• December 5, 2025
  • 0 Comments
শিশু সাহিত্য, সংগঠক ও আবৃত্তিশিল্পের নীরব নক্ষত্র “জাহান বশীর”

১৯৯৫ সালের ১৯ জুলাই চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমিতে হলভর্তি দর্শকের উপস্থিতিতে ‘‘ মানুষের মানচিত্র’’ শিরোনামে একক আবৃত্তি সন্ধ্যা করেন এক যুবক। তারপর থেকে বিভিন্ন মঞ্চে আবৃত্তি পরিবেশনের জন্য তিনি ছিলেন একজন দর্শক কাঙ্খিত আবৃত্তিশিল্পী। গত ২০ নভেম্বর ২০২৫-এ ছিল তাঁর ৫৫তম জন্মবার্ষিকী। তিনি আর কেউ নন- বর্তমানের সব্যসাচী আবৃত্তিশিল্পী জাহান বশীর। কেউ বলেন আবৃত্তির রাজপুত্র, কেউ বলেন বরপুত্র। জানালেন তাঁর কণ্ঠের চর্চা ছিল ১৯৮৮ সাল থেকেই। ৫৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকার মিরপুরে মৈতালি শিল্পাঙ্গন, বিশ্বভরা প্রাণ, জ্ঞানসঙ্গী প্রকাশনসহ কয়েকটি সংগঠন তাঁকে নিয়ে আয়োজন করেছে বিশেষ আবৃত্তির অনুষ্ঠান ‘অনন্ত অমৃতময়’। সে সুযোগে বিডি রিপোর্ট এর পক্ষ থেকে কথা হলো তাঁর সঙ্গে-

জাহান বশীর এর আবৃত্তি নির্মাণ প্রক্রিয়ায় যেমন রয়েছে ভাব বৈচিত্র্যময়তা, তেমনি তাঁর অন্যান্য সৃজনকর্মও বিষয় বৈচিত্র্যতায় ভরপুর। তিনি একাধারে শিশুতোষ লেখক এবং শিশু সংগঠক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন কয়েক যুগ। নব্বইয়ের দশকে শিশুদের নিয়ে তিনি লিখেছেন শিশুতোষ নাট্য সিরিজ ‘‘গাবলুর যাদুগিরি’’। প্রত্যেক খণ্ডে রয়েছে আলাদা কাহিনী, আলাদা গল্প ও শিরোনাম। তিনি এ সিরিজকে চাইল্ড এডুটেইনমেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তন্মধ্যে; গুবলেট, মন ভালো ঘর, চু-কিত কিত, বন্ধুর চিঠি, হারিয়ে যাবার নেই মানা, চাঁদ মামা সূয্যি মামা, দেখোরে নয়ন মেলে উল্লেখযোগ্য। ছোটদের জন্য সহজ করে আবৃত্তি শেখার কলাকৌশল নিয়ে লিখেছেন ‘আবৃত্তি শেখো মজা করে’। শৈলী প্রকাশন থেকে প্রকাশিত গ্রন্থটি ২০০০ সালের দিকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ছোটদের জন্য অনেক গান লিখেছেন তিনি। তাঁর লেখা গান নিয়ে ১৯৯৮ সালের দিকে ‘সারাদিন স্বপ্ন আঁকি’ শিরোনামে একটি এ্যালবামও প্রকাশ হয় শিশুশিল্পীদের কণ্ঠে। বেতার ও টেলিভিশনে শিশুদের নিয়ে অনেক অনুষ্ঠান গ্রন্থনা ও পরিচালনা করেছেন তিনি।

আবৃত্তির আধুনিকোত্তর ধারা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে তিনি লিখেছেন ‘আবৃত্তি নির্মাণ ও প্রয়োগ’ বিষয়ক আবৃত্তির গবেষণা গ্রন্থ। এছাড়াও জ্ঞানসঙ্গী প্রকাশন থেকে প্রকাশিত তাঁর একমাত্র কাব্যগ্রন্থ ‘অনার্যনামা’, দুই বাংলার লোক সাধারণের কবিতা সংকলন’, আবৃত্তির সমকালীন কবিতা সংকলন, কাব্যোপন্যাস ‘রোদবিন্দু’ জনপ্রিয়তা পেয়েছে ইতোমধ্যে।
লেখালেখি ছাড়াও তিনি একজন সুদক্ষ সংগঠক হিসেবে ইতোমধ্যে অনেকের কাছে ব্যাপক পরিচিত। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক শিল্পী সাহিত্যিক সম্মিলিত পরিষদ ‘বিশ্বভরা প্রাণ’ এর কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমানে সৃজনশীল প্রকাশকদের মধ্যে জাহান বশীর একটি বিশেষ জায়গা করে করে নিয়েছেন। তাঁর জ্ঞানসঙ্গী প্রকাশন থেকে ইতোমধ্যে শতাধিক গ্রন্থ প্রকাশ হয়েছে। সম্পাদনা করছেন লিটলম্যাগ ‘বিশ্বভরা প্রাণ”।
পেশাগতভাবে তিনি ১৯৯৭ সালে সাংবাদিকতাকে বেছে নিয়েছেন। পরবর্তীতে ২০০২ সালের দিকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে ‘মা ও শিশুর উন্নয়নে যোগাযোগ কার্যক্রম’ এর বিভাগীয় সমন্বয়ক ছিলেন। বর্তমানে মুক্তভাবে নির্মাণ করছেন উন্নয়নমূলক তথ্যচিত্র। এ যাবৎ তিনি প্রায় ২০০টির উপরে তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন।

