দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে আন্তর্জাতিক পর্নোগ্রাফি চক্রে এক বাংলাদেশি নারীর জড়িত থাকার খবর।
রোববার (১৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বান্দরবান থেকে এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত এক যুগলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
প্তারকৃতরা হলেন, চট্টগ্রামের মুহাম্মদ আজিম (২৮) এবং মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের পাটগ্রাম চর গ্রামের বৃষ্টি (২৮)।
সোমবার রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি জানায়, এই যুগল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি ও বিদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে সক্রিয় ছিল। তারা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব কনটেন্ট বিক্রয় ও প্রচার করত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টি ছিলেন স্বাধীনচেতা ও একরোখা স্বভাবের মেয়ে। প্রায় পাঁচ-ছয় বছর আগে খালপাড় এলাকার এক যুবক কাউসারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু দাম্পত্য কলহের জেরে সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়।
এরপর থেকেই বৃষ্টির পারিবারিক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বৃষ্টির বাবা সাংবাদিকদের বলেন, “আপনার মুখ থেকেই প্রথম জানলাম আমার মেয়ে বৃষ্টি গ্রেপ্তার হয়েছে। ওর সঙ্গে বহু বছর আগেই সম্পর্ক ছিন্ন করেছি। ও কাউকে মানত না, নিজের মতো চলত। আমি ওকে বহু বছর আগেই ত্যাজ্য করেছি।”
পরিবারের সদস্যরা জানান, দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে বৃষ্টি ছিলেন সবচেয়ে বড়। বিবাহবিচ্ছেদের পর থেকে তিনি কোথায় ছিলেন, কী করতেন সে বিষয়ে কারও কোনো ধারণাই ছিল না।
মানিকগঞ্জের শান্ত গ্রামের মেয়ে বৃষ্টি একসময় স্বপ্ন দেখতেন নিজের মতো করে বাঁচার। কিন্তু সেই স্বাধীনতার খোঁজে অন্ধকার জগতে হারিয়ে যান তিনি।
এখন তিনি আন্তর্জাতিক পর্নোচক্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে কারাগারে—আর তার বাবা জানেন না, প্রিয় মেয়ে আজ কারাগারের অন্তরালে!
