• September 4, 2025
  • 0 Comments
স্ত্রীসহ জি এম কাদেরের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের) ও তার স্ত্রী শেরীফা কাদেরের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এ সংক্রান্ত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক ইব্রাহীম মিয়া এ আদেশ দেন।

মনোনয়ন বাণিজ্যের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুদক। এর অংশ হিসেবে এ দম্পতির বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করে সংস্থাটি। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

দুদকের অভিযোগ বিষয়ে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন দিতে ১৮ কোটি ১০ লাখ টাকার ঘুষ গ্রহণ করা হয়, যার মূল সুবিধাভোগী ছিলেন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

অভিযোগে বলা হয়, চুক্তি অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ না করায় অধ্যাপক মাসুদা এম রশীদ চৌধুরীকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং তার স্থলে জিএম কাদেরের স্ত্রী শরীফা কাদের সংসদ সদস্য হন।

এতে আরও বলা হয়, জিএম কাদের জালিয়াতির মাধ্যমে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হন এবং দলীয় পদ বাণিজ্য ও মনোনয়ন বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করেন, যা পরে বিদেশে পাচার করা হয়। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট হলেও বর্তমানে ৬০০ থেকে ৬৫০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা পদ বাণিজ্যের প্রমাণ।

২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, জিএম কাদেরের নামে নগদ ৪৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, ব্যাংকে ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা এবং ৮৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা মূল্যের একটি জিপ গাড়ি রয়েছে।

এ ছাড়া তার স্ত্রী শরীফা কাদেরের নামে নগদ ৫৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, ব্যাংকে ২৮ লাখ ৯ হাজার টাকা এবং ৮০ লাখ টাকা মূল্যের তারও একটি জিপ গাড়ি রয়েছে। তার স্থাবর সম্পদের মধ্যে লালমনিরহাট ও ঢাকায় জমি ও ফ্ল্যাট রয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া জিএম কাদের জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া ২০০৯-২০১৪ সাল পর্যন্ত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন তিনি।

  • September 4, 2025
  • 0 Comments
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: তারেক রহমান-বাবরসহ সব আসামির খালাসের রায় বহাল

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তারেক রহমান ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সব আসামির খালাসের হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৬ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন।
এর আগে গ্রেনেড হামলা মামলায় সব আসামির খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের দায়ের করা আপিলের রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।
গত ২১ আগস্ট মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ৬ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন। সেদিন আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সব আসামিকে খালাস দেন হাইকোর্ট।  
বিচারিক আদালতের রায় বাতিল করে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। এরপর এ মামলায় সব আসামির খালাসের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। গত ১ জুন রাষ্ট্রপক্ষকে আপিলের অনুমতি দেন আপিল বিভাগ।
২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর এ মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে ফাঁসি এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপি নেতা কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এ হামলায় আওয়ামী লীগের ২৪ নেতাকর্মী নিহত হন। ঘটনার পর হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।

  • September 2, 2025
  • 0 Comments
দিল্লিতে যে বাড়িতে বসবাস করছেন হাসিনা, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

আওয়ামী লীগের গুজব তৈরির কারখানা হিসাবে খ্যাত সিআরআই’র দায়িত্ব এখন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের হাতে। নয়াদিল্লির অভিজাত এলাকা লুটিয়েন্স বাংলো জোনের কাছেই একটি দোতলা ভবনকে কার্যালয় বানিয়ে তিনি এখন এই প্রতিষ্ঠানটির যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এই লুটিয়েন্স বাংলো জোনেরই একটি বাড়িতে বসবাস করছেন তার মা পতিত স্বৈরাচার ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