স্টার টোয়েন্টিফোর টিভির পক্ষ থেকে কথা বলছিলাম তাঁর বর্ণাঢ্য সৃজনময় সাংস্কৃতিক যাপিত জীবন নিয়ে-

স্টার টোয়েন্টিফোর টিভি : সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখায় আপনার বিচরণ, কোনটিকে প্রাধান্য দেন?

  • মন যখন যেটিতে সায় দেয়, তাই-ই করি। এক সময় শিশুদের নিয়ে খুব লিখতাম, ভাবতাম। তারাই ছিলো আমার ধ্যান জ্ঞান। বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকে। ধীরে ধীরে বড়দের সংগঠনে যুক্ত হয়ে পড়ি। বিশেষত আমার আবৃত্তি চর্চার কারণে।

স্টার টোয়েন্টিফোর টিভি : লেখালেখির শুরু কিভাবে এবং কখন থেকে?

-লেখালেখির চেয়ে পড়তে আমার বেশি ভালো লাগে। তবে প্রয়োজনবোধেই সম্ভবত লেখালেখির শুরু। আর সেটি ছোটদের নিয়ে। হয়তোবা লেখার বোধটা কখন যেন আমার ভেতরে প্রোথিত হয়ে গেছে টেরই পাইনি। মূলত ১৯৮৮ থেকে শিশুদের সাথে থিয়েটারের কাজ করতে গিয়ে তাদের উপযোগী নাটক লেখার ইচ্ছে জেগেছিল। তখন কিছু নাটক লিখেছিলাম। পরবর্তীতে সে নাটকগুলোর জন্য ছড়া এবং ছড়াগানের প্রয়োজনবোধে প্রতিটি নাটকে ছড়া এবং ছড়াগান যুক্ত করেছিলাম।

স্টার টোয়েন্টিফোর টিভি : শিশুদের নিয়ে আপনার লেখা এবং কাজ সম্পর্কে কিছু বলুন।

-শিশুদের নিয়ে প্রায় পঞ্চাশটির মতো নাটক ও গল্পের বই লিখেছি। ছোটদের গানের এ্যালবাম ‘সারাদিন স্বপ্ন আঁকি’ শিরোনামে বেরিয়েছিল ১৯৯৮ সালে। আমার গ্রন্থনা ও পরিচালনায় বিভিন্ন টিভিতে ছোটদের মিউজিক্যাল ড্রামা সম্প্রচার হয়েছে শতাধিক। শিশুদের নিয়ে আবৃত্তি প্রযোজনাও করেছি কয়েকটি।

স্টার টোয়েন্টিফোর টিভি : আমরা জানি, আবৃত্তিশিল্পের একটি নতুন ধারা আপনি সৃষ্টি করতে চাইছেন। সেই ধারাটা কেমন?
-কবিতার ভাষা থেকে আবৃত্তির ভাষা আলাদা করা। কবির কবিতার বোধ আবৃত্তিশিল্পীর কাছে ধরা দেবে নতুন ভাব মেজাজে। ভরত নাট্যমে উল্লিখিত নয়টি রসের যথার্থ প্রয়োগের মাধ্যমে এবং কণ্ঠে প্রক্ষেপণের মাধ্যমে কবিতার নতুন প্রাণ জেগে উঠবে আবৃত্তির মাধ্যমে।

স্টার টোয়েন্টিফোর টিভি : আপনার আবৃত্তির শ্রোতা কারা?
-সাধারণ কবিতাপ্রেমি মানুষ।

স্টার টোয়েন্টিফোর টিভি : বাংলাদেশে আবৃত্তিশিল্পের কেমন প্রসার ঘটছে বলে মনে করেন?
-আবৃত্তিশিল্পের চর্চা মূলত সাংগঠনিক পর্যায়ে বেশি হয়। কিন্তু সেখান থেকে গত কয়েক দশকে মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন আবৃত্তিশিল্পী বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে কিছু তরুণ সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে পরিচিতি অর্জন করছে। তবে সামগ্রিকভাবে গড়পড়তায় সবাই নিজেকে আবৃত্তিশিল্পী দাবি করছে, এটা শুধু আবৃত্তি নয়, যে কোন সৃজন শিল্পের জন্য এটি অশনি সংকেত।

স্টার টোয়েন্টিফোর টিভি : তাহলে বাংলাদেশে আবৃত্তির প্রসার হচ্ছে না বলে মনে করছেন?
-এখন যা চলছে, এটিকে আবৃত্তিশিল্পের প্রসার বলবো না। আবৃত্তির জোয়ার বলতে পারেন। শিল্পের প্রসার তেমন নেই। আর যে কোন জোয়ারে খড়কুটোতো থাকতেই পারে। দু চারজন ছাড়া মূল শিল্প ধরে কেউ এগোচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে না।

