• August 26, 2025
  • 0 Comments
মানিকগঞ্জ–মুন্সিগঞ্জে সংসদীয় আসন পুনর্বহালের দাবি তীব্র হচ্ছে

মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ জেলার প্রতিনিধিরা সংসদীয় আসন পুনর্বহালের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে ঢাকা অঞ্চলের দাবি–আপত্তির শুনানিতে এ দাবি ওঠে।
মানিকগঞ্জের প্রতিনিধি ব্যারিস্টার খাইরুল আলম চৌধুরী বলেন,“২০০১ সাল পর্যন্ত মানিকগঞ্জে চারটি আসন ছিল। কিন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচন থেকে একটি আসন কমিয়ে তিনটিতে নামিয়ে আনা হয়। এতে সংসদে মানিকগঞ্জের জনগণের কণ্ঠস্বর ক্ষীণ হয়েছে। উন্নয়ন বাজেট ও বরাদ্দও অনেক কমে গেছে। আমরা যৌক্তিকভাবে চার আসনের দাবি তুলেছি।”

মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খানম রিতা বলেন,“আমি রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হয়ে এখানে এসেছি। মানিকগঞ্জের প্রতিটি স্তরের মানুষ তাদের পূর্বের চারটি আসন ফেরত চায়। এটি এখন জনগণের দাবি।”

অন্যদিকে মুন্সিগঞ্জের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জানান,
“মুন্সিগঞ্জেও আগে চারটি আসন ছিল। বর্তমানে তিনটিতে সীমিত করা হয়েছে। আমাদের দাবি, পুনরায় চার আসন করা হোক। একইসঙ্গে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বসহ উপস্থাপন করেছি।”

এদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শুনানিতে অংশ নেন মানিকগঞ্জ–১, ২, ৩; মুন্সিগঞ্জ–১, ২, ৩; গাজীপুর–১, ২, ৬; নরসিংদী–৩, ৪, ৫; নারায়ণগঞ্জ–৩, ৪, ৫ আসনের প্রতিনিধিরা। আর বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা জেলার বিভিন্ন আসনের শুনানি।

প্রতিনিধিদের দাবি, জনসংখ্যা ও এলাকার ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনা করে সংসদীয় আসনের সংখ্যা পুনর্বহাল করা হলে জনগণের প্রকৃত মতামত সংসদে প্রতিফলিত হবে।

  • August 26, 2025
  • 0 Comments
ফজলুর রহমানকে নিয়ে ৯৭ সংগঠনের যৌথ বিবৃতি

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা ফজলুর রহমানের ‘৫ আগস্ট’ নিয়ে দেওয়া বক্তব্য জুলাই-আগস্টে শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানির শামিল। অবিলম্বে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চব্বিশের ৫ আগস্ট নিয়ে ফজলুর রহমানের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে ফজলুর রহমানের সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করে তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি দেবে গণঅভ্যুত্থানের বৃহত্তর ঐক্যবদ্ধ শক্তি ‘জুলাই ঐক্য’।

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে ‘৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ ঘটিয়েছে কালো শক্তি, যারা ৫ আগস্ট ঘটিয়েছে, তাদের আমি নেতা বলতে চাই না, তারা কেবল অভিনেতা। মানুষ এখন বুঝে গেছে, এরা রাজাকারের বংশধর’ এমন বক্তব্য দেন নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা ফজলুর রহমান। জুলাই ঐক্য মনে করে তার এই বক্তব্য সরাসরি গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটে আঘাত করেছে। ফজলুর রহমানের এই বক্তব্য শুধু জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকে বিতর্কিত নয়, বিএনপির দীর্ঘদিনের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। জুলাই বিপ্লব নিয়ে ফজলুর রহমানের ক্রমাগত কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থি। আমরা জানতে পেরেছি, এই ঘটনায় তাকে শোকজ করা হয়েছে। বাংলাদেশে শোকজের রাজনীতি যুগ যুগ ধরে চলছে। এ ঘটনা যেন শুধু শোকজে থেমে না থাকে। তার জন্য বিএনপিকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

