• September 2, 2025
  • 0 Comments
দিল্লিতে যে বাড়িতে বসবাস করছেন হাসিনা, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

আওয়ামী লীগের গুজব তৈরির কারখানা হিসাবে খ্যাত সিআরআই’র দায়িত্ব এখন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের হাতে। নয়াদিল্লির অভিজাত এলাকা লুটিয়েন্স বাংলো জোনের কাছেই একটি দোতলা ভবনকে কার্যালয় বানিয়ে তিনি এখন এই প্রতিষ্ঠানটির যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এই লুটিয়েন্স বাংলো জোনেরই একটি বাড়িতে বসবাস করছেন তার মা পতিত স্বৈরাচার ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

অন্তর্বর্তী সরকার, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপির বিরুদ্ধে একের পর এক সাইবার আক্রমণের পেছনে কাজ করছে আওয়ামী লীগের সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন (সিআরআই)। আক্রমণ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না শীর্ষ রাজনীতিবিদ, উপদেষ্টা ও সামরিক-বেসামরিক আমলাসহ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) দিয়ে তৈরি ভিডিও ক্লিপ, বেনামি ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেল ব্যবহার করে সিআরআই এক ধরনের সাইবার যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এক কথায়, জুলাই অভ্যুত্থানকে ব্যর্থ করে দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা মেশিন হিসাবে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি, যা এখন পরিচালিত হচ্ছে ভারত থেকে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, প্রধানত তিনটি লক্ষ্য সামনে রেখে এই মুহূর্তে কাজ করছে সিআরআই। প্রথমত, অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করা। দ্বিতীয়ত, যেকোনো মূল্যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভন্ডুল করা এবং তৃতীয়টি হচ্ছে, বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির বিরুদ্ধে জনমত তৈরিসহ গণ-অভ্যুত্থানের সব শক্তির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ফিরিয়ে আনা। এজন্য প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালের শুরুতে সরকার গঠনের পর ২০১০ সালে সিআরআই’র কার্যক্রম শুরু হয়। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে অবস্থিত শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি ছিল প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা। কিন্তু বাস্তবে গোপনে নানা জায়গা থেকে পরিচালিত হতো সিআরআই’র কার্যক্রম।

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে আশ্রয় নেন দিল্লিতে। শেখ হাসিনার পথ ধরে দলটির বহু নেতা, সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং সংসদ-সদস্যদের বেশির ভাগই দেশ ছাড়েন। এ কারণে সিআরআই’র কার্যক্রমও অনেকটা মুখথুবড়ে পড়ে।

জানা গেছে, ক্ষমতা হারানোর প্রাথমিক ধকল কাটিয়ে উঠে গত তিন মাস থেকে ফের সক্রিয় হয়েছে সিআরআই। তবে এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা ও কাজে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর আগে দীর্ঘদিন সিআরআই’র মূল দায়িত্বে ছিলেন এই মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বসবাসরত হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। এছাড়াও শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ শেখ পরিবারের একাধিক সদস্য প্রতিষ্ঠানটির ট্রাস্টি বোর্ডে রয়েছেন।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের গুজব তৈরির কারখানা হিসাবে খ্যাত সিআরআই’র দায়িত্ব এখন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের হাতে। নয়াদিল্লির অভিজাত এলাকা লুটিয়েন্স বাংলো জোনের কাছেই একটি দোতলা ভবনকে কার্যালয় বানিয়ে তিনি এখন এই প্রতিষ্ঠানটির যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এই লুটিয়েন্স বাংলো জোনেরই একটি বাড়িতে বসবাস করছেন তার মা পতিত স্বৈরাচার ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ায় আইনগতভাবে সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে এখন অফিশিয়ালি সিআরআই’র দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। এ কারণে শেখ হাসিনার নির্দেশে জয়কে সরিয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে সিআরআই’র নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুতুল নিয়মিত এই কার্যালয়ে অফিস করছেন। এখান থেকেই বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে সিআরআই’র কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