স্টার টোয়েন্টিফোর টিভি : এমন মনে হওয়ার কারণ কি?
-কিছুটা সাংগঠনিক সংকীর্ণতা, কিছুটা আবৃত্তি অনুশীলনকারীদের উচ্চাকাঙ্খী মনোভাবের কারণে।

স্টার টোয়েন্টিফোর টিভি : বিষয়টা একটু ব্যাখ্যা করুন।
-সাংগঠনিক সংকীর্ণতা বলতে এটাই বলতে চাইছি। অগ্রজরা নবীণদেরকে স্থান করে দিতে বড্ড কার্পণ্য করেন। দেখবেন, প্রত্যেক সংগঠনের প্রধানরাই বিভিন্ন মঞ্চ দখল করে থাকেন। জুনিয়রদেরকে তেমন সুযোগ দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। বৃন্দ বা সমবেত আবৃত্তির মাঝেই সীমাবদ্ধ রাখেন জুনিয়রদেরকে। অনেক নেতৃবৃন্দ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ভোগ করার জন্য ব্যস্ত থাকেন। বিগত সময়ে তাই দেখে আসছি। কর্মীরা এসবের ধারে কাছেও নেই। এতে করে একক শিল্পী তৈরি হচ্ছে না।

স্টার টোয়েন্টিফোর টিভি : সাংগঠনিকভাবে আবৃত্তিকে এগিয়ে নেয়ার প্রসেসটা কি?
-প্রসেস অনেক রকম থাকতে পারে। তবে সংগঠন বা আবৃত্তির মোর্চাগুলোর নেতৃবৃন্দকে রাজনৈতিক তোষামোদ থেকে সরিয়ে নিতে হবে। আবৃত্তিশিল্পের ধ্যানে মগ্ন থাকতে হবে। তরুণদেরকে জায়গা করে দিতে হবে। তাদের মাধ্যমে আমরা নতুনত্ব পেতে পারি। সত্যিকারের প্রসার আশা করতে পারি।

স্টার টোয়েন্টিফোর টিভি : আবৃত্তি কি রাজনীতির বাইরে?
-কোন শিল্পই রাজনীতির বাইরে নয়। আবৃত্তিও নয়। রাজনীতি যেখানে আছে, সেখানে কবিতা বা সাহিত্য থাকবে। কবিতা বা সাহিত্য যেখানে আছে, সেখানে আবৃত্তি থাকবে। কবিতা সব সময় নিপীড়নের বিরুদ্ধে, অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে, অসামঞ্জস্যের বিরুদ্ধে অবস্থান করবে। আবৃত্তিও তেমনভাবেই সকল অপশক্তির বিপক্ষে থাকবে।

স্টার টোয়েন্টিফোর টিভি : আবৃত্তির ধ্যান এর কথা বললেন, সেটা কিভাবে সম্ভব?
-কবিতার ভাষা থেকে আবৃত্তির ভাষাকে আলাদা করে আবৃত্তির নিজস্ব ভিত তৈরি করা। ভাববাদের জায়গা থেকে সরে এসে বাস্তববাদের সাথে আবৃত্তিকে যুক্ত করা। আবৃত্তির প্রাচীন ও আধুনিক ধারাকে ভেঙে উত্তর আধুনিক ধারায় আবৃত্তিকে রূপান্তর করা।

স্টার টোয়েন্টিফোর টিভি : আবৃত্তিশিল্পী হতে গেলে কী কী গুণ প্রয়োজন?
-প্রথমত একজন সৃজন মানসিকতার মানুষ হতে হবে। হিংসা, লোভ, অহংবোধসহ জাগতিক অপমোহ ত্যাগ করতে হবে। তবে সংসার বিবর্জিত নয়। কবিতার প্রতি, মানুষের প্রতি, দেশের প্রতি ভালোবাসা থাকতে হবে। তারপর বৈয়াকরণিক কিছু নিয়ম-কানুন রয়েছে সেগুলো চর্চা করতে হবে নিয়মিত। কণ্ঠের ভিত তৈরি করতে হবে কঠোর চর্চার মাধ্যমে। বাংলাভাষার প্রতি গভীর অনুরাগ থাকতে হবে। তবেই আবৃত্তিকে শিল্প হিসেবে আমরা দাঁড় করাতে পারবো এবং নিজেকে আবৃত্তিশিল্পী বলতে পারবো।

স্টার টোয়েন্টিফোর টিভি : আপনি নিজেই সংগঠক। আপনার সাংগঠনিক মতাদর্শ কি?