দীর্ঘ ১৫ বছর আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের সময় ফজলুর রহমান বাধাহীনভাবে কাটিয়েছিলেন। যখন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা পরিবার ছেড়ে পালিয়ে ছিলেন, তখনও ফজলুর রহমানরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। প্রায় দুই হাজার ছাত্র-জনতার প্রাণের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছে বিএনপিসহ দেশের রাজনৈতিক দলগুলো। রাজনৈতিক দলগুলোকে মনে রাখতে হবে, সে কথা বলার স্বাধীনতা মানে মুজিববাদের পুনরুত্থান নয়। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর এখনো যারা ফ্যাসিবাদের চর্চা করছেন, আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের দুঃস্বপ্ন দেখেছেন, একই সঙ্গে ভারতের ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করছেন সব দল এবং ব্যক্তিকে হুঁশিয়ার করে দিচ্ছি। জুলাই শেষ হয়নি। প্রয়োজনে আমরা চূড়ান্ত বিপ্লবের পথ বেছে নেব। তখন কোনো আদর্শই জুলাই শক্তির সামনে টিকে থাকতে পারবে না।

  • August 23, 2025
  • 0 Comments
আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের ভেতরে যেন কোনো ফাটল না ধরে: আফরোজা খানম রিতা

স্টাফ রিপোর্টার, মানিকগঞ্জ :

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের ভেতরে গ্রুপিং থাকলে আমাদের আর কোনো আশার জায়গা থাকবে না। আমরা তো আপনাদের কাছ থেকেই শিখব- কিভাবে দেশকে ভালোবাসতে হয়, কিভাবে নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠিত থাকা যায় এবং সর্বোপরি কিভাবে দেশের জন্য কাজ করা যায়। আপনারাই আমাদের উৎসাহ দেবেন। এজন্য আমরা চাই আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে যেন কোনো ফাটল না ধরে। আমরা যারা জিয়াউর রহমানের সৈনিক, আমরা যেন সকলে একত্রিত হয়ে এক ছাতার নিচে থাকতে পারি।’

শুক্রবার-২২ আগস্ট বেলা সাড়ে এগারোটায় মানিকগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘একসাথে কাজ করতে গেলে ছোটখাটো দ্বন্দ্ব মানুষের মধ্যে থাকতেই পারে। কিন্তু আমরা আপনাদের সন্তান হয়ে দাবি করছি- আপনারা সকলে বিভেদ ভুলে একত্রিত হয়ে যান। আমাদের ভেতরে যেন কোনো গ্রুপিং না থাকে। কারো ব্যক্তিগত কোনো ভুল-ত্রুটি থাকলে তা শুধরে নিয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তবে দলের বিপক্ষে যে কাজ করছে, তাকে নিয়ে নয়। আমরা মানিকগঞ্জের জন্য এবং দেশের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।’

তিনি বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচার সরকারের আমলে আমরা এবং আমাদের নেতাকর্মীরা নানা প্রতিকূলতার ভেতর দিয়ে গিয়েছি। আমাদের ওপর অন্যায়-অত্যাচার, জুলুম, হামলা-মামলা সবই করেছে তারা। মানিকগঞ্জ বিএনপির ঘাঁটি সারা বাংলাদেশ জানে, সেখানে আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এই মুক্তিযোদ্ধা ভবনে বিএনপির সমর্থিতদের আসতে দেওয়া হয়নি। আমরা এখন সকলে এক ছাতার নিচে একত্রিত থাকব।’

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মানিকগঞ্জ জেলা কমিটির

আহ্বায়ক আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে ও

 যুগ্ম আহ্বায়ক ডাক্তার হায়দার আলী মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোছা: ইয়াসমিন খাতুন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য-সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহমেদ খান, সদস্য নুরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক নুরুল বাশার, মানিকগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য সচিব শহিদুল হকসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রায় দুই শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা।

  • August 21, 2025
  • 0 Comments
ভারতের মাটিতে আ.লীগের কার্যালয়, যা জানাল দিল্লি

কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের বিবৃতিকে ভুল হিসেবে অভিহিত করেছে ভারত। দেশটি বলেছে, ভারতের মাটি থেকে অন্য দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালনার অনুমতি দেয় না সে দেশের সরকার।

বুধবার (২০ আগস্ট) দিল্লিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা প্রেস বিবৃতি সম্পর্কে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে ভারত সরকারের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ভারতে আওয়ামী লীগের সদস্যদের দ্বারা বাংলাদেশবিরোধী কোনো কার্যকলাপ বা ভারতীয় আইনের পরিপন্থি কোনো কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ভারত সরকার অবগত নয়। সরকার ভারতের মাটি থেকে অন্য দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালনার অনুমতি দেয় না। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস বিবৃতি তাই ভুল।

রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, ভারত তার প্রত্যাশা পুনর্ব্যক্ত করে যে, জনগণের ইচ্ছা এবং ম্যান্ডেট নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অবাধ, সুষ্ঠু এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ভারতের মাটিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যালয়গুলো অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ।

বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ও ফৌজদারি মামলার পলাতক আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা এখনও ভারতে অবস্থান করছেন। এদের মধ্যে কয়েকজন গত ২১ জুলাই দিল্লি প্রেস ক্লাবে একটি এনজিওর ব্যানারে সভা করার চেষ্টা করেন এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে প্রচারপত্র বিতরণ করেন। বিষয়টি ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

  • August 21, 2025
  • 0 Comments
বিএনপি পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে নয় : মির্জা ফখরুল

বিএনপি পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে নয় বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য জাতীয় নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। দেশের মানুষ নির্বাচন চায়। সংকট নিরসনের একমাত্র পথ দ্রুত নির্বাচন। যারা সংস্কার চাচ্ছে না, সেটা তাদের দলের ব্যাপার।

এ সময় ডাকসু নির্বাচন নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সবার অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হোক এটাই প্রত্যাশা আমাদের।

গত ১৩ আগস্ট চোখের ফলোআপ চিকিৎসার জন্য সস্ত্রীক থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উদ্দেশে রওনা হন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তিনি ও তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম ব্যাংককের উদ্দেশে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

এর আগে, চোখের চিকিৎসার জন্য গত ১৩ মে সস্ত্রীক ব্যাংকক গিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল। ব্যাংককের রুটনিন আই হাসপাতালে পরদিন ১৪ মে মির্জা ফখরুলের বাঁ চোখে সফল অস্ত্রোপচার হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে দুই সপ্তাহের বেশি সময় বিশ্রামে ছিলেন তখন। পরে চোখের চিকিৎসা শেষে গত ৭ জুন দেশে ফেরেন তারা।

  • August 21, 2025
  • 0 Comments
জামায়াতকে নিয়েই ‘নিশ্চিত ঐক্যের পথে’ ইসলামি দলগুলো

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ অন্তর্বর্তী সরকার। এই নির্বাচন সামনে রেখে জোরদার হচ্ছে ইসলামি দলগুলোর ঐক্যের তৎপরতা। এতদিন বিএনপির মিত্র হিসেবে থাকা জামায়াতে ইসলামী এবার ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যে ভিড়ছে এটাও মোটামুটি নিশ্চিত।
ইসলামি দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফ্যাসিবাদী আমলে ইসলামপন্থি দলগুলো নানাভাবে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশকে বিবেচনায় নিয়ে আদর্শিক দ্বন্দ্ব ভুলে বৃহত্তর স্বার্থে এক হওয়ার জন্য ঐক্যের প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছেন তারা। জামায়াতকে নিয়েই এই ইসলামি জোটের সমীকরণ এগোচ্ছে।
গত বছর ৫ আগস্টের পর ইসলামি দলগুলো নিয়ে ঐক্যের ডাক কিংবা এক প্ল্যাটফর্মে আনার আলোচনা শুরু করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এরপর এ প্রক্রিয়ায় সরব হয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এরই মধ্যে বেশ কয়েক দফা বৈঠক করেছে ইসলামি দলগুলো। তবে আসন সমঝোতার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আপাতত প্রতিটি দল নিজস্ব সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়। সামগ্রিক ঐক্যের ব্যাপারে তারা আশাবাদী।

‘ঐক্যের প্রক্রিয়াটি খুবই পজিটিভলি এগোচ্ছে’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দীন বলেন, ‘ঐক্যের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। সবাই নিজ নিজ দলে কাজ করছি। মতভেদ, আদর্শিক বিভক্তি এখন আর নতুন বাংলাদেশে কোনো ইস্যু হবে না। ইসলামি দলগুলোর ঐক্যের প্রক্রিয়াটি খুবই পজিটিভলি এগোচ্ছে। ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশ, মতভেদ ভুলে সবাই পাশে থাকবে। ঐক্য হবেই।’