এর আগে গত ১১ জুলাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় আঞ্চলিক কার্যালয়ের (এসইএআরও) পরিচালক পদ থেকে সায়মা ওয়াজেদকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠানো হয়। দুর্নীতি, জালিয়াতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুটি মামলা করে। পুতুল আগে থেকেই ভারতে অবস্থান করছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের গবেষণা, তথ্য কার্যক্রম পরিচালনা, নীতিনির্ধারণ, প্রচার-প্রচারণার কাজের কথা বলা হলেও আদতে সিআরআই এখন ভিন্ন কাজ করছে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে আওয়ামী কালচারাল ফ্যাসিস্ট যাদের বলা হয়, তাদের সংগঠিত করে কাজে লাগানোর প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে। এজন্য এ তালিকার টকশোর জনপ্রিয় মুখ, সিনিয়র সাংবাদিক, ইউটিউবার, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার বুদ্ধিজীবীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সিআরআই’র দিল্লির এই কার্যালয় থেকেই এসব ছদ্মবেশী কালচারাল ফ্যাসিস্টদের নানা কৌশলে কাজে লাগাতে বিভিন্ন অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হচ্ছে। উদ্দেশ্য সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে ক্ষেপিয়ে তোলা, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে একে অপরের মুখোমুখি দাঁড় করানো, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা উজ্জীবিত করার নামে লুকিয়ে থাকা আওয়ামী কালচারাল শক্তিকে জড়ো করা, বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিকে চরম প্রতিপক্ষ হিসাবে সঙ্ঘাত সংঘর্ষে জড়ানো এবং সর্বোপরি, সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাঙ্গনে বড় ধরনের সঙ্ঘাত-সহিংসতা সৃষ্টি করে দেশকে চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাওয়া। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগের সব শক্তিকে ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে নিয়ে আসা। সবশেষে সুযোগ বুঝে একসঙ্গে কমপক্ষে ২০ লাখ কর্মী-সমর্থক জড়ো করে ঢাকা অ্যাটাক অথবা যমুনা ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়া।

এ কাজে প্রজন্ম ৭১, মঞ্চ ৭১, ব্রিগেড ৭১, নিউক্লিয়াস ৭১, মুক্তিবাহিনী ৭১, হিস্টোরি অব আগস্ট, নয়া সংগ্রাম ২৫, প্রত্যাবর্তনস-০২, বঙ্গবন্ধু-৭১ এবং জয়বাংলা ব্রিগেডসহ এরকম শতাধিক ফেসবুক আইডি, ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলকে প্রোপাগান্ডা প্ল্যাটফর্ম হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

  • August 31, 2025
  • 0 Comments
অনির্দিষ্টকালের জন‍্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা, হল ত্যাগের নির্দেশ

অনির্দিষ্টকালের জন‍্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। 

রোববার (৩১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনলাইনে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার মধ্যে হল ত‍্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান কম্বাইন্ড ডিগ্রি আন্দোলনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতদের হামলার অভিযোগ উঠে। এতে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

রোববার (৩১ আগস্ট) বেলা ১১টায় কম্বাইন্ড ডিগ্রি বাস্তবায়নের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, পূর্বের মতোই বিএসসি ইন অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি এবং ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিগ্রির পাশাপাশি কম্বাইন্ড ডিগ্রিও চালু থাকবে।

তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্তকে তাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের মূল দাবি থেকে সরে আসা বলে উল্লেখ করেন। ফলে তারা উপাচার্যসহ প্রায় ২৫০ জন শিক্ষককে সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত অবরুদ্ধ করে রাখেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, উপাচার্যের বাসভবনের দিক থেকে হঠাৎ অর্ধশতাধিক বহিরাগত এসে তাদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। এতে নারী শিক্ষার্থীসহ অনেকেই ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অবরুদ্ধ শিক্ষকদের বিষয়ে কথা বলতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে গিয়েছিলাম। পরে হঠাৎ করে শুনতে পেলাম কিছু লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে। তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের প্রস্তুতি ছিল না। 

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে জব্বারের মোড়ে অবস্থান নিতে শুরু করে। তারা এ হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন এবং হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে তুলেছেন। 

  • August 31, 2025
  • 0 Comments
নির্বাচনের বিকল্প কিছু ভাবলে সেটা হবে বিপজ্জনক: প্রধান উপদেষ্টা