  • আমি একজন সচেতন নাগরিক। বাংলাভাষার শুদ্ধ চর্চা এবং বাংলার সংস্কৃতিকে ধারণ করাই আমার সাংগঠনিক মতাদর্শ। আমার সংগঠন বিশ্বভরা প্রাণ। বিশ্বের সকল বাংলা ভাষাভাষী মানুষ আছে, তারাই আমার আরাধ্য ব্যক্তি। সবার সৃজন মানসিকতা আলাদা। কিন্তু চাহিদা এক। দেশের সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে সমুন্নত রাখার চেষ্টা করছি। এটাই আমার ব্রত।

স্টার টোয়েন্টিফোর টিভি : আপনার সাহিত্য- সংস্কৃতি চর্চা আপনার পেশাগত কাজকে কি কখনো প্রভাবিত করে?
-সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার দুটো দিক আছে। একটি হলো শখের, আরেকটি হলো পেশাগত। শখের যারা রয়েছেন, তারা সব কাজের ফাঁকে সুযোগ পেলে চর্চা করেন। আর পেশাগত সাহিত্য-সংস্কৃতির মানুষরা এটা দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করেন। আমি শখ থেকে এটিকে পেশাগতভাবে নিয়েছি। তাই ভীষণভাবেই সাহিত্য-সংস্কৃতি আমাকে প্রভাবিত করে। আমার প্রকাশনা ও প্রযোজনা সংস্থা রয়েছে- জ্ঞানসঙ্গী প্রকাশন। এর মাধ্যমে আমি আবৃত্তিকে মার্চ করে দিয়েছি। লেখালেখির চর্চাকেও মার্চ করেছি। আমি তথ্যচিত্র নির্মাণ করি সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের নিয়ে। সেটাও জ্ঞানসঙ্গীর আওতায়। তাই আমি সার্বক্ষণিক সাহিত্য-সংস্কৃতির মানুষ। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এটা নিয়েই আমাকে থাকতে হবে।

  • December 4, 2025
  • 0 Comments
মানিকগঞ্জ-০১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন এস.এ জিন্নাহ কবির

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লড়াই, কারাবরণ আর আন্দোলন-সংগ্রামে সদা সক্রিয় থাকার স্বীকৃতি হিসেবে মানিকগঞ্জ-–১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন দলের সাবেক জেলা সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির ১ নম্বর সদস্য এস.এ জিন্নাহ কবির।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করেন।

ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয় এই তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত মানিকগঞ্জ-১ আসনটি রাজনীতিতে ঐতিহ্যবাহী একটি কেন্দ্র। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে এখান থেকেই প্রার্থী হয়েছিলেন জিন্নাহ কবির। একই আসনে এর আগে পাঁচবার নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন।

মনোনয়ন পাওয়ার পর এস.এ জিন্নাহ কবির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় সকলের কাছে দোয়া চান।

তিনি বলেন, “এই মনোনয়ন শুধু আমার নয় দীর্ঘ ১৫ বছরের আন্দোলনে থাকা কর্মী,সমর্থকদের সম্মিলিত প্রাপ্তি। মানুষের আস্থা রক্ষাই হবে আমার প্রথম দায়িত্ব।”

  • December 4, 2025
  • 0 Comments
মানিকগঞ্জে স্কুল ভবন নির্মাণে ফাটল শেষ হবার আগেই ভেঙে পড়ছে আস্থার বুনিয়াদ!

নিম্নমানের সামগ্রী–অনিয়মের অভিযোগে ক্ষোভে ফুসছে শিক্ষক-অভিভাবকরা

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনটি এখন উদ্বেগের প্রতীক। নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই দেয়ালে দেখা দিয়েছে একাধিক ফাটল—যা শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

অভিযোগ উঠেছে, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী, শিডিউল বহির্ভূত কাজ এবং পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবেই ভবনটি শুরুতেই ঝুঁকিতে পড়ে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন,নিচতলা ও দ্বিতীয় তলার কাঠের দরজা খুলতেই নড়বড়ে, জালনার প্লেন সিট ও স্কয়ার বার শিডিউল অনুযায়ী নয়, আর বারান্দার রেলিং ভবন হস্তান্তরের আগেই দুলতে শুরু করেছে। অতিরিক্ত ক্লাসরুম ও আসবাবপত্রের কাজ বিলম্বিত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে এলজিইডি ভবন নির্মাণের দায়িত্ব পেলেও নির্ধারিত সময়েই কাজ শেষ হয়নি। ১ কোটি ২৪ লাখ ৬ হাজার ৩৮৫ টাকার প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের ১৩ মে; শেষ হওয়ার কথা ছিল এ বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি। সময় বাড়ানো হলো আরও ৯ মাস তারপরও কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয় বলে অভিযোগ শিক্ষক–অভিভাবকদের।

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “কাজ চলাকালেই দেয়ালে ফাটল, দরজায় দুর্বল কাঠ, জালনায় নিম্নমানের বার সবই দেখা গেছে। প্রকৌশলীকে জানালেও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।”

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সোহেল রানা বলেন, “অভিযোগে কাজ বন্ধ ছিল কিছুদিন। কিন্তু উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফাটলকে ‘স্বাভাবিক’ দাবি করায় আবার কাজ শুরু হয়। স্থানীয়রা মনে করেন, প্রকৌশলীদের প্রভাবিত করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের কাজ চালিয়ে গেছে।”

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. বুলবুল হোসেনও স্বীকার করেন, “তিনটি কক্ষে ফাটল ছিল, পুটিন দিয়ে মেরামতও করেছি। আবার ফাটল ধরেছে।”

উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমরুল হাসান জানান, “অভিযোগের বিষয়ে আমরা চিঠি দিয়েছি ঠিকাদারকে। তদন্ত চলছে, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিভাবক ও এলাকাবাসীরা প্রশ্ন তুলেছেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য নির্মিত ভবনে কাজ চলাকালেই ফাটল দেখা দিলে ভবিষ্যতে বড় দুর্ঘটনা রোধ করবে কে?”