জামায়াতসহ ঐক্য হবে এটা মোটামুটি নিশ্চিত। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ঐক্যের ব্যাপারে পজিটিভ। আশা করি সমঝোতাও হবে।- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ মো. ইউনূস আহমেদ

‘জামায়াতসহ ঐক্য হবে এটা মোটামুটি নিশ্চিত’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ মো. ইউনূস আহমেদ বলেন, ‘আমরা সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। সবাই পজিটিভ আছে। কওমি ঘরনার যারা আছে তারা তো সবাই মোটামুটি এক হয়ে আছে। সব দলের সঙ্গে যোগাযোগ, মিটিং চলমান। এরপর শিডিউল ঘোষণার আগে বা পরে আমরা বসে আসন বণ্টনের মাধ্যমে সমঝোতা করবো। আমরা সমঝোতার দিকে যাচ্ছি এটা নিশ্চিত।’
ইসলামি দলগুলোর ঐক্য দেখে চাঁদাবাজদের সহ্য হচ্ছে না: চরমোনাই পীর
ইসলামি দলগুলোকে কাছে পেতে ছুটছেন তারা
তিনি বলেন, ‘জামায়াতসহ ঐক্য হবে এটা মোটামুটি নিশ্চিত। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ঐক্যের ব্যাপারে পজিটিভ। আশা করি সমঝোতাও হবে। আপাতত প্রত্যেক দল তার এলাকায় কাজ করছে। আসন সমঝোতার সময় কে কোথায় নির্বাচন করবে, তখন সে সিদ্ধান্ত হবে।’

  • August 20, 2025
  • 0 Comments
দ্য ডিপ্লোম্যাটের নিবন্ধ : বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর পুনরুত্থান

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশের বৃহত্তম ও সংগঠিত ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী (জামায়াত) দ্রুত প্রভাব বিস্তার করেছে। হাসিনা সরকারের আমলে দলটি ছিল কঠোর দমন-পীড়নের শিকার। কিন্তু পরবর্তী সময়ে জামায়াত আবারও শক্ত অবস্থান তৈরি করছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জামায়াত এখন মূল ক্ষমতাধারী গোষ্ঠীর একটিতে পরিণত হয়েছে। তাদের সদস্যরা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বের জায়গা দখল করেছে। জামায়াত তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র বিএনপিকে ছেড়ে নতুনভাবে গঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে জোট বেঁধেছে। এনসিপি মূলত সেই ছাত্রনেতাদের দ্বারা গঠিত, যারা শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল। এ জোট এখন বিএনপি থেকে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে এবং প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার এজেন্ডাকে নিজেদের অনুকূলে নিতে চাইছে।

মে মাসে জামায়াত ও এনসিপি রাস্তায় নেমে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার দাবি তোলে। পরে ইউনূস সরকার তাদের দাবির প্রতি সাড়া দিয়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত করে। হাসিনা সরকারের সময় জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের অনেককেই যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় কিংবা তারা কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন। গোলাম আযম, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, দেলওয়ার হোসেইন সাঈদী, কামারুজ্জামান প্রমুখ ছিলেন তাদের মধ্যে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এ ট্রাইব্যুনালের প্রক্রিয়াগত ত্রুটি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে। ২০১৩ সালে এ দলটির নিবন্ধন বাতিল হয় এবং ২০২৫ সালের ১লা আগস্ট (হাসিনার দেশত্যাগের চারদিন আগে) দলটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। এর ফলে অনেক জামায়াতকর্মী নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগে প্রবেশ করেন। কেউ কেউ সরকারি চাকরিতেও ঢুকে পড়েন।