নির্বাচন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, নির্বাচনের বিকল্প কেউ কিছু ভাবলে সেটা হবে জাতির জন্য গভীর বিপজ্জনক।
রোববার (৩১ আগস্ট) রাতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, প্রধান উপদেষ্টা বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন হবে।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেছেন, নির্বাচন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। কেউ যদি নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প ভাবেন, তা জাতির জন্য হবে গভীর বিপজ্জনক। 
বৈঠকে আসন্ন দুর্গাপূজা ঘিরে কোনো অস্থিতিশীল পরিবেশ যাতে কেউ সৃষ্টি না করতে পারে, সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সহায়তা চেয়েছেন ড. ইউনূস।
প্রেস সচিব বলেন, আজকের মিটিংগুলোর মাঝামাঝি সময়েই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রীয়াজ এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মুনির হায়দারও দেখা করেছেন। আলী রীয়াজ জুলাই সনদ চূড়ান্ত করার বিষয়ে কি কি অগ্রগতি হচ্ছে, সে বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে অবগত করেছেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে কি মতামত দিয়েছে, সেটা নিয়েও আলোচিত আলোচনা হয়েছে। 
এ ছাড়া বৈঠকে জাতীয় পার্টির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন, বিষয়টি নিয়ে একেকজন একেক রকম মতামত দিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টা সেটি বিস্তারিত শুনেছেন। 
বৈঠকে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির নেতারা ছাড়াও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে আদিলুর রহমান খান, ড. আসিফ নজরুল, ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, ড. খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

  • August 31, 2025
  • 0 Comments
‘পরিচয় মিলেছে’ নুরের লোকদের পেটানো সেই ভাইরাল যুবকের

পুলিশ ও যৌথবাহিনীর হাতে বেদম পিটুনি খেয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের নুরুল ইসলাম নুরসহ দলটির নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের ওই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিশেষভাবে নজর কাড়ে মেরুন টি-শার্ট পরিহিত এক যুবক। তিনি লাঠি হাতে সমানে পেটান নুরের লোকদের।

কিন্তু কে এই যুবক? ডিবি পুলিশের কেউ? যেহেতু তিনি বিনা ইউনিফর্মে ছিলেন, তাই তার পরিচয় নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে জনমনে। কেন তিনি পুলিশের দলে মিশে ওভাবে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের পেটালেন, তা নিয়ে বিতর্কও ওঠে তুঙ্গে।

অবশেষে পরিচয় মিলেছে মেরুন টি-শার্ট পরিহিত সেই যুবকের। খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছে, ওই যুবকের নাম মিজানুর রহমান মিজান। তিনি পুলিশের ট্রান্সপোর্ট শাখায় কর্মরত।

এই শাখা নিয়ে পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছে । তবে তারা তাদের নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।

পুলিশের সূত্রে জানা যায়, ট্রান্সপোর্ট শাখাটিতে মূলত পুলিশের বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত গাড়িচালকদের। এরা সাধারণত পুলিশের বিভিন্ন শাখার সদস্যদের আনা-নেওয়া ও থানার কর্মকর্তাদের ড্রাইভার হিসেবে কাজ করে থাকেন।

‎মেরুন টি-শার্ট পরিহিত ভাইরাল যুবক ব্যক্তি মিজানুর রহমান মিজান সেই ট্রান্সপোর্ট শাখায় কনস্টেবল (ড্রাইভার) হিসেবে কর্মরত। তার বিপি নম্বর- ৯৭১৭১৯৭২৪৩। এছাড়া তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে তাকে বেশ কয়েকবার কল দেওয়া হয়। কিন্তু সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে মিজানুরের ব্যবহৃত নম্বরটিতে হোয়াটসঅ্যাপ খোলা রয়েছে। সেটির প্রোফাইলে তার নেবি ব্লু একটি শার্ট পড়া ছবি দেওয়া। হাতে মোবাইল, কোমরে পিস্তল। মোবাইল হাতে তিনি দাঁড়িয়ে আছেন আয়নার সামনে।

কয়েকটি সূত্র আবার জানিয়েছে, মিজানুর পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নাসিরুল আমিনের গাড়ি চালান। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

‎‎মিজানুর এখন কোথায়, তা জানতে পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিরুল আমিনের সঙ্গে কয়েক দফায় যোগাযোগ করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত সরকারি মোবাইল নম্বরে কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

এর আগে মিজানুরের পেটানোর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এ নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম নিশ্চিত করেন, ওই যুবক ডিবি পুলিশের কেউ নন।

  • August 31, 2025
  • 0 Comments
মার্কিন সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এই শরিফুল?

