নিপাহ ভাইরাসের ভয়াবহ ঝুঁকি ঘনিয়ে থাকলেও থেমে নেই কাঁচা খেজুরের রসপান উৎসব। মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে যেন চলছে শীতের আগমন উৎসব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায় ভাইরাল হওয়ার পর প্রতিদিন হাজারো মানুষ দলে দলে ছুটে যাচ্ছে খেজুরের রসের খোঁজে। কারও হাতে ক্যামেরা, কারও হাতে লিটারভর্তি রস; মুহূর্তেই ভিডিও-ছবি আপলোড, লাইক-কমেন্টে ব্যস্ত সব বয়সের আগন্তুকরা।

স্থানীয় সূত্র বলছে, বাল্লা ইউনিয়নের ঝিটকা গাছিপাড়া ও ভাদিয়াখোলা এখন রসপ্রেমীদের জমজমাট আড্ডাস্থল। প্রতি লিটার কাঁচা রস ২৫০-৩০০ টাকা, তবুও ক্রেতার ভিড়ে দাম যেন গৌণ, স্বাদই মুখ্য। শুধু মানিকগঞ্জ নয়-ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, দোহার থেকে প্রতিদিনই আসে শত শত মানুষ।

গত বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, বাগানে ৫০০-৬০০ মানুষের ভিড়। হাসি-আড্ডা, সেলফি, রিল—সব মিলিয়ে জায়গাটি যেন পর্যটন স্পটে রূপ নিয়েছে।

ঢাকা থেকে আসা আল আমিনের ভাষায়, “শীত মানেই কাঁচা রসের স্বাদ আলাদা। ঝুঁকির কথা জানি, কিন্তু এত আয়োজন দেখে রস না খেয়ে থাকা যায়?”

একই মত রাকিব ইসলামেরও, “বন্ধুরা সবাই এলো, পরিবেশও দারুন ২৫০ টাকা দিয়েছি, কিন্তু মজাটাই আসল।”

স্থানীয় আবির মোল্লা জানালেন, “গত বছর নিপাহে আমাদের জেলায় দু’জন মারা গিয়েছিল। তারপরও সচেতনতার তেমন প্রচার নেই!”

বাগানের মালিক ফারুক হোসেন দাবি করেন, “আমাদের রস নেট দিয়ে ঢেকে সংগ্রহ করি যাতে বাদুড় না বসে। এরপরই বিক্রি করা হয়।”

কিন্তু জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।
হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. অর্পিতা দাস বলেন, “নিপাহ ভাইরাস মারাত্মক প্রাণঘাতী। কাঁচা রসের মাধ্যমেই সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। রস খেতে চাইলে অবশ্যই জ্বাল দিয়ে ফুটিয়ে নেওয়া জরুরি।”

তবুও প্রশ্ন-স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে কাঁচা রসের এই উন্মাদনা থামাবে কে?
সচেতনতা না বাড়লে আনন্দময় উৎসব যে মুহূর্তেই আতঙ্কে রূপ নিতে পারে এ সতর্কবার্তা কিন্তু খুব স্পষ্ট।