মহান আল্লাহর শানে জঘন্য শব্দ ব্যবহার করে ধর্ম অবমাননার অপরাধে গ্রেফতারকৃত বাউল আবুল সরকারের দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) পৃথক পৃথক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, মহান আল্লাহর শানে জঘন্য শব্দ ব্যবহার করে বাউল আবুল সরকার সুস্পষ্টভাবেই ধর্ম অবমাননা করেছে। এটি কেবল ফৌজদারি অপরাধ নয়, বরং বাংলাদেশের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলিমের হৃদয়ে আঘাত হানার শামিল। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের এই গুরুতর অপরাধের জন্য বাউল আবুল সরকারের সর্বোচ্চ আইনি শাস্তি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অপরিহার্য দায়িত্ব।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ, ঢাকা জেলা উত্তর: মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে হেফাজত ঢাকা জেলা উত্তরের সভাপতি হাফেজ মাওলানা আলী আকবর কাসেমী ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলী আজম বলেন, মহান আল্লাহর শানে জঘন্য শব্দ ব্যবহার করে বাউল আবুল সরকার সুস্পষ্টভাবেই ধর্ম অবমাননা করেছে। এটি কেবল ফৌজদারি অপরাধ নয়, বরং বাংলাদেশের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলিমের হৃদয়ে আঘাত হানার শামিল। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের এই গুরুতর অপরাধের জন্য বাউল আবুল সরকারের সর্বোচ্চ আইনি শাস্তি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অপরিহার্য দায়িত্ব। আল্লাহর শানে বেয়াদবি ও ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি আঘাত কখনোই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হতে পারে না। এটা স্পষ্টই ইসলাম বিদ্বেষ। নব্বই ভাগ মুসলমানের দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে ইসলাম বিদ্বেষ বরদাশত করা হবে না। প্রভাবশালী কিছু মিডিয়া জঘন্য এই অপরাধ হালকা করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রচার করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। অপরাধীকে রক্ষা করা, তার দোষ হালকা করা কিংবা জনতার ন্যায়সঙ্গত ক্ষোভকে উল্টো দোষারোপ করে তাদের হয়রানির চেষ্টা এসবই ন্যায়বিচারের পথ রুদ্ধ করার শামিল, যা কারোর জন্যই সুখকর হবে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, ধর্ম অবমাননার মতো গুরুতর অপরাধের পর প্রশাসনের নির্লিপ্ততার সুযোগে আবুল সরকারের অনুসারীরা মানববন্ধনের দুঃসাহস দেখালে সাধারণ জনগণ সেটাকে প্রতিহত করেন। বিচ্ছিন্ন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন পর্যায়ের আলেমদের প্রশাসনের কর্মকর্তারা গ্রেফতারের হুমকি সহ নানাবিধ হয়রানি করছেন। অবিলম্বে আলেম ওলামা ও ইসলামপ্রিয় ব্যক্তিদের অহেতুক হয়রানি বন্ধ করতে হবে। তারা বলেন, ধর্মদ্রোহী বাউল আবুল সরকারের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত এবং মানিকগঞ্জের আলেম উলামা ও জনসাধারণকে হয়রানি বন্ধ না করলে ঢাকা আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে অচল করে দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।
আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত: ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে গ্রেফতার বাউল শিল্পী আবুল সরকারের বিষয়ে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাতের অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের দায়িত্বহীন মন্তব্য করার সাহস না পায়। বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যে আবুল সরকার মুসলমানদের পবিত্র ধর্মীয় মূল্যবোধকে আঘাত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, যা দেশব্যাপী উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এ পরিস্থিতিতে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সঠিক তদন্ত ও বিচার হওয়াই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ। কোনোভাবেই এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা বা সংঘর্ষ সৃষ্টি করা উচিত নয়।
তিনি বলেন, সংবেদনশীল ধর্মীয় বিষয়ে দায়িত্বশীলতা ও সংযম বজায় রাখা সবার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করার যে কোনো প্রয়াসকে আইনগত কাঠামোর মধ্য দিয়ে মোকাবিলা করতে হবে। তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ, বিদ্বেষ উসকে দেওয়া বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো আচরণ সম্পূণরুপে অনভিপ্রেত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিষয়টি আলোচনায় আসে। এ ধরনের যেকোনো ঘটনার বিচার হতে হবে স্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে গুজব বা আবেগের ওপর নয়। সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই সর্বাধিক জরুরি।
তিনি বলেন, “আইনের যথাযথ প্রয়োগ, সামাজিক শান্তি রক্ষা এবং সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি বজায় রাখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। পাশাপাশি কোনো পক্ষ যেন উত্তেজনা সৃষ্টি না করে বা আইন হাতে তুলে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি না করে এটি সমাজের সামগ্রিক নিরাপত্তার স্বার্থেও গুরুত্বপূর্ণ।” বিবৃতিতে তিনি সকলকে শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত পরিচালনা করবেন এবং আইনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন। সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষা আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব।
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি: বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা সাইফুল ইসলাম ফরিদী আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, বাউল সম্প্রদায় হলো বাংলার এক বিশেষ আধ্যাত্মিক ও লোকজ স¤প্রদায় যারা গান এবং প্রচলিত ধারার বাহিরে সাধনার মাধ্যমে আধ্যাত্মিক জ্ঞান লাভ করে থাকে। এই সম্প্রদায় সদস্যরা মূলত গৌড়ীয় বৈষম্য এবং সুফি নামধারী বাঙালি মুসলমানদের নিয়ে গঠিত তারা দেহকে কেন্দ্র করে সাধন ভজন করেন বলে তারা দাবি করেন। আসলে এর আড়ালে তারা মূলত সহজ সরল মুসলমানদের ঈমান ধ্বংস করার জনগোষ্ঠী হয়ে উঠেছে তারা দেহকে সাধন ভোজন এর নামে মুসলমানদের ঈমানকে ধ্বংস করে এবং তারা শরীয়তকে বাদ দিয়ে মারফতের নামে আমাদের ইসলাম ধর্মের কালিমা নামাজ রোজা হজ যাকাত ইসলামী তাজীব তামাদ্দুন সহ বিভিন্ন বিষয়ে কে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে বিষাদ গান করে এবং তারা সুকৌশলে মুসলমানদেরকে শিরক বিদআত কুফরির দিকে নিয়ে যায়। তাদের কথা বার্তা কাজে কর্মে মুসলিম বলার কোন সুযোগ নেই মূলত তারা মুসলিম নামধারী কাফের। এদেরকে রুখে দেওয়ার এখনই মুখ্যম সময় এবং এদের সমস্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে নিষেধাজ্ঞা করার দাবি সরকারের নিকট তুলে ধরতে হবে। তাহলেই সাধারণ মানুষ এদের হাত থেকে রক্ষা পাবে আত্মসাধনার নামে সাধারণ মানুষ কাফের মুশরিক হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। বাউল নামধারী কাফেরদের ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূল শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আল্লাহর আমাদের ঈমান ও ইসলামকে হেফাজত করুন আমীন।