জামায়াত একটি ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায় এবং স্থানীয় পর্যায়ে ধর্মীয়, সামাজিক, খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে এমন শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। তবে সমালোচকদের মতে, নারীদের ও সংখ্যালঘুদের সমঅধিকারে দলটি আস্থাশীল নয়। সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াত নারী ও সংখ্যালঘুবান্ধব কিছু বক্তব্য দিলেও সমালোচকরা একে কৌশলগত রূপান্তর বলে মনে করেন, মৌলিক আদর্শগত পরিবর্তন নয়। দলটির সংবিধানে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর নির্দেশনা অনুযায়ীই নীতি প্রণয়ন করা হবে।’ দলটির প্রশিক্ষণ সিলেবাস ও ওয়েবসাইটে প্রতিষ্ঠাতা আবুল আ’লা মওদুদীর বই স্থান পেয়েছে। মওদুদীকে অনেকে চরমপন্থার প্রচারক মনে করেন, যদিও কিছু গবেষক বলেন বৃটিশ ঔপনিবেশিক দমননীতি প্রেক্ষাপটে তার চিন্তাভাবনা বোঝা উচিত। জামায়াত বর্তমানে অনলাইন কর্মীদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করছে এবং বিএনপিবিরোধী বক্তব্যকে মূলধারায় আনতে সক্ষম হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও তারা পরিচয় গোপন করে কার্যক্রম চালাচ্ছে। সম্প্রতি জামায়াতসম্পৃক্ত সংগঠনগুলো সেখানে জুলাই আন্দোলন নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে। তাতে সাবেক এক মার্কিন কূটনীতিকও অংশ নেন। অনেকেই জানতেন না এটি জামায়াত আয়োজন করেছে।

এনসিপির সঙ্গে জামায়াতের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির জোট বাঁধায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের উপস্থিতি কমে গেছে। জামায়াত দীর্ঘদিন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতার দায়ে কলঙ্কিত হয়ে এসেছে। তবে আওয়ামী লীগের অতিরিক্তভাবে ‘৭১-এর চেতনা’কে রাজনীতিকরণ করার কারণে এ বিষয়টি সাধারণ ভোটারদের কাছে আগের মতো প্রভাব বিস্তার করছে না।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও সম্প্রতি বলেন, ‘কে ’৭১-এর পক্ষে আর কে বিপক্ষে- এই রাজনীতি দেশের জন্য পুরনো কাঠামো। জামায়াত কেবল এনসিপি নয়, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এমনকি হেফাজতে ইসলামসহ অন্য ইসলামি সংগঠনগুলোর সঙ্গেও বৃহত্তর জোট গড়ার চেষ্টা করছে। এতে বাংলাদেশের মূলধারার রাজনীতি ডানদিকে সরে যাবে। ফলে বিএনপি, যারা ঐতিহ্যগতভাবে মধ্যডানপন্থি দল, এখন অপেক্ষাকৃতভাবে মধ্যপন্থার দিকে সরে এসেছে।

তবে ভোটে এককভাবে জামায়াত বড় শক্তি নয়। তাই এনসিপির সঙ্গে থেকে রাজনৈতিক মঞ্চে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছে। পাশাপাশি তারা নির্বাচনী পদ্ধতি পরিবর্তনেরও দাবি তুলছে- বর্তমান ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট (এফপিটিপি) পদ্ধতি বাদ দিয়ে অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি চালুর প্রস্তাব করছে। এতে ছোট দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়বে, যদিও বিএনপি এ পরিবর্তনের বিপক্ষে। বাংলাদেশে জামায়াতের পুনরুত্থান শুধু দেশীয় রাজনীতিতেই নয়, বৈশ্বিক ইসলামি রাজনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তুরস্ক বর্তমানে বাংলাদেশে জামায়াতসহ রক্ষণশীল শক্তিগুলোর ওপর আর্থিক ও কৌশলগত প্রভাব বাড়িয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব আরও হ্রাস পেতে পারে।
(অনলাইন দ্য ডিপ্লোম্যাট থেকে অনুবাদ)

  • August 20, 2025
  • 0 Comments
মানিকগঞ্জ-১ : বিএনপিতে মনোনয়ন দৌড়ঝাঁপ, মাঠে একক জামায়াত

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মানিকগঞ্জ-১ আসন। ধানের শীষের ঐতিহ্যবাহী এই ঘাঁটিতে বিএনপি’র ভেতরে মনোনয়ন নিয়ে শুরু হয়েছে দৌড়ঝাঁপ, আর অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ইতিমধ্যেই একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমে পড়েছে।

পদ্মা-যমুনা-কালীগঙ্গা-ধলেশ্বরী নদীবেষ্টিত ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয়—এই তিন উপজেলাকে নিয়ে গঠিত মানিকগঞ্জ-১ আসনে এখন ভোটের মাঠ সরগরম। দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে ভেবে সাধারণ ভোটাররা যেমন উচ্ছ্বসিত, তেমনি নতুন প্রজন্মের ভোটারদের মাঝেও তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ।