তাদের একটাই দাবি, অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, গুণগত মান ঠিক রেখে ভবন দ্রুত হস্তান্তর, শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।

  • December 3, 2025
  • 0 Comments
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের যাত্রা শুরু হচ্ছে আজ

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হচ্ছে আজ (৩ ডিসেম্বর)। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর নতুন এই ব্যাংকটির উদ্বোধন করবেন। আগামী সপ্তাহ থেকেই একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এর আগে মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “সরকারি মালিকানায় একটি ইসলামী ব্যাংক চালু হওয়া জাতির জন্য ইতিবাচক খবর। ব্যাংকটি সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য একটি টেকনিক্যাল টিম কাজ করছে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক জাতির আস্থার প্রতীক হয়ে উঠবে।”
তিনি রাজধানীর মতিঝিলের সেনা কল্যাণ ভবনে প্রতিষ্ঠিত নতুন প্রধান কার্যালয়ও পরিদর্শন করেছেন।

জানা গেছে, শিগগিরই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভার পরই ব্যাংকটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পূর্ণমাত্রায় শুরু হবে।

গত রোববার গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে বিশেষ পর্ষদ সভায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরদিন সোমবার এটি তফসিলি ব্যাংক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয় এবং রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসেও নিবন্ধন সম্পন্ন হয়। সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ ইসলামী ব্যাংক—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক—একীভূত হয়েই গড়ে উঠেছে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’।

অমানতকারীদের বিষয়ে শিগগিরই একটি বিশেষ স্কিম ঘোষণা করা হবে। এতে আমানত উত্তোলনের ধাপ, পদ্ধতি ও মুনাফার হার সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে। প্রথম পর্যায়ে আমানত বীমা তহবিল থেকে প্রতিটি গ্রাহককে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ফিরিয়ে দেওয়া হবে। অবশিষ্ট টাকা ধাপে ধাপে উত্তোলনের সুযোগ থাকবে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা ইতোমধ্যে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বাজেট থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ব্যাংকের অনুকূলে ছাড় করেছে। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আসবে আমানতকারীদের শেয়ার হিসেবে। ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা।

সরকার বিভিন্ন সরকারি তহবিল নতুন এই ব্যাংকে রাখবে। সাধারণ আমানতকারীদের আকৃষ্ট করতে আকর্ষণীয় মুনাফার হার ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি ঋণ আদায়করণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও তারল্য বৃদ্ধির জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • December 2, 2025
  • 0 Comments
৮ কুকুরছানাকে চুবিয়ে হত্যাকারীর আরও যে শাস্তি হতে পারে

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ চত্বরে মা কুকুরের অগোচরে ৮টি ছানাকে বস্তাবন্দী করে পুকুরে ডুবিয়ে হত্যাকারীকে উপজেলা পরিষদের সরকারি কোয়ার্টার থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শহরজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ফেসবুক জুড়ে বইছে তীব্র সমালোচনার ঝড়।

রোববার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর পরিষদ চত্বরের আবাসিক এলাকায় গেজেটেড ভবনে বসবাসরত ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তার স্ত্রী নিশি বেগমের মাধ্যমে অমানবিকভাবে আটটি কুকুর ছানা ডুবিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার রাতেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি চিঠি আকারে অভিযুক্ত ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তার স্ত্রী নিশি বেগমকে তার কোয়ার্টার থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরুজ্জামান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় অভিযুক্ত কুকুরছানা হত্যাকারী নিশি বেগম তার কোয়ার্টার থেকে মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক, এভাবে আটটি কুকুরছানাকে হত্যা করা মোটেও ঠিক হয়নি, আমরা তদন্ত করে উপজেলা প্রশাসন এবং প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে কুকুরছানা হত্যাকারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

এ ঘটনার ছবিসহ দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুক পোস্টেই কুকুর হত্যাকারীর বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করতে থাকেন অনেকেই।

এরইমধ্যে মঙ্গলবার ঢাকা থেকে এনিমেল এন্টিভেস্ট কমিটি ঈশ্বরদীতে বিকেলে এসে পৌঁছাবেন বলে জানান প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।