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে উন্নীত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শরিফুল এম খান। তাকে ঘিরে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই এ অর্জনকে জাতীয় গৌরব হিসেবে দেখছেন।

মঙ্গলবার ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শরিফুল খানকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন জানিয়েছে।

দূতাবাসের বার্তায় উল্লেখ করা হয়, ‘ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরিফুল এম খান আমেরিকার উৎকর্ষের প্রতীক এবং বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীতে এই পদে পৌঁছানো প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসেবে তার নিবেদন ও নেতৃত্ব মাতৃভূমির গৌরব বৃদ্ধির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

গত জুনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ৫৫ জন সামরিক কর্মকর্তাকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পদোন্নতির অনুমোদন দেন, শরিফুল খান ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। পরবর্তীতে ১৩ জুন মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তার পদোন্নতি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।

এরপর ২০ আগস্ট ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে শরিফুল খানসহ অন্য কর্মকর্তাদের অভিষেক সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম রাষ্ট্রদূত এম ওসমান সিদ্দিক। তিনি এক্স-এ দেওয়া পোস্টে আনন্দ প্রকাশ করে জানান, মার্কিন বিমানবাহিনীর ভাইস চিফ জেনারেল শন ব্র্যাটোন স্বয়ং শরিফুল খানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া শরিফুল খান এখন পর্যন্ত মার্কিন সামরিক বাহিনীতে এই পদে উন্নীত হওয়া একমাত্র বাংলাদেশি-আমেরিকান। বর্তমানে তিনি ‘গোল্ডেন ডোম ফর আমেরিকা’ প্রকল্পের স্টাফ ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ দায়িত্বে তিনি বহুস্তরের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কৌশল, নীতি, পরিকল্পনা ও সমন্বয় তত্ত্বাবধান করছেন। পাশাপাশি শিল্প খাত, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তুলছেন, যাতে দ্রুত ও কার্যকরভাবে নতুন প্রজন্মের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা তৈরি করা যায়।

১৯৯৭ সালে শরিফুল খান ইউনাইটেড স্টেটস এয়ার ফোর্স একাডেমি থেকে কমিশনপ্রাপ্ত হন এবং রাজনৈতিক বিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপর মহাকাশ ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণ ও উৎক্ষেপণ প্রকল্পে কাজ করে তিনি একজন দক্ষ স্যাটেলাইট অপারেটর হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি কৌশলগত বুদ্ধিমত্তা, সামরিক কৌশল ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে একাধিক মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

২০০১ সালে কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটিতে এবং ২০০৭ সালে ‘অপারেশন সাইলেন্ট সেন্ট্রি’তে ডিপ্লয়মেন্ট কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ডিফেন্স মেরিটোরিয়াস সার্ভিস মেডেল, মেরিটোরিয়াস সার্ভিস মেডেলসহ বহু সামরিক পদক ও সম্মাননা অর্জন করেছেন এই বাংলাদেশি-আমেরিকান সেনা কর্মকর্তা।

  • August 31, 2025
  • 0 Comments
পাগলা মসজিদের ১৩ দানবাক্সে ৩২ বস্তা টাকা, চলছে গণনা

চার মাস ১৭দিন পর আবারও খোলা হলো কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের দানবাক্স। মসজিদের ১৩টি সিন্দুক বা দানবাক্স খুলে এবার পাওয়া গেছে ৩২ বস্তা টাকা।

শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টায় দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এসময় মসজিদের সভাপতি জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার সদস্যরা। এসময় মসজিদটি ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়।

দানবাক্সের টাকাগুলো বস্তায় ভরে কড়া নিরাপত্তায় মসজিদের দোতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই টাকাগুলো গণনার কাজ শুরু হয়েছে।

এর আগে গত ১২ এপ্রিল খোলা হয়েছিল মসজিদের দানবাক্স। তখন পাওয়া যায় রেকর্ড ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭টাকা। সিন্দুক থেকে বস্তায় ভরা হচ্ছে টাকা।

মসজিদের দোতলায় গিয়ে দেখা যায়, মেঝেতে বসা মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সামনে বস্তা থেকে টাকা ঢেলে দেওয়া হচ্ছে। আর এগুলো ভাঁজ করে গুনছে তারা। গণনার কাজে সহযোগিতা করছেন মসজিদের কর্মকর্তা-কর্মচারি ও ব্যাংকের লোকজন।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) জেসমিন আক্তারের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট টাকা গণনার কাজ তদারকি করছেন। গণনার কাজে দুটি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক, ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মসজিদ কমিটি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ ৪৫০ জন টাকা গণনার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