বিএনপি’র প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনটি ২০০৮ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি’র অনুকূলে যেতে পারে বলে মনে করছেন তৃণমূল ভোটাররা। তবে চূড়ান্ত প্রার্থী কে হবেন, তার ওপরই নির্ভর করছে জয়-পরাজয়ের হিসাব।

বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশী দৌড়ে যারা আছেন:

চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আফরোজা খান রিতা – তিন উপজেলাতেই সাংগঠনিক ভরসা।

প্রয়াত মহাসচিব দেলোয়ার হোসেনের দুই ছেলে – ড. খন্দকার আকবর হোসেন বাবলু ও খন্দকার আকতার হামিদ পবন।

জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএ জিন্নাহ কবীর, দৌলতপুরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হক তোজা। জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি খন্দকার ফারহানা ইয়াসমীন আতিকা।আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আজাদ হোসেন খানসহ আরও অনেকে।

জামায়াতে ইসলামী:
মনোনয়ন নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। একক প্রার্থী হিসেবে ডা. আবু বকর সিদ্দিক ইতোমধ্যেই মাঠে নেমেছেন এবং গণসংযোগে ভোটারদের সাড়া পাচ্ছেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির তেমন তৎপরতা নেই বললেই চলে। ফলে আসনটিতে মূল লড়াই হতে যাচ্ছে বিএনপি বনাম জামায়াতের মধ্যে।

ভোটারদের আশা, এবার তারা অবাধ পরিবেশে ভোট দিতে পারবেন এবং দীর্ঘদিনের ভোটবঞ্চনার ক্ষত মুছে যাবে।

  • June 29, 2025
  • 0 Comments
ইসলামী আন্দোলনের মহাসমাবেশে ১০ দলপিআর পদ্ধতিতে ভোট ঐকমত্য না হলে গণভোট

আন্দোলনের মহাসমাবেশে

সংখ্যানুপাতিক বা পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন দাবি করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম। গতকাল রাজধানীর সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান। সমাবেশে ১০ রাজনৈতিক দল এবং কয়েকটি ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিও অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে অংশ নেয়া অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারাও পৃষ্ঠা ৫ কলাম ১
পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দাবি করেন। সকাল থেকে শুরু হওয়া দুইপর্বের সমাবেশ শেষ হয় সন্ধ্যায়। এতে আমন্ত্রিত অতিথি ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে অংশ নিতে ভোর থেকেই দলটির নেতাকর্মীরা সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যানে আসতে থাকেন। সকালেই সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যান নেতাকর্মীতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।
১৯৭২ সালের সংবিধান জনগণের বিশ্বাস ও আশা-আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি। এই সংবিধান মেনেই স্বৈরাচার তৈরি হয়েছে। আজ দরকার রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। জুলাই অভ্যুত্থান শুধুমাত্র শাসক পরিবর্তনের জন্য ছিল না, এটি ছিল একটি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের আন্দোলন। তিনি বলেন, ২৪’র জুলাইয়ের ঘটনার সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল, তাদের বিচার না করে নির্বাচন করা চলবে না। গণহত্যা, গুম, লুটপাটের জন্য ফ্যাসিস্ট চক্রের কাউকে ছাড় দেয়া যাবে না।

নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার দাবি করে তিনি বলেন, যে দল যত শতাংশ ভোট পাবে, সংসদে তাদের তত আসন থাকতে হবে। এটি জনগণের, জেনজি প্রজন্মের এবং সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের যৌক্তিক দাবি। প্রয়োজনে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় নিতে হবে। চরমোনাই পীর বলেন, বারবার রক্ত দিয়েছি, কিন্তু সফলতা পাইনি, কারণ ভুল নেতা ও নীতির হাতে দেশ তুলে দিয়েছি। এবার ইসলামপন্থিদের ঐক্যের সময় এসেছে। এক বাক্সে ভোট নিলে ইসলামপন্থিরাই হবে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের ফসল এই অন্তর্বর্তী সরকার। আমরা নিঃস্বার্থভাবে এই সরকারের পাশে আছি। তবে সরকার যেন সংস্কার ও নিরপেক্ষতার পথ থেকে বিচ্যুৎ না হয়।