কুকুরছানা হত্যায় অভিযুক্ত নিশি বলেন, ‘বাচ্চাগুলো এবং বাচ্চার মা আমার বাসায় সিঁড়ির পাশে থাকতো , বাচ্চাগুলো আমাদের খুবই ডিস্টার্ব করত তাই আমি বাজারের ব্যাগে আটটি কুকুর ছানাকে ভরে পুকুরের পাশে একটি গাছের গোড়ায় রেখে আসি। এরপরে হয়তো যে কোনোভাবেই পুকুরের মধ্যে পড়ে যায়, আমি নিজে বাচ্চাগুলোকে পুকুরে ফেলে দেই নাই।’

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বলেন, ‘এটা খুবই অমানবিক। মা কুকুর ইতোমধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাকে আমাদের লোকজন চিকিৎসা দিয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ঈশ্বরদী ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে যেহেতু প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৯ এর অধীনে কুকুর ছানা হত্যাকারী অপরাধের কারণে মামলার একটি বিধান রয়েছে, সেহেতু এই অমানবিক কুকুরছানা হত্যাকারী নিশি বেগমের বিরুদ্ধে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব, এমনকি মামলা করারও সিদ্ধান্ত নিতে পারি।’

  • December 2, 2025
  • 0 Comments
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের কঠোর শাস্তির বিধান প্রণয়নে হাইকোর্টের রুল

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগের মামলায় যুক্তিসংগত শাস্তির বিধান প্রণয়নে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. গোলাম কিবরিয়া ।

এর আগে, গত রোববার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগের মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. গোলাম কিবরিয়া জনস্বার্থে এ রিট করেন। এতে আইন সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে ।

আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, বাংলাদেশ প্যানেল কোডে ধর্মীয় অনুভূতি আঘাতের অভিযোগের মামলায় বর্তমানে দুই বছরের সাজার বিধান রয়েছে। এছাড়া নতুন সাইবার নিরাপত্তা আইনেও দুই বছরের সাজার বিধান রাখা হয়েছে। আমরা মনে করি এই সাজা অপ্রতুল। এ কারণে বাউল শিল্পী আবুল সরকারের মতো অনেকে মহান আল্লাহ, আমাদের নবীকে নিয়ে কটূক্তি করার সাহস পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, রিটে আমরা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগের মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন পাস করার নির্দেশনা চেয়েছি। ধর্মীয় অনুভূতি আঘাতের অভিযোগের মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রাখা হলে এই অপরাধ করতে কেউ সাহস পাবে না।

  • December 2, 2025
  • 0 Comments
আদর্শিক দ্বন্দ্বের আগুনে ছদ্মবেশী তৎপরতা: বাউল বেশে অস্থিরতার ছক !

বাউল পরিচয়কে ব্যবহার করে অস্থিতিশীলতার ছক ! উদ্বিগ্ন সচেতন মহল

নিজস্ব প্রতিবেদক :

দেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থার মাঝে মানিকগঞ্জের বাউল আবুল সরকারকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া উত্তেজনা এখন এক নতুন মোড় নিয়েছে। অনেক সচেতন নাগরিক, গবেষক ও বিশ্লেষকের মতে, এটি শুধু ধর্মীয় বিতর্ক নয়; বরং দেশের স্থিতিশীলতাকে নড়বড়ে করার এক গভীর, সংগঠিত ও বহুমাত্রিক তৎপরতার ইঙ্গিত।

তাদের অভিযোগ, প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচি নিষিদ্ধ থাকায় পতিত স্বৈরাচারী দলের কিছু অংশ নাকি সামাজিক-ংস্কৃতিক পরিচয় ব্যবহার করে মাঠে নামার নতুন কৌশল নিয়েছে। “বাউল পরিচয়” ও “সাংস্কৃতিক সমাবেশ” এর আড়ালে রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি এটাই তাদের উদ্দেশ্য

আবুল সরকার ইস্যু : ঘটনাপুঞ্জের ভিতরে অন্তর্নিহিত অস্থিরতা :

বাউল আবুল সরকার ওরফে আবুল বয়াতির বিতর্কিত বক্তব্য ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হলেও, সচেতন মহলের দাবি এটি ঘটনাচক্র নয়, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাব ও সামাজিক বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা উত্তেজনা।

স্থানীয়দের মতে, তাঁর আর্থিক প্রভাব, সাংস্কৃতিক অবস্থান, ধর্মীয় ক্ষমতা সবই এসেছে শক্তিশালী মহলের সহযোগিতা থেকে। ধর্ম ও সংস্কৃতির মিশ্রণে তৈরি এই প্রভাবকেই অনেকেই দেখছেন রাজনৈতিক কাঠামোর একটি হাতিয়ার হিসেবে।

বাউল কর্মসূচির আড়ালে সংঘাত উসকে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ :

তৌহিদী জনতার শান্তিপূর্ণ সমাবেশের আগে থেকেই বাউলপন্থী একটি দল মাঠে অবস্থান নেয় এমন দাবিও উঠে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে-এটি ছিল সমাবেশ বনাম পাল্টা-সমাবেশ তৈরি করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা।