অন্তর্বর্তী সরকার, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপির বিরুদ্ধে একের পর এক সাইবার আক্রমণের পেছনে কাজ করছে আওয়ামী লীগের সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন (সিআরআই)। আক্রমণ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না শীর্ষ রাজনীতিবিদ, উপদেষ্টা ও সামরিক-বেসামরিক আমলাসহ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) দিয়ে তৈরি ভিডিও ক্লিপ, বেনামি ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেল ব্যবহার করে সিআরআই এক ধরনের সাইবার যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এক কথায়, জুলাই অভ্যুত্থানকে ব্যর্থ করে দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা মেশিন হিসাবে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি, যা এখন পরিচালিত হচ্ছে ভারত থেকে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, প্রধানত তিনটি লক্ষ্য সামনে রেখে এই মুহূর্তে কাজ করছে সিআরআই। প্রথমত, অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করা। দ্বিতীয়ত, যেকোনো মূল্যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভন্ডুল করা এবং তৃতীয়টি হচ্ছে, বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির বিরুদ্ধে জনমত তৈরিসহ গণ-অভ্যুত্থানের সব শক্তির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ফিরিয়ে আনা। এজন্য প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালের শুরুতে সরকার গঠনের পর ২০১০ সালে সিআরআই’র কার্যক্রম শুরু হয়। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে অবস্থিত শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি ছিল প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা। কিন্তু বাস্তবে গোপনে নানা জায়গা থেকে পরিচালিত হতো সিআরআই’র কার্যক্রম।

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে আশ্রয় নেন দিল্লিতে। শেখ হাসিনার পথ ধরে দলটির বহু নেতা, সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং সংসদ-সদস্যদের বেশির ভাগই দেশ ছাড়েন। এ কারণে সিআরআই’র কার্যক্রমও অনেকটা মুখথুবড়ে পড়ে।

জানা গেছে, ক্ষমতা হারানোর প্রাথমিক ধকল কাটিয়ে উঠে গত তিন মাস থেকে ফের সক্রিয় হয়েছে সিআরআই। তবে এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা ও কাজে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর আগে দীর্ঘদিন সিআরআই’র মূল দায়িত্বে ছিলেন এই মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বসবাসরত হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। এছাড়াও শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ শেখ পরিবারের একাধিক সদস্য প্রতিষ্ঠানটির ট্রাস্টি বোর্ডে রয়েছেন।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের গুজব তৈরির কারখানা হিসাবে খ্যাত সিআরআই’র দায়িত্ব এখন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের হাতে। নয়াদিল্লির অভিজাত এলাকা লুটিয়েন্স বাংলো জোনের কাছেই একটি দোতলা ভবনকে কার্যালয় বানিয়ে তিনি এখন এই প্রতিষ্ঠানটির যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এই লুটিয়েন্স বাংলো জোনেরই একটি বাড়িতে বসবাস করছেন তার মা পতিত স্বৈরাচার ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ায় আইনগতভাবে সজীব ওয়াজেদ জয়ের পক্ষে এখন অফিশিয়ালি সিআরআই’র দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। এ কারণে শেখ হাসিনার নির্দেশে জয়কে সরিয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে সিআরআই’র নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুতুল নিয়মিত এই কার্যালয়ে অফিস করছেন। এখান থেকেই বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে সিআরআই’র কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

এর আগে গত ১১ জুলাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় আঞ্চলিক কার্যালয়ের (এসইএআরও) পরিচালক পদ থেকে সায়মা ওয়াজেদকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠানো হয়। দুর্নীতি, জালিয়াতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুটি মামলা করে। পুতুল আগে থেকেই ভারতে অবস্থান করছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের গবেষণা, তথ্য কার্যক্রম পরিচালনা, নীতিনির্ধারণ, প্রচার-প্রচারণার কাজের কথা বলা হলেও আদতে সিআরআই এখন ভিন্ন কাজ করছে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে আওয়ামী কালচারাল ফ্যাসিস্ট যাদের বলা হয়, তাদের সংগঠিত করে কাজে লাগানোর প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে। এজন্য এ তালিকার টকশোর জনপ্রিয় মুখ, সিনিয়র সাংবাদিক, ইউটিউবার, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার বুদ্ধিজীবীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সিআরআই’র দিল্লির এই কার্যালয় থেকেই এসব ছদ্মবেশী কালচারাল ফ্যাসিস্টদের নানা কৌশলে কাজে লাগাতে বিভিন্ন অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হচ্ছে। উদ্দেশ্য সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে ক্ষেপিয়ে তোলা, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে একে অপরের মুখোমুখি দাঁড় করানো, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা উজ্জীবিত করার নামে লুকিয়ে থাকা আওয়ামী কালচারাল শক্তিকে জড়ো করা, বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিকে চরম প্রতিপক্ষ হিসাবে সঙ্ঘাত সংঘর্ষে জড়ানো এবং সর্বোপরি, সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাঙ্গনে বড় ধরনের সঙ্ঘাত-সহিংসতা সৃষ্টি করে দেশকে চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাওয়া। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে আওয়ামী লীগের সব শক্তিকে ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে নিয়ে আসা। সবশেষে সুযোগ বুঝে একসঙ্গে কমপক্ষে ২০ লাখ কর্মী-সমর্থক জড়ো করে ঢাকা অ্যাটাক অথবা যমুনা ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়া।