রেজাউল করীম বলেন, দুর্নীতি থেকে মুক্তি ও সুশাসনের জন্য এ দেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে সংগ্রাম করে এসেছে। তারই ধারাবাহিকতায় জুলাই অভ্যুত্থান ঘটেছে। আর সময় নেই রাষ্ট্র সংস্কার এখনই করতে হবে। সংবিধান মেনেই স্বৈরাচার সৃষ্টি হয়েছে। এজন্যই আমরা সংস্কারের কথা বলছি। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ছাড়া সুষ্ঠু রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্ভব নয়। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে কেউ ‘জালেম’ হবে না। দেশের মানুষ ন্যায়বিচার পাবে। পতিত সরকার বিলিয়ন বিলিয়ন টাকা পাচার করেছে, নিরীহ মানুষ হত্যা করেছে তাদের কোনো ক্ষমা নেই, অবশ্যই বিচার করতে হবে।

তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। তা না হলে দেশের জন্য ভয়ঙ্কর পরিণতি আসবে। আমরা অতীতে নেতা নির্বাচনে ভুল করেছি। এবার ইসলামপন্থি দলগুলোর ঐক্য নিয়ে জনগণের মধ্যে বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। শুধু ইসলামপন্থি নয়, দেশপ্রেমিক সকল দলকে নিয়ে আগামী নির্বাচনে একটি শক্তিশালী জোট হতে পারে। গণভোটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মৌলিক সংস্কারে অনেকে গড়িমসি করছেন, এটা জুলাইয়ের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। এই অবস্থায় সংস্কারের প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্য না হলে গণভোট আয়োজন করতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংস্কার, বিচার ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দায়িত্বে আপনারা থাকুন, আমরা আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং ইনশাআল্লাহ্‌ থাকবো। কিন্তু আমরা আর পুরনো রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি বহাল থাকতে দেবো না। রাজনীতির নামে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের প্রতিহত করবো।

ভবিষ্যতের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা চাই একটি সমৃদ্ধ, ব্যবসাবান্ধব বাংলাদেশ গড়তে। আমাদের তরুণদের বলছি, আপনারা আমাদের ভোট দিন, আমরা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ উপহার দেবো। নারী আমাদের জনশক্তির অর্ধেক। দেশ গঠনে নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা নারীকে পণ্য বানাতে দেবো না। আমরা চাই রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা ও একটি দক্ষ প্রশাসন। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘মহাসমাবেশ থেকে ফিরে গিয়ে কমিটিগুলোকে আরও সক্রিয় করুন। ঘরে ঘরে যান, ভোটারদের ইসলামের দাওয়াত দিন, ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরুন। ৫ই আগস্টের পর ইসলামের পক্ষে যে গণআন্দোলনের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, সেখানে আমরা যদি সোচ্চার না হই, তাহলে এ মাটিতে আগাছা জন্মাবে। যারা নুরুল হক নুরের মতো দেশপ্রেমিক মানুষকে অপমান করেছে, যারা ভোটকেন্দ্র দখল করতে চায়, তাদের উৎখাত করতে হবে।

সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের আহ্বানে ভেদাভেদ ভুলে সকল ইসলামিক দল এক হয়েছে। তার নাম ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আজকের সমাবেশ থেকে বার্তা হচ্ছে পিআর পদ্ধতি ছাড়া জনগণ নির্বাচন মেনে নিবে না। নির্বাচনের পূর্বে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। ছাত্র-জনতার রক্ত আমরা ব্যর্থ হতে দেবো না। আগামী নির্বাচনের নিরপেক্ষতার প্রমাণ নিশ্চিত করতে হবে। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। এ সময় নির্বাচনের আগে মৌলিক সংস্কার করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অবশ্যই জাতীয় নির্বাচনের আগে মৌলিক সংস্কার করতে হবে এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের আগে দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, নতুন কোনো ফ্যাসিবাদকে আমরা জন্ম দিতে চাই না। জুলাই সনদ ৫ই আগস্টের পূর্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। জাতীয় ঐকবদ্ধতার মধ্যদিয়ে আমরা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে প্রতিহত করবো।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, সকল রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দ এ মঞ্চে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের জন্য একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সমাবেশ শুধু একটা দলের দেখেছেন সামনে আরও অনেক দল করবে। সংস্কার কমিশনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, দু’-একটি দলের উপর ভিত্তি করে সংস্কারের প্রস্তাবে পরিবর্তন আনা যাবে না। দু’-একটা দলকে প্রাধান্য দিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দুঃসাহস দেখাবেন না। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন দিতে হবে। জীবদ্দশায় কোনো ব্যক্তি ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো জনপ্রতিনিধি নেই। জনগণ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচন এ সরকারের অধীনে দিতে হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, হাজার হাজার মানুষ রক্ত দিয়েছে পূর্বের সিস্টেমের পরিবর্তনের জন্য। নতুন বাংলাদেশ কোনো টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজদের জায়গা হবে না। উচ্চ কক্ষের নির্বাচনে পিআর পদ্ধতিতে প্রায় সকল দল একমত হয়েছে। কিন্তু একটি দলের আপত্তির কারণে পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। পেশি শক্তির বলে জোর-জবরদস্তি করে নির্বাচনে জয়ের ধারণা পরিবর্তন করতে হবে। কোনো শক্তি বাংলাদেশের সংস্কারে আন্দোলন দাবায় রাখতে পারবে না। এ সময় তিনি পিলখানা ও শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানান।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ইসলামী আন্দোলন আমাদের অন্যতম সহযোদ্ধা, কে কি বলেছে তাতে আমাদের কিছু আসে যায় না। জুলাইয়ের শহীদদের রক্তত্যাগ ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে চললে কোনো বিদেশি এজেন্টদের চক্রান্ত আমাদের কিছু করতে পারবে না।