অনেকেই বলছেন, বাউল নামে মাঠে নামা ব্যক্তিদের বড় একটি অংশ আসলে আগের রাজনৈতিক সরকারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল, সংঘাত তৈরি করা,আতঙ্ক ছড়ানো, অন্তর্র্বতী সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা।

অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করে বলছেন, এই ঘটনাগুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হতে পারে।

রাজনৈতিক পরিচয় আড়াল করে ছদ্মবেশী কর্মকাণ্ড? :

একটি অংশের দাবি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় ব্যবহার করে গোপনে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, আগুন, উত্তেজনা এসব ঘটনার নেপথ্যে একই ধরনের তৎপরতা রয়েছে বলে সচেতন মহলের অভিযোগ।

বাম ছাত্রসংগঠনের ঘোষণায় নতুন প্রশ্ন :

সম্প্রতি একটি বাম ছাত্রসংগঠনের প্রকাশিত বিবৃতিতে রাজনৈতিক স্লোগান ও আন্দোলনের ঘোষণা অনেকের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থেকেও তাদের সক্রিয়তা নিয়ে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত।

সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন :
“এটি বড় একটি অস্থিতিশীলতার ইঙ্গিত। একই সময়, মাঠে সাংস্কৃতিক পরিচয়ে অন্যদের ঝাঁপিয়ে পড়া এটি নিছক কাকতালীয় নয়।”

বাউল সমাজে রাজনৈতিক পক্ষপাত? :

আরেক বাউল শিল্পী আব্দুর রহমানের বক্তব্যে “তৌহিদী জনতাকে জঙ্গী” আখ্যা দেওয়ার চেষ্টা সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এছাড়া প্রভাবশালী আরও কয়েকজন বাউলের রাজনৈতিক অবস্থানও আলোচনায় এসেছে।

অনেকের মতে, এটি সংস্কৃতিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে সমাজে বিভাজন তৈরির প্রচেষ্টা।

গুরুতর অভিযোগ: বিদেশি প্রভাবের জড়িত থাকার আশঙ্কা :

সচেতন নাগরিকদের একটি অংশ সন্দেহ করছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে জিইয়ে রাখতে বিদেশি গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের তৎপরতা থাকতে পারে।
তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই ধর্মীয় বিভাজন ও সাংস্কৃতিক বিভ্রান্তিকে রাজনৈতিক লাভের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগ সরকারি সূত্রে নিশ্চিত নয় তবুও জনমনে শঙ্কা বাড়ছে।

উন্মোচনকারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ট্যাগ? :

ঘটনার নেপথ্যের চিত্র উন্মোচন করতে গেলে অনেককে “জামায়াত–শিবির ট্যাগ”,“উগ্রবাদী”, “রাষ্ট্রবিরোধী” ইত্যাদি আখ্যা দিয়ে থামানোর চেষ্টা হচ্ছে এমন অভিযোগও উঠেছে।

এর উদ্দেশ্য, অভিযোগকারীদের মতে, সত্যকে আড়াল করা।

ধর্মীয় নেতৃত্বের সতর্কবার্তা :

হেফাজতের কয়েকজন নেতা দাবি করেছেন, “বাউল পরিচয়ে মাঠে নামা সকল রাজনৈতিক গোষ্ঠী এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা জরুরি।”

তাদের মতে, স্থায়ী শান্তি ফেরাতে প্রয়োজন, বিভাজন সৃষ্টিকারী তৎপরতা বন্ধ, ষড়যন্ত্রকারীদের শনাক্ত, নির্বাচনমুখী অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাংবাদিকের মন্তব্য :

“আবুল সরকার ইস্যু নিয়ে দীর্ঘ স্টাডি করেছি। অনেক দেশবিরোধী ও সুবিধাবাদী গোষ্ঠী এই উত্তেজনাকে পুঁজি করে নিজস্ব ফায়দা তুলতে চাচ্ছে। জাতিকে সতর্ক হতে হবে।” ।

সময়ের দাবি: ষড়যন্ত্র ঠেকিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা :

সচেতন সমাজ বলছে, এটি আর একটি ঘটনার বিশ্লেষণ নয়; বরং দেশের শান্তি, নির্বাচন এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার প্রশ্ন। তারা জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

  • December 2, 2025
  • 0 Comments
মানিকগঞ্জে কবরস্থান থেকে ৫টি কঙ্কাল চুরি! এলাকায় আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, মানিকগঞ্জ :
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের চর ধানকোড়া কবরস্থান থেকে একাধিক পুরাতন কবর খুঁড়ে অন্তত ৫টি লাশের কঙ্কাল চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার দিবাগত রাতের যে কোনো সময় এ ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার ভোরে ঘটনা জানাজানি হতেই স্থানীয়রা ছুটে যান কবরস্থানে। মুহূর্তেই শতশত মানুষের ভিড়ে এলাকা পরিণত হয় তদন্তস্থলে। সবার চোখে আতঙ্ক “মরেও কি আর শান্তি নেই?”

