নিজস্ব প্রতিবেদক, মািনকগঞ্জ ॥
মহান আল্লাহ তায়ালাকে নিয়ে বাউল শিল্পী আবুল সরকারের কটূক্তিকে কেন্দ্র করে মানিকগঞ্জে সৃষ্টি হওয়া পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। আলেম-ওলামা, তাওহিদী জনতা ও সাধারণ মানুষের দাবি—“শাস্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশকে পরিকল্পিতভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলেছে।”
রোববার (২৩ নভেম্বর) সকালে মানিকগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও স্টেডিয়াম রোড, হঠাৎ দুই পক্ষের উত্তেজনায় রণক্ষেত্রে রূপ নিলেও আয়োজক আলেম-ওলামারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “মারামারিতে আমাদের সংগঠনের কেউ জড়িত নয়, এটি অনাকাঙ্ক্ষিত, উদ্দেশ্যমূলক ও পরিকল্পিত।”
রোববার সকাল ৯টায় ঘোষিত কর্মসূচিতে সহস্রাধিক তৌহিদী জনতা মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে মিছিল বের করে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করেন।
অন্যদিকে একই সময়ে বাউল সমর্থকদের প্রেসক্লাব এলাকায় কর্মসূচির অনুমতি থাকলেও, শহরের বিভিন্ন স্থানে তাদের সমাবেশ ও অবস্থান উত্তেজনা বাড়ায়। দেখা যায়, বাউল নেতাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা, অতঃপর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে ছুটতে থাকে।
তৌহিদী জনতার দাবি“প্রথম হামলা করেছে ছদ্মবেশী দুষ্কৃতিকারী বাউলপন্থীরা, আমরা আত্মরক্ষায় সাড়া দিয়েছি।”
পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করলেও সামাজিক মাধ্যমে দোষারোপ, গুজব, বিভ্রান্তি সব মিলিয়ে উত্তপ্ত নেটদুনিয়া।
তৌহিদী জনতার পক্ষে মুফতি আব্দুল হান্নান বলেন, “মানিকগঞ্জে আগে কোনোদিন বাউলদের ওপর আক্রমণ হয়নি। আমরা সহাবস্থানে বিশ্বাসী, “যারা মারামারি করেছে, তারা ব্যক্তিগতভাবে করেছে আলেমদের নয়, “এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে নষ্ট করতে কুচক্রী মহল মাঠে নেমেছে।
আয়োজকদের একজন ক্বারী ওবায়দুল্লাহ জানান, দ্রুতই আলেম সমাজের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
সাধারন মানুষের একটাই প্রত্যাশা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, উস্কানিদাতা চিহ্নিতকরণ ও আইনি ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবী।
