তরুণ-নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে তাদের নির্বাচনী জোটকে রাজনৈতিক জোটে রূপ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। দলীয় শীর্ষ পর্যায় থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও, ভেতরের সূত্রগুলো বলছে, সংসদ ও সংসদের বাইরে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে দুই দল একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
দলের নেতারা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ তাদের শক্তিশালী বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে এবং জুলাই সনদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাংবিধানিক সংস্কার উদ্যোগ এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে। জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে গঠিত এনসিপি সাম্প্রতিক নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের সঙ্গে অংশ নিয়েছিল এবং ভবিষ্যতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই জোটে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দলের এক নেতা জানান, সংসদে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বিরোধী দলের প্রধান হুইপ নির্বাচিত হওয়া দুই দলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক জোটের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।
এনসিপির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা কমিটির সচিব মনিরা শারমিন বলেন, জোটের মূল লক্ষ্য সংস্কার কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতিতে সমন্বিতভাবে কাজ করা। তিনি বলেন, সংস্কার ও নির্বাচন-সংক্রান্ত বাস্তবতা বিবেচনায় জোট ভবিষ্যত কার্যক্রম নির্ধারণ করবে।
আরেক নেতা জানান, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতের সমর্থন নেওয়ার চেষ্টা করবে এনসিপি। দলটি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নিজেদের প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনাও করছে।
এদিকে, স্থানীয় সরকার বিভাগ তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছে। কমিশনও প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে এবং ঈদুল ফিতরের পর নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এনসিপির সদস্য-সচিব আখতার হোসেন বলেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক জোটের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তিনি জানান, জোট রাজনীতি বাংলাদেশে স্বাভাবিক এবং দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, এনসিপি নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী সংগঠন বিস্তারের কাজ চালিয়ে যাবে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের প্রতীক প্রচার অব্যাহত রাখবে।
গত বছরের অক্টোবরে দলটি এককভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা বললেও পরে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। দলীয় নেতারা এটিকে আদর্শিক নয়, বরং নির্বাচনী সমঝোতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। জোটে যোগ দেওয়ার পর কিছু নেতা-কর্মী দল ছেড়েছেন, তবে নেতৃত্বের আশা, ভবিষ্যতে সংগঠন আরও বিস্তৃত হবে।