এ কাজে প্রজন্ম ৭১, মঞ্চ ৭১, ব্রিগেড ৭১, নিউক্লিয়াস ৭১, মুক্তিবাহিনী ৭১, হিস্টোরি অব আগস্ট, নয়া সংগ্রাম ২৫, প্রত্যাবর্তনস-০২, বঙ্গবন্ধু-৭১ এবং জয়বাংলা ব্রিগেডসহ এরকম শতাধিক ফেসবুক আইডি, ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলকে প্রোপাগান্ডা প্ল্যাটফর্ম হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

  • September 2, 2025
  • 0 Comments
গণভোটে পিআর না হলে মেনে নেবে জামায়াত

গণভোটে পিআর পদ্ধতির নির্বাচন না হলে জামায়াতে ইসলামী মেনে বলে জানিয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেছেন।

ফোরাম ফর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার আয়োজিত এই অনুষ্ঠান থেকে প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে গোলাম পরওয়ার বলেছেন, পিআর ইস্যুতে সব দলকে ডেকে জাতীয় রাজনৈতিক সংলাপ করুন। কোনো সাজানো পাতানো নির্বাচন হলে জনগণ মেনে নেবে।

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, একটি রাজনৈতিক দল পিআর নিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করছে। কোনো রাজনৈতিক দলের চাপ অনুভব করলে পিআর গণভোটে ছেড়ে দিন। দেশের ৭১ ভাগ মানুষ পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়।

গোলাম পরওয়ার বলেছেন, পিআর পদ্ধতি ছাড়া যারা ক্ষমতায় আসবে তারা স্বৈরাচারে পরিণত হবে। বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী, যে দল ক্ষমতায় যাবে তারাই স্বৈরাচারে পরিণত হবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যের সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সিইসি বলছেন সংবিধানে পিআর নেই। সংবিধানে তো অন্তর্বর্তী সরকারও নেই। সংবিধানে তো বলা নেই, কীভাবে নির্বাচন হবে। বলা হয়েছে পাঁচ বছর পরপর নির্বাচন হবে। তাহলে কী ২০২৯ সালে নির্বাচন হবে?

ফোরাম ফর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুস ছাত্তার শাহর সভাপতিত্বে সংগঠনটির নেতারা বক্তৃতা করেন।

  • September 1, 2025
  • 0 Comments
মানিকগঞ্জে দীর্ঘ ১৭ বছর পর উৎসবমুখর পরিবেশে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে কোনো বাধা ছাড়াই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে মানিকগঞ্জে। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই শহরজুড়ে নেতাকর্মীদের ঢল নামলে মানিকগঞ্জ রূপ নেয় বিএনপি সমর্থকদের মিলনমেলায়।

দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় শহীদ রফিক সড়কে অবস্থিত জেলা বিএনপির কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে। এরপর জেলার সাতটি উপজেলা ও দুই পৌরসভা থেকে নেতাকর্মীরা সমবেত হন বিজয় মেলার মাঠে।

হাজারো নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য র‌্যালি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ। এদিন শহরের প্রতিটি মোড় ও প্রধান সড়ক রঙিন ব্যানার-ফেস্টুনে সেজে ওঠে। নেতাকর্মীদের হাতে প্ল্যাকার্ড, শ্লোগানে শ্লোগানে পুরো শহর পরিণত হয় ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের স্লোগানের নগরীতে’।

২০০৬ সালে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে পুলিশি বাধা ও সীমাবদ্ধতার কারণে এভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করতে পারেনি বিএনপি। তবে এবার নির্বিঘ্ন আয়োজন নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উৎসাহ ও জাগরণের বার্তা দিয়েছে।