গত ৪ জুলাই দূর-দূরান্তের দানকারীদের কথা চিন্তা করে পাগলা মসজিদে চালু করা হয় অনলাইন ডোনেশান পদ্ধতি। এরপর থেকে আজকে পর্যন্ত সেখানে ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা পাওয়া গিয়েছে।

মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণত তিন মাস পর পর দানবাক্স খোলা হয়। এবার চার মাস ১৭দিন পর দানবাক্স খোলা হয়েছে। এ কারণে টাকার পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। দেশি টাকা ছাড়াও বিদেশি মুদ্রা ও সোনা-রূপার অলঙ্কারও উল্লেখযোগ্যা পরিমাণ পাওয়া গেছে। গণনা করতে সন্ধ্যা, এমনকি রাতও হয়ে যেতে পারে।

এদিকে গত ১০ আগস্ট ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদ পরিদর্শন করেছেন। তখন তিনি বলেন, “পাগলা মসজিদ ফান্ডে বর্তমানে ৯০ কোটিরও বেশি টাকা রয়েছে। পাগলা মসজিদের দৃষ্টিনন্দন ইসলামিক কমপ্লেক্সের কাজ দ্রুত শুরু হবে এবং নির্বাচনের আগেই সেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।”

স্থানীয়রা জানান, মুসলমানসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকজন এ মসজিদে দান করেন। এখানে দান করলে মনোবাসনা পূরণ হয় এমন বিশ্বাস থেকে তারা ছুটে আসেন পাগলা মসজিদে। দান করেন মোটা অঙ্কের টাকা। টাকার সঙ্গে সোনা-রুপার অলঙ্কারসহ থাকে বিদেশি মুদ্রাও। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, ফলফলাদি, মোমবাতি ও ধর্মীয় বইও দান করেন লোকজন।

তবে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় দানবাক্সে পাওয়া চিঠিপত্র। এসব চিঠিতে লোকজন তাদের জীবনে প্রাপ্তির আনন্দ, না-পাওয়ার বিরহ বেদনা, আয়-উন্নতির ফরিয়াদ, চাকুরির প্রত্যাশা, পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের আশা ও রোগব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে আকুতি প্রকাশ করে।

জানা গেছে, মসজিদের দানের টাকা ব্যাংকে গচ্ছিত থাকে। আর ওই টাকার লভ্যাংশ থেকে ক্যান্সারসহ জটিল রোগে আক্রান্তদের আর্থিকভাবে অনুদান দিয়ে থাকে মসজিদ কমিটি। যে কমিটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন জেলা প্রশাসক।

মসজিদের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান জানান, দানের টাকায় মসজিদের নিয়মিত খরচ চালিয়ে ব্যাংকে জমানো হচ্ছে। ব্যাংকে জমা আছে ৯১ কোটি টাকার উপরে। এ টাকা দিয়ে মসজিদের বড়সড় উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। মসজিদ ঘিরে এখানে ছয়তলাবিশিষ্ট একটি ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মিত হবে। যেখানে ৫০ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারবে। এরমধ্যে পাঁচ হাজার নারীর জন্য আলাদাভাবে নামাজের ব্যবস্থা থাকবে। সেখানে সমৃদ্ধ লাইব্রেরিসহ থাকবে আরো বিভিন্ন আয়োজন।

  • August 31, 2025
  • 0 Comments
যুদ্ধবিরতি চেয়ে ইসরায়েলজুড়ে বিক্ষোভ, নেতানিয়াহুর রোষানলে জিম্মিদের পরিবার

গাজায় জিম্মি ৫০ বন্দীকে মুক্ত করার দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন ইসরায়েলের হাজার হাজার মানুষ। আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ভোর থেকে এ বিক্ষোভ শুরু হয়। জিম্মি ও নিখোঁজ পরিবারের ফোরাম এ কর্মসূচির আয়োজন করে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে এ বিক্ষোভের আয়োজন করে সংগঠনটি।

