মানিকগঞ্জে বাউল শিল্পীদের ওপর হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আহত বাউল আব্দুল আলীম।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে লিখিত অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সদর থানা পুলিশ।

জানা যায়, চলতি মাসে (৪ নভেম্বর) জেলার ঘিওর উপজেলার জাবরা এলাকায় খালা-পাগলীর মেলায় পালাগানের আসরে বাউলশিল্পী আবুল সরকার গান পরিবেশন করেন। ওই পালায় জীব-পরমপরা নিয়ে গান পরিবেশন করেন তিনি (বাউলশিল্পী আবুল সরকার)। পালা-গানের মধ্যে একটি অংশে ইসলাম ও মহান আল্লাহকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে গান পরিবেশন করা হয়। সেই গানের ওই আপত্তিকর অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এটি জেলার আলেম সমাজের মধ্যে সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। পরে ঘিওর বন্দর মসজিদের ইমাম মুফতি মো. আব্দুল্লাহ ঘিওর থানায় একটি মামলা করেন।

মানিকগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের একটি টিম মাদারীপুর থেকে তাকে আটক করে আদালতে পাঠায় এবং চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো আদেশ দেন।

অপরদিকে গতকাল রোববার (২৩ নভেম্বর) তৌহিদী জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ওই একই দিন বাউল আবুল সরকারের ভক্ত অনুরাগীরা তাদের গুরুর মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করার উদ্যোগ নেয়। সকালের প্রথম ভাগে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের রাজ-হোটেলের সামনে সমাবেশ করে জেলা শহরের প্রবেশ পথে সহস্রাধিক মুসুল্লিরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এগুতে থাকে এবং আবুল সরকারের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে। তৌহিদী জনতার মিছিলের একাংশ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এলে মাঠের অপরপ্রান্তে জড়ো হওয়া বাউল ভক্তদের সাথে সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হত হন বাউল সমর্থক শিল্পী আলিম, আরিফুল ও জহিরুলসহ মোট চারজন। আহতদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।

অপরদিকে তৌহিদী জনতার পক্ষেও একজন আহত হন এবং তিনিও হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

ওসি (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা বিভিন্ন টেলিভিশন সংবাদ, সোশ্যাল মিডিয়ার ফুটেজ ও ছবি পর্যবেক্ষণ করছি। ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।