সোমবার দুপুরে কবরস্থানের পেয়ারা গাছে ফল তুলতে আসে স্থানীয় দুই কিশোর রাকিব ও মাসুদ রানা। গাছের নিচে নেমে তারা হঠাৎ দেখতে পায়—কয়েকটি কবরের মাটি সরানো। কাছে গিয়ে স্তব্ধ হয়ে যায় তারা। ভেতরে খালি জায়গা! তারা দ্রুত দৌড়ে খবর দেয় স্থানীয়দের। আর তাতেই ফেঁসে যায় পুরো চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি।

স্থানীয় আফজাল হোসেন বলেন,“পাঁচটি কঙ্কাল চুরি! এটা ভাবতেই গা শিউরে ওঠে!”

আরেক বাসিন্দা মরিয়ম বেগমের কণ্ঠে ক্ষোভ–হতাশা “মরেও শান্তি নেই! এই সমাজ কোন দিকে যাচ্ছে?”

কবরস্থানের কোষাধ্যক্ষ আব্দুল খালেক জানান, “ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা দ্রুত জরুরি বৈঠকে বসবো। ভবিষ্যতে যাতে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা আর না ঘটে, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সাটুরিয়া থানার ওসি এ.আর.এম আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই অদ্ভুত কঙ্কাল চুরির ঘটনায় এলাকায় এখনো চলছে উত্তেজনা-ভয়-জল্পনা-কল্পনা।

  • December 2, 2025
  • 0 Comments
বাউল ইস্যুতে মানিকগঞ্জে হেফাজতে ইসলামের মহা-সম্মেলনের ঘোষণ

মহান আল্লাহ তায়ালাকে নিয়ে অবমাননাকর কটূক্তি, খোদাদ্রোহী বাউল গোষ্ঠীর কথিত অপতৎপরতা, নৈরাজ্য এবং তৌহিদী জনতার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার প্রতিবাদে মানিকগঞ্জে আয়োজিত হচ্ছে বৃহত্তর “শানে তাওহীদ মহা-সম্মেলন”।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দিয়েছে।

আসছে ৬ ডিসেম্বর, শনিবার, মানিকগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে (বিজয় মেলা মাঠ) সকাল ১০ টা থেকে এ মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা হেফাজতের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতি আব্দুল হান্নান এবং প্রচার সম্পাদক মাওলানা ক্বারী ওবায়দুল্লাহ।

মহা-সম্মেলনে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে হেফাজতের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মধ্যে, কেন্দ্রীয় মহাসচিব শায়েখ সাজিদুর রহমান, পীর সাহেব মধুপুর মাওলানা আব্দুল হামিদ, আল্লামা মামুনুল হক, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মুফতি এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী, মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মুফতি আলী হাসান উসামা, মুফতি রেজাউল করীম আবরার।
সহ আরও বহু কেন্দ্রীয় আলেম।

আলোচিত ইসলামিক বক্তা মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানীও মহাসম্মেলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “আমি ছোট মানুষ। আমার কোনো দল নেই। আমি আল্লাহর শান-মান রক্ষার জন্য লড়াই করতে চাই। আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া একা সম্ভব হবে না।”

মানিকগঞ্জের আলেম সমাজ ও তৌহিদী জনতাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আশা করি, আপনারাও এক বিশাল অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে মহান রবের সম্মানে দলমত নির্বিশেষে এক কাতারে দাঁড়াবেন।”

উল্লেখ্য, এর আগে ২৯ নভেম্বর শনিবার সমাবেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বিভিন্ন “সঙ্গত কারণ” দেখিয়ে সেটিকে এক সপ্তাহ পিছিয়ে ৬ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের একাধিক আনুষ্ঠানিক ফেসবুক পেজ থেকেও নতুন সময়সূচি নিশ্চিত করা হয়েছে।

  • December 1, 2025
  • 0 Comments
বাউল আবুল সরকারের নামে ঢাকায় মামলা, তদন্তের নির্দেশ

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বাউল শিল্পী আবুল সরকারের নামে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি আমলে নিয়ে রমনা থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) ঢাকার ১৭ নম্বর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ অফিসার মো: জাহাঙ্গীর মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।‌

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সোলায়মান তুষার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতালের নিউরোট্রমা ও সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা: মো: মাহফুজুর রহমানের পক্ষে মামলাটি দায়ের করেন।‌

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৪ নভেম্বর মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জাবরা এলাকায় একটি পালাগানের আসরে সঙ্গীত পরিবেশন করেন আবুল সরকার। সেই পরিবেশনার কিছু অংশের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে যেখানে তিনি মহান আল্লাহ তায়ালাকে নিয়ে অশালীন কটূক্তি করেন।‌ এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় তিনি পবিত্র কোরআনের সূরা নাসকে‌ বিকৃত করে উপস্থাপন করেন।‌

মামলার আরজিতে বলা হয়, আসামি আবুল সরকার ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করে এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে কটূক্তি করে অবমাননামূলক অট্টহাসি দিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি লক্ষ্যে উসকানি দেয়ার অপরাধ করেছেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সোলায়মান তুষার মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বাউল শিল্পী আবুল সরকারের নামে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে রমনা থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।’

অন্যান্য