরে সংগঠন টিকিয়ে রেখেছেন। তবে সম্প্রতি মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি আমিনুল হক সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজকে পরিচয় করানোর পর স্থানীয় নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

মোহাম্মদপুর থানা বিএনপির সদস্য আলমগীর হোসেন লাবু বলেন, ‘১৩ বছর ধরে আমরা আবদুস সালামের নেতৃত্বে কাজ করছি। এখন বাইরে থেকে কাউকে আনা হলে তা কর্মীদের জন্য অন্যায্য হবে।’

৩৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়সাল ভুঁইয়া সোহেল বলেন, ‘দলের বাইরে কাউকে প্রার্থী করা হলে তৃণমূল হতাশ হবে, ভোটাররাও মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে।’

দল যদি রাশেদকে মনোনয়ন দেয়, এ আসন হারাবে। রাশেদ এখানে সক্রিয় নন। তার তেমন কোনো স্থানীয় সমর্থকও নেই।- ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মজিদ

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘দলের পক্ষ থেকে ববি হাজ্জাজের জন্য কাজ করার কোনো নির্দেশনা এখনো পাইনি। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই চূড়ান্ত।’

ঢাকার বিভিন্ন আসনে বিএনপি-মিত্রদের সম্ভাব্যপ্রার্থী তালিকা
ঢাকা–৬: বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন ও মহানগর দক্ষিণের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের পাশাপাশি গণফোরামের সুব্রত চৌধুরীর নাম আলোচনায়।

ঢাকা–৭: বিএনপির মীর নেওয়াজ আলী, হামিদুর রহমান হামিদ ও যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার মনোনয়নপ্রত্যাশী। মিত্র দলের প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা মামুনুল হকের নাম শোনা যাচ্ছে।

ঢাকা–৮: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বিপরীতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক আছেন আলোচনায়।

ঢাকা–১০: বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম ও নির্বাহী কমিটির সদস্য রবিউল ইসলাম রবির সঙ্গে আলোচনায় আছেন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

ঢাকা–১১: বিএনপির ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক এম এ কাইয়ুমের পাশাপাশি আলোচনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

ঢাকা–১২: বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন-নবী খান সোহেল ও নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলাম নীরব। অন্যদিকে, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি ও তাসলিমা আখতার।

ঢাকা–১৪: বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এ সিদ্দিক সাজুর বিপরীতে মায়ের ডাক সংগঠনের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি।

ঢাকা–১৭: বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী কামাল জামান মোল্লার বিপরীতে মিত্র দল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ।

ঢাকা–১৮: বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী এস এম জাহাঙ্গীর, জেএসডির তানিয়া রব ও নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নাও রয়েছেন আলোচনায়।

ঢাকার বাইরের আসনেও অস্বস্তি
ঝিনাইদহ-২ সংসদীয় আসনে প্রচারণা চালাচ্ছেন বিএনপির জেলা সভাপতি আব্দুল মজিদ ও গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁন।

জানতে চাইলে আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে আব্দুল মজিদ বলেন, ‘দল যদি রাশেদকে মনোনয়ন দেয়, এ আসন হারাবে। রাশেদ এখানে সক্রিয় নন। তার তেমন কোনো স্থানীয় সমর্থকও নেই।’

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় নেতাদের মতে, রাশেদ খাঁন কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে পরিচিত হলেও ঝিনাইদহে বিএনপির সাংগঠনিক বাস্তবতা সম্পর্কে তেমন ধারণা নেই। স্থানীয়রা চান— এ আসনে ‘বাইরের প্রার্থী’ নয়, স্থানীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত নেতাকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক।’

পটুয়াখালী–৩ সংসদীয় আসন নিয়ে প্রচারণায় ব্যস্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাসান মামুন ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।

নির্বাচন নিয়ে জানতে চাইলে হাসান মামুন বলেন, ‘নুরকে ছেড়ে দিলে বিএনপি এ আসন হারাবে। স্থানীয়রা বিএনপির প্রার্থী চায়, কোনো মিত্র দলের কাউকে নয়।’

তৃণমূলের নেতারা জানান, বিএনপির দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ঘাঁটি এ আসনে নতুন মুখ এলে কর্মীদের মনোবল দুর্বল হবে। ফলে স্থানীয় প্রার্থী ছাড়া অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে দলীয় ঐক্যে ভাঙন ধরতে পারে।