২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি তাহলে আগামী বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিস্ট দাঁড়াতে পারবে না। মাদ্রাসার ছাত্রদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অভ্যুত্থানে মাদ্রাসার ছাত্র ভাইদেরকে পাঞ্জাবি, টুপি দেখে টার্গেট করে গুলি করা হয়েছে। আগামীর বাংলাদেশে তারা যেন টার্গেট কিলিং-এর শিকার না হয় সে জন্য সবাইকে ঐকবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন পিআর পদ্ধতিতে হবে। জনগণের প্রতিনিধিত্বে পিআরের বিকল্প নেই। তাই পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন নিয়ে সবাইকে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে।

ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, আমরা সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন চাই, বিএনপি কেন মানছে না। বিএনপি তো বলেছেন আমরা জাতীয় সরকার গঠন করবো। আর জাতীয় সরকার গঠনের জন্য ভালো সিস্টেম হলো পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন। জাতীয় সরকার হবে সকল দলের অংশগ্রহণমূলক সরকার। সকল দলের অংশগ্রহণে একমাত্র পিআর সিস্টেমে সরকার গঠন করতে পারে।

এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, আমাদের নানা রকমের মাজহাব আছে, নানা তরিকা ও নানা সংস্কৃতি আছে। কিন্তু মহান আল্লাহতায়ালার একত্মবাদের ক্ষেত্রে এবং ইসলামে দাওয়াতের ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। সংবিধান পরিবর্তন করে নির্বাচন দিতে হবে। নির্বাচন চান পিআর মানেন না, নির্বাচন চান স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে হোক মানেন না কেন? আমরা এই টালবাহানা চলতে দিতে চাই না। বাংলাদেশের মানুষ সংস্কারের মধ্যদিয়ে পরিবর্তনের মাধ্যমে একটা নির্বাচন চায়। যতবার গণঅভ্যুত্থান হয়েছে প্রত্যেক গণঅভ্যুত্থানের পরে পরিবর্তন হয়েছে। সুতরাং সংবিধান পরিবর্তন ও সংস্কার করেই নির্বাচন দিতে হবে।

এদিকে দিনব্যাপী এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অভিমুখে দলের নেতাকর্মী সমর্থকদের ঢল নামে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো উদ্যান প্রায় কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত যানবাহনের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় সরকারি ছুটির দিন হলেও পথচারীদের চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়েছে। সমাবেশে হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, বোধিজ্ঞান ভাবনা কেন্দ্রের সভাপতি দয়াল কুমার বড়ুয়া, বাংলাদেশ খ্রিস্টান এসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নির্মল রোজারিও বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে দলের মুখপাত্র এবং যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান ১৬ দফা ঘোষণাপত্র পাঠ করেন।

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মুজিবুর রহমান, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম খান, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মূসা বিন ইজহার, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমাদ আবদুল কাদের, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব সাখাওয়াত হোসেন রাজী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালাল উদ্দীন, খেলাফত আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অন্যান্য