এদিনের র‌্যালি ও সমাবেশের নেতৃত্ব দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খানম রিতা। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির, অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন খান, অ্যাডভোকেট নুরতাজ আলম বাহার, নাসির উদ্দিন আহমেদ জাদু, গোলাম আবেদীন কায়সারসহ কৃষকদল, যুবদল, শ্রমিকদল, মহিলা দল, ছাত্রদল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আফরোজা খানম রিতা বলেন—

“আজকের এই দিন শুধু একটি রাজনৈতিক দলের জন্মদিন নয়, এটি গণতন্ত্রকামী মানুষের চেতনার প্রতীক। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জনগণের অধিকার রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া সেই অঙ্গীকারকে আন্দোলন ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে সমুন্নত রেখেছেন। আজ দেশনেতা তারেক রহমান প্রবাসে থেকেও আমাদের প্রতিটি সংগ্রামে দিশা দেখাচ্ছেন। ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমাদের দমিয়ে রাখলেও আজকের লাখো মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে—মানুষ ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় আছে।”

সমাবেশে বক্তারা বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নতুন জাগরণের প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং এই উচ্ছ্বাসকে আন্দোলনের প্রেরণা হিসেবে কাজে লাগানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

  • August 31, 2025
  • 0 Comments
নির্বাচনের বিকল্প কিছু ভাবলে সেটা হবে বিপজ্জনক: প্রধান উপদেষ্টা

নির্বাচন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, নির্বাচনের বিকল্প কেউ কিছু ভাবলে সেটা হবে জাতির জন্য গভীর বিপজ্জনক।
রোববার (৩১ আগস্ট) রাতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, প্রধান উপদেষ্টা বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন হবে।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেছেন, নির্বাচন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। কেউ যদি নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প ভাবেন, তা জাতির জন্য হবে গভীর বিপজ্জনক। 
বৈঠকে আসন্ন দুর্গাপূজা ঘিরে কোনো অস্থিতিশীল পরিবেশ যাতে কেউ সৃষ্টি না করতে পারে, সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সহায়তা চেয়েছেন ড. ইউনূস।
প্রেস সচিব বলেন, আজকের মিটিংগুলোর মাঝামাঝি সময়েই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রীয়াজ এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মুনির হায়দারও দেখা করেছেন। আলী রীয়াজ জুলাই সনদ চূড়ান্ত করার বিষয়ে কি কি অগ্রগতি হচ্ছে, সে বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে অবগত করেছেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে কি মতামত দিয়েছে, সেটা নিয়েও আলোচিত আলোচনা হয়েছে। 
এ ছাড়া বৈঠকে জাতীয় পার্টির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন, বিষয়টি নিয়ে একেকজন একেক রকম মতামত দিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টা সেটি বিস্তারিত শুনেছেন। 
বৈঠকে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির নেতারা ছাড়াও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে আদিলুর রহমান খান, ড. আসিফ নজরুল, ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, ড. খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

  • August 31, 2025
  • 0 Comments
জাতীয় পার্টিকেও নিষিদ্ধ চায় জামায়াত

আওয়ামী লীগের মতো জাতীয় পার্টিকেও নিষিদ্ধ চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রোববার (৩১ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন জামায়াতের নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।

সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, জাতীয় পার্টির ব্যাপারে সুস্পষ্ট করে বলেছি, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের কার্যক্রম যেভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তেমনিভাবে জাতীয় পার্টিকেও নিষিদ্ধ করা যেতে পারে।

মো. তাহের বলেন, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর যেভাবে হামলা হয়েছে, তা শুধু ন্যক্কারজনক বা দুঃখজনক বললেই শেষ হয় না। এ হামলার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। এর সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে- এ কথা আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে জাতীয় পার্টি। সুতরাং আওয়ামী লীগের ব্যাপারে যেমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রেও সেরকম সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে- এ কথাও আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছি।