সূত্র জানায়, বিএনপি অন্তত ৫০ থেকে ৭০টি আসনে মিত্রদের ছাড় দিতে পারে। তবে এসব আসনে দীর্ঘদিন কাজ করা স্থানীয় নেতারা এখন মনোনয়ন হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।

ঢাকা-১২ আসনের বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দল সবদিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে, আর দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’

ঢাকা–১৮ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘দল যে সিদ্ধান্ত নেবে আমরা সেটাই মেনে নেবো। তবে তৃণমূলের পছন্দের প্রার্থী মনোনয়ন না পেলে তাদের মন খারাপ হবে।’

অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে সতর্কতা

বিএনপির অনেক নেতা মনে করছেন, অতীতে মিত্র দলের প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ায় দল বিব্রত হয়েছিল। যেমন— মিরপুরে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ধানের শীষে ৬১ হাজার ভোট পান। গণফোরামের সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খান ধানের শীষে জয়ী হলেও পরে দল থেকে সরে যান।

তাদের মতে, ঢাকা শহরের আসনগুলো বিএনপির রাজনীতির প্রাণকেন্দ্র। এখানে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এমন বা বিতর্কিত প্রার্থী আনা হলে তা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, আওয়ামী লীগও জনপ্রিয়তার চেয়ে তারকা, আমলা বা বাইরের লোক দিয়ে এমপি বানিয়ে ভুগেছে। বিএনপির সেই ভুল না করা উচিত।

তৃণমূলের মতে, মিত্রদের সমন্বয় অবশ্যই জরুরি, তবে স্থানীয় বাস্তবতা উপেক্ষা করলে ঐক্যের এ কৌশলই উল্টো অস্বস্তির ফাঁদে পরিণত হতে পারে।

নভেম্বরেই সিদ্ধান্ত
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নভেম্বর মাসের মধ্যেই ২০০ আসনে এককপ্রার্থীকে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেওয়া হবে। শরিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। যারা মনোনয়ন পাবেন না, তাদেরও যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হবে।

  • October 23, 2025
  • 0 Comments
নীতি আদর্শ মেনে না চললে দলে অন্তর্ভুক্তি হবে না: আফরোজা খানম 

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক আফরোজা খানম রিতা বলেন, আমরা যারা রাজনীতি করি তারা সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে রাজনীতি করি। আমরা চাই সুন্দর সামাজিক ও মানবিক সমাজ গড়ে উঠুক। সেখানে শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যারা জড়িত আছেন তাদের নিরাপত্তার এবং আস্থার একটা জায়গা করে দিতে হবে। তারা যেন নিজেকে কখনো অসহায় না ভাবে। মানিকগঞ্জবাসী হিসেবে এটা আমাদের দায়িত্ব। আমার সাথে যারা আছেন তারা নীতি আদর্শ মেনে চলার চেষ্টা করবেন যদি না করেন তাহলে তাদের দলে অন্তর্ভুক্ত করব না।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে মানিকগঞ্জ শহরের খান বাহাদুর আওলাদ হোসেন খান কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে আফরোজা খানম বলেন, সর্বাধিক জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় আছে কিন্তু আমাদের মানিকগঞ্জে কোন বিশ্ববিদ্যালয় নেই। আমার ইচ্ছা আমি যেন আমার সন্তানদের জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে পারি। এলাকার মানুষের কথা চিন্তা করে আমার বাবা মুন্নু ওয়েলফেয়ার এর পক্ষ থেকে হাসপাতাল তৈরি করেছে আমাদের ইচ্ছা আছে সামনে ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করার। বিগত সময়ে অনেকবার আমরা এ চেষ্টা চালিয়েছি। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের কারণে আমরা তা করতে পারি নাই। আগামী নির্বাচনে আমরা যখন ধানের শীষের দল গঠন করব ইনশাল্লাহ মুন্নু ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হবে। যাতে করে এলাকার ছেলেমেয়েদের দূরে গিয়ে পড়াশোনা করতে না হয়।

