মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় কালীগঙ্গা নদীতে চলছে বেপরোয়া ড্রেজিং। সরকারি অনুমোদিত সীমানা না মেনে সেতুর মাত্র ১০০-১৫০ গজ দূরে ৮টি ড্রেজার বসিয়ে চলছে দিন-রাত বালু উত্তোলন।
ফলে ভয়াবহ নদীভাঙনের মুখে পড়েছে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ তরা সেতু, রমজান আলী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, একটি মসজিদ ও একটি মন্দির, শতাধিক ঘরবাড়ি ও স্থাপনা।
এ পর্যন্ত পাঁচটি বসতভিটা কালীগঙ্গার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
ভুক্তভোগীরা বলছেন,“আমাদের ঘরগুলো একের পর এক নদীতে চলে যাচ্ছে, ড্রেজিং বন্ধ করতে না পারলে আমাদের থাকার জায়গাটুকুও থাকবে না।”
হামেলা বেগম, স্বামীহারা দিনমজুর, দুই সন্তান নিয়ে আজ ঘরহারা হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। ২২ শতাংশ জমির মধ্যে ১৮ শতাংশ হারিয়ে নুরুল ইসলাম দিশেহারা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিত্যানন্দ বসাক বলছেন, “ড্রেজিংয়ের শব্দে ক্লাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ছাত্রদের মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে। সেতু ও স্থাপনাগুলোও হুমকির মুখে!”
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপি নেতা কামাল হোসেনের নামে ইজারা হলেও প্রকৃত নিয়ন্ত্রক মানিকগঞ্জ জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ। জানা গেছে, ১০০টি শেয়ার বিক্রি করে এই বিপজ্জনক ড্রেজিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

এব্যাপারে জেলা প্রশাসক মানোয়ার হোসেন মোল্লা জানিয়েছেন, “নির্ধারিত সীমানার বাইরে বালু তুললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, প্রয়োজনে ইজারা বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হবে।”

কিন্তু এলাকাবাসীর প্রশ্ন, তরা সেতু কি পরিণত হবে পরবর্তী নদীগর্ভে হারানো ইতিহাসের অংশ? প্রশাসনের ব্যবস্থা আসবে, না ততদিনে বিলীন হয়ে যাবে ঘরবাড়ি, স্কুল আর মসজিদ?।