জুলাই সনদ নিয়ে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মাদ তাহের বলেন, জুলাই সনদের ক্ষেত্রে ১৯টা বিষয় নিয়ে আমরা সকল রাজনৈতিক দল ঐকমত্য হয়েছি। এগুলো আমরা মনে ঐকমত্য পোষনের ক্ষেত্রে একটা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে অল্পসংখ্যক দল আমাদের ঐকমত্য পোষণের ১৯ বিষয় বাস্তবায়ন ও আইনি ভিত্তি দিতে কিছুটা বাধা দিচ্ছে। তারা বলছে, আগামী নির্বাচিত সরকার আসলেই এগুলো বাস্তবায়ন হবে।

তিনি বলেন, আগামী সরকার এসে যদি এটা বাস্তবায়ন করে তাহলে আমরা ঐকমত্য কমিশনে এই সময় নষ্ট করলাম কেন? তাহলে এই সংস্কারটা তো পরবর্তী সরকারই উদ্যোগ নিতে পারত। জুলাইয়ের যে চেনতা আমরা সেটাতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এটা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমি বলি আমাদের ইমানের ৩টি অংশ। তার একটি হচ্ছে মুখে স্বীকৃতি দেওয়া, হৃদয়ে ধারণ করা এবং কার্যে পরিণত করা। এই ৩টা হলেই ঈমান পরিপূর্ণ। আমাদের চার্টার যেগুলো হয়েছে তারও ৩টি অংশ। একটি অংশ ঐকমত্যে পৌঁছা। দুই নম্বর হচ্ছে আইনি ভিত্তি দেওয়া এবং তিন নম্বর হচ্ছে এটা বাস্তবায়ন করা।

তাহের আরও বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা যেসব বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছি, সেগুলোর আইনি ভিত্তি দিতে দুএকটি দল বাধা দিচ্ছে। তারা একমত হচ্ছে না। আমরা স্পষ্ট বলে আসছি, জুলাই বিপ্লবের পর আমরা আরও অনেক পরিবর্তন চেয়েছিলাম। কিন্তু সেটা হয় নাই। কমপক্ষে ন্যূনতম সংস্কারের যে জায়গাটি, যেটা প্রধান উপদেষ্টার ওয়াদা সেটা যেন অবশ্যই আইনি ভিত্তির মাধ্যমে এখনি কার্যকর করা হয়।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দল।

নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের নেতৃত্বে থাকা চার সদস্যের এ প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন- দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এবং সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আযাদ।

  • August 31, 2025
  • 0 Comments
জাপা নিষিদ্ধসহ তিন দাবি, ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ, জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করাসহ তিন দাবি পুর‌ণে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দি‌য়ে‌ছে গণঅধিকার পরিষদ।

শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে এই সময়সীমা বে‌ধে দেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।

জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানি‌য়ে রা‌শেদ খান ব‌লেন, “৪৮ ঘণ্টার ম‌ধ্যে জাপা‌কে নি‌ষিদ্ধ কর‌তে হ‌বে। ফ‌্যাসি‌স্টের দোসর জিএম কা‌দেরসহ নেতা‌দের গ্রেপ্তার কর‌তে হ‌বে।হামলার দায় নি‌য়ে স্বরাষ্ট্র উপ‌দেষ্টাকে পদত‌্যাগ কর‌তে হ‌বে। অন‌্যথায় দা‌বি পূর‌ণের আগ পর্যন্ত আমরা রাজপথে ছাড়‌বে না।”

সমাবেশে ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে, ‘নুরের ওপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব দে’, ‘আওয়ামী লীগের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘জাতীয় পার্টির ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘ওয়ান টু থ্রি ফোর, জাতীয় পার্টি নো মোর’, ‘জাতীয় পার্টির আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

এ সময় রাস্তায় টায়ার পোড়ানো হয়। পরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পুরানা পল্টন মোড়, জাতীয় প্রেস ক্লাব, মৎস্য ভবন, কাকরাইল মোড়, বিজয়নগর মোড় হয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য মাহফুজুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ খান, জনতার অধিকার পার্টির সভাপতি তরিকুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন, পরিষদের সভাপতি নুরুল হকের ছোট ভাই আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

  • August 31, 2025
  • 0 Comments
নির্বাচনী দিনক্ষণ ঠিক হয়ে গেছে, ভোটারদের কাছে ছুটে যান : আফরোজা খানম রিতা