খান বাহাদুর আওলাদ হোসেন খান কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আ. ফ. ম. নুরতাজ আলম বাহারের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আ. ফ. ম. নুরতাজ আলম বাহার, আ. ত. ম. জহিরুল আলম লোদী, জেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম বাদল, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য গোলাম আবেদীন কায়সার, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ পারভেজ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল খালেক শুভ, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম খান সজীব সহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ।

নবীনবরণ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। প্রধান অতিথিকে পেয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন। 

  • October 15, 2025
  • 0 Comments
পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবিতে মানিকগঞ্জে জামায়াতের মানববন্ধন

পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ পাঁচ দফা দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মানিকগঞ্জ জেলা শাখা

আজ বুধবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল ৩ টায় মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

‎মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা উত্তর অঞ্চলের টীম সদস্য ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা দেলওয়ার হোসাইন।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর এ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসাইন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা নুরুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার মুসলেহ উদ্দিন, সদর উপজেলা সেক্রেটারী এ্যাডভোকেট সালাহউদ্দিন, পৌর আমীর হুমায়ুন কবীরসহ জেলা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দ। এসময় মানব বন্ধনে জেলার শত শত নেতা-কর্র্মী অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচন, নির্বাচনে উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।’ এছাড়া, ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচারের ব্যবস্থা, স্বৈরাচারপন্থী দলসমূহ বিশেষ করে জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলীয় জোটের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবী জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, ‘পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে সব দলের প্রতিনিধিত্ব থাকবে জাতীয় সংসদে, সকল দলের প্রতিনিধি কথা বলতে পারবে। সংসদ একটি দলের হয়ে উঠবে না, এমনকি দেশে একটি দলের আধিপত্য থাকবে না। এ কারণে পিআর পদ্ধতি এখন মানুষের আকাঙ্ক্ষায় পরিণত হয়েছে। আমরা সরকারের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, দেশের মানুষের অংশগ্রহণ বোঝেন এবং এই দাবি মেনে নেন।’

  • October 13, 2025
  • 0 Comments
শেখ হাসিনার বিচারকাজ সম্প্রচারে সাইবার হামলা

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সরাসরি সম্প্রচার চলাকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের ফেসবুক পেজে সাইবার হামলা হয়েছে।
রোববার (১২ অক্টোবর) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘আজ রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছিল। ঠিক সেই সময় আমাদের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের ফেসবুক পেজে সাইবার অ্যাটাক চালানো হয়। এতে পেজটি সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে, যদিও পরে আমরা সেটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।’
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘যুক্তিতর্কে বহু তথ্যপ্রমাণসহ তাদের নিষ্ঠুরতার বর্ণনা যেন দুনিয়াবাসী জানতে না পারে, এই অপরাধীরা তা চায় না। তাদের সহযোগীরাও চায় না বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা প্রকাশ পাক। তাই আমাদের পেজে হামলা চালানো হয়েছে। কিন্তু আমরা শেষ পর্যন্ত সেটি পুনরুদ্ধার করেছি।’
অপরাধীদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বার্তা স্পষ্ট—অপরাধ করে পার পাওয়া যাবে না, আর অপরাধীকে রক্ষা করার কোনো প্রচেষ্টাও সফল হবে না, ইনশাআল্লাহ। আমরা কারও প্রতি প্রতিহিংসাপরায়ণ নই; আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিতের জন্য কাজ করছি।’
এদিন বেলা পৌনে ১২টার দিকে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। পুরো প্রেক্ষাপট উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
এ সময় প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সোবহান তরফদারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েক কার্যদিবস এই যুক্তিতর্ক চলবে। এরপর মামলাটি রায়ের পর্যায়ে যাবে।

  • October 13, 2025
  • 0 Comments
সেনাবাহিনীর উদ্যোগকে স্বাগত জানালেন জামায়াত আমির

গুম ও খুনের সঙ্গে জড়িত সেনাবাহিনীর কিছু কর্মকর্তাকে বিচারের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

রোববার (১২ অক্টোবর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এই প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

পাঠকদের জন্য জামায়াত আমিরের পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো—

“গুম ও খুনের সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কতিপয় কর্মকর্তাকে বিচারের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে নিয়ে বাংলাদেশের জনগণ গর্বিত থাকতে চান।
দুঃখজনক হলেও সত্য, এই বাহিনীর কতিপয় সদস্য দেশের বিদ্যমান আইন ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