বিক্ষোভের সূচনা হয় সকাল ৬টা ২৯ মিনিটে, ঠিক ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যে সময়টিতে হামাস হামলা চালিয়েছিল। বিক্ষোভকারীরা তেল আবিবে মার্কিন দূতাবাসের বাইরে ইসরায়েলি পতাকা উত্তোলন করে তাঁদের কর্মসূচি শুরু করেন। এরপর সকাল ৭টা থেকে বিক্ষোভকারীরা দেশের কয়েকটি প্রধান মহাসড়ক (চৌরাস্তা) অবরোধ করেন। সেখানে তাঁরা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে ও ব্যানার হাতে সব জিম্মিকে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।

তেল আবিবের আয়ালোন হাইওয়ে, জেরুজালেম ও তেল আবিবের মধ্যকার রুট-১ ও উপকূলীয় রুট-২ হাইওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকে, যার ফলে দেশের বেশির ভাগ স্থানে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসব রাস্তা খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

পরে এক পুলিশ বলেছে, প্রতিবাদ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মানে এই নয় যে অন্যদের চলাচলের স্বাধীনতায় ব্যাঘাত ঘটানো হবে। অনুমতি ছাড়া রাস্তা অবরোধ করা গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে জিম্মিদের পরিবারের সদস্যরা তেল আবিবের হোস্টেজ স্কয়ারে জড়ো হয়ে সংবাদমাধ্যমে একটি বিবৃতি দেন। জিম্মি মাতান জাঙ্গাউকারের মা এইনাভ জাঙ্গাউকার অভিযোগ করেন, ৬৯০ দিন ধরে যুদ্ধ চলার পরেও কোনো ‘স্পষ্ট লক্ষ্য’ নেই। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একটি জিনিসকে ভয় পান—তা হলো জনগণের চাপ। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁদের সরকার বন্দিদশা থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তি ও জিম্মিদের পরিবারকে চুপ করানোর জন্য তাঁদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। তিনি জনগণকে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের শক্তি দিয়ে একটি সামগ্রিক চুক্তি ও যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানো সম্ভব। সরকার তাঁদের (জিম্মিদের) ত্যাগ করেছে, কিন্তু জনগণ তাঁদের ফিরিয়ে আনবে।’

জিম্মি এইতান হর্নের বাবা ইৎজিক হর্ন সরকারের বিরুদ্ধে ‘জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার চুক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ভন্ডুল করার’ অভিযোগ তোলেন। গত সপ্তাহে হামাস জানিয়েছিল, তারা এমন একটি জিম্মি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে, যেখানে অর্ধেক জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হবে এবং অন্যদের মুক্তির জন্য আলোচনা শুরু হবে। তবে নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েল কেবল তখনই চুক্তিতে সম্মত হবে, যখন সব জিম্মিকে একবারে মুক্তি দেওয়া হবে। তিনি গাজা সিটি দখলের লক্ষ্যে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন।

হোস্টেজ স্কয়ারে ইৎজিক হর্ন বলেন, এ সরকার তার নাগরিকদের ত্যাগ করছে… এবং জীবনের পবিত্রতা ও পারস্পরিক দায়িত্বের মৌলিক নৈতিক কাঠামোকে ভেঙে ফেলছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সামনে চুক্তি থাকা সত্ত্বেও গাজা দখলের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া জিম্মিদের পরিবার ও পুরো জাতির হৃদয়ে আঘাতের মতো। জিম্মি সেনা নিম্রোদ কোহেনের বাবা ইয়েহুদা কোহেন তাঁর ছেলের অপহরণের একটি অপ্রকাশিত ভিডিওর কথা উল্লেখ করেন, যা তাঁর পরিবার গতকাল সোমবার প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের জনগণ জিম্মিদের পক্ষে দাঁড়িয়েছে, জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে এবং জনমত জরিপও তা দেখায়। ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ যুদ্ধের অবসান ও জিম্মিদের মুক্তি চায়।’

বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এক প্রতীকী প্রদর্শনী—একটি লম্বা টেবিলের পাশে সারি সারি হলুদ চেয়ার, যার প্রতিটিতে একজন করে জিম্মির ছবি লাগানো। টেবিলে প্লেটগুলো সাজানো থাকলেও খালি ছিল। কালো টেবিলক্লথের ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল রুটি, ডাল ও বালি, যা বন্দিদশার অমানবিক পরিস্থিতি ও অনাহারের চিত্র তুলে ধরে।

আয়োজকেরা বলেন, এ বিক্ষোভের মাধ্যমে তাঁরা দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তুলতে চান। তাঁদের দাবি, জনগণের সম্মিলিত চাপেই নেতানিয়াহু সরকারকে জিম্মি চুক্তিতে রাজি হতে বাধ্য করা যাবে, কারণ, দেশের বেশির ভাগ মানুষ এখন আর যুদ্ধ চান না।

  • August 29, 2025
  • 0 Comments
নদীভাঙনে নিঃস্ব দানশীল ছোরহাব: সমাজসেবার দৃষ্টান্ত আজ আশ্রয়হীনতার দ্বারপ্রান্তে

“সারা জীবন যা ছিল, মানুষের কল্যাণেই দিয়েছি। অথচ আজ আমি-ই দাঁড়িয়ে আছি নিজের ঘরবাড়ি হারানোর দ্বারপ্রান্তে। বাবার কবর হারিয়েছি নদীতে, এবার চোখের সামনে মায়ের কবরও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে”— এভাবেই বুকভাঙা হাহাকার ঝরালেন মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পশ্চিম কুমুল্লি গ্রামের প্রবীণ সমাজসেবক ছোরহাব উদ্দিন (৭০)।

স্থানীয়রা তাকে ডাকে দানশীল ছোরহাব। সামাজিক কবরস্থানের জন্য জমি দান করেছেন, দুইটি মসজিদের জন্য জমি দিয়েছেন, এমনকি একটি মসজিদ নির্মাণে বিক্রি করেছেন নিজের এক বিঘা জমি। কখনো ব্যক্তিস্বার্থে সম্পদ ব্যবহার না করে সারা জীবন ব্যয় করেছেন সমাজকল্যাণে। অথচ আজ সেই মানুষটিই ভিটেমাটি হারিয়ে আশ্রয়হীনতার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, কালীগঙ্গার ভাঙন তার বসতভিটের ৬০ শতাংশ গ্রাস করেছে। মায়ের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি অসহায় চোখে তাকিয়ে আছেন নদীর হুংকারমুখী স্রোতের দিকে। তার বাড়িসহ আশপাশের অন্তত ২০ পরিবার ইতোমধ্যে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। আরও অর্ধশত পরিবার ভাঙনের হুমকিতে দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, ছোরহাব উদ্দিন শুধু সমাজসেবক নন, ছিলেন এলাকার প্রবীণ মাতব্বর ও ন্যায়ের প্রতীক। অসহায় মানুষের চিকিৎসা, খাদ্য সহযোগিতা, দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিয়েতে সহায়তা, এমনকি নিজের বাড়ির ভেতর দিয়ে রাস্তা উন্মুক্ত করে দেয়ার মতো অসামান্য মানবিকতার দৃষ্টান্ত রেখেছেন তিনি। আজ সেই মানুষই আশ্রয় হারানোর দ্বারপ্রান্তে, যা গোটা গ্রামবাসীর জন্যও বেদনাদায়ক।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল খান জানান, “এক সময়ের অবস্থাসম্পন্ন সমাজসেবক ছোরহাব উদ্দিনের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। আমরা উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছি, দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে।”

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, “কালীগঙ্গা নদীর ভাঙন রোধে জরিপ ও প্রাথমিক পরিকল্পনা সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই জিও ব্যাগ ফেলার মাধ্যমে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু হবে।”

এলাকাবাসীর দাবি— অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে নদীভাঙন রোধ করতে হবে এবং দানশীল ছোরহাব উদ্দিনসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

  • August 29, 2025
  • 0 Comments
রোহিঙ্গাদের ধরে জাহাজে তুলে সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে ভারত

মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে সমুদ্রে এনে ফেলে দিচ্ছে ভারত। ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী এ অভিযোগ করেছেন। তাদের অভিযোগ, রাজধানী দিল্লি থেকে আটক করে নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে সাগরে ফেলে দেওয়া হয় তাদের।

জাতিসংঘ বলছে, ভারত রোহিঙ্গাদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। খবর বিবিসির।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নুরুল আমিন নামে একজন রোহিঙ্গা নাগরিক গত ৯ মে সর্বশেষ তার ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন। ফোনালাপটি ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু ভয়ংকর সংবাদ বয়ে আনে। তিনি জানতে পারেন, তার ভাই খাইরুলসহ পরিবারের আরো চারজনকে ভারতের সরকার মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছে। মূলত ওই দেশটি থেকে তারা বহু বছর আগে প্রাণভয়ে পালিয়ে এসেছিলেন।