বিএনপি (বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টি) চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, বিএনপি ও ধানের শীষকে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তিরা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এদেশের জনগণকে পাশে না পেয়ে তারা এই অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। আমরা সর্বস্তরের সাধারণ মানুষকে নিয়ে এই অপপ্রচার প্রতিহত করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে চাই। 

শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নে আয়োজিত বিএনপি’র ৩১ দফার ইশতেহার ও প্রচারণা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, তারেক রহমানের ৩১ দফার ইস্তেহারে দেশের ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন নিহিত রয়েছে। আমরা তারই নির্দেশনায় আপনাদের কাছে এসে পৌঁছেছি। আপনারা এই ইস্তেহারের দাওয়াত প্রত্যেক ঘরে পৌঁছে দেবেন। আমরা সকলে মিলে দেশটাকে স্বনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে চাই।

আফরোজা খানম রিতা নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, নির্বাচনী দিনক্ষণ ঠিক হয়ে গেছে, আপনারা প্রত্যেকে ভোটারদের কাছে ছুটে যান। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এদেশের সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। মানুষ বিএনপির ধানের শীষে ভোট দিতে মুখিয়ে আছে। আপনারা ভোটারদের পাশে থাকুন।

এ সময়, জেলা জজ আদালতের পিপি ও জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আ. ফ.ম. নুরতাজ আলম বাহার, জেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম বাদল, মানিকগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি নাসিরউদ্দিন আহমেদ জাদু, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সত্যেন কান্তি পন্ডিত ভজন, গোলাম আবেদীন কায়সার, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) ফজলুল হক, যুবদলের সদস্য সচিব তুহিনুর রহমান তুহিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ পারভেজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • August 29, 2025
  • 0 Comments
সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জন কারাগারে

রাজধানীর শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত এ আদেশ দেন।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন), মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন, মঞ্জুরুল আলম, কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল, গোলাম মোস্তফা, মো. মহিউল ইসলাম ওরফে বাবু, মো. জাকির হোসেন, মো. তৌছিফুল বারী খাঁন, মো. আমির হোসেন সুমন, মো. আল আমিন, মো. নাজমুল আহসান, সৈয়দ শাহেদ হাসান, মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, দেওয়ান মোহম্মদ আলী ও মো. আব্দুল্লাহীল কাইয়ুম।

এদিন সকালে তাদের আদালতে হাজির করা হয়।

এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক তৌফিক হাসান তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ‘মঞ্চ ৭১’-এর ব্যানারকে পুজি করে প্রকৃতপক্ষে দেশকে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে অস্থিতিশীল করে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র ও উপস্থিত অন্যদের প্ররোচিত করে বক্তব্য প্রদান করছিল।

তার এই ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্যের জন্য উপস্থিত লোকজন তাদেরকে ঘেরাও করে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বলে স্লোগান দেয়। তারা পরস্পর সহায়তাকারী হিসেবে দেশকে অস্থিতিশীল করে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার অপরাধ করেছে।

মামলাটি তদন্তাধীন।

এমতাবস্থায় মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামলার তদন্ত সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত এবং আসামিদের নাম-ঠিকানা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তাদের জেলে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। এ ছাড়া মামলার তদন্তের স্বার্থে পরবর্তী সময় ব্যাপক ও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামিদের পুলিশ রিমান্ডে পাওয়ার আবেদন করা হবে। পরে আসামিপক্ষে আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখিসহ অন্যরা জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষ্যে গত ৫ই আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাংলাদেশের জনগনকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়া। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

সকাল ১১টায় ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)-তে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর মধ্যেই একদল ব্যক্তি হট্টগোল করে স্লোগান দিয়ে সভাস্থলে ঢুকে পড়েন।

একপর্যায়ে তারা অনুষ্ঠানস্থলের দরজা বন্ধ করে দেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজনকে লাঞ্ছিতও করেন। হট্টগোলকারীরা গোলটেবিল আলোচনার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন এবং আলোচনায় অংশ নেওয়াদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে অতিথিদের অনেককেই বের করে দেওয়া হলেও আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এবং অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। পরে পুলিশ এসে ১৬ জনকে আটক করে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে পুলিশের উপপরিদর্শক আমিরুল ইসলাম। পরবর্তী সময় এ মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

অন্যান্য