ফ্যাসিস্ট সরকারের প্ররোচনায় প্রতিপক্ষ নিধনের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ছিলেন অন্ধ সহযোগী। ফলে গুম এবং খুনের একটি ভীতিকর পরিবেশ দেশে সৃষ্টি হয়েছিল, যা একটি জাতির জন্য খুবই দুর্ভাগ্যের বিষয়।

তবে সুনির্দিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির অপরাধের কারণে পুরো প্রতিষ্ঠানকে কলঙ্কিত হতে দেওয়া যায় না। অপরাধের দায় কেবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপরই বর্তাবে। ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এই বিচারপ্রক্রিয়াকে সহায়তা করার স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আমরা সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।

আমরা আশা করি, কারও ওপর কোনো অবিচার চাপিয়ে দেওয়া হবে না। স্বচ্ছ বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্দিষ্ট অপরাধীরা যথাযথ শাস্তির মুখোমুখি হবেন। এতে যেমন অতীতের দায় মুছে যাবে, তেমনি ভবিষ্যতে কেউ নিজের পেশা বা পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে জনগণের জানমালের ক্ষতি সাধন থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হবেন। পরিণতিতে দীর্ঘমেয়াদে জাতি উপকৃত হবে।”

  • October 11, 2025
  • 0 Comments
এনসিপি’র প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে: জাহিদুর রহমান তালুকদার

এনসিপি মানিকগঞ্জ জেলা প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট জাহিদুর রহমান তালুকদার বলেছেন, এনসিপি’র দ্রুত জনপ্রিয়তা ও বিস্তারে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। এনসিপির এই বর্ধন অনেকের কাছে ‘থ্রেট’ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের কিছু নেতা দেশের বাইরে থাকলেও বাকিরা দেশে থেকেই রাজনীতি করছে। ষড়যন্ত্র আর কুচক্র করতে তো মাঠে নামতে হয় না, একবার মনের ভেতর ঢুকিয়ে দিলেই তা কাজ করে।

শনিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে মানিকগঞ্জ শহরের এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে ‘জুলাই যোদ্ধা রাব্বির মিথ্যা অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন সংবাদের প্রতিবাদে’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা রাব্বি নিজেই মামলার বাদী হয়ে জড়িয়েছেন মামলা বাণিজ্যে। মামলা করার পর আদালতে এফিডেভিটের মাধ্যমে বিভিন্ন আসামির পক্ষে সাফাই গেয়ে নিজের মামলার আসামিদের নাম বাদ দিচ্ছেন। আদালতের বাইরে ওই আসামিদের কাছ থেকে তিনি আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন জাহিদুর রহমান। 

এতে আদালতও তার আচরণে অসন্তুষ্ট হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, রাব্বির মামলার আসামি মানিকগঞ্জ পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র তসলিম হৃদয়, লাভলু, রেজাউল করিম চঞ্চল, মাসুদ, দ্বীন ইসলাম ও কামরুলসহ আরও অনেকের নাম তিনি ভুলবশত অন্তর্ভুক্ত করেছেন বলে এফিডেভিটে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু বাস্তবে টাকার বিনিময়েই এসব কাজ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট জাহিদুর রহমান তালুকদার ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট এ.এইচ.এম. মাহফুজ, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মুজাহিদুর রহমান মুরাদ, গালিবুর রহমান গালিব, কাজী হারুনুর রশিদ পিন্টু, প্রফেসর নওয়াব আলী, অ্যাডভোকেট আব্দুল জলিল খান প্রমুখ।

অন্যদিকে, জুলাই যোদ্ধা ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলার বাদী সাদিকুল ইসলাম রাব্বি গত বুধবার (৮ অক্টোবর) এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দার বরাবর এক লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, মামলার ৫৯ নম্বর আসামি ও মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট দেওয়ান মতিনের নাম বাদ না দেওয়ায় এনসিপির জেলা প্রধান সমন্বয়কারী জাহিদ তালুকদার ও যুগ্ম সমন্বয়কারী মাহফুজ তাকে হুমকি দিচ্ছেন।

রাব্বির অভিযোগ, চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহ করলেও সেই অর্থ তার কাছে পৌঁছেনি। মামলার কারণে তিনি ভয়ভীতিতে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

অন্যান্য