দিল্লিতে বসে ২৪ বছর বয়সী আমিন বলেন, “আমার বাবা-মা ও স্বজনেরা কী যন্ত্রণার মধ্যে আছেন, সেটা কল্পনাও করতে পারিনি”।

তাদের দিল্লি থেকে সরিয়ে নেওয়ার তিন মাস পর বিবিসি মিয়ানমারে ওই রোহিঙ্গাদের খুঁজে পায়, যাদের বেশিরভাগই আশ্রয় নিয়েছেন বাহটু আর্মি (বিএইচএ)-এর কাছে। বিএইচএ মূলত একটি প্রতিরোধ গোষ্ঠী যারা দক্ষিণ-পশ্চিম মিয়ানমারে জান্তার সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

ভিডিও কলে সৈয়দ নূর বলেন, “আমরা এখানে নিরাপদ নই। পুরো এলাকা যেন যুদ্ধক্ষেত্র”। কাঠের তৈরি ওই আশ্রয়ে তার সঙ্গে ছিলেন আরও ছয়জন রোহিঙ্গা।

শরণার্থী ও দিল্লিতে থাকা তাদের স্বজনরা বলছেন ভাষ্য, বিশেষজ্ঞদের তদন্ত ও তথ্য জোগাড় করে বিবিসি ঘটনার ধারাবাহিকতা পুনর্গঠন করেছে।

তথ্য অনুযায়ী, তাদের দিল্লি থেকে বিমানে বঙ্গোপসাগরের একটি দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে নিয়ে শেষে আন্দামান সাগরে ফেলে দেওয়া হয়, যদিও লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয়েছিল। পরে সাঁতরে তীরে ওঠেন তারা। এখন তারা মিয়ানমারে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। এই দেশটি থেকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিপীড়ন এড়াতে পালিয়ে এসেছেন বহু মুসলিম রোহিঙ্গা।

সমুদ্রে ফেলে দেওয়া প্রসঙ্গে জন নামে এক রোহিঙ্গা ফোনে তার ভাইকে বলেন, “আমাদের হাত বেঁধে, চোখ-মুখ ঢেকে বন্দির মতো জাহাজে তোলা হলো। তারপর সমুদ্রে ফেলে দেয়।”

নুরুল আমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মানুষকে কীভাবে এভাবে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া যায়? মানবতা পৃথিবীতে এখনো বেঁচে আছে, কিন্তু ভারতের সরকারের মধ্যে আমি কোনো মানবতা দেখিনি।”

মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক টমাস অ্যান্ড্রুজ বলেন, এসব অভিযোগ প্রমাণের মতো “গুরুত্বপূর্ণ তথ্য” তার হাতে আছে। তিনি জেনেভায় ভারতের মিশন প্রধানের কাছে এ সংক্রান্ত প্রমাণও জমা দিয়েছেন, কিন্তু কোনো উত্তর পাননি।

বিবিসি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও বহুবার যোগাযোগ করেছে, কিন্তু কোনো সাড়া মেলেনি।

উল্লেখ্য, ভারতে রোহিঙ্গাদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না; বরং ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করে। বর্তমানে ভারতে প্রায় ২৩ হাজার ৮০০ রোহিঙ্গা জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের নিবন্ধিত হলেও, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে প্রকৃত সংখ্যা ৪০ হাজারেরও বেশি।

  • August 29, 2025
  • 0 Comments
ইতিহাসে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নির্বাচন হবে এবার: ইসি আনোয়ার

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, নির্বাচন কমিশন এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের জায়গা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হবে। সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ভালো নির্বাচন করতে হবে। এর বিকল্প নেই।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ঘরে ফেরার আর কোনো পথ খোলা নেই। সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, এর দায় নির্বাচনি কর্মকর্তাদেরও বহন করতে হবে। জীবন ঝুঁকির মুখে পড়লেও নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ফাঁকিবাজি বরদাশত করা হবে না।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সামনে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। তার মতে, সব ধরনের চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, জীবন চলে যেতে পারে, তবু নির্বাচনে ফাঁকিবাজি করা যাবে না।

অন